গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ কথা নেই। মানবাধিকারের নামে দেশে ষড়যন্ত্রকারী ও সুবিধাভোগীরা ব্যবসা চালাচ্ছে।

সংখ্যা: ২৪০তম সংখ্যা | বিভাগ:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ কথা নেই।

মানবাধিকারের নামে দেশে ষড়যন্ত্রকারী ও সুবিধাভোগীরা ব্যবসা চালাচ্ছে।

তথাকথিত মানবাধিকারের ফেরিকারীরা মূর্খ।     একমাত্র সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধের দেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও মানবাধিকার সংরক্ষিত ও প্রতিফলিত হতে পারে না।


গত ১০ই ডিসেম্বর-২০১৪ ঈসায়ী তারিখে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে তথাকথিত বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। এবারে দিনটি আগের থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। অনেকেই এ দিনে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রকাশের সুযোগ হিসেবে দেখেছে। পত্রিকাগুলো এ দিনটিকে ব্যাপক হাইলাইট করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাপুঞ্জী ও তথ্যসমূহ ফলাও করে প্রচার করেছে।

কয়েকটি পত্রিকা হেডিং করেছে- “বিশ্ব মানবাধিকার আজ : পরিস্থিতি ৮ বছরের মধ্য সবচেয়ে খারাপ। গুম অপহরণ ৯ মাসে ৮২।” মানবাধিকার দিবসে দেয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেছে, বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শূন্যের নিচে অবস্থান করছে।

অপরদিকে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে বহুল আলোচিত তা সরকারেরও অজানা নয়। এবং সে কারণেই যেন এবার এ দিনটিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের তরফ থেকে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে বক্তব্য ছিল অনেক বেশি অর্জনের এবং প্রত্যয় নিবেদনের। কর্মসূচিও ছিল জোরালো।

রাষ্ট্রপতি তার বিবৃতিতে বলেছেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় অত্যন্ত আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে বলেছেন, সরকার সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। অভ্যন্তরীণ এবং বিশ্ব মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশ আরো কার্যকরভাবে কাজ করবে।

আর জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছে, ‘আমি প্রতিটি রাষ্ট্রকে তাদের নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষায় বছরের প্রতিটি দিন কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, এই ব্যবসা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি করছে কথিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নিজেই। কালকিনীতে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানোর ঘটনায় আপোস রফার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তথাকথিত মানবাধিকার চেয়ারম্যান কার্যতঃ কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনকেই সমর্থন করেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে চলতি ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূতভাবে ৫৪৪ জন নিহত এবং ২৭৫ জন নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন কেবল যশোরের একটি ঘটনা তদন্ত করে সেখানে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে। যা কোনো গণনার মধ্যে পড়ে না। তাহলে মানবাধিকার কমিশন দাবি করা, ১৬ কোটি মানুষের মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্বশীল হিসেবে জাহির করা কি চরম ছলনাপূর্ণ বাণিজ্য ও ধূর্ত প্রতারণা নয়? কমিশনে তার চেয়ারম্যান পদে পূর্ণনিয়োগেই কি প্রমাণ করে না যে- সরকারের সাথে তার বিশেষ আঁতাত হয়েছে?

অপরদিকে তথাকথিত মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের বক্তব্য শুনে মনে হয়, মানবাধিকার কাকে বলা যায় সে সম্পর্কে তার জ্ঞান নেই।

গত ১০ ডিসেম্বর-২০১৪ ঈসায়ী তারিখে তথাকথিত মানবাধিকার দিবসে সে বলেছে, “মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি তারা মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার রক্ষায় সরকারকে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে। আবার বলেছে, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতেও তারা সচেষ্ট।”

দেখা যাচ্ছে, মৌলিক অধিকার কি সেটাই সে স্পষ্টভাবে জানে না। মূলতঃ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদিই যে মৌলিক অধিকার এটাও সে বুঝে না।

বলাবাহুল্য, আমরা নিশ্চিত যে- তাকে যদি বলা হয়, মানবাধিকারের সাংবিধানিক সংজ্ঞা কি? এটা সে বলতে পারবে না।

