সুওয়াল : ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কাশিম নানুতুবীর লিখিত ‘তাহযীরুন নাস” কিতাবের ২৫ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম তিনি আগে বা সর্বশেষে আসার মধ্যে কোন ফযীলত নেই। উনার পরে যদি এক হাজার নবীরও আগমন মেনে নেয়া হয় তাতেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খতমে নবুওয়াতের কোনরূপ বেশ-কম হবে না। নাউযুবিল্লাহ! উক্ত বক্তব্য শরীয়তসম্মত হয়েছে কিনা, দলীলসহ জানতে চাই।

সংখ্যা: ২৪৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ উমর ফারুক, কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ


সুওয়াল : ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কাশিম নানুতুবীর লিখিত ‘তাহযীরুন নাস” কিতাবের ২৫ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম তিনি আগে বা সর্বশেষে আসার মধ্যে কোন ফযীলত নেই। উনার পরে যদি এক হাজার নবীরও আগমন মেনে নেয়া হয় তাতেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খতমে নবুওয়াতের কোনরূপ বেশ-কম হবে না। নাউযুবিল্লাহ!

উক্ত বক্তব্য শরীয়তসম্মত হয়েছে কিনা, দলীলসহ জানতে চাই।

জাওয়াব: উক্ত বক্তব্য সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার সম্পূর্ণরূপে খিলাফ বা বিরোধী হওয়ার কারণে কাট্টা কুফরী হয়েছে।

উল্লেখ্য, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনাদের ফতওয়া হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর কোন নবী বা রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা আসবেন না। কাজেই, কেউ যদি নবী বা রসূল দাবী করে অথবা পরবর্তীতে নবী বা রসূল আলাইহিস সালাম আগমন করার কথা স্বীকার করে তারা প্রত্যেকেই কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী হবে।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিচিতি মুবারক উল্লেখপূর্বক “খাতামুন নাবিয়্যীন” অর্থাৎ তিনি সর্বশেষ নবী ও রসূল হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

مَا كَانَ مُحَمَّدٌ اَبَا اَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلـكِن رَّسُولَ اللّـهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ ۗ

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের (প্রাপ্ত বয়স্ক) কোন পুরুষের পিতা বা বাবা নন। বরং তিনি হলেন মহান আল্লাহ পাক উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল এবং সর্বশেষ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪০)

কারণ সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, ইমামুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ফযীলত ও খুছূছিয়াতসমূহের মধ্যে নবী-রসূল হিসেবে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হওয়া এবং সর্বশেষে যমীনে আগমন করার বিষয় দু’টি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ছহীহ মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফ কিতাবের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فضلت على الانبياء بست اعطيت جوامع الكلم ونصرت بالرعب واحلت لى الغنائم وجعلت لى الارض مسجدا وطهورا وارسلت الى الخلق كافة وختم بى النبيون.

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণণা করেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুাবরক করেন, আমাকে ছয়টি বিষয়ে অন্যান্য হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে।

(১) আমাকে সৃষ্টির শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ইলিম মুবারক দেয়া হয়েছে। (২) আমাকে রো’ব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে অর্থাৎ আমার নাম মুবারক শুনলে কাফির মুশরিকরা এক মাসের দূরবর্তী স্থান থেকে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে। (৩) আমার জন্য গণীমতের মাল হালাল করা হয়েছে। (৪) আমার জন্য সমস্ত যমীন মসজিদ ও পবিত্রতার উপাদান করা হয়েছে। (৫) সমস্ত মাখলূক্ব বা সৃষ্টির জন্য আমাকে নবী-রসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। (৬) আমার দ্বারাই হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের সিলসিলা শেষ বা সমাপ্ত করা হয়েছে।

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমেই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের সিলসিলা বা ধারা খতম বা শেষ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ ফযীলত ও খুছূছিয়াত অর্থাৎ শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি বিশেষ ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য মুবারক হচ্ছে তিনি খাতামুন নাবিয়্যীন অর্থাৎ সর্বশেষ নবী। উনার দ্বারা সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারকের সিলসিলা বন্ধ করা হয়েছে। ফলে উনার পরে আর কেউ নবী ও রসূলরূপে যমীনে আগমন করবেন না।

এ প্রসঙ্গে দারিমী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ ইত্যাদি কিতাবের মধ্যে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انا قائد  المرسلين ولا فخر وانا خاتم النبيين ولا فخر وانا اول شافع ومشفع ولا فخر

অর্থ: আমি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্বায়িদ বা অগ্রগামী, এতে আমার কোন ফখর নেই। আমি হলাম হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমাপ্তকারী অর্থাৎ সর্বশেষ নবী-রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এতেও আমার কোন ফখর নেই। আর আমিই হব সর্বপ্রথম শাফায়াতকারী বা সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশই কবুল করা  হবে। এতেও আমার কোন ফখর নেই। সুবহানাল্লাহ!

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারাও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বশেষ নবী ও রসূল আর সর্বশেষ নবী ও রসূল হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে উনার ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশেরই অন্তর্ভুক্ত। যা উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ولا فخر অর্থাৎ এতে আমার কোন ফখর নেই” বাক্যাংশ দ্বারা প্রতিভাত হয়েছে।

ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ কিতাবদ্বয়ের মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, হযরত জুবাইর ইবনে মুতয়িম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি  ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ان لى اسماء انا محمد وانا احمد وانا الماحى الذى يمحو الله بى الكفر وانا الحاشر الذى يحشر الناس على قدمى وانا العاقب والعاقب الذى ليس بعده نبى

অর্থ: নিশ্চয়ই আমার অনেক নাম মুবারক রয়েছে এবং অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, আমার পাঁচখানা (বিশেষ) নাম মুবারক রয়েছে। (১) আমি মুহম্মদ অর্থাৎ পরম প্রশংসিত, (২) আমি আহমদ অর্থাৎ সর্বোত্তম প্রশংসাকারী (৩) আমি ধ্বংসকারী অর্থাৎ আমার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি কুফর, শিরক ধ্বংস করবেন (৪) আমি একত্রিতকারী অর্থাৎ ক্বিয়ামতের দিন সমস্ত জিন, ইনসান আমার ক্বদমের কাছে একত্রিত হবেন। (৫) আমি র্সবশেষ অর্থাৎ আমার পর আর কোন নবী আসবেন না।

অন্য এক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

انا خاتم النبيين لا نبى بعدى

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি শেষ নবী। আমার পরে আর কোন নবী নেই।

অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং নবী-রসূল হিসেবেও সর্বপ্রথম সৃষ্টি এ সম্মানিত বিষয়টি উনার বিশেষ ফযীলত ও খুছূছিয়াত উনার অন্তর্ভুক্ত। যেমন –

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যদিুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اول ما خلق الله نورى وخلق كل شىء من نورى.

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি র্সবপ্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন এবং উক্ত নূর মুবারক উনার থেকেই সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করেন।” (নূরে মুহম্মদী, আল ইনসানুল কামিল, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী)

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كنت اول النبين فى الخلق واخرهم فى البعث.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম নবী হিসেবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সমস্ত হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শেষে। (কানযুল উম্মাল শরীফ ৩১৯১৬, দাইলামী শরীফ ৪৮৫০, মিরকাত শরীফ ১১/৫৮)

উপরোক্ত পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সুস্পষ্ট বর্ণনার দ্বারা প্রতিভাত যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির দিক থেকে সর্বপ্রথম নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর যমীনে আগমনের দিক থেকে সর্বশেষ নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হযরত নবী ও রসূল হিসেবে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হওয়া এবং হযরত নবী ও রসূল হিসেবে যমীনে সর্বশেষে আগমন করা এ বিষয় দু’টি অবশ্যই উনার ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্বের কারণ। এ বিষয় দু’টি বিশ্বাস করা মু’মিন মুসলমান প্রত্যেকের জন্যেই ফরয। উক্ত ফযীলতসম্পন্ন বিষয় দুটির বিপরীত আক্বীদা পোষণ করার অর্থ হচ্ছে কাট্টা কুফরী করা, কাফির হওয়া, ঈমান ও ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাওয়া। নাউযুবিল্লাহ! সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর কোন নবী বা রসূল উনাদের আগমনকে মেনে নেয়ার অর্থ হচ্ছে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকার করা আর খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী। আর এ কারণেই কাদিয়ানী ও বাহাই সম্প্রদায়কে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কাদিয়ানী ও বাহাই সম্প্রদায় খতমে নুবুওওয়াত অর্থাৎ নবী-রসূল উনাদের আগমনের সিলসিলা সমাপ্ত বা শেষ হওয়ার বিষয়টি না মানার কারণে তারা কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী দল হিসেবে গণ্য হয়েছে।

একইভাবে কাশেম নানুতুবীর বক্তব্য “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে এক হাজার নবীরও আগমন মেনে নেয়া হলেও তাতে খতমে নুবুওয়াতের কোনরূপ বেশ-কম হবেনা” এ বক্তব্য কাদিয়ানী ও বাহাই সম্প্রদায়ের আক্বীদার সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে কাট্টা কুফরী হয়েছে যা চিরজাহান্নামী হওয়ার কারণ। নাউযুবিল্লাহ!

অতএব, উক্ত কুফরী বক্তব্য ও আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই ফরযে আইন।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।