সুওয়াল: লা-মাযহাবীরা বলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি মাটির তৈরি মানুষ। নাউযুবিল্লাহ! তাদের উক্ত বক্তব্য কতটুকু সঠিক?

সংখ্যা: ২৪৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আলী আছগর, ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম


সুওয়াল: লা-মাযহাবীরা বলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি মাটির তৈরি মানুষ। নাউযুবিল্লাহ! তাদের উক্ত বক্তব্য কতটুকু সঠিক?

জাওয়াব: মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে লা-মাযহাবীদের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, মনগড়া ও দলীলবিহীন এবং তা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ  উনাদের খিলাফ এবং সর্বোপরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক সম্পর্কে খিলাফ ও মিথ্যা হওয়ার কারণে কুফরী হয়েছে।

কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন নূর মুবারকের সৃষ্টি। মহান আল্লাহ পাক তিনি কুল-মাখলূক্বাত সৃষ্টির পূর্বে সর্বপ্রথম যেই নূর মুবারক সৃষ্টি করেন সেই নূর মুবারকই হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র অজূদ পাক। এবং সেই পবিত্র অজূদ পাক হতে কুল-মাখলূক্বাত সৃষ্টি হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

এ বিষয়ে যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার একাধিক সংখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে ৬০তম সংখ্যা থেকে ৮২তম সংখ্যা পর্যন্ত বিস্তারিত ফতওয়া প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত ফতওয়ার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একমাত্র হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই মাটি হতে সৃষ্টি নন চাই তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা হোন কিংবা সাধারণ মানুষ হোন। মূলতঃ পবিত্র কুরআনুল কারীম উনার মধ্যে মানুষ মাটির তৈরি বলে যত পবিত্র আয়াত শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে তা দ্বারা শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। অন্য কেউ নন। যা সমস্ত তাফসীরের কিতাবেই উল্লেখ রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

واذ قال ربك للملئكة انى خالق بشرا من طين

অর্থ: “যখন আপনার পালনকর্তা মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করবো মাটি দ্বারা।” (পবিত্র সূরা ছোয়াদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭১)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খ-, ১৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

)انى خالق بشرا من طين) يعنى حضرت ادم عليه السلام.

অর্থ: “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো বাশার মাটি থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে।”

আরো উল্লেখ্য, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই মাটির দ্বারা সৃষ্টি বা তৈরি নন সেটা স্পষ্টভাবে পবিত্র কুরআনুল কারীম উনার মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وبدا خلق الانسان من طين ثم جعل نسله من سللة من ماء مهين.

অর্থ: এবং তিনি অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন মাটি থেকে অতঃপর উনার বংশ বিস্তার করে স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা সাজদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭, ৮)

এ আয়াতে কারীমা উনার মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর উনার যারা আল আওলাদ অর্থাৎ বংশধর উনাদেরকে বিস্তার করা হয়েছে বা হয়ে থাকে স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে অর্থাৎ সেই স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক মানুষের দেহ বা আকৃতি কুদরতীভাবে মায়ের রেহেম শরীফে গঠন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

যেমন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

هو الذى يصوركم فى الارحام كيف يشاء

অর্থ: তিনি মহান আল্লাহ পাক যিনি মায়ের রেহেমসমূহে তোমাদের আকৃতি গঠন করে থাকেন যেরূপ ইচ্ছা করেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

কাজেই, প্রতিভাত হলো যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে মাটির সৃষ্টি বলাটাই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী বক্তব্য যা কুফরী। আর যিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিসহ সমস্ত হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, সমস্ত জিন-ইনসান, সমস্ত সৃষ্টি-কায়িনাতের নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনা কুদরতময় সৃষ্টি উনার রহস্য তো সম্পূর্ণই আলাদা। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাকে মাটির সৃষ্টি বলাটা কত মারাত্মক কুফরী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা দুশমন কেবল তারা ব্যতীত আর কেউই উক্ত কুফরী আক্বীদা পোষণ করতে পারে না।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।