মূলত, আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে আসলে মানবাধিকারের লঙ্ঘন কথাটি সাংবিধানিক নয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলতে আলাদা কোনো কথা নেই। তবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বিতীয়ভাগ ও তৃতীয়ভাগে যেসব অধিকার নাগরিককে দেয়া হয়েছে তা লঙ্ঘন হলে; যেহেতু তা জাতিসংঘ স্বীকৃত মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই তাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলা যায়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত অনেক সনদ আছে। কিন্তু তা কোনো দেশের স্বীকৃত অধিকার বা আইন হতে পারে না। যেমন- জাতিসংঘের স্বীকৃত ‘সিডও’ সনদ বাংলাদেশের প্রচলিত মুসলিম আইনের সাথে সাংঘর্ষিক এবং স্বীকৃত নয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, আজকে যেসব গুম, খুন হচ্ছে, যাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলা হচ্ছে, তা কী দেশের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন নয়?

তবে তাকে প্রচলিত আইনের লঙ্ঘনকারী না বলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বলা হচ্ছে কেন? এক্ষেত্রে দেশের সাংবিধানিক আইন ও দ-বিধির আইন এর লঙ্ঘনকে আলোচনার বাইরে রাখা হচ্ছে কেন? কেন এখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইনকে না এনে জাতিসংঘের সনদকে বিশেষায়িত করা হচ্ছে? মূলতঃ এটা বাংলাদেশসহ সব মুসলিম দেশের প্রতি গভীর ষড়যন্ত্র। জাতিসংঘের ধারণা প্রচলনের মাধ্যমে মুসলিম দেশ ও সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধ নস্যাৎ করার ঘৃণ্য কূটকৌশল।

যে কারণে দেখা যায়, এদেশের তথাকথিত মানবাধিকারের বুলি কপচানোরাই এদেশে ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া। তারা বাঙালি অধিকারে নিশ্চুপ; কিন্তু পাহাড়ি উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের অধিকারের নামে এদেশে পার্বত্য অঞ্চলকে দক্ষিণ সুদান বা পূর্ব-তিমুরের মতো বিচ্ছিন্ন করতে বদ্ধপরিকর।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তথাকথিত মানবাধিকারের যে সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে এবং ১৯৫০ সালে একই দিনে যে মানবাধিকার দিবস পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশসহ কোনো মুসলিম দেশের জন্য পালনীয় নয়। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ওদের মানব অধিকারের আলোকেই চরম মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

প্রসঙ্গত, এই তথাকথিত মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে ‘মানবের’ কোনো সংজ্ঞাই দেয়া হয়নি। মানব ‘প্রবৃত্তির’ প্রকৃতি বর্ণনা করা হয়নি। মানব জীবনের গতিপথের উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি মানব সৃষ্টির পেছনে মানবের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশনার, উনার তরফ থেকে নাযিলকৃত শাস্তি ও পুরস্কারের কোনো বর্ণনা দেয়া হয়নি। নফস ও শয়তানকে চিহ্নিত করা হয়নি। নফস ও শয়তান যে মানুষকে আইন অমান্য করতে প্ররোচিত করবে, সে সম্পর্কে সাবধান করা হয়নি। সতর্ক করা হয়নি। কিন্তু এসব অনিবার্য ইলমের সন্নিবেশ ব্যতিরেকেই আইনের শাসনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যে মানুষ তার নিজের পরিচয় জানে না, সে আইন মানবে কি করে? যে মানুষ নফসের ওয়াসওয়াসা ও শয়তানের ধোঁকা বুঝে না, সে বেআইনী কাজ থেকে বিরত থাকবে কেমনে? তারপরেও যদি তার উপরে আইনের শাসনের নামে আইন না মানার শাস্তি চাপিয়ে দেয়া হয়, তবে কি সেটা অমানবিক নয়?

মূলত, এটাই হচ্ছে কথিত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কাজেই আজ একথা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে হয় যে, একমাত্র ইসলামী মূল্যবোধ ও অনুশাসনের দ্বারা পরিচালিত দেশ ব্যতীত পৃথিবীর সর্বত্র অতীতেও চরম মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।

মূলত, এসব ছহিহ সমঝ ও জজবা আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)


-আল্লামা মুহম্মদ আরিফুল্লাহ।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক