উম্মতের প্রতি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু, রহমাতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহিম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কাফিরদের পরিকল্পিত ধারাবাহিক মানহানীকর ঘটনায় মুসলিম বিশ্ব নীরব কেন? উম্মতের প্রতি রহমাতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল রহমত সম্পর্কে কেন মুসলিম বিশ্ব নিরেট অজ্ঞ? এবং হক্ব আদায়ে নিষ্ক্রিয়?

সংখ্যা: ২৪১তম সংখ্যা | বিভাগ:

উম্মতের প্রতি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু, রহমাতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহিম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কাফিরদের পরিকল্পিত ধারাবাহিক মানহানীকর ঘটনায় মুসলিম বিশ্ব নীরব কেন? উম্মতের প্রতি রহমাতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল রহমত সম্পর্কে কেন মুসলিম বিশ্ব নিরেট অজ্ঞ? এবং হক্ব আদায়ে নিষ্ক্রিয়?


২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ২০১১ সালের নভেম্বরে এবং ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কুখ্যাত ফরাসী পত্রিকাটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক চিত্র প্রকাশ করে। (নাঊযুবিল্লাহ!)

এরপর গত ১৩ জানুয়ারি-২০১৫ ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননাকর কার্টুন ছাপে। (নাউযুবিল্লাহ!)

এছাড়া ডেনমার্ক, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশের কুখ্যাত পত্রিকাগুলো ক্ষমার অযোগ্য এ কুকাজ করে। এসব ঘটনা কি প্রমাণ করে?

লেখাবাহুল্য, পৃথিবীর ৩৫০ কোটি মুসলমান এক্ষেত্রে যথাযথ প্রতিবাদ করছে না বলে কাফির মুশরিকরা এরকম জঘন্য কাজ একের পর এক করতে পারছে। নাঊযুবিল্লাহ!

কিন্তু মুসলমান কেন মুসলমান? এক আল্লাহ পাক উনাকে অনেকেই বিশ্বাস করে। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ্বাস করে না, তা’যীম-তাকরীম করে না বলেই তারা কাফির। নাঊযুবিল্লাহ!

তবে কী মুসলমানও এখন কাফিরের তবকায় যেতে চায়? নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে মুসলমান কাফিরদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপের যথাযথ প্রতিবাদ করছেনা কেন? মুসলমান যদি পিতা-মাতা, শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন তথা সাধারণ মানুষের মুহব্বত, মমতার হক্ক আদায়ে নিবেদিত হতে পারে; তবে যিনি সব সৃষ্টির মূল। যিনি কুল কায়িনাতের রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল হক্ব আদায়ে মুসলমানদের মাঝে কোনো চেতনা নেই কেন?

মুসলমানের প্রতি রউফুর রহীম, রহমাতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমত যে বর্ণনাতীত। মুসলমান সে সম্পর্কে ফিকির করে না কেন?

মহিমান্বিত কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে কী স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্টভাবে ইরশাদ মুবারক করেননি? তারপরে মুসলমান পবিত্র কুরআন শরীফ পড়ে না কেন?

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন “আর আমি আপনাকে (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) সমস্ত আলম বা সমস্ত সৃষ্টির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৭)

“নিশ্চয়ই আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদানকারী এবং সতর্ককারী হিসেবে।” (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)

“হে মানুষেরা! অবশ্যই তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যিনি হচ্ছেন) মহানতম নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং (খাছভাবে) মু’মিনদের জন্য (এবং আমভাবে সমস্ত কায়িনাতের জন্য) রহমত দানকারী।” (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)

“অবশ্যই তোমাদের কাছে একজন রসূল অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি এসেছেন, তোমাদের দুঃখ-কষ্ট উনার কাছে বেদনাদায়ক, তিনি হচ্ছেন তোমাদের অতিশয় হিতাকাঙ্খী এবং মু’মিনদের জন্য বড়ই স্নেহশীল, করুনা পরায়ণ।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৮)

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত আবূ মুসা আশআরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের কাছে উনার নাম মুবারকসমূহ বর্ণনা করতেন। তখন তিনি বলেন, আমি মুহম্মদ (পরম প্রশংসিত) আহমদ (অতিশয় প্রশংসাকারী) হযরত নবী- রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের শেষে আগমনকারী, হাশির (সমবেতকারী) এবং আমি নবীয়ে তওবা ও নবীয়ে রহমত।” (মুসলিম শরীফ)

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই আমি মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে প্রেরিত রহমত।” (দারিমী, বায়হাকী, মিশকাত)

মূলত উম্মতের প্রতি রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এতো মুহব্বত, রহমত থাকার পরও, মুসলমানগণ উনার প্রতি কী হক্ব আদায় করছে?

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্টতঃ ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সন্তুষ্টি পাওয়ার অধিক হক্বদার।

অথচ মুসলমান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি হাসিল করার প্রতি বেখবর। মূলত, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনে গাফলতি ও ও ব্যর্থতাই মুসলমানদের এ অবনতির মূল কারণ।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্বের সাড়ে তিনশ কোটি মুসলমানকেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যঙ্গচিত্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ঈমানী জজবায় ঝঁপিয়ে পড়তে হবে। এবং সে লক্ষ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে হবে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহিমান্বিত জীবনী মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ করতে হবে। কাফির-মুশরিকদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতনতা সম্বলিত সম্মানিত হাদীছ শরীফ এবং উনার শিক্ষা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।


-আল্লামা মুহম্মদ আরিফুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক