সুওয়াল: খিলাফত, খলীফা, পীর বা মুর্শিদ, শায়েখ গদীনশীন পীর ইত্যাদি বিষয়গুলির সঠিক ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৪৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ জসীমুদ্দীন, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর


সুওয়াল: খিলাফত, খলীফা, পীর বা মুর্শিদ, শায়েখ গদীনশীন পীর ইত্যাদি বিষয়গুলির সঠিক ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: খিলাফত: সালিক তরীক্বতের রাস্তায় প্রবেশ করে কামিল ওলী বা শায়েখ বা মুর্শিদের ছোহবত ইখতিয়ার করতঃ তরীক্বতের সবকাদি আদায় করার মাধ্যমে বিভিন্ন মাক্বাম বা মঞ্জিল অতিক্রম করে যখন তাকমীল বা পূর্ণতায় পৌছেন তখন মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ মুবারকে মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে পূর্ণতার যে সনদ প্রদান করেন তার নামই খিলাফত।

খলীফা ও পীর বা মুর্শীদ বা শায়েখ: যিনি খিলাফত লাভ করেন উনাকে খলীফা বলা হয়। প্রত্যেককে খিলাফত লাভ করে খলীফা হয়ে পীর বা মুর্শীদ বা শায়েখ হতে হয়। তিনি গদীনশীন হোন বা না হোন তা শর্ত নয়। তবে খিলাফত লাভ না করে কেউই পীর বা মুর্শিদ বা শায়েখ হতে পারে না। অতএব, পীর বা মুর্শিদ বা শায়েখের ছেলে হোক, ভাই হোক, পীর বা মুর্শিদ বা শায়েখ হওয়ার জন্য উনাকেও অবশ্যই খিলাফত লাভ করতে হবে। অন্যথায় তিনি পীর বা মুর্শিদ বা শায়েখ হতে পারবেন না।

গদীনশীন পীর বা মুর্শিদ বা শায়েখ: ‘গদীনশীন’ শব্দটি ফার্সী। গদী অর্থ আসন আর নশীন অর্থ উপবেশনকারী। অর্থাৎ আসনে উপবেশনকারী। পীর-মুর্শিদ বা শায়েখের অবর্তমানে বা ইনতিকালের পর তাঁদের গদী বা আসনে বসে যিনি দায়িত্ব পালন করেন তাঁকে বলা হয় গদীনশীন পীর বা মুর্শিদ বা শায়েখ ।

আজকাল দেখা যায়, পীর বা মুর্শিদ বা শায়েখের আত্মীয়-স্বজন ও মুরীদেরা মিলে আলোচনা বা পরামর্শ করে পীর-মুর্শিদ বা শায়েখের গদীনশীন ও খলীফা নির্বাচিত করছে। নাউযুবিল্লাহ! যা শরীয়ত ও তরীক্বতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

পীর বা মুর্শিদ বা শায়েখের ছেলে হোক, জামাই হোক, ভাই হোক, মুরদী হোক ইত্যাদি যেই হোক না কেন সে যদি পূর্বে যে খিলাফতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেই খিলাফত না পেয়ে থাকে তাহলে তাকে গদীনশীন কিংবা খলীফা হিসেবে গ্রহণ করা জায়িয নেই। খিলাফত লাভ না করে যারা গদীনশীন বা খলীফা নির্বাচিত হবে শরীয়ত ও তরীক্বতের পথে তারা অন্ধ। এক অন্ধ আরেক অন্ধকে রাস্তা দেখাতে পারে না।

কাজেই, এসব গদীনশীন ও খলীফা এবং তাদের যারা অনুসারী সকলকেই একজন খিলাফতপ্রাপ্ত মুর্শিদ বা ওলীর নিকট বাইয়াত হয়ে তাকমীলে পৌঁছার জন্য কোশেশ করতে হবে। (সমূহ তাছাউফ-এর কিতাব দৃষ্টব্য)

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।