প্রসঙ্গঃ মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ দায়িমীভাবে পালন এবং দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ, মাল‘ঊন, গোমরাহ উলামায়ে সূ’, মুনাফিক্ব গং ও সাউদী ওহাবী তথাকথিত গ্র্যান্ড মুফতের কুফরীমূলক ব্যক্তব্যের চির অকাট্য ও দাঁতভাঙ্গা জাওয়াব

সংখ্যা: ২৪১তম সংখ্যা | বিভাগ:

প্রসঙ্গঃ মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ দায়িমীভাবে পালন এবং দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ, মাল‘ঊন, গোমরাহ উলামায়ে সূ’, মুনাফিক্ব গং ও সাউদী ওহাবী তথাকথিত গ্র্যান্ড মুফতের কুফরীমূলক ব্যক্তব্যের চির অকাট্য ও দাঁতভাঙ্গা জাওয়াব


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সমস্ত মুসলমান উনাদের জন্য, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য, সমস্ত জিন-ইনসানের জন্য, তামাম মাখলূকাতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত নিয়ামত মুবারক, সম্মানিত ফযল মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাই উনাকে অর্থাৎ উনার সম্মানিত মহাপবিত্র ওজুদ মুবারক উনাকে লাভ করতে পারার কারণে এবং উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা, ঈদ পালন করা সমস্ত জিন-ইনসানের জন্য, তামাম মাখলূকাতের জন্য, সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ফরয। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যত ঈদ রয়েছে তার মধ্যে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ’ হচ্ছেন সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! তাই মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এই মহাসম্মানিত ঈদ উনার মুবারক নামকরণ করেছেন ‘সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ হিসেবে। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা প্রত্যেক মুসলমান, জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। এই সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يٰاَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مّـِنْ رَّبّكُمْ وَشِفَاءٌ لّـِمَا فِى الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لّـِلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّمَّا يَـجْمَعُوْنَ.

অর্থ: “হে মানুষেরা! হে সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী! অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সর্বপ্রকার ব্যাধিসমূহের সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্যদানকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত দানকারী এবং খাছ করে ঈমানদারদের জন্য, আমভাবে সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমতস্বরূপ আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক এনেছেন। (সুবহানাল্লাহ)। হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে, ফযল মুবারক এবং রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে, ঈদ পালন করে তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা, ঈদ পালন করাটা, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাটা সবকিছু থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম; যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ: ৫৭-৫৮)

তাহলে এখন বলার বিষয় হচ্ছে, এই মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ কতক্ষণ সময় ধরে পালন করতে হবে? এই সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّا اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشّرًا وَّنَذِيْرًا. لِتُؤْمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُعَـزّرُوْهُ وَتُوَقّـِرُوْهُ وَتُسَبّحُوْهُ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا.

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি আমার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শাহিদ তথা (উপস্থিত, হাজির, নাযির) সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদানকারী ও সতর্ককারী হিসেবে সৃষ্টি করেছি, প্রেরণ করেছি। যেন তোমরা ঈমান আনতে পারো মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি। অতএব, তোমরা যথাযথভাবে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দাও, উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করো এবং সকাল-সন্ধ্যা তথা দায়িমীভাবে অনন্তকাল যাবৎ উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করো তথা উনার মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ফাতহ শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৮-৯)

এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত জিন-ইনসান ও কায়িনাতবাসীর জন্য উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে, উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে সকাল-সন্ধ্যা, দায়িমীভাবে অনন্তকাল যাবত মহাসম্মনিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

তাই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম অনুষ্ঠানিকভাবে অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমরা অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানিত মাহফিল মুবারক জারি করেছি। তা অনন্তকালব্যাপী চলতে থাকবে, আর কখনো বন্ধ হবে না ইনশাআল্লাহ। কবর, হাশর-নশর, মীযান, পুলছিরাত, সম্মানিত জান্নাতেও সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানিত মাহফিল মুবারক চলতেই থাকবে ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, যাঁরা হাক্বীক্বীভাবে খুশি প্রকাশ করবে, নিয়ত করবে, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করবে উনারা কবর, হাশর-নশর, মীযান, পুলছিরাতে এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ যেয়েও অনন্তকাল যাবৎ মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে পারবে ইনশাআল্লাহ। সুবহনাল্লাহ!

       বেশ কিছু দিন পূর্বে তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “কবরেও মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি হয়ে গেছে।” সুবহানাল্লাহ! অবশ্য অবশ্যই সেটা হয়েছে। যাঁদের অন্তর চক্ষু রয়েছে, উনারা দেখেন বা দেখে নিতে পারেন। আর যারা গুমরাহ তারাতো ইহকাল ও পরকালে অন্ধ। তারাতো দেখতে পারবে না, এটাই স্বাভাবিক। কেননা তাদের ব্যাপারে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

وَلَقَدْ ذَرَاْنَا لِـجَهَنَّمَ كَثِيْرًا مّـِنَ الْـجِـنّ وَالْاِنْسِ لَـهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِـهَا وَلَـهُمْ اَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُوْنَ بِـهَا وَلَـهُمْ اٰذَانٌ لَّا يَسْمَعُوْنَ بِـهَا اُولٰـئِكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ اُولٰـئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ

অর্থ: “আর জিন ও মানুষের মাঝে এমন অনেক জিন এবং মানুষ রয়েছে, যারা তাদের বদ আমলের দ্বারা তাদের উপর জাহান্নাম অবধারিত করে নিয়েছে। তাদের অন্তর রয়েছে; কিন্তু তারা উপলব্ধি করতে পারে না। তাদের চক্ষু রয়েছে; কিন্তু তারা দেখতে পায় না। তাদের কান রয়েছে; কিন্তু তারা শুনতে পায় না। তারা হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়; বরং তার চেয়েও অধিক নিকৃষ্ট। তারা হচ্ছে গাফিল।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আ’রাফ শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৭৯)

দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ, মাল‘ঊন, গুমরাহ উলামায়ে সূ’, মুনাফিক্ব গং ও সউদী ওহাবী তথাকথিত গ্র্যান্ড মুফতেরা হচ্ছে এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। তাই তারা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্পর্কে এলোমেলো বক্তব্য পেশ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি যখন গত বছর তথা ১৪৩৫ হিজরী শরীফ উনার মাহে রবীউছ ছানী শরীফ উনার শুরুতে এই মহাসম্মানিত ঘোষণা মুবারক দিলেন যে, “পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম তিনি অনুষ্ঠানিকভাবে অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তা অনন্তকালব্যাপী চলতে থাকবে, আর কখনো বন্ধ হবে না ইনশাআল্লাহ। কবর, হাশর-নশর, মীযান, পুলছিরাত, সম্মানিত জান্নাতেও সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানিত মাহফিল মুবারক চলতেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।” সুবহানাল্লাহ!

এই মহাসম্মানিত ঘোষণা মুবারক উনার প্রায় দেড় মাস পর মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ফযল ও করমে উনার এই আদনা মুরীদ এক রজনীতে স্বপ্নে দেখতে লাগলাম, ‘আমরা এখন যেভাবে প্রতিদিন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ থেকে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে থাকি, ঠিক সেভাবেই আমরা উনার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ থেকে উনার সাথে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করছি। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! তবে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, লোকের আধিক্যতা বেড়েছে। কোটি কোটি, অসংখ্য-অগণিত লোক সম্মানিত মাহফিল মুবারক-এ উপস্থিত। যার কোনো হিসেব নেই। সুবহানাল্লাহ! আমরা এইভাবে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেই চলছি। এক মুহূর্তের তরেও কোনো বিরতি নেই। সুবহানাল্লাহ! দেখতে লাগলাম, এরই মধ্যেই এই অধমের ইন্তিকাল হলো। কিন্তু মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন এক মুহূর্তের তরেও বন্ধ হলো না। মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন চলতেই থাকলো। কবরেও সেই একইভাবে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ থেকে অসংখ্য-অগণিত লোকের মহাসমাহারে আমরা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে চলছি। তারপর দেখতে লাগলাম, ক্বিয়ামত কায়িম হয়ে গেলো। কিন্তু তখনও মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন চলতেই থাকলো। এক পলকের তরেও বন্ধ হলো না। সুবহানাল্লাহ! ক্বিয়ামতের পরেও মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আমাদেরকে নিয়ে, সমস্ত কানিয়াতবাসী, জিন-ইনসান সকলকে নিয়ে হাশরে-নশরে, মীযানে, পুলছিরাতেও মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে চলছেন। এমনকি এই মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে করতে তিনি আমাদের সবাইকে নিয়ে পুলছিরাত পার হয়ে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করেও তিনি মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে থাকলেন। মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার এক মহাসম্মানিত নূরানী আসন মুবারক-এ উপবিষ্ট। আর উনার চতুষ্পার্শ্বে আমরা এবং অসংখ্য-অগণিত লোক। চোখের দৃষ্টি যতদূর চাচ্ছে শুধু লোক আর লোক। এতো অসংখ্য-অগণিত লোক মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে ঘিরে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করছেন যে, কোনো কুল-কিনারা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সুবহানাল্লাহ! এক পর্যায়ে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সবাইকে প্রশ্ন করলেন, কারো আর কোন সম্মানিত নিয়ামত মুবারক লাভ করা বাকী আছে কি না? সবাই বললো, না। তখন মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এমন কিছু শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা করতে থাকলেন যে, মনে হলো সবাই সম্মানিত ইশক্ব মুবারক-এ বিভোর হয়ে ফানা হয়ে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! এমন এক অপূর্ব মনোরম মহাসম্মানিত বরকতময় পরিবেশে মহাসম্মানিত আযীমুশ শান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন চলছে, যা প্রকাশের ভাষা এই অধমের জানা নেই। সুবহানাল্লাহ!’

সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ দায়িমীভাবে পালনে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলে কত বেমেছাল সন্তুষ্ট, তা কায়িনাতের কোনো মাখলূকাতের পক্ষে উপলব্ধি করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ!

তবে আমরা এবং কায়িনাতবাসী সবাই যেন ‘অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ উনার গুরুত্ব, তাৎপর্য, ফযীলত ও বুযূর্গী-সম্মান সম্পর্কে বুঝতে পারি, বুঝে নিয়ামত মুবারক হাছিল করতে পারি, শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি, সে জন্য এখানে একখানা সম্মানতি দৃষ্টান্ত মুবারক উপস্থান করা হবে ইনশাআল্লাহ। তার পূর্বে জেনে রাখা আবশ্যক যে, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্মানিত বিশেষ বিশেষ দিবস ও রজনী মুবারকগুলো উদযাপন করে থাকেন; সেগুলোও কিন্তু মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনারই অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

যা হোক, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, (১৪৩৫ হিজরী শরীফ) সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক তথা ২০শে জুমাদাল উখরা শরীফ তা’যীম-তাকরীম মুবারক, সম্মান-ইজ্জত মুবারক, মুহব্বত মুবারক ও সাখাওয়াতী মুবারক উনার সাথে পালন করা হলে, এতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ও হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলে অত্যন্ত বেমেছাল খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!’

ঠিক উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিবস তথা সম্মানিত ৩রা রমাদ্বান শরীফ অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম মুবারক, সম্মান-ইয্যত মুবারক, মুহব্বত মুবারক ও সাখাওয়াতী মুবারক উনার সাথে পালন করা হলে ওই তারীখে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার একখানা মহাসম্মানিত বিশেষ শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটে। ওই তারিখে মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার এক আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ সম্মানিত দীদার মুবারক হয়। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও অত্যন্ত বেমেছাল খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করতে করতে বিশেষ শান মুবারক প্রকাশ করে সেখানে যাহির মুবারক হন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাথে সাথে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাসহ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাও অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করতে করতে উনাদের বিশেষ শান মুবারক প্রকাশ করে সেখানে যাহির মুবারক হন। উনারা সকলে অত্যন্ত বেমেছাল খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা সকলেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরজি মুবারক পেশ করতে থাকেন যে, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক (২০শে জুমাদাল উখরা শরীফ) এবং সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক (৩রা রমাদ্বান শরীফ) যেভাবে সীমাহীন আদব মুবারক, শরাফত মুবারক, মুহব্বত মুবারক, মা’রিফত মুবারক, খুলুছিয়ত মুবারক ও সাখাওয়াতী মুবারক উনার সাথে পালন করা হয়েছে। আমাদের তথা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দিবস মুবারকগুলোও যেন ঠিক একইভাবে পালন করা হয়। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্টি মুবারক উনার সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে আমার লখতে জিগার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম! আপনি, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক (২০শে জুমাদাল উখরা শরীফ) এবং সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক (৩রা রমাদ্বান শরীফ) যেভাবে সীমাহীন আদব মুবারক, শরাফত মুবারক, মুহব্বত মুবারক, মা’রিফত মুবারক, খুলুছিয়ত মুবারক ও সাখাওয়াতী মুবারক উনার সাথে পালন করেছেন, এতে আমরা অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্ট হয়েছি। সুবহানাল্লাহ! আপনি আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস, মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিবস এবং উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দিবস মুবারকগুলোও ঠিক একইভাবে পালন করবেন। সুবহানাল্লাহ!’

যারা আকলমান্দ তাদের জন্য এই সম্মানিত ওয়াক্বিয়া মুবারক উনার মধ্যে সীমাহীন ইবরত-নছীহত মুবারক নিহিত রয়েছে। নিহিত রয়েছে রূহানী খোরাক মুবারক। সুবহানাল্লাহ! আর যারা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধী, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার ব্যাপারে এলোমেলো বক্তব্য পেশ করে, তারা হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তু তথা শুকর, কুকুরের চেয়েও অত্যধিক নিকৃষ্ট। যার কারণে তারা তা উপলব্ধি করতে পারবে না, এটাই স্বাভাবিক। একই কারণে দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ, মাল‘ঊন, গুমরাহ উলামায়ে সূ’, মুনাফিক্ব গং, সউদী ওহাবী তথাকথিত গ্র্যান্ড মুফতে এবং তাদের অনুসারীরাও চতুষ্পদ জন্তু তথা শুকর, কুকুরের চেয়েও অত্যধিক নিকৃষ্ট। তাই তারাও তা কখনোই বুঝবে না, এটাই স্বাভাবিক। এটা সম্মানিত কুরআন শরীফ ও সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই প্রমাণিত। তবে যারা হক্ব তালাশী রয়েছেন, উনাদের জন্য বলা হচ্ছেÑ উপরে যা বর্ণিত হলো, তা হচ্ছে মহাসম্মানিত কারামত মুবারক উনার অনন্তর্ভুক্ত। আর আক্বাইদ উনার কিতাব মুবারক-এ বর্ণিত রয়েছে-

كَرَمَاتُ الْاَوْلِيَاءِ حَقٌّ

অর্থ: ‘হযরত আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সম্মানিত কারামত মুবারক সত্য’। সুবহানাল্লাহ! আর তা সম্মানিত কুরআন শরীফ ও সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে হযরত আউলিয়া-ই কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এরূপ জিয়ারত মুবরাক ও তাওয়াল্লুক-নিসবত মুবারক উনার বিষয়টি বুঝার জন্য আপনারা সম্মানিত তাছাউফ মুবারক উনার কিতাব মুবারক অধ্যয়ন করতে পারেন। এছাড়া বিশেষ করে অধ্যয়ন করতে পারেন হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত দু’খানা কিতাব ‘আল হাওই শরীফ ও তানওইরুল হালাক ফী ইমকানি রুইয়াতিন নাবিইয়ি ওয়াল মালাক’। এই দু’খানা কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে বিশুদ্ধ সনদ মুবারক-এ হযরত ছাহাবা-ই কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরসহ হযরত আউলিয়া-ই কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এরূপ অনেক ঘটনা মুবারক উল্লেখ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি অনন্তকালের জন্য মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি করেছেন এবং উনার মুরীদান উনাদেরকে নিয়ে দায়িমীভাবে তা পালন করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! এমনকি এই মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সারা কায়িনাতে জারি করতেছেন। সুবহানাল্লাহ! এটা দেখে ইবলিসের খাছ অনুসারী দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ, সউদী ওহাবী কথিত গ্র্যান্ড মুফতে এবং তার অনুসারী উলামায়ে সূ’ ও মুনাফিক্বদের ভিতর যালযালা পয়দা হয়ে গেছে, তাদের গায়ে আগুন লেগে গেছে। নাউযুবিল্লাহ! যার কারণে তারা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বন্ধ করার জন্য, বিশ্বব্যাপী নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরুদ্ধে নানান এলোমেলো বক্তব্য পেশ করে যাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!

ইবলিসের খাছ অনুসারী, দাজ্জালের চেয়ে অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ সউদী ওহাবী তথাকথিত গ্র্যান্ড মুফতে গত ২রা জানুয়ারি ২০১৫ ঈসায়ী, ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা জুমুয়ার দিন জুমুয়ার খুতবায় বলেছে, ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন করা বিদ্য়াত ও গুনাহর কাজ এবং সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারীরা শয়তান।’ নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

সে এই বক্তব্য দিয়ে কাট্টা কুফরী করেছে। নিজেকে ইবলিসের খাছ অনুসারী, দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ এবং চতুষ্পদ জন্তু তথা শূকর, কুকুরের চেয়েও অত্যধিক নিকৃষ্ট হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।’ নাঊযুবিল্লাহ!

কারণ সে সরাসরি ইবলিসের চেয়েও আরো ঘৃণ্যভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক উনাকে অবমাননা করেছে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে, অস্বীকার করেছে এবং স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধিতা করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! কেননা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে ইরশাদ মুবারক করেছেন-

قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّـِمَّا يَـجْمَعُوْنَ.

অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে, সম্মানিত ফযল মুবারক ও রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে, ঈদ পালন করে তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা, ঈদ পালন করাটা, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাটা সবকিছু থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম; যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ : ৫৮)

এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ পালন করার জন্য সরাসরি নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছেন এবং সকলের উপর তা পালন করা ফরয করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা হচ্ছে-

هُوَ خَيْرٌ مّـِمَّا يَـجْمَعُوْنَ

অর্থ: “বান্দা-বান্দী, উম্মত সকলে যা কিছু জমা করে থাকে, যত নেক আমল করে থাকে, সমস্ত নেক আমল থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা হচ্ছে ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল মুস্তাহাবসহ যত নেক আমল রয়েছে সমস্ত নেক আমল থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম।” সুবহানাল্লাহ!

তাহলে ইবলিসের খাছ অনুসারী, দাজ্জালের চেয়ে অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ সউদী ওহাবী গ্র্যান্ড মুফতে কি করে বলতে পারে যে, ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন করা বিদ্য়াত ও গুনাহর কাজ এবং মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারীরা শয়তান।’ নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

সুতরাং সে এই বক্তব্য পেশ করে কাট্টা কুফরী করেছে এবং নিজেকে দাজ্জাল ও ইবলীসের চেয়েও অত্যধিক নিকৃষ্ট ও মালঊন হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। নাউযুবিল্লাহ!

মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘সম্মানিত শরীয়ত উনার ছহীহ ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা জায়িয তো অবশ্যই, বরং ফরযে আইন এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম নেক আমল। সুবহানাল্লাহ! সউদী ওহাবীদের কথিত গ্র্যান্ড মুফতে সে ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ উদযাপনকে বিদ্য়াত ও গুনাহর কাজ বলে কাট্টা কুফরী করেছে। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে তার উপর মুরতাদের হুকুম বর্তাবে। অর্থাৎ সে যদি তওবা না করে তবে তার একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদ-।’

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন, সউদী ওহাবী মুফতেসহ ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধী সকলের প্রতি প্রকাশ্য বাহাছের চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করা হলো- যারা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন করাকে বিদয়াত ও গুনাহর কাজ বলে প্রমাণ করতে পারবে, তাদেরকে একশ কোটি টাকা পুরস্কার দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!”

কিন্তু আজ প্রায় দুই মাসেরও অধিক সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সেই ‘সম্মানিত প্রকাশ্য বাহাছ উনার চ্যালেঞ্জ মুবারক’ দাজ্জাল ও ইবলীসের চেয়েও অত্যধিক নিকৃষ্ট ও মালঊন কথিত গ্র্যান্ড মুফতে ও তার অনুসারীরা গ্রহণ করার সাহস পায়নি। সুবহানাল্লাহ!

শুধু তারা কেন; তাদের চৌদ্দ পুরুষ মিলেও ক্বিয়ামত পর্যন্ত কস্মিনকালেও মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন বিদয়াত ও গুণাহর কাজ প্রমাণ করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!

আমরা তাদেরকে বলতে চাই, তোমরা দেখতে থাকো, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এখন অনন্তকালের জন্য মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি করেছেন এবং উনার মুরীদান উনাদেরকে নিয়ে দায়িমীভাবে তা পালন করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, এক সময় মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি বাংলাদেশ তো অবশ্যই; এমনকি সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি করবেন এবং সমগ্র বিশ্ববাসী, সারা কায়িনাতবাসীকে নিয়ে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করবেন ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ! পৃথিবীর বুকে এমন কোনো শক্তি নেই যে, এখানে বাঁধা প্রদান করবে। সুবহানাল্লাহ! আর যারা এই বিষয়ে বাঁধা প্রদান করার অপচেষ্টা করবে, তারা পরিপূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে, তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!

আর হে চতুষ্পদ জন্তু তথা শূকর, কুকুরের চেয়ে নিকৃষ্ট, ইবলীস ও দাজ্জালের চেয়ে অত্যধিক মালঊন সউদী ওহাবী গ্র্যান্ড মুফতে, যদি তুমি কল্যাণ চাও, তাহলে অতিসত্ত্বর খালিছ তাওবা করো, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাও এবং তোমরা সমস্ত অনুসারীদেরকে খালিছ তাওবা করতে বলো, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলো। অন্যথায় তোমাদের জন্য অত্যন্ত ভয়ানক খোদায়ী আযাব-গযব অপেক্ষমান রয়েছে। তোমারতো ইতোমধ্যে আকৃতি-বিকৃতি শুরু হয়ে গেছে। দাজ্জালের ন্যায় তোমার একটি চোখ কানা। নাউযুবিল্লাহ! যদি তুমি খালিছ তাওবা না করো, তাহলে মরার পূর্বে তোমার কঠিন আকৃতি-বিকৃতি ঘটবে। তুমি কুকুর, শূকর, শৃগালের ন্যায় হয়ে পঁচতে পঁচতে গলতে গলতে জাহান্নামের পথে পাড়ি জমাবে। জাহান্নামে তোমার জন্য কুদরতী মেহমানদারীর ব্যবস্থা রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই যে, তোমাকে এই ভয়ানক খোদায়ী গযব থেকে রক্ষা করে। আর তোমার যারা অনুসারী রয়েছে, তাদেরও ঠিক একই অবস্থা হবে। মূলত তোমরা যারাই মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধিতা করবে, তোমাদের প্রত্যেকেরই একই অবস্থা হবে ইনশাআল্লাহ!। সুবহানাল্লাহ!

অসংখ্য-অগণিত সম্মানিত বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উপস্থিতিতেই সমস্ত হযরত ছাহাবা-ই কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা দায়িমীভাবে ২৪ঘণ্টা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন এবং তিনি উনাদেরকে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। ‘তিরমিযী শরীফ’ উনার মধ্যে এসেছে, হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন দায়িমীভাবে ২৪ঘণ্টা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কথা বললেন, তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

اِذًا تُكْفٰى هَـمُّكَ وَيُكَفَّرُ لَكَ ذَنبُكَ.

অর্থ: “যদি আপনি এরূপ করতে পারেন, তাহলে আপনার সমস্ত নেক মাক্বছূদগুলো পূর্ণ করে দেয়া হবে এবং আপনার সমস্ত গুনাহখতাগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ!”

অন্যত্র এসেছে, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

حَلَّتْ لَكُمْ شَفَاعَتِىْ

‘আপনাদের জন্য আমার সুপারিশ মুবারক ওয়াজিব হয়ে গেলো।’ সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুত তানওইর শরীফ)

আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন-

مَنْ فَعَلَ فِعْلَكَ نَجَا نَجَاتَكَ

অর্থ: “যে বা যাঁরা আপনার মত এরূপ আমল করবে তথা আপনাকে অনুসরণ করে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করবে, তাঁরা আপনার মত নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!” (কিতাবুত তানওইর শরীফ)

অথচ সউদী কথিত গ্র্যান্ড মুফতে বলেছে, “সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুতে সম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ ছিলো না।” নাউযুবিল্লাহ!

সুতরাং এখান থেকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, তার এ কথাটিও ডাহা মিথ্যা ও মনগড়া এবং সে একটা কাট্টা মুনাফিক্ব, গন্ডমূর্খ ও আশাদ্দুদ দরজার জাহিল। এই শ্রেণীর কাট্টা মুনাফিক্ব, গন্ডমূর্খ ও আশাদ্দুদ দরজার জাহিলদের ব্যাপারেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

اَلْاَعْرَابُ اَشَدُّ كُفْرًا وَّنِفَاقًا وَّاَجْدَرُ اَلَّا يَعْلَمُوْا حُدُوْدَ مَا اَنْزَلَ اللهُ عَلٰى رَسُولِهٖ.

অর্থ: ‘আরব বুদ্ধ, বেদুইনরা হচ্ছে কুফরী এবং নিফাক্বীতে অত্যন্ত দৃঢ়। অর্থাৎ তারা কাট্টা কাফির, কাট্টা মুনাফিক্ব এবং গ-মূর্খ। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর যে সম্মানিত হদ তথা বিধি-বিধান মুবারক নাযিল করেছেন, তারা তা বুঝার অযোগ্য, শেখার অযোগ্য।’ (সম্মানিত সূরা তাওবা শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ: ৯৭)

সউদী ওহাবী তথাকথিত গ্র্যান্ড মুফতে যে কাট্টা গুমরাহ, মুনাফিক্ব, গন্ডমূর্খ ও আশাদ্দুদ দরজার জাহিল এই বিষয়টি তার অন্যান্য ফতওয়া দ্বারাও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। যেমন সে বলেছে- (১) ইসরাইলবিরোধী মিছিল করা সম্পূর্ণ হারাম। ফিলিস্তিনিদের পক্ষে মিছিল করা অর্থহীন সস্তা আবেগপ্রসূত তৎপরতা মাত্র। (২) ইয়াযীদের বিরুদ্ধে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার অবস্থান ছিলো হারাম। নাঊযুবিল্লাহ! (৩) সউদী আরবের জাতীয় উৎসব পালন করা হালাল ও বৈধ। (৪) ব্যঙ্গ চলচ্চিত্রের প্রতিবাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা করা হারাম। নাউজুবিল্লাহ! (৫) হ্যারিকেন স্যান্ডি যুক্তরাষ্ট্রের উপর খোদায়ী গযব- এ কথা বলা হারাম। না‘ঊযুবিল্লাহ! (৬) মসজিদুল হারামের আশেপাশে প্রাচীন (ইসলামী) নিদর্শন ভেঙ্গে দেয়া অন্যতম হালাল ও উত্তম কাজ। নাউজুবিল্লাহ! (৭) নারী কর্তৃক নারীদের অন্তর্বাস বিক্রয় করা হারাম। ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ!

দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ, মাল‘ঊন, কাট্টা মুনাফিক, গন্ডমূর্খ ও আশাদ্দুদ দরজার জাহিল সউদী ওহাবী কথিত গ্র্যান্ড মুফতেটা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরুদ্ধে ফতওয়া দেয়। নাঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাকে বিদয়াত ও পাপাচার বলে। নাঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারী এবং মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার জন্য আহ্বানকারী উনাদেরকে শয়তান বলে। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ তার গুরু সউদী ওহাবী সরকার যখন অসংখ্য বেগানা মহিলাদের সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হয়, মদ পান করে, নৃত্য করে, মুসলমান উনাদের চরম শত্রু, কাট্টা কাফির বুশের সাথে বসে একই সাথে মদ পান করে, কাট্টা কাফির বুশ তাকে বুছা দেয়, তখন এই কাট্টা গুমরাহ, কাট্টা মুনাফিক্ব কথিত গ্র্যান্ড মুফতেটা কোন ফতওয়া দেয়া না। তাদের বদচরিত্র কথিত প্রিন্স ও রাজ পরিবারের গুমরাহ সদস্যরা যখন মদ, বেগানা নারী ও অবৈধ কাজে লিপ্ত থাকে, নাইট ক্লাবে যেয়ে এক রাতে নর্তকীদের উপরে কোটি কোটি টাকা ঢালে, বের্পদা, বেহায়া আর হারাম কাজে মশগুল থাকে, তখন কোনো ফতওয়া দেয় না। সম্মানিত মক্কা শরীফ ও সম্মানিত মদীনা শরীফ উনাদের ইজ্জত-সম্মান উনার খিলাফ করে সেখানকার হোটেলগুলোতে যখন মদ থেকে শুরু করে সমস্ত প্রকার গর্হিত কাজ চলে, তার অনুসারী কাট্টা গুমরাহ উলামায়ে সূ’গুলো যখন মহিলাদের সাথে অবৈধ কাজে লিপ্ত হয়, যখন তার গুরু সউদী ইহুদী সরকার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ‘মহাসম্মানিত রওযা শরীফ’ ভেঙ্গে ফেলার ঘোষণা দেয়; নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! তখন এই আশাদ্দুদ দরজার জাহিল কথিত গ্র্যান্ড মুফতেটা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফতওয়া দেয় না। এগুলো আর বিদয়াত হয় না? এগুলো আর শয়তানের কাজ হয় না? এগুলো আর পাপাচার হয় না? নাঊযুবিল্লাহ!

এতেই প্রমাণিত হয়, সম্মানিত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবেক যে সমস্ত কাজগুলি সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয, হারাম ও কুফরী; সে সমস্ত কাজগুলি এই কাট্টা মুনাফিক ইহুদী মুফতেটার মতে জায়িয এবং নেক আমল। নাউজুবিল্লাহ! এগুলো শয়তানের কাজ না। নাউজুবিল্লাহ! এগুলো পাপাচার না। নাউজুবিল্লাহ! এগুলো বিদয়াত না। নাঊযুবিল্লাহ! তার মতে ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাই হচ্ছে পাপের কাজ এবং ‘মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারীগণ ও পালন করার জন্য আহ্বানকারীগণ উনারা হচ্ছেন শয়তান। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

এতেই প্রমাণিত হয়ে যায় যে, এই সউদী ওহাবী ইহুদী মুফতেটা কত বড় ফিতনাবাজ, মালঊন, কাট্টা গুমরাহ, কাট্টা মুনাফিক, গন্ডমূর্খ ও আশাদ্দুদ দরজার জাহিল। মূলত এই শ্রেণীর উলামায়ে সূ’গুলো হচ্ছে, দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক কঠিন ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ ও মাল‘ঊন তথা চির লা’নতগ্রস্ত। এদের সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَنَا مِنْ غَيْرِ الدَّجَّالِ اَخْوَفُ عَلَيْكُمْ مّـِنَ الدَّجَّالِ فَقِيْلَ وَمَا هُوَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُلَمَاءُ السُّوْءِ.

অর্থ: “আমি তোমাদের ব্যাপারে এক সম্প্রদায়কে দাজ্জালের চেয়েও অধিক বেশি ভয়ঙ্কর মনে করি এবং এই ব্যাপারে অধিক চিন্তিত রয়েছি (যাদের ফিতনা হবে দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে অনেক বড় কঠিন ও ভয়ঙ্কর)। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে একজন জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটা কোন সম্প্রদায়? জবাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, উলামায়ে সূ’। অর্থাৎ উলামায়ে সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী মালানারা হচ্ছে দাজ্জালের চেয়েও অত্যধিক কঠিন ও ভয়ঙ্কর ফিতনাবাজ।” নাঊযুবিল্লাহ! (বিদায়াতুল হিদায়াহ)

মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এই কঠিন ফিতনা বেষ্টিত যামানায় অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি করেছেন এবং তিনি উনার মুরীদান উনাদেরকে নিয়ে দায়িমীভাবে তা পালন করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এক সময় তিনি সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি করবেন এবং তামাম বিশ্ববাসী, সারা কায়িনাতবাসী সবাইকে নিয়ে তা মহাসমারহে পালন করবেন ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ! আর এই মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থেই এক সময় এদেশ ও সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ! তখন তিনি মহাসম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনার মহাসম্মানিত মসনদ মুবারক-এ সমাসীন থাকবেন এবং উনার সম্মানিত অঙ্গুলি মুবারক উনার ইশারা মুবারক-এ চলবে সমগ্র বিশ্ববাসী, সারা কায়িনাতবাসী। সুবহানাল্লাহ! আর তখন তিনি মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার যারা বিরোধী তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক সমুচিত শিক্ষা দিবেন ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, উনার বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী ক্বায়িম-মাক্বাম। তিনি বিগত-অনাগত সমস্ত মুজাদ্দিদগণ উনাদের প্রত্যেকের সাইয়্যিদ। এক কথায় তিনি শুধু আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার অধিকারী তিনি। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ জারি করা এবং সবাইকে নিয়ে দায়িমীভাবে তা পালন করা। সুবহানাল্লাহ!

আমরা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত ক্বদম মুবারক-এ আরজী পেশ করছি, তিনি যেন, আমাদের সাবইকে উনার দায়িমী গোলামীতে আবাদুল আবাদের তরে কবুল করে নেন। আমীন।


-আল্লামা মুফতী মুহম্মদ আল আমীন

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক