সুওয়াল: ‘খ্রিস্টানরা যখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ পালন করে, তখন আমরা কেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ পালন করবো না? এই ভাবনা থেকেই নাকি বাদশা হযরত মালিক মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের সূচনা করেন।’ নাঊযুবিল্লাহ!

সংখ্যা: ২৪১তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আলাউদ্দীন, সদর, চাঁদপুর

সুওয়াল: ‘খ্রিস্টানরা যখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ পালন করে, তখন আমরা কেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ পালন করবো না? এই ভাবনা থেকেই নাকি বাদশা হযরত মালিক মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের সূচনা করেন।’ নাঊযুবিল্লাহ!


জাওয়াব: বাতিল ফিরক্বা ও বাতিল আক্বীদার লোকদের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে ভুল, মনগড়া, ধারণাপ্রসূত, দলীলবিহীন এবং তা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মুখালিফ বা বিরোধী হওয়ার কারণে কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কারণ মহা সম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সূচনা কোন বাদশাহ করেননি। বরং উনার সূচনা স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিই করেছেন। কেননা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিই উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে এবং অন্যান্যদেরকে খুশি প্রকাশ করার জন্য হুকুম দিয়েছেন।

যেমন- এ প্রসঙ্গে বিশ্ব সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম বা নির্দেশে খুশি প্রকাশ করেছিলেন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, খুশি প্রকাশ করেছিলেন সম্মানিত জান্নাত উনার অধিবাসীগণ, এমনকি খুশি প্রকাশ করেছিলো বনের পশু-পাখিরাও। খুশি প্রকাশ করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেছিলেন এবং উনার প্রতি পাঠ করেছিলেন ছলাত-সালাম ও তাসবীহ তাহলীল। সুবহানাল্লাহ!

একইভাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের প্রতিও নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেনো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করে।

যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون .

অর্র্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতদেরকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে সেজন্য তাদের উচিত খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশ করাটা তাদের সমস্ত আমল থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)

এ হুকুম বা নির্দেশের কারণে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানাতেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى الدرداء رضى الله تعالى عنه انه مر مع النبى صلى الله عليه وسلم الى بيت حضرت عامر الانصارى رضى الله عنه وكان يعلم وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم لابنائه وعشيرته ويقول هذا اليوم هذا اليوم فقال عليه الصلوة والسلام ان الله فتح لك ابواب الرحمة والـملائكة عليهم السلام كلهم يستغفرون لك من فعل فعلك نجى نجتك .

অর্র্থ: “হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি উনার সন্তান-সন্ততি এবং আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে সম্মানিত বিলাদত শরীফ উনার ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এই দিবস, এই দিবস অর্র্থাৎ এই দিবসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে তাশরীফ এনেছেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। (তিনি যখন উপস্থিত হলেন তখন সমবেত সবাই দাঁড়িয়ে উনাকে সালাম পেশ করতঃ অভ্যর্থনা বা স্বাগত জানিয়ে আসনে বসালেন।) তিনি সম্মানিত মীলাদ শরীফ উনার অনুষ্ঠান এবং সম্মানিত বিলাদত শরীফ উনার কারণে খুশি প্রকাশ করতে দেখে উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আপনাদের জন্য রহমতের দরজা উš§ুক্ত করেছেন এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনাদের জন্য মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ আপনাদের মতো এরূপ কাজ করবে, আপনাদের মতো তারাও রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী পৃষ্ঠা- ৩৫৫)

অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই উনাদের খিলাফতকালে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব ও উৎসাহ প্রদান করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

যেমন এ প্রসঙ্গে বিশ্ব সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম‘ কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-

قال حضرت ابو بكرن الصديق عليه السلام من انفق درهما على قرائة مولد النبى صلى الله عليه وسلم كان رفيقى فى الجنة .

অর্র্থ: “হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে এক দিরহাম ব্যয় করবে, সে জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!

قال حضرت عمر الفاروق عليه السلام من عظم مولد النبى صلى الله عليه وسلم فقد احيا الاسلام .

অর্র্থ: “হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মান করলো ও বিশেষ মর্যাদা দিলো সে মূলতঃ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকেই পুনরুজ্জীবিত করলো।” সুবহানাল্লাহ!

قال حضرت عثمان ذو النورين عليه السلام من انفق درهما على قرائة مولد النبى صلى الله عليه وسلم فكانما شهد غزوة بدر وحنين .

অর্র্থ: “হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে এক দিরহাম খরচ করলো, সে যেনো বদর ও হুনাইন যুদ্ধে শরীক থাকলো।” সুবহানাল্লাহ!

قال حضرت على كرم الله وجهه عليه السلام من عظم مولد النبى صلى الله عليه وسلم وكان سببا لقرائته لايخرج من الدنيا الا بالايمان ويدخل الجنة بغير حساب .

অর্র্থ: “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মান করলো এবং উনার প্রতি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করলো, সে ব্যক্তি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ!

এমনিভাবে পরবর্তী সময়ে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ধারা অব্যাহত বা জারী রেখেছেন হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা।

যেমন এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট তাবিয়ী, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت الـحسن البصرى رحمة الله عليه وددت لو كان لى مثل جبل احد ذهبا فانفقته على قرائة مولد النبى صلى الله عليه وسلم .

অর্র্থ: ‘আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো তাহলে তা পবিত্র মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ব্যয় করতাম।’ সুবহানাল্লাহ!

শাফিয়ী মাযহাব উনার ইমাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت الامام الشافعى رحمة الله عليه من جمع لمولد النبى صلى الله عليه وسلم اخوانا وهيا طعاما واخلى مكانا وعمل احسانا وصار سببا لقرائته بعثه الله يوم القيامة مع الصديقين والشهداء والصالحين ويكون فى جنات النعيم

অর্র্থ: ‘যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন উপলক্ষে লোকজন একত্রিত করলো, খাদ্য তৈরি করলো, জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং এ জন্য উত্তমভাবে তথা পবিত্র সুন্নাহ ভিত্তিক আমল করলো, উক্ত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাশরের দিন ছিদ্দীক্ব, শহীদ ছলিহীনগণ উনাদের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতে নায়ীমে।’ সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম মারূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت الـمعروف الكرخى رحمة الله عليه من هيا طعاما لاجل قرائة مولد النبى صلى الله عليه وسلم وجمع اخوانا واوقد سراجا ولبس جديدا وتبخر وتعطر تعظيما لـمولد النبى صلى الله عليه وسلم حشره الله يوم القيامة مع الفرقة الاولى من النبين وكان فى اعلى عليين

অর্র্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে খাদ্যের আয়োজন করে, অতঃপর লোকজনকে জমা করে, মজলিসে আলোর ব্যবস্থা করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নতুন পোশাক পরিধান করে, ধুপ ও আতর অর্থাৎ সুঘ্রাণ ও সুগন্ধি ব্যবহার করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম কাতারে হাশর করাবেন এবং সে জান্নাতে সুউচ্চ মাক্বামে অধিষ্ঠিত হবে।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت السرسقتى رحمة الله عليه من قصد موضعا يقرأ فيه مولد النبى صلى الله عليه وسلم فقد قصد روضة من رياض الجنة لانه ما قصد ذلك الموضع الا لمحبة النبى صلى الله عليه وسلم وقال صلى الله عليه وسلم من احبنى كان معى فى الجنة

অর্র্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করলো, সে যেনো নিজের জন্য জান্নাতে রওযা বা বাগান নির্দিষ্ট করলো। কেননা সে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতের জন্যই করেছে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসবে সে আমার সাথেই জান্নাতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুত ত্বায়িফাহ হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت جنيد البغدادى رحمة الله عليه من حضر مولد النبى صلى الله عليه وسلم وعظم قدره فقد فاز بالايمان

অর্র্থ: “যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আয়োজনে উপস্থিত হবে এবং উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করবে সে সম্মানিত ঈমান উনার দ্বারা সফলতা লাভ করবে অর্থাৎ বেহেশতী হবে।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت فخر الدين الرازى رحمة الله عليه ما من شخص قرأ مولد النبى صلى الله عليه وسلم على ملح او بر او شىء اخر من المأكولات الا ظهرت فيه البركة فى كل شىء وصل اليه من ذلك المأكول فانه يضطرب ولا يستقر حتى يغفر الله لاكله

অর্র্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করে লবণ, গম বা অন্য কোন খাদ্য দ্রব্যের উপর ফুঁক দেয়, উক্ত খাদ্য দ্রব্যে অবশ্যই বরকত প্রকাশ পাবে। এভাবে যে কোন কিছুর উপরই পাঠ করুক না কেন, তাতে বরকত হবেই। উক্ত খাদ্য-দ্রব্য মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীর জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হয় না।” সুবহানাল্লাহ!

এই উপমহাদেশে যিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ শাস্ত্রের প্রচার-প্রসার করেছেন, যিনি ক্বাদিরিয়া তরীক্বার বিশিষ্ট বুযুর্গ, ইমামুল মুহাদ্দিছীন, শায়েখ হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت عبد الحق الـمحدث دهلوى رحمة الله عليه من عظم ليلة مولد النبى صلى الله عليه وسلم بما امكنه من التعظيم والاكرام كان من الفائزين بدار السلام

অর্র্থ: “যে ব্যক্তি তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ অর্থাৎ পবিত্র ঈদে লাইলাতে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানের সাথে উদযাপন করবে, সে সম্মানিত জান্নাত লাভের দ্বারা বিরাট সফলতা লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ!

মুসলমানদের মধ্যে পৃথিবীতে যিনি সবচেয়ে বেশি কিতাব লিখেছেন, যিনি উনার যামানার মুজাদ্দিদ এবং সুলত্বানুল আরিফীন ছিলেন, তিনি হচ্ছেন হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন-

قال حضرت سلطان العارفين الامام جلال الدين السيوطى قدس الله سره ونور ضريحه فى كتابه الـمسمى الوسائل فى شرح الشمائل ما من بيت او مسجد او محلة قرئ فيه مولد النبى صلى الله عليه وسلم الا حفت الملائكة ذلك البيت او المسجد او الـمحلة وصلت الـملائكة على اهل ذلك الـمكان وعمهم الله تعالى بالرحمة والرضوان واما الـمطوقون بالنور يعنى جبرائيل وميكائيل واسرافيل وعزرائيل عليهم السلام فانهم يصلون على من كان سببا لقرائة مولد النبى صلى الله عليه وسلم فاذا مات هون الله عليه جواب منكر ونكير ويكون فى مقعد صدق عند مليك مقتدر

অর্র্থ: “যে কোন ঘরে অথবা মসজিদে অথবা মহল্লায় পবিত্র মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করা হয়, সে স্থান অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম বেষ্টন করে নেন। আর উনারা সে স্থানের অধিবাসীগণের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করতে থাকেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনাদেরকে স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টির আওতাভুক্ত করে নেন। আর নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম অর্থাৎ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, হযরত মীকায়ীল আলাইহিস সালাম, হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম ও হযরত আযরায়ীল আলাইহিস সালাম পবিত্র মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীগণের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করেন। যখন উনারা ইনতিকাল করেন তখন মহান আল্লাহ পাক উনাদের জন্য হযরত মুনকার-নাকীর আলাইহিমাস সালাম উনাদের সুওয়াল-জাওয়াব সহজ করে দেন। আর উনাদের অবস্থান হয় মহান আল্লাহ পাক উনার সন্নিধানে ছিদক্বের মাক্বামে।” সুবহানাল্লাহ!

অতএব, কোন বাদশাহর ভাবনা-চিন্তার উদয় থেকে ‘পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সূচনা হয়েছে’- এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী তথা কাট্টা কুফরী বলে প্রমাণিত হলো। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তি কখনই মুসলমান থাকতে পারে না। বরং সে মুরতাদ, মুনাফিক ও কাফিরে পরিণত হয়ে যায়। নাঊযুবিল্লাহ!

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।