সুওয়াল: কেউ কেউ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা আ’রাফ উনার ১৮৮ নং আয়াত শরীফ উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানতেন না। নাউযুবিল্লাহ! এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব দানে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৪৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আব্দুর নূর, লাখাই, হবিগঞ্জ


সুওয়াল: কেউ কেউ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা আ’রাফ উনার ১৮৮ নং আয়াত শরীফ উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানতেন না। নাউযুবিল্লাহ! এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব দানে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: সুওয়ালে উল্লেখিত আয়াত শরীফখানা হলো:

قل لا املك لنفسى نفعا ولا ضرا الا ما شاء الله ولو كنت اعلم الغيب لاستكثرت من الخير وما مسنى السوء ان انا الا نذير وبشير لقوم يؤمنون

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার যাহিরী বা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- “হে আমার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের উপকার কিংবা অপকার করার মালিক নই, তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি যা চান। (অর্থাৎ আমি সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ফানা, তাই আমি নিজ থেকে কোনো কিছুই করিনা। তিনি যা চান আমিও তাই চাই) আর যদি আমি গইব সম্পর্কে জানতাম তাহলে অবশ্যই আমি বেশি বেশি উত্তম কাজ করতাম এবং কোন মন্দ বা খারাবী আমাকে স্পর্শ করতে পারতো না। (অর্থাৎ আমি ইলমে গইব জানার কারণে সর্বাবস্থায় ভাল কাজই করি আর তাই আমাকে কোনো মন্দ বিষয় স্পর্শও করতে পারেনা) আমি অবশ্যই সতর্ককারী এবং সুসংবাদ প্রদানকারী ওই সকল লোকদের জন্য যারা ঈমানদার।”

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারাও যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানেন সে কথাই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। যেমন উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لاستكثرت من الخير وما مسنى السوء

অর্থ: অবশ্যই আমি বেশি বেশি উত্তম কাজই করতাম এবং কোন অনুত্তম বা মন্দা বিষয় আমাকে স্পর্শ করতো না।

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানতেন বলেই উনার সমস্ত কাজ বা সমস্ত বিষয়ই ছিল সর্বোত্তম। তার বিপরীত কোন অনুত্তম বা মন্দ বিষয় উনাকে স্পর্শ করেনি। সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, উছূলে তাফসীর কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-

لكل كلام ظاهر وباطن

 প্রতিটি কালামের একটি যাহির বা বাহ্যিক এবং আরেকটি বাতিন বা আভ্যন্তরীণ দিক তথা অর্থ রয়েছে।

কাজেই, সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ১৮৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বাতিনী বা আভ্যন্তরীণ অর্থাৎ একটা হাক্বীক্বী অর্থ হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানতেন। যার কারণে উনার সবকিছুই ছিল সর্বোত্তম এবং উনাকে কোনো খারাবী স্পর্শ করেনি। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, পবিত্র সূরা আল কাওছার শরীফ উনার ১নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন-

انا اعطينك الكوثر

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার হাদিয়া করেছি।

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “কাওছার” উনার একটি অর্থ হচ্ছে হাউজে কাওছার। কঠিন হাশরের দিন ‘হাউজে কাওছার’ উনার পানি ব্যতীত আর কোন পানি থাকবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুমতি ব্যতীত হাউজে কাওছার উনার পানি কেউ পান করতে পারবে না।

আরেকটি অর্থ হচ্ছে “খইরে কাছীর” অত্যধিক ভালাই বা উত্তম। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পৃক্ত সবকিছুই উত্তম থেকে উত্তমতর। যেমন সাধারণভাবে মাটির কোন মর্যাদা নেই। কিন্তু যেই মাটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংস্পর্শ লাভ করেছে ঐ মাটির মর্যাদা মহান আল্লাহ পাক উনার আরশে আযীম থেকেও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। সুবহানাল্লাহ!

এই যদি হয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক তাহলে উনাকে কি করে মন্দ বা নিন্দনীয় বিষয় স্পর্শ করতে পারে? মন্দ বিষয় উনাকে কখনোই স্পর্শ করতে পারে না। এই আক্বীদাই পোষণ করা প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য। এর বিপরীত আক্বীদা পোষন করা কুফরী, কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

কাজেই, সুওয়ালে উল্লেখিত সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ১৮৮নং আয়াত শরীফ উনার বর্ণনা দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব উনার অধিকারী।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১২৯তম সংখ্যা পাঠ করুন।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।