সুওয়াল: তৃতীয় শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ৬৬নং পৃষ্ঠায়- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে লেখা হয়েছে যে, “একটু বয়স ও বুদ্ধি হলে সমাজের খারাপ অবস্থা দেখে অন্তরে খুবই ব্যথা অনুভব করতেন।” এ লেখাটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহানতম শান মুবারক বিরোধী হয়েছে কিনা? জানতে ইচ্ছুক।

সংখ্যা: ২৪২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ ইরফানুল করীম, বরিশাল

সুওয়াল: তৃতীয় শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ৬৬নং পৃষ্ঠায়- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে লেখা হয়েছে যে, “একটু বয়স ও বুদ্ধি হলে সমাজের খারাপ অবস্থা দেখে অন্তরে খুবই ব্যথা অনুভব করতেন।” এ লেখাটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহানতম শান মুবারক বিরোধী হয়েছে কিনা? জানতে ইচ্ছুক।


জাওয়াব: হ্যাঁ, উক্ত লেখাটি অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহানতম শান মুবারক উনার খিলাফ বা বিরোধী হওয়ার কারণে কাট্টা কুফরী হয়েছে।

আসলে উক্ত ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইগুলি যাদের দ্বারা লেখা হয়েছে, এদের একজনেরও আক্বীদা শুদ্ধ নয়। যার কারণে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা নামে যতগুলি বই রয়েছে প্রত্যেকটি বইয়ের মধ্যে আক্বীদা ও আমল বিধ্বংসী লিখনী ভরপুর। নাউযুবিল্লাহ! এসব বই পড়লে মুসলমান থাকা কঠিন।

তাই সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে, এসব বই থেকে মুসলমানদের আক্বীদা ও আমল বিধ্বংসী লেখাগুলি সংশোধন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অন্যথায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকলকেই জবাবদিহি করতে হবে।

এসব বইয়ের লিখকদের আক্বীদা বা বিশ্বাস হচ্ছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের মতোই একজন মানুষ ছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! যার কারণে তারা লিখেছে যে, ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একটু বয়স ও বুদ্ধি হলে সমাজের খারাপ অবস্থা দেখে অন্তরে ব্যথা অনুভব করতেন।’ নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

এরা এতই জাহিল ও গ- মূর্খ যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইলম-হিকমত অর্থাৎ জ্ঞান-বুদ্ধি যে কোনো বয়সের সাথে সীমাবদ্ধ নয়; সে সম্পর্কে এরা আদৌ ওয়াকিফহাল নয়। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যে সৃষ্টির শুরু থেকেই মনোনীত সে সম্পর্কেও তারা বেখবর। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরিণত বয়স মুবারকে আনুষ্ঠানিক নবী বা রসূল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মাত্র। প্রকৃতপক্ষে যমীনে আগমনের পূর্ব থেকেই উনাদেরকে নবী ও রসূল হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত নবী ও হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সৃষ্টিই হয়েছেন হযরত নবী ও হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম হিসেবে। এজন্যেই উনাদের শান মুবারক সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

النبى نبيا ولوكان صبيا

অর্থ:‘নবী তো নবী যদিও তিনি শিশু হোন না কেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ইতকান)

আর বিশেষ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার নুবুওওয়াত-রিসালাত মুবারক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জাওয়াবে ইরশাদ মুবারক করেন-

كنت نبيا وادم عليه السلام بين الروح والجسد. كنت نبيا وادم عليه السلام بين الـماء والطين

অর্থ: “আমি তখনো নবী ছিলাম, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি রূহ ও দেহ মুবারকে অবস্থান করেছিলেন।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, “আমি তখনও নবী- যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি পানি ও মাটি হিসেবে ছিলেন।” (আল মুস্তাদরাক লিল হাকিম, মিশকাত, মিরকাত, কানযুল উম্মাল ইত্যাদি।)

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পরই তিনি নিজের পরিচয় সম্পর্কে লোকদেরকে জানিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

فاشارت اليه قالوا كيف نكلم من كان فى الـمهد صبيا. قال انـى عبد الله اتنى الكتاب وجعلنى نبيا.

অর্থ: অতঃপর (হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম) তিনি আপন সন্তান উনার দিকে ইশারা করলেন। তখন সম্প্রদায়ের লোকেরা বললো, যিনি এখনও কোলের শিশু উনার সাথে আমরা কিভাবে কথা বলবো। ঐ শিশু আলাইহিস সালাম তিনি বলে উঠলেন, নিশ্চয়ই আমি মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯, ৩০)

কাজেই, অন্য মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি আর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের জ্ঞান-বুদ্ধি এক সমান নয়। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে এবং বিশেষভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আক্বীদা শুদ্ধ রাখতে হবে। অন্যথায় মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী হতে হবে।

অতএব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ উক্ত কুফরী আক্বীদা সম্বলিত লিখনীটা অতিসত্বর সংশোধন করা কর্তৃপক্ষের জন্য ফরয ফরয এবং ফরয।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।