সুওয়াল: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাফায়াতে কুবরার মালিক বা অধিকারী। এ সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা জানতে চাই।

সংখ্যা: ২৪২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ গোলাম মোস্তফা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম

 সুওয়াল: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাফায়াতে কুবরার মালিক বা অধিকারী। এ সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা জানতে চাই।


জাওয়াব: সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাফায়াতে কুবরার একমাত্র মালিক; এ বিষয়ে একাধিক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তন্মধ্য হতে কয়েকখানি বর্ণনা এখানে উল্লেখ করা হলো।

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

عن حضرت ابى بن كعب رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال اذا كان يوم القيامة كنت امام النبيين وخطيبهم وصاحب شفاعتهم غير فخر.

অর্থ: “হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ক্বিয়ামতের দিন আমি হবো সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইমাম ও উনাদের খতীব এবং আমিই হবো উনাদের সুপারিশ করার ব্যাপারে অনুমতি দানকারী। এতে আমার কোন ফখর নেই।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ ৫১৪)

স্মরণীয় যে, উদ্ধৃত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে

صاحب شفاعتهم

উক্ত বাক্য মুবারক উনার অর্থ হলো- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন শাফায়াতে কুবরা উনার একমাত্র অধিকারী বা মালিক। আর শাফায়াতে কুবরা হচ্ছে শাফায়াতে উয্মা ও শাফায়াতে আম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাফায়াতে কুবরা করবেন। সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং অন্যান্য সমস্ত সুপারিশকারী যেমন পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা, পবিত্র হজ্জ, পবিত্র যাকাত, পবিত্র দুরূদ শরীফ, পবিত্র সূরাসমূহ এমনকি পবিত্র কুরআন শরীফও শাফায়াতে কুবরা উনার অন্তর্ভুক্ত। এক কথায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত সুপারিশকারী উনাদের সুপারিশ করার জন্য অনুমতি দানকারী। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যম ব্যতীত কোন সুপারিশকারীই সুপারিশ করার ক্ষমতা লাভ করবে না।

কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

عن حضرت معاوية رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما انا قاسم والله يعطى.

অর্থ: হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি হাদিয়া করেন আর নিশ্চয়ই আমি হলাম (তা) বণ্টনকারী।” সুবহানাল্লাহ! (বুখরী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই সর্বপ্রথম সকলের জন্যই সুপারিশ করবেন এবং তা কবুল করা হবে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামূল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انا سيد ولد ادم يوم القيامة واول من ينشق عنه القبر واول شافع واول مشفع.

অর্থ: “ক্বিয়ামতের দিন আমি হবো আদম সন্তান উনাদের সাইয়্যিদ বা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আর সর্বপ্রথম আমাকে রওযা শরীফ হতে উঠানো হবে। অতঃপর আমিই হবো সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং আমার সুপারিশ সবার আগে কবুল করা হবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)

জানা আবশ্যক যে, হাশরের ময়দানে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার জালালিয়াতের প্রভাবে কোন প্রকার উক্তি করা হতে বিরত থাকবেন। অন্যান্য সকল মাখলুকাত ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রহর গুনতে থাকবে। এমনকি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনিসহ সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নির্বাক অবস্থায় কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন এবং সকলেই নিজেদের বিচারের জন্য থাকবেন তটস্থ এবং স্বীয় ফায়ছালার অপেক্ষায় থাকবেন অপেক্ষমান। সে সময় শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুসরালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি থাকবেন পরিপূর্ণভাবে ইতমিনান। তিনিই শুধুমাত্র সেদিন সীমাহীন মর্যাদার আসনে বসে সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরসহ সকল সুপারিশকারী উনাদের জন্য সুপারিশ করতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলবেন। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انا اول الناس خروجا اذا بعثوا واذا قائدهم اذا وفدوا وانا خطيبهم اذا انصتوا وانا مستشفعهم اذا حبسوا وانا مبشرهم اذا ايسوا الكرامة والـمفاتيح يومئذ بيدى ولواء الحمد يومئذ بيدى وانا اكرم ولد ادم على ربى يطوف على الف خادم كانهم بيض مكنون او لؤلؤ منثور.

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (ক্বিয়ামতের দিন) যখন সকলকে পুনরুত্থিত করা হবে। সে সময় আমি সর্বাগ্রে (রওযা শরীফ হতে) বের হবো। যখন সকলকেই (মহান আল্লাহ পাক উনার) সম্মুখে পেশ করা হবে তখন আমিই হবো উনাদের সাইয়্যিদ এবং সকলেই যখন (মহান আল্লাহ পাক উনার জালালিয়াতের প্রভাবে) নিশ্চুপ থাকবেন তখন আমিই উনাদের পক্ষ হতে কথা বলবো এবং যখন উনারা আবদ্ধ থাকবেন বা উনাদের সুপারিশের ক্ষমতা থাকবেনা তখন আমিই উনাদের জন্য সুপারিশ করবো আর যখন উনারা সকলে নিরাশ হবেন তখন আমিই উনাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করবো। আর সেদিন সমস্ত মর্যাদা-সম্মান এবং সকল প্রকার খায়ের বরকত উনাদের চাবিকাঠি আমার হাতেই থাকবে এবং প্রশংসার পতাকাও সেদিন আমার হাতেই উড়তে থাকবে। আমার মহান রব তায়ালা উনার নিকট আমিই হবো সমস্ত আদম সন্তান উনাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত। এক হাজার খাদিম আমার চারপাশে ঘুরাফেরা করবেন। উনাদের অবস্থা হবে সাদা বস্ত্রে আবৃত। অর্থাৎ ধূলা-বালি হতে নিরাপদ বা সংরক্ষিত এবং ছড়ানো মোতি মুক্তার ন্যায়। (তিরমিযী শরীফ, দারিমী শরীফ ও মিশকাত শরীফ-৫১৪)

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে-

عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كان يوم القيامة ماج الناس بعضهم فى بعض فيأتون حضرت آدم عليه السلام فيقولون : اشفع لنا الى ربك فيقول : لست لها ولكن عليكم بحضرت ابراهيم عليه السلام فانه خليل الرحمن فيأتون حضرت ابراهيم عليه السلام فيقول لست لها ولكن عليكم بحضرت موسى عليه السلام فانه كليم الله فيأتون حضرت موسى عليه السلام فيقول لست لها ولكن عليكم بحضرت عيسى عليه السلام فانه روح الله وكلمته فيأتون حضرت عيسى عليه السلام فيقول لست لها ولكن عليكم بحضرت محمد صلى الله عليه وسلم فيأتونـى فاقول انا لها فاستأذن على ربى فيؤذن لى ويلهمنـى محامد احمده بها لاتحضرنـى الآن فاحمده بتلك الـمحامد واخر له ساجدا فيقال يا محمد صلى الله عليه وسلم ارفع رأسك وقل تسمع وسل تعطه واشفع تشفع فاقول يارب امتى امتى فيقال انطلق فاخرج من كان فـى قلبه مثقال شعيرة من ايمان فانطلق فافعل ثم اعود فاحمده صلى الله عليه وسلم بتلك الـمحامد واخر له ساجدا فيقال يا محمد صلى الله عليه وسلم ارفع رأسك وقل تسمع وسل تعطه واشفع تشفع فاقول يارب امتى امتى فيقال انطلق فاخرج من كان فى قلبه مثقال ذرة أو خردلة من ايمان فانطلق فافعل ثم اعود فاحمده بتلك الـمحامد ثم اخر له ساجدا فيقال يا محمد صلى الله عليه وسلم ارفع رأسك وقل تسمع وسل تعطه واشفع تشفع فاقول يارب امتى امتى فيقال انطلق فأخرج من كان فى قلبه ادنى ادنى ادنى مثقال حبة خردلة من ايمان فاخرجه من النار فانطلق فافعل ثم اعود الرابعة فاحمده بتلك الـمحامد ثم اخر له ساجدا فيقال يا محمد صلى الله عليه وسلم ارفع رأسك وقل تسمع وسل تعطه واشفع تشفع فاقول يارب ائذن لى فيمن قال لا اله الا الله قال ليس تلك لك ولكن وعزتى وجلالـى وكبريائى وعظمتى لاخرجن منها من قال لا اله الا الله ” . متفق عليه

অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, তখন হাশরবাসীরা বিক্ষিপ্তভাবে ছুটাছুটি করে একজন আরেকজনের নিকট চলে যাবে। অতঃপর তারা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার নিকট এসে বলবে, আপনি আপনার রব তায়ালা উনার নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তখন তিনি বলবেন, আজকের দিনের সুপারিশের দায়িত্ব আমার নয়। তোমাদেরকে এ ব্যাপারে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার নিকট যাওয়া উচিত। কেননা তিনি হচ্ছেন পরম করুনাময় মহান আল্লাহ পাক উনার খলীল বা পরম বন্ধু। সুতরাং তারা তখন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট এসে সুপারিশের প্রার্থনা করবে। তিনিও বলবেন, আজকের দিনের সুপারিশের দায়িত্ব আমার নয়। সুপারিশের জন্য তোমাদেরকে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। কেননা তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলেছিলেন। অতঃপর তারা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট আসবে এবং সুপারিশের প্রার্থনা করবে। তিনিও বলবেন, আজকের দিনের সুপারিশের দায়িত্ব আমার নয়। তবে তোমাদের হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার কাছে যাওয়া উচিত। কেননা তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার রূহ এবং উনার কালিমা। তখন তারা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার কাছে আসবে এবং সুপারিশের প্রার্থনা করবে। তিনিও বলবেন, আজকের দিনের সুপারিশের দায়িত্ব আমার নয়। তবে তোমাদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যাওয়া উচিত। তখন তারা আমার নিকট আসবে আর আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করে বলবো, হ্যাঁ, আমি তোমাদের জন্য সুপারিশ করবো। তখন আমি আমার মহান রব তায়ালা উনার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করবো। তিনি সে সময় আমাকে প্রশংসা মুবারক করার উপযোগী কিছু বাক্য মুবারক বলার অনুমতি মুবারক দান করবেন। যা এখন বলার অনুমতি মুবারক নাই। তখন আমি সে সমস্ত বাক্য মুবারক দ্বারা উনার প্রশংসা মুবারক করবো। পরিশেষে সুপারিশের জন্য সিজদায় পড়ে যাব। অতঃপর তিনি আমাকে বলবেন- হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মাথা মুবারক উত্তোলন করুন এবং আপনি যা বলবেন তা শ্রবণ করা হবে এবং প্রার্থনা করুন আপনার প্রার্থনা কবুল করা হবে এবং আপনি সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি বলবো, উম্মতদেরকে রহমত করুন এবং তাদেরকে ক্ষমা করুন। অতঃপর বলা হবে, আপনি তাদের নিকট যান এবং তাদেরকে বের করুন, যাদের অন্তরে যব পরিমাণ ঈমান আছে। আমি যাব এবং তাই করবো। তারপর আমি আবার প্রার্থনা করবো এবং সমস্ত প্রশংসার বাক্য মুবারক দ্বারা উনার প্রশংসা করবো এবং পরিশেষে সিজদায় লুটে পড়বো। তখন বলা হবে, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মাথা মুবারক উত্তোলন করুন এবং যা ইচ্ছা বলুন আপনার কথা মুবারক শ্রবণ করা হবে, প্রার্থনা করুন আপনাকে দেয়া হবে এবং সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি বলবো, ইয়া বারে ইলাহী! আমার উম্মতদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাদেরকে ক্ষমা করুন। অতঃপর বলা হবে, আপনি তাদের নিকট যান এবং ঐ সমস্ত লোকদেরকে বের করুন যাদের অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে। অতঃপর আমি যাব এবং তাই করবো। পূনরায় আমি প্রার্থনা করবো এবং ঐ সমস্ত প্রশংসার বাক্য মুবারক দ্বারা উনার প্রশংসা করবো। পরিশেষে সিজদায় পড়ে থাকবো। তখন বলা হবে, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মাথা মুবারক উত্তোলন করুন আর বলুন, আপনার বক্তব্য মুবারক শোনা হবে এবং প্রার্থনা করুন, আপনার প্রার্থনা মুবারক কবুল করা হবে এবং সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ গৃহীত হবে। তখন আমি বলবো, আয় মহান আল্লাহ পাক! আমার উম্মতদের উপর রহমত বর্ষণ করুন।

তখন বলা হবে, আপনি তাদের নিকট যান এবং ঐ সমস্ত লোকদেরকে বের করুন যাদের অন্তরে বিন্দু থেকে বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে। আর তাদেরকে জাহান্নাম হতে বের করুন। তখন আমি যাব এবং তাই করবো। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রতিভাত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই সর্বপ্রথম সুপারিশ করবেন যা শাফায়াতে কুবরা বা শাফায়াতে উয্মা বা শাফায়াতে আম হিসেবে মাশহূর। আর এই শুপারিশ শুধুমাত্র সাধারণ বা আম লোকদের জন্যেই করা হবেনা। বরং এই সুপারিশ করা হবে এমন সমস্ত হাস্তিগণ উনাদের সম্পর্কে যাদের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, আলিম, হাজী, গাযী, শহীদ, হাফিয ও অন্যান্য সমস্ত নেক আমল যেমন পবিত্র নামায, পবিত্র রোযা, পবিত্র হজ্জ, পবিত্র যাকাত, ছদকা ইত্যাদি, এমনকি পবিত্র কুরআন শরীফ এবং উনার পবিত্র সূরা শরীফ সমূহও উনার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাফায়াতে কুবরা করার পর অন্যান্য সমস্ত সুপারিশকারী উনাদেরকে সুপারিশ করার অনুমতি প্রদান করা হবে। সুবহানাল্লাহ!

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।