পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৬)

সংখ্যা: ২৪২তম সংখ্যা | বিভাগ:

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা

হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার-

ওয়াজ শরীফ

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৬)


পূর্ব প্রকাশিতের পর

একটা বাচ্চা শিশু জ্বিন যমীনের মধ্যে সে কাঁদতেছিলো। দেখে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের একটু মুহব্বত হলো। দেখতে জ্বিন শিশুটা খারাপ ছিলো না, তখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আরজি করলেন, আয় বারে ইলাহী! এই জ্বিন শিশুটা কাঁদতেছে, তার তো প্রকাশ্যে কোন অপরাধ নেই। আপনি যদি বলেন বারে ইলাহী! আমরা এই বাচ্চা শিশু জ্বিনটাকে নিয়ে আসতে পারি। এমনও হতে পারে, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ছোহবতে থেকে সে ভালো হয়ে যেতে পারে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সব জানেন-

عليم بذات الصدور

অন্তরের অন্তঃস্থলের খবর তিনি রাখেন।

عالـم الغيب والشهادة

দৃশ্য, অদৃশ্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সব জানেন।

তারপরও যখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আরজি করলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, ঠিক আছে তোমরা নিতে পারো, দেখো তোমাদের ছোহবতে রেখে সে কতটুকু ভালো হয়। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নিয়ে গেলেন আসমানে। তা’লীম দেয়া হলো। যেহেতু সে জ্বিন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তার আক্বল বুদ্ধি সমঝ আলাদা ছিলো। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وما خلقت الـجن والانس الا ليعبدون

আমি জ্বিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদত-বন্দিগীর জন্য।

অর্থাৎ ليعرفون মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফাত হাছিলের জন্য।

এখন জ্বিন-ইনসান যারা তাদের মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফাত, নৈকট্য লাভ করার একটা যোগ্যতা রয়েছে এটা কিন্তু অন্য কোন ক্বওমের নেই। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন কিছুটা মেশিনের মত। উনাদের যতটুকু বলা হবে উনারা ততটুকু বুঝবেন, জানবেন এবং করবেন। কিন্তু জ্বিন-ইনসান উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি আলাদা যোগ্যতা দিয়েছেন। জ্বিন-ইনসান ইচ্ছে করলে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফাত, নৈকট্য, তায়াল্লুক-নিছবত হাছিল করতে পারে। যার কারণে ইবলিস- সেই জ্বিন শিশুটা যখন বড় হলো, আস্তে আস্তে ইলম অর্জন করলো, আলিম হলো, আবিদও সে হলো। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, সে সাত আসমান, সাত যমীন, এমন কোন স্থান নেই, আরশ-কুরসী, লওহো-কলম যেখানে সে ইবাদত-বন্দেগী করেনি, সিজদা সে দেয়নি, সব জায়গায় সে ইবাদত করেছে। যার জন্য সে বড় আলিম হলো সে বড় আবিদও হলো। যখন সে বড় আলিম হলো মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুআল্লিম হিসেবে নিযুক্ত করলেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুআল্লিম করে দেয়া হলো তার এ সমস্ত কারণে। মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এত মর্যাদা দিলেন, ফযীলত দিলেন, যোগ্যতা দিলেন, সে তো চলতে থাকলো। কিন্তু যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা আবুল বাশার হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করবেন বললেন, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলকেই জানানো হলো। সাইয়্যিদুনা আবুল বাশার হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি সৃষ্টি হলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ঘোষণা দিলেন-

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِى ادَمَ

আমি যারা আদম সন্তান এবং হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাদেরকে সম্মান দিয়েছি। উনাদেরকে আমি আশরাফুল মাখলুকাত করেছি। জ্বিনদের উপরেও উনাদের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! এখন সৃষ্টি হয়ে গেলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন কি বললেন-

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম! আপনারা জ্বিন সহ আমার যিনি খলীফাহ, আমার রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সিজদা করুন। সকলেই সিজদা করলো

الَّا ابْلِيسَ

সেই ইবলিস অর্থাৎ সেই জ্বিন, যে শিশুটা বড় হয়েছিলো, মুআল্লিম হলো, সে কিন্তু সিজদা করলো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-

ابـى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ

সে অস্বীকার করলো, অহংকার করলো, সে সিজদা করলো না। যার কারণে সে কাফির হয়ে গেল।

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- পবিত্র হাদীছ শরীফ, তফসীর, ফিক্বাহ, ফতওয়া সবজায়গায় বর্ণিত রয়েছে যে, যখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সিজদা করলেন, করে উঠলেন। উঠে আশ্চর্য হয়ে গেলেন, দেখতে পেলেন, ইবলিস সে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইবলিস দাঁড়িয়ে রয়েছে, সে সিজদা করেনি। তার আকৃতি-বিকৃতি হয়ে গেছে। কোন কোন বর্ণনায় তার চক্ষুগুলো কপালে চলে গেছে। কোন বর্ণানায় তার চক্ষু সিনার মধ্যে চলে গেছে। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এটা দেখে ভয় পেয়ে গেলেন। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে গেলেন। উনারা খুব দ্রুতভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি শুকরানা স্বরূপ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি যে উনাদেরকে হিদায়েত দিয়েছেন সেজন্য উনারা খুব দ্রুতগতিতে আরেকটি সিজদা দিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! এবং বললেন, হে বারে ইলাহী! আমরা যেন হক্বের উপর থাকতে পারি। উনারা দ্বিতীয় সিজদা দিয়ে উঠলেন। ইবলিস কিন্তু সিজদা করলোনা। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ইস্তিগফার-তাওবা করা শুরু করে দিলেন। আর বলতে লাগলেন, মহান আল্লাহ পাক! এটা আপনার কি হাক্বীক্বত। এই জ্বিনটাকে আমরা বাচ্চা শিশু এনেছিলাম, সে ভালোই ছিলো, তা’লীম দেয়া হলো, ইবাদত-বন্দেগী সে করলো, মুআল্লিম সে হলো, সকলকে সে তা’লীম দিলো। এতো বড় সে আলিম হলো, এতো বড় সে আবিদ হলো, এরপরও সে মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ অমান্য করলো, কি করে সেটা সম্ভব! হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আশ্চর্য হয়ে ইস্তিগফার তাওবা করতে লাগলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনিতো সব জানেন তারপরও মহান আল্লাহ পাক তিনি যেহেতু রহমান, রাহীম, গফফার, সাত্তার, তিনি দয়ালু।

তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-

مَا مَنَعَكَ الَّا تَسْجُدَ اذْ امَرْتُكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, হে ইবলিস! কোন জিনিস তোমাকে নিষেধ করলো, বাধা দিলো, মানা করলো? মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আমি আদেশ করলাম সিজদা করার জন্য, তুমি করলেনা। কোন জিনিস বাধা দিলো? ইবলিস জবাব দিলো, কতো বড় বেয়াদব, গোমরাহ

انَا خَيْرٌ مِّنْهُ

ইবলিস জবাব দিলো, বারে ইলাহী! ইবলিস সাইয়্যিদুনা আবুল বাশার হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে উত্তম। নাউযুবিল্লাহ!

خَلَقْتَنِى مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ

হে বারে ইলাহী! আপনিতো ইবলিসকে আগুন থেকে তৈরী করেছেন আর সাইয়্যিদুনা আবুল বাশার হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে তৈরী করেছেন। আর আগুনতো উপরে থাকে আর মাটিতো নিচে থাকে। তাহলে ইবলিস কি করে সিজদা করতে পারে। নাউযুবিল্লাহ! সে এতবড় অহংকার করলো, অস্বীকার করলো। মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সে তর্ক শুরু করে দিলো। নাউযুবিল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন-

فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ ان تَتَكَبَّرَ فِيهَا

ইবলিস এখান থেকে নেমে যাও। তোমার এতো ক্ষমতা নেই যে তুমি এখানে বসে অহংকার করো।

فَاخْرُجْ انَّكَ مِنَ الصَّاغِرِينَ

বের হয়ে যা এখান থেকে। নিশ্চয়ই তুই লাঞ্ছিত জাহান্নামী। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইবলিসকে বের করে দিলেন।

এছাড়াও মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অনেক আয়াত শরীফ ও সূরা শরীফ উনার মধ্যে ইবলিস সম্পর্কে বললেন। ইবলিস এতো বড় বেয়াদব। সেই হচ্ছে প্রথম উলামায়ে ‘সূ’। মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে খাওয়ালেন, পরালেন, বড় করলেন, তাকে মিটিয়েও দিতে পারতেন। কিন্তু সে শেষ পর্যন্ত সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ অমান্য করে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সে তর্ক-বিতর্ক শুরু করে দিলো। নাউযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে বের করে দিলেন এরপর বললেন-

فَاخْرُجْ مِنْهَا فَانَّكَ رَجِيمٌ . وَانَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِى الـى يَوْمِ الدِّينِ

এখান থেকে বের হয়ে যাও, তোমাকে বিতাড়িত করে দেয়া হলো। অনন্তকাল ধরে তোমার প্রতি লা’নত। নিশ্চয়ই অনন্তকাল ধরে তোমার উপর লা’নত।

فَاخْرُجْ مِنْهَا مَذْمُومًا مَّدْحُورًا

মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, এখান থেকে তুমি বের হয়ে যাও। লাঞ্ছিত হয়ে অপমানিত হয়ে।

এই সমস্ত দোষ-ত্রুটি নিয়ে তুমি এখান থেকে বিতাড়িত হয়ে যাও। তোমাকে বিতাড়িত করা হলো। (অসমাপ্ত)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৭)

সম্পাদকীয়

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১২)