সুওয়াল : মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ ও ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই যে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৪১তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুরা ও ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

সুওয়াল : মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ ও ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই যে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।


জাওয়াব :

পূর্ব প্রকাশিতের পর-১৪

সাইয়্যিদুল খুলাফা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি বাংলাদেশতো অবশ্যই; এমনকি সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেনই করবেন ইনশাআল্লাহ।’ সুবহানাল্লাহ :

তৃতীয় প্রমাণ:

এই বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি অতিশীঘ্রই দুনিয়ার যমীনে, সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেনই করবেন ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!

আর উনার সেই আযীমুশ শান মহাসম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারকই উনার সুমহান আওলাদ, খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার পরবর্তী সম্মানিত বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত যেয়ে পৌঁছবে। সুবহানাল্লাহ!

সেটাই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যেই সম্মানিত হাদীছ শরীফখানা ১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার লিখিত বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘জামি‘উল আহাদীছ’ ও আরো অন্যান্য বিশ্বখ্যাত কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ الله تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا مَاتَ الْـخَامِسُ مِنْ اَهْلِ بَـيْـتِـىْ فَالْـهَرْجُ فَالْـهَرْجُ حَتّٰى يَـمُوْتَ السَّابِعُ ثُـمَّ كَذٰلِكَ حَتّٰـى يَقُوْمَ الْـمَهْدِىُّ.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহ তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (আমার পূতঃপবিত্র সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে আমার একজন আখাচ্ছুল খাছ মহান খলীফা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে, সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেন এবং সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী মহাসম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালন করবেন। উনার পর উনার সুমহান আওলাদ আলাইহসি সালাম তিনি খলীফা হবেন এবং সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী মহাসম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেন। অতঃপর উনার পরবর্তী মুবারক বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে একজন খলীফা হবেন, উনার পর আবার আরো একজন খলীফা হবেন, এরূপ ধারাবাহিকভাবে খলীফা হতে থাকবেন এবং সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করতে থাকবেন। এই মুবারক ধারাবাহিকতায়) যখন আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে পঞ্চম খলীফা আলাইহিস সালাম তিনি (খলীফা হিসেবে প্রকাশ হবেন এবং সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করে) সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন, তখন ফিতনা শুরু হবে। অতঃপর ফিতনা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আর এই ফিতনার মধ্যেই ষষ্ঠ ও সপ্তম খলীফা আলাইহিমাস সালাম উনারা দু’জন সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। অতঃপর ফিতনা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তারপর তা যখন প্রকটরূপ ধারণ করবে, তখন মহান খলীফা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হিসেবে প্রকাশ পাবেন এবং সেই ফিতনাটাকে মিটিয়ে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (জামি‘উল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ৩৫/৪৪৯, আল হাওই লিস সুয়ূত্বী ২/৭৯, আল ‘উরফ লিস সুয়ূত্বী ১/১৪৬, আল ফিতান ১/২১৭ ইত্যাদি )

অর্থাৎ সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, মুজাদ্দিদে আ‘যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম, আমাদের প্রাণের আক্বা, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিতো অবশ্যই অবশ্যই সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেনই এবং সুদীর্ঘ ৩০-৪০ বৎসর যাবত সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী মহাসম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেনই; শুধু তাই নয়, উনার পর উনার সুমহান আওলাদ খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুল খলাফা, আবুল খুলাফা, খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদাহ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হবেন এবং তিনিও সুদীর্ঘ ৩০-৪০ বৎসর যাবত সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেন। অতঃপর খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদাহ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান আওলাদ আলাইহিস সালাম যিনি হবেন, তিনি খলীফা হবেন। এভাবে এই সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার মুবারক ধারাবাহিকতায় পঞ্চম জন যখন খলীফা হবেন এবং সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করে সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন, তখন ফিতনা দেখা দিবে এবং ফিতনা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আর এই ফিতনার মধ্যেই ষষ্ঠ ও সপ্তম খলীফা আলাইহিমাস সালাম উনারা দুজন সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। অতঃপর ফিতনা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তারপর যখন তা প্রকটরূপ ধারণ করবে, তখন মহান খলীফা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হিসেবে প্রকাশ পাবেন এবং সেই ফিতনাটাকে মিটিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! উনাকে নতুন করে দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত খিলাফত মুবারক কায়িম করতে হবে না। বরং সমস্ত খলীফাগণ উনাদের সাইয়্যিদ, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, আমাদের প্রাণের আক্বা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফ্ফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী যেই মহাসম্মানিত খিলাফত মুবারক জারী করবেন, সেই মহাসম্মানিত খিলফত মুবারকই উনার সুমহান আওলাদ, খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদাহ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ও উনার পরবর্তী মুবারক বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত যেয়ে পৌঁছবে। সুবহানাল্লাহ! হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি সেই মুবারক ধারাবাহিকতায়ই খলীফা হবেন এবং উনার সময় যেই ফিতনাটা থাকবে সেই ফিতনাটাকে তিনি মিটিয়ে দিবেন। উনাকে নতুন করে সম্মানিত খিলাফত মুবারক জারী করতে হবে না। সুবহানাল্লাহ!

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।