সুওয়াল : মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ, ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই যে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৪৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুরা, ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।


সুওয়াল : মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ, ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই যে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর ২২)

পঞ্চম প্রমাণ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন –

وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِى الزَّبُوْرِ مِنْ ۢ بَعْدِ الـذِّكْرِ اَنَّ الْاَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِىَ الصّلـِحُوْنَ.

অর্থ: “আর নিশ্চয়ই আমি সম্মানিত যাবূর শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত যিক্র মুবারক উনার পর এই কথা লিপিবদ্ধ করে দিয়েছি যে, আমার সম্মানিত ছালিহীন বান্দাগণ উনারা সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সম্মানিত ওয়ারিছত্ব মুবারক লাভ করবেন। অর্থাৎ উনারা সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আম্বিয়া শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ১০৫)

এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন –

اَخْبَرَ الله سُبْحَانَهٗ وَتَعَالـٰى فِى التَّوْرَاةِ وَالزَّبُوْرِ وَسَابِقِ عِلْمِهٖ قَبْلَ اَنْ تَكُوْنَ السَّمٰوتُ وَالْاَرْضُ اَنْ يُّـوَرِّثَ اُمَّةَ حَضْرَتْ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْاَرْضَ.

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সাত আসমান, সাত যমীন, সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাত সৃষ্টি করার পূর্বে সম্মানিত তাওরাত শরীফ, সম্মানিত যাবূর শরীফ এবং পূর্ববর্তী সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে এই কথা লিখে দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনাদেরকে সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক, সম্মানিত খিলাফত মুবারক হাদিয়া করেছেন। অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনারা সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ত্ববারী ১৮