হালাল-হারাম নিয়ে নানা কথা-২

সংখ্যা: ২৪৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

হালাল-হারাম নিয়ে নানা কথা-২


পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হালালও স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট।”

যেগুলো সম্মানিত শরীয়ত উনার মাঝে হারাম- তা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ সেগুলো ছাড়া বাকী সব হালাল।

তবে সাধারণত খাদ্যদ্রব্যে এবং প্রসাধনী দ্রব্যে যে উপাদানগুলো ব্যবহার হলে তা খাওয়ার অনুপযুক্ত বা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয় আমরা সেগুলো নিয়েই আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ!

সাধারণত প্রধান দুই কারণে খাদ্যদ্রব্য এবং প্রসাধনী প্রব্যসমূহ হারাম হয়ে থাকে।

১) এলকোহলের উপস্থিতি

২) হারাম বস্তু থেকে সংগৃহীত উপাদানসমূহের উপস্থিতি।

এলকোহল বা শরাব :

মানুষ যে এলকোহল বা শরাব খেয়ে নেশা করে তাকে বলে ইথাইল এলকোহল বা ইথানল। ইন্ডাস্ট্রিতে যখন ইথাইল এলকোহল ব্যবহার করা হয় তখন সেটা খেয়ে যাতে শ্রমিক শ্রেণী নেশা করতে না পারে তাই এক ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য ইথাইল এলকোহলে মিশিয়ে দেয়া হয়। সেই বিষাক্ত উপাদান যুক্ত এলকোহলকে বলা হয় denatured alcohol বা SD alcohol. এই বিষাক্ত উপাদান মেশানোর কারণে কেবল ইথাইলে এলকোহল খাওয়ার অনুপযুক্ত হয় কিন্তু তাতে ইথাইল এলকোহল বা ইথানলের গুণাগুণের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই এই denatured alcohol বা SD alcohol যুক্ত দ্রব্য ব্যবহার করা জায়িয নেই। ফলে কোনো প্রোডাক্টে denatured alcohol বা SD alcohol লেখা থাকলে তা বর্জনীয়।

শরীয়ত সম্মত কারণ :

সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী এলকোহল বা শরাব পান করা হারাম এবং নাপাকের অন্তর্ভুক্ত। আর তা হারাম হবার পেছনে মূল কারণ এটি পান করলে নেশা হয়। ফলে বিষাক্ত উপাদান মিশ্রিত করলেও ইথাইল এলকোহলের নেশা জাতীয় গুণাগুণ নষ্ট হয় না; ফলে তা নাপাকের অন্তর্ভুক্তই থাকে। সে কারণে এই denatured alcohol বা   SD alcohol  যুক্ত দ্রব্য ব্যবহার করা জায়িয নেই।

কোনো প্রোডাক্ট কিনে উপাদানগুলো যখন দেখবেন তখন কোথাও এলকোহল লেখা দেখলেই ভয় পাবার কিছু নেই। কোথাও ইথাইল এলকোহল বা ইথানল, মিথাইল এলকোহল বা মিথানল, denatured alcohol বা SD alcohol লেখা থাকলে সে প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করা যাবে না।

কিন্তু যে এলকোহলগুলোতে শরাবের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই, কিন্তু নামের শেষে এলকোহল আছে, সেগুলো ব্যবহারে সমস্যা নেই। যেমন- Beûyl Alcohol, Stearyl Alcohol, Cetearyl Alcohol, ¸ristyl Alcohol, Beheûl Alcohol, Cetyl Alcohol, Sugar Alcohol, Lauryl Alcohol, Oleyl Alcohol ইত্যাদি। এগুলো প্রোডাক্টকে চকচকে করতে, প্রলেপ দিতে, ক্রীম বানাতে, ঘন করতে, পিচ্ছিল করতে, মিষ্টি বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।

হারাম বস্তু থেকে সংগৃহীত উপাদান সমূহের উপস্থিতির কারণে খাদ্য দ্রব্য ও প্রসাধনী দ্রব্যসমূহ কখনো হারাম হয়ে থাকে আবার কখনো হালাল হয়ে থাকে। হারাম থেকে সংগৃহীত উপাদান দ্বারা প্রস্তুতকৃত কোন খাদ্য দ্রব্য বা প্রসাধনী দ্রব্য হারাম হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু কখন হালাল হয় সেটা বুঝলেই সব বোঝা হয়ে যাবে এবং আমাদের জীবন ধারন সহজ হয়ে যাবে।

সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে বর্ণিত আছে যখন কোন লবণের খনিতে কোন বিড়াল বা কুকুর বা অন্য কোন প্রাণী পড়ে মরে থাকে আর যখন সেটা এক সময় লবণে পরিণত হয় তখন সে লবন হালাল, যদিও উৎসটি হারাম। কারণ হচ্ছে সেই লবণের মধ্যে হারাম প্রাণীর কোন বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়না। এখান থেকে যে সুত্র তৈরি হয়েছে তা হচ্ছে “কোন হারাম উৎস থেকে কোন উপাদান প্রস্তুত হলে যদি তার গুনগত পরিবর্তন এমন হয় যে সেখানে মূল উৎস বা বস্তুর কোন গুণাগুণ থাকে না তবে সেই হারাম বস্তু থেকে সংগৃহীত উপাদানটি হালাল”।

একটি চিত্র আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। ধরুন কেউ খুব আইসক্রিম খেয়ে ঠাণ্ডা বাধিয়ে জ্বরে পড়লো। জ্বর থাকায় সকালের নাস্তা খেলেন পাউরুটির মধ্যে জেলী লাগিয়ে তারপর খেলেন জ্বরের ট্যাবলেট। দুপুরে ডাক্তার বললেন সুপ খাওয়াতে, আজকাল ইনস্টেন্ট সুপ পাওয়া যায় তাই কিনে খাওয়ানো হল। কেও বললো দই খাওয়ালে পেট ঠাণ্ডা থাকবে ফলে এখন সব শপিং মলে Yoghurt বা দই পাওয়া যায় রোগীকে সেই দই এনেও খাওয়ানো হল।

এই রোগী যতগুলো আইটেম খেলেন যেমন আইসক্রিম, জেলী, ট্যাবলেট, সুপ, দই এই প্রতিটি আইটেমে থাকতে পারে বা অধিকাংশ সময় রয়েছে জিলাটিন। তাহলে আপনিই বলুন সে রোগী কি তাহলে সব হারাম খেয়েছে। কারণ জিলাটিন তৈরি হয় প্রাণীর হাড়ের কোলাজেন থেকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শূকর এবং গরুর হাড় থেকে। আপনি যদি ভাবেন গরু হলে সমস্যা নেই, তা কিন্তু না। হালাল উপায়ে যবেহকৃত গরু থেকে নেয়া জিলাটিন আলাদা করে পাওয়া কঠিন। আর ব্যবসায়ীরা মুনাফার জন্য সস্তা সোর্স ব্যবহার করতে পছন্দ করে ফলে শূকরের হাড় থেকে তৈরি জিলাটিনে বাজার সয়লাব। অনলাইনে লেখা পড়ে আপনি কিন্তু এ বিষয়ে কোন সমাধান পাবেন না। এর সমাধান হচ্ছে জিলাটিন হালাল। কারণ হাড়ের কোলাজেন থেকে যে পদ্ধতিতে জিলাটিন প্রস্তুত করা হয় পরবর্তীতে জিলাটিনের মধ্যে Intramolecular Change আসে সেখানে কোলাজেনের কোন বৈশিষ্ট্য উপস্থিতি থাকেনা। ফলে জিলাটিন শূকর থেকে প্রস্তুত হলেও তা হালাল। (চলবে)


-ফার্মাসিস্ট আল্লামা মুহম্মদ রুহুল হাসান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক