সুওয়াল: মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন এ মর্মে যে পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন, তা কিতাবের উদ্ধৃতিসহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৪১তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ হামিদুর রহমান বেলাল রাজারহাট, কুড়িগ্রাম

 সুওয়াল: মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন এ মর্মে যে পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন, তা কিতাবের উদ্ধৃতিসহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।


জাওয়াব: খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি একা ও অপ্রকাশিত ছিলেন অতঃপর তিনি যখন নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছা মুবারক পোষণ করলেন তখন তিনি উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ওজুদ পাক ‘নূর মুবারক’ সৃষ্টি করলেন। সেই নূর মুবারক সৃষ্টি রহস্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে মরফূ মুত্তাছিল সূত্রে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। যে পবিত্র হাদীছ শরীফখানা বর্ণিত হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একনিষ্ঠ খাদিম এবং পবিত্র মদীনা শরীফ উনার ৬ষ্ঠ ছাহাবী হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা প্রথম সংকলন করেছেন ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উস্তাদের উস্তাদ অর্থাৎ দাদা ওস্তাদ বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ হাফিজ হযরত ইমাম আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘জান্নাতুল খুলদ’ নামক কিতাবে। পরবর্তীতে উনার থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদগণ অনেকে নিজ নিজ কিতাবে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা সঙ্কলন করেছেন। যেমন হযরত ইমাম কুসতালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার রচিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক জীবনীগ্রন্থ “মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়াহ” কিতাবে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা সংকলন করেছেন। হযরত আল্লামা ইউসুফ নাবেহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার রচিত “আনওয়ারে মুহম্মদিয়া” নামক কিতাবে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করেছেন। বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ হযরত আবু নঈম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার রচিত “দালায়িলুন নুবুওয়াত” কিতাবে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করেছেন। ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রচিত “মাদারিজুন নুবুওওয়াত” কিতাবেও উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ আছে। এমনিভাবে আরো অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাদের নিজ নিজ রচিত কিতাবে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করেছেন।

মোটকথা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টি মুবারক সম্পর্কে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা যেমন সুপ্রসিদ্ধ ও সুবিখ্যাত তেমনি বিস্তারিত। তাই বিজ্ঞ পাঠকদের সামনে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা অনুবাদসহ তুলে ধরা হলো-

পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হচ্ছে-

روى عبد الرزاق ابن الـهمام الصنعانى رحمة الله عليه بسنده عن معمر رحمة الله عليه عن ابن الـمنكدر رحمة الله عليه عن حضرت جابر بن عبد الله الانصارى رضى الله تعالى عنه قال: قلت: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم بابى انت وامى اخبرنى عن اول شىء خلقه الله قبل الاشياء؟ قال: يا جابر رضى الله عنه ان الله خلق قبل الاشياء نور نبيك من نوره، فجعل ذلك النور يدور بالقدرة حيث شاء الله تعالى، ولـم يكن فى ذلك الوقت لوح ولا قلم ولا جنة ولا نار ولا ملك ولا سماء ولا ارض ولا شمس ولا قمر ولا جن ولا انس، فلما اراد الله ان يخلق الـخلق قَسّم ذلك النور اربعة اجزاء: فخلق من الجزء الاول القلم ومن الثاني اللوح ومن الثالث العرش، ثم قسم الجزء الرابع اربعة اجزاء: فخلق من الجزء الاول حملة العرش ومن الثانى الكرسى ومن الثالث باقى الـملائكة عليهم السلام، ثم قسم الجزء الرابع اربعة اجزاء: فخلق من الجزء الاول السموات ومن الجزء الثانى الاراضين ومن الثالث الجنة والنار، ثم قسم الجزء الرابع الى اربعة اجزاء: فخلق من الجزء الاول نور ابصار الـمؤمنين ومن الثانى نور قلوبهم وهى الـمعرفة بالله ومن الثالث نور انسهم وهو التوحيد لا اله الا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم نظر اليه فترشح النور عرقاً، فتقطرت منه مائة الف قطرة وعشرين الفاً واربعة الاف قطرة، فخلق الله من كل قطرة روح نبى و رسول عليهم السلام، ثم تنفست ارواح الانبياء عليهم السلام فخلق الله من انفاسهم ارواح الاولياء والسعداء والشهداء والـمطيعين من الـمؤمنين رحمة الله عليهم الى يوم القيامة، فالعرش والكرسى من نورى، والكروبيون من نورى، والروحانيون من نورى، والجنة وما فيها من النعيم من نورى، والشمس والكواكب من نورى، والعقل والعلم والتوفيق من نورى، وارواح الانبياء والرسل عليهم السلام من نورى، والسعداء والصالحون من نتائج نورى، ثم خلق الله حضرت ادم عليه السلام من الارض وركب فيه النور وهو الجزء الرابع، ثم انتقل منه الى حضرت شيث عليه السلام وكان ينتقل من طاهر الى طيب الى ان وصل الى صلب حضرت عبد الله عليه السلام ومنه الى وجه امى حضرت امنة عليها السلام ثم اخرجنى الى الدنيا فجعلنى سيد الـمرسلين وخاتم النبيين وقائد الغر الـمحجلين صلى الله عليه وسلم. هكذا بدا خلق نبيك يا جابر رضى الله عنه. حديث صحيح.

অর্র্থ: হযরত ইমাম আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সনদ সহকারে বর্ণনা করেন যে, তিনি হযরত মুআম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত মুনকাদার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেন? তিনি বললেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক তিনি সবকিছুর পূর্বে আপনার যিনি নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করেন।’ অর্র্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রথম সৃষ্টিই হচ্ছেন নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর সেই নূর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। আর সে সময় লওহো, কলম, বেহেশ্ত, দোযখ, ফেরেশতা, আসমান, যমীন, চন্দ্র, সূর্য, মানুষ ও জিন কিছুই ছিল না। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন মাখলূকাত সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি সম্মানিত সেই নূর মুবারক উনাকে চার ভাগ করেন। উনার প্রথম ভাগ দ্বারা সম্মানিত ক্বলম, দ্বিতীয় ভাগ দ্বারা সম্মানিত লাওহে মাহফূজ, তৃতীয় ভাগ দ্বারা সম্মানিত আরশে মুআল্লা সৃষ্টি করেন। অতঃপর চতুর্থ ভাগ উনাকে আবার চার ভাগ করেন। উনার প্রথম ভাগ দ্বারা সম্মানিত আরশ বহনকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, দ্বিতীয় ভাগ দ্বারা সম্মানিত কুরসী, তৃতীয় ভাগ দ্বারা অন্যান্য হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সৃষ্টি করেন। অতঃপর চতুর্থ ভাগ উনাকে আবার চার ভাগ করেন। উনার প্রথম ভাগ দ্বারা আসমান, দ্বিতীয় ভাগ দ্বারা যমীন, তৃতীয় ভাগ দ্বারা সম্মানিত বেহেশত ও দোযখ সৃষ্টি করেন। অতঃপর চতুর্থ ভাগ উনাকে আবার চার ভাগ করেন। উনার প্রথম ভাগ দ্বারা মু’মিন বান্দা উনাদের চোখের জ্যোতি, দ্বিতীয় ভাগ দ্বারা উনাদের ক্বলবের জ্যোতি, এটিই মূলতঃ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মা’রিফাত, তৃতীয় ভাগ দ্বারা মু’মিন বান্দা উনাদের উনসের নূর অর্র্থাৎ তাওহীদ বা পবিত্র কালিমা শরীফ উনার নূর সৃষ্টি করেন। অতঃপর তিনি (সম্মানিত নূর মুবারক) উনার প্রতি দৃষ্টি মুবারক দিলেন। তখন ফোঁটা ফোঁটা নূর মুবারক বের হতে লাগলো এবং উনার থেকে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার ফোঁটা বা বিন্দু মুবারক হলো।

অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত প্রত্যেক সম্মানিত নূর মুবারক উনার ফোঁটা থেকে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত রূহ মুবারক সৃষ্টি করেন। অতঃপর হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত রূহ মুবারক শ্বাস মুবারক গ্রহন করেন। তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্বাস মুবারক থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত মু’মিনগণ উনাদের মধ্যে যাঁরা হযরত আউলিয়া, সৌভাগ্যশীল, শহীদ এবং আনুগত্যশীল হবেন উনাদের প্রত্যেকের সম্মানিত রূহ মুবারক সৃষ্টি করেন। অতঃপর আমার সম্মানিত নূর মুবারক থেকেই সৃষ্টি করেন সম্মানিত আরশ এবং সম্মানিত কুরসী। আমার সম্মানিত নূর মুবারক থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তগণ উনাদেরকেও সৃষ্টি করেন। এবং পবিত্র আত্মার অধিকারীগণ উনারাও আমার সম্মানিত নূর মুবারক থেকেই সৃষ্টি। সম্মানিত জান্নাত এবং উনার মধ্যে সমস্ত নিয়ামতও আমার সম্মানিত নূর মুবারক থেকেই সৃষ্টি। সূর্য ও তারকারাজীও আমার সম্মানিত নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। আক্বল, ইলম ও তাওফীক্ব এসবও আমার সম্মানিত নূর মুবারক থেকে। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত রূহ মুবারকও আমার সম্মানিত নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। সকল সৌভাগ্যশীল ও সৎকর্মশীল উনারা আমার সম্মানিত নূর মুবারক উনার প্রতিফলন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি মাটি দ্বারা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেন এবং উনার মধ্যে (আমার) সম্মানিত নূর মুবারক সংযোজন করে দেন। আর উক্ত নূর মুবারক হচ্ছেন সম্মানিত চতুর্থ ভাগ। অতঃপর উক্ত সম্মানিত নূর মুবারক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে স্থানান্তরিত হন। অতঃপর উক্ত সম্মানিত নূর মুবারক পবিত্র ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে স্থানান্তরিত হন। তারপর উনার থেকে আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মধ্যে স্থানান্তরিত হন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে আমাকে দুনিয়ার যমীনে প্রেরণ করেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ভূষিত করেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন এবং অতি উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব উনাদের ক্বায়িদ হিসেবে। এই হচ্ছে আপনার নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টি মুবারক উনার সূচনা বা উৎস হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! (জান্নাতুল খুলদ লি আব্দির রযযাক, খছায়িছুল মুছতফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনাল গুলুওউই ওয়াল জাফা, তাবরিয়াতুয যিম্মাহ, দালায়িলুন নুবুওওয়াত, মাদারিজুন নুবুওওয়াত, আফজালুল কুরা, মাতালিউল মাসাররাত, তারীখুল খামীছ, আল মাওয়াহিব, শরহে যুরকানী, নূরে মুহম্মদী, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়াহ, নশরুত তীব ইত্যাদি।)

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।