তাফসীরুল কুরআন : সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ২৪২তম সংখ্যা | বিভাগ:

তাফসীরুল কুরআন

সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল


يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لـما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مـما يجمعون.

তরজমা: হে মানুষেরা! তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মু’মিনদের জন্য রহমত দানকারী। (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের উচিত খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের আমলটি হবে তাদের সমস্ত নেক আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

ধারাবাহিক

তাফসীর: মহান আল্লাহ পাক উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল, যিনি কুল মাখলূক্বাত উনাদের সকলের জন্য নবী ও রসূল, যিনি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মাধ্যমে মানবজাতির নিকট এসেছেন সেজন্য খাছভাবে মানবজাতির জন্য এবং আরো খাছভাবে মু’মিন-মুসলমান উনাদের জন্য খুশি প্রকাশ করা ফরয ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, উক্ত ফযীলতপূর্ণ ইবাদত উনার গুরুত্ব সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে-

هو خير مما يجمعون

অর্থাৎ- “উক্ত ইবাদত মানুষেরা তাদের জীবনে যত ইবাদত করে থাকে তাদের সে সমস্ত ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বা উত্তম।” সুবহানাল্লাহ!

উক্ত শ্রেষ্ঠতম বা সর্বোত্তম ইবাদত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ উনার ৮নং ও ৯নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

انا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا. لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا.

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠিয়েছি সাক্ষ্য দানকারী, সুসংবাদ দানকারী ও ভয় প্রদর্শকারী হিসেবে। (এ কারণে যে, হে মানুষেরা!) তোমরা ঈমান আনবে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার খিদমত মুবারক করবে এবং উনাকে সম্মান করবে এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করবে সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ সদাসর্বদা।

আর উক্ত সদাসর্বদা বা দায়িমী ইবাদত উনার বাস্তবতা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان الله وملئكته يصلون على النبى يايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما.

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করেন অর্থাৎ উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেন। হে মু’মিন-মুসলমানগণ! আপনারাও উনার প্রতি ছলাত পাঠন করুন অর্থাৎ উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করুন এবং সালাম পেশ করুন সালাম পেশ করার মতো অর্থাৎ আদব সহকারে তথা দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করুন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

স্মরণীয় যে, কুল-মাখলূক্বাত উনাদের সকলের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করার অর্থাৎ ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করার ফযীলতপূর্ণ শ্রেষ্ঠতম আমল স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিই করছেন এবং অনন্তকালব্যাপী করেই যাবেন। যেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি অনন্ত এবং তিনি চিরকাল থাকবেন সেহেতু উনার কৃত ছলাত অনন্তকাল বা চিরকালব্যাপী জারী থাকবে। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক সম্পর্কিত আমলখানি চিরকালব্যাপী জারী থাকবে। আর বাকী সব আমল বা ইবাদত যা সৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত তা সৃষ্টিরাজী যতদিন থাকবে ততদনি জারী থাকবে।

আরো স্মারণযোগ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক সম্পর্কিত আমলখানি স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আমল হিসেবে নির্দিষ্ট হওয়ার কারণে উক্ত আমলখানি খইরুন অর্থাৎ শ্রেষ্ঠতম বা সর্বোত্তম আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

তাফসীরুল কুরআন

তাফসীরুল কুরআন

তাফসীরুল কুরআন : সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন

তাফসীরুল কুরআন : সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল