সুওয়াল: বর্তমানে দেখা যায় যাকাতদাতাগণ যাকে খুশি তাকে যাকাত ও অন্যান্য দান-ছদক্বা দিয়ে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে যাকাত ও অন্যান্য দান-ছদক্বা কিরূপ ব্যক্তিকে দেয়া উচিত। এ বিষয়ে সম্মানিত শরীয়ত উনার কোন বিধি-বিধান আছে কিনা? দয়া করে জানাবেন।

সংখ্যা: ২৪২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ তারিকুল ইসলাম, নূরপুর

 সুওয়াল: বর্তমানে দেখা যায় যাকাতদাতাগণ যাকে খুশি তাকে যাকাত ও অন্যান্য দান-ছদক্বা দিয়ে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে যাকাত ও অন্যান্য দান-ছদক্বা কিরূপ ব্যক্তিকে দেয়া উচিত। এ বিষয়ে সম্মানিত শরীয়ত উনার কোন বিধি-বিধান আছে কিনা? দয়া করে জানাবেন।


alihsan

জাওয়াব: হ্যাঁ, পবিত্র যাকাত ও অন্যান্য দান ছদক্বা দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধান রয়েছে। স্মরণীয় এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

تعاونوا على البر والتقوى ولاتعاونوا على الاثم والعدوان واتقوا الله ان الله شديد العقاب.

অর্থ: তোমরা নেকী ও পরহেযগারীর মধ্যে পরস্পর পরস্পকে সাহায্য করো। আর পাপ ও শত্রুতা অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধিতাকারী বা নাফরমানদেরকে সাহায্য করো না। এ বিষয়ে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২) অর্থাৎ ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের যাকাত, ফিৎরা ইত্যাদি দিলে ছওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হবে।

যাদের আক্বীদা ও আমলের মধ্যে কুফরী রয়েছে অথবা যারা হারাম-নাজায়িয, বিদ‘য়াত-বেশরা’ কাজে মশগুল অথবা যারা নামায-কালাম পড়ে না, পর্দা-পুশিদায় চলেনা, গান-বাজনা করে, টিভি-সিনেমা দেখে, খেলাধুলা করে ইত্যাদি; অর্থাৎ যারা চরম ফাসিকী ও নাফরমানী কাজের সাথে জড়িত অথবা যেসব মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পর্দা নেই, যারা হারাম খেলাধুলায় লিপ্ত, যারা হারাম দল-মত ও আন্দোলনের সাথে জড়িত এদেরকে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়া ইত্যাদি ফরয, ওয়াজিব দান-ছদক্বা দেয়া মোটেই সম্মানিত শরীয়ত সম্মত নয়।

তাই যাকাতদাতাগণ যেনো সঠিক স্থানে উনাদের পবিত্র যাকাত, ফিতরা ইত্যাদি দান-ছদক্বা দিয়ে পরিপূর্ণ ফায়দা হাছিল করতে পারেন সেজন্যেই যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদ আ’যম, ইমামুল উমাম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ঢাকা রাজারবাগ শরীফ মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালক-বালিকা মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ মাদরাসার অনেক শাখা রয়েছে সারাদেশব্যাপী। এ মাদরাসার ছাত্র ও ছাত্রীরা সম্মানিত সুন্নাত মুবারক পালন করার মাধ্যমে আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হচ্ছেন।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।