সুওয়াল: আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম, জামাতে মওদূদী, খিলাফত আন্দোলন, ঐক্যজোট, শাসনতন্ত্র আন্দোলন, খিলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী মোর্চা, হেফাযতে ইসলাম তথা হেক্বারতে ইসলাম ইত্যাদি ইসলামী নামধারী যেসব দল রয়েছে তারা পবিত্র ইসলাম উনার নামে গণতন্ত্র করা জায়িয ফতওয়া দেয় এবং এই গণতন্ত্র ভিত্তিক আন্দোলনকে তারা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ বলে থাকে। আর পবিত্র কুরআন শরীফ-এ জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এর মধ্যে যারা মশগুল তাদেরকে পবিত্র যাকাত প্রদানের হুকুম দেয়া হয়েছে। এই বরাতে তারা তাদের গণতন্ত্রভিত্তিক আন্দোলনকে জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ বলে মানুষের নিকট থেকে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদি গ্রহণ করে থাকে। এখন আমার সুওয়াল হচ্ছে- এদেরকে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদি প্রদান করলে তা আদায় হবে কি না? আর আদায়কারীরা কোন ছওয়াব পাবে কি না?

সংখ্যা: ২৪২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আনোয়ার হুসাইন, কচুয়া, চাঁদপুর

 সুওয়াল: আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম, জামাতে মওদূদী, খিলাফত আন্দোলন, ঐক্যজোট, শাসনতন্ত্র আন্দোলন, খিলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী মোর্চা, হেফাযতে ইসলাম তথা হেক্বারতে ইসলাম ইত্যাদি ইসলামী নামধারী যেসব দল রয়েছে তারা পবিত্র ইসলাম উনার নামে গণতন্ত্র করা জায়িয ফতওয়া দেয় এবং এই গণতন্ত্র ভিত্তিক আন্দোলনকে তারা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ বলে থাকে। আর পবিত্র কুরআন শরীফ-এ জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ এর মধ্যে যারা মশগুল তাদেরকে পবিত্র যাকাত প্রদানের হুকুম দেয়া হয়েছে। এই বরাতে তারা তাদের গণতন্ত্রভিত্তিক আন্দোলনকে জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ বলে মানুষের নিকট থেকে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদি গ্রহণ করে থাকে।

এখন আমার সুওয়াল হচ্ছে- এদেরকে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদি প্রদান করলে তা আদায় হবে কি না? আর আদায়কারীরা কোন ছওয়াব পাবে কি না?


জাওয়াব: দ্বীন ইসলাম উনার নামে যারা গণতন্ত্রভিত্তিক আন্দোলন করে তাদের এ আন্দোলনের জন্য পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদি প্রদান করলে তা আদায় হবে না এবং এজন্য প্রদানকারী কোন ছওয়াবও পাবে না। কারণ, যারা গণতন্ত্রভিত্তিক আন্দোলন করে তাদের আন্দোলন ইসলামের বোল-বালা, প্রচার-প্রসার বা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নয়; বরং তাদের আন্দোলন হচ্ছে গণতন্ত্র অর্থাৎ কুফরী মতবাদকেই প্রতিষ্ঠা করা। নাউজুবিল্লাহ!

অতএব, তাদের সে আন্দোলন জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ নয়। বরং তাদের সে আন্দোলন জিহাদ ফী সাবীলিশ শয়তান। নাউযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে তারা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহর নামে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ ধোঁকা থেকে সাবধান সতর্ক হওয়া উচিত।

প্রকাশ থাকে যে, গণতন্ত্রভিত্তিক যত তথাকথিত ইসলামী দল রয়েছে তারা গণতন্ত্র ও তার কার্যসমূহকে শুধু জায়িযই মনে করে না বরং তারা গণতন্ত্র এবং তার কার্যসমূহ যেমন ভোট দেয়া, নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া ইত্যাদিকে ফরয-ওয়াজিবও বলে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ!

কিন্তু শরীয়তের ফতওয়া হচ্ছে- কোন হারাম ও কুফরী বিষয়কে হালাল বা জায়িয মনে করা কুফরী। যেমন এ প্রসঙ্গে আক্বাঈদের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-

استحلال الـمعصية كفر

অর্থ: কোন নাফরমানিমূলক বিষয়কে হালাল বা জায়িয মনে করা কুফরী। (শরহে আক্বাঈদে নাসাফী শরীফ)

অর্থাৎ শরীয়ত কর্তৃক সাব্যস্ত কোন হারাম ও কুফরী বিষয়কে কেউ যদি হালাল বা জায়িয মনে করে তবে সে কুফরী করলো। আর যারা কুফরী করে তারা মুরতাদ হয়ে যায়।

অতএব, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে গণতন্ত্র করা সম্পূর্ণ হারাম। এটাকে হালাল বা জায়িয মনে করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, যারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে গণতন্ত্র করে তারা কুফরী করে। আর যারা কুফরী করে তাদেরকে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদি প্রদান করলে তা কস্মিনকালেও আদায় হবে না; বরং কবীরা গুনাহ ও কুফরী হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ সম্পর্কে দলীল-আদিল্লাহসহ আরো বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত ৮৪ ও ৯০তম সংখ্যা পাঠ করুন।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।