সন্তু লারমার সশস্ত্র আন্দোলনের হুমকি এবং তথাকথিত গণশুনানীর বক্তাদের উস্কানি।

সংখ্যা: ২৪০তম সংখ্যা | বিভাগ:

সন্তু লারমার সশস্ত্র আন্দোলনের হুমকি এবং তথাকথিত গণশুনানীর বক্তাদের উস্কানি।

রাষ্ট্রদ্রোহ আইন, অস্ত্র আইনসহ দণ্ডবিধির অনেক ধারায় এটা গর্হিত অপরাধ। দেশবিরোধী এসব কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীদের এদেশে থাকার, চলার, সংগঠন করার, বক্তব্য দেয়ার অধিকার নেই; এরা এদেশে অবাঞ্ছিত।

এদের উৎখাত করতে দেশবাসীকে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।


সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সব সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।

গত ২রা ডিসেম্বর ২০১৪ ঈসায়ী রাজধানীর মুহম্মদপুরে “আদিবাসীদের (?) মানবাধিকার পরিস্থিতি শীর্ষক” তথাকথিত এক গণশুনানীতে ৭ জন উপজাতি নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে। কথিত নির্যাতন কতটা সত্য? তা প্রমাণ দাবি ছাড়াও বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নির্যাতিতের সংখ্যা মাত্র ৭ জন। আর এ ৭ জনের কাহিনীই গণশুনানী। অথচ সরকার স্বীকৃত হিসেব মতেই এ বছর পাহাড়ি উপজাতি কর্তৃক বাঙালি খুন হয়েছে ১৬ জন। তাহলে বাঙালিদের স্বজনদের আহাজারীর গণশুনানী নেই কেন? উপজাতি পাহাড়িদের ভয়াবহ অত্যাচার, অব্যাহত চাঁদাবাজি, দেশের স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং বাঙালিদের প্রতি স্টীম রোলার চালানোর কাহিনী নিয়ে কোনো মহল উচ্চকিত নয় কেন?

উপজাতিদের পক্ষে- সিএইচটি কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আই.ই.ডি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অক্সফামসহ দেশের সব বামপন্থী এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষী সংগঠনগুলো যোগ দিয়েছে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষী মিডিয়া তা হাইলাইট করছে। সরকারও তাদের প্রতি নতজানু ভূমিকা পালন করছে। অথচ বাঙালিদের পক্ষে কেউ নেই।

গত ২রা ডিসেম্বর (২০১৪) সন্তু লারমা প্রকাশ্যে বলেছে, তারা আবার অস্ত্র তুলে নেবে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতায় নামবে। পাশাপাশি তথাকথিত গণশুনানীতে বক্তারাও উপজাতীদের সহিংসতার পথে যাওয়ার পক্ষে উস্কানি দিয়েছে। উল্লেখ্য, রহস্যজনক কারণে সরকার এখনো প্রকাশ্য রাষ্ট্রদ্রোহী এসব কথা আমলে নেয়নি। তথাকথিত মানবাধিকার কমিশন, সিএইচটি কমিশনসহ অন্যান্য দেশী-বিদেশী মুসলিমবিদ্বেষী সংগঠনগুলো এতে দোষের কিছু দেখেনি। কুখ্যাত মিডিয়াগুলোও কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি।

তার বিপরীতে এদেশের ৯৭ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর চরম ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ আমরা সঙ্গতকারণেই প্রতিধ্বনিত করছি। প্রতিবাদের শীর্ষ অভিব্যক্তি প্রকাশ করছি।

উল্লেখ্য, দেশের প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ একটা লাঠি বা ছুরিও ব্যবহার করতে পারে না। হুমকি দিতে পারে না। এটাই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব। অথচ সন্তু লারমা ও তথাকথিত গণশুনানীতে উপস্থিত বক্তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের ঘোষণা দিয়ে চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছে। রাষ্ট্রের ভেতরে বা বাইরে কেউই এমন বক্তব্য দিতে পারে না। বিজয়ের মাসে সন্তু লারমা গং-এর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।

মূলত, সন্তু লারমা গং শান্তিচুক্তির পরও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো করছে। নইলে এমন বক্তব্য তারা দিতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও অস্ত্র আইনে মামলা হওয়া উচিত। সরকারকে দ্রুতই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পার্বত্য চুক্তির ৭২টি শতের্র মধ্যে ৪৮টি শর্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকীগুলো অতিসত্বরই বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় পার্বত্য এলাকার বাঙালি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, চুক্তি সম্পাদনের পর পাহাড় কখনোই শান্ত হয়নি। চুক্তির পর পাহাড়ের চাঁদাবাজি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সব উন্নয়ন কর্মকা-, ঠিকাদারি ব্যবসা, কাঠ ব্যবসা, কৃষিকাজ ও মওসুমী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ জেলেরা পর্যন্ত টোকেনের মাধ্যমে তিনটি ভিন্ন উপজাতি সংগঠনকে চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। চুক্তি পরবর্তী খুন, ঘুম অপহরণ ও সংঘাতের ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পাহাড়ে বসবাসকারী বাঙালিদের জনজীবন।

চুক্তির আগে পাহাড়ে-বনে-জঙ্গলে থেকে যারা চোরাগুপ্তা হামলা চালাতো তারাই এখন শহরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অট্টালিকায় বসে সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করছে।

চুক্তির আগে একটি (জেএসএস) সংগঠনকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করা যেত। এখন জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ এ তিন সংগঠনকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে অপহরণ করা হয়।

মূলত পার্বত্য চুক্তি সংবিধান পরিপন্থী। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখ-তা বিরোধী অসম এ চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্মারণাতীতকাল হতে বসবাসরত সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার, ভূমি অধিকার, নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী অধিবাসীদের নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান, ভূমিকা, দায়িত্ব, কর্মপরিসর, কার্যধারা ও দেশ রক্ষার্থে গৃহীত তাদের যাবতীয় তৎপরতাকে খর্বিত, সীমিত ও বিপর্যস্ত করা হয়েছে।

অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে একমাত্র আদিবাসী হিসেবে উপজাতীয় নাগরিকদের দাবি সম্পূর্ণ অসার। নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রানুযায়ী, পার্বত্য এলাকাটি সুপ্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা ছিল। তখন উক্ত এলাকার নাম ছিল খোদা বকশ খান। উক্ত এলাকায় উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর আগমন ঘটে দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ বছরের মধ্যে। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা ও অন্যান্য উপজাতীয় অধিবাসীরা কোনোভাবেই ওই এলাকার আদিবাসী নয়। বরং বাঙালিরাই সেখানকার আদিবাসী। সন্ত্রাসী শান্তিবাহিনীর সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার সময়ও পার্বত্য এলাকায় বাঙালিরাই ছিল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ।

সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি, তথাকথিত আদিবাসী প্রচারণা যারা চালাবে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী। সংবিধান বিরোধী। তারা বাংলাদেশবিদ্বেষী। দেশবিরোধী এসব কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারীদের এদেশে থাকার, চলার, সংগঠন করার, বক্তব্য দেয়ার কোনো অধিকার নেই। তারা মানবাধিকার কমিশনের নামে কার্যক্রম চালাতে পারে না। তারা ১৯৭১-এর শান্তিকমিটির মতো দেশে অশান্তি বিস্তার করছে, বিদ্বেষ তৈরি করছে। বৈষম্য লালন করছে। এরা ষড়যন্ত্রকারী এবং কুচক্রী। এরা এদেশে অবাঞ্ছিত। এদের উৎখাত করতে দেশবাসীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সরকার যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গাফলতি করে, তবে জনরোষ ফুসে উঠবে এবং তা সামলানোর সহজ পথ থাকবে না। অতএব, সরকারকে সময় থাকতেই সক্রিয় হতে হবে।

মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে সম্মানিত ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)



-আল্লামা মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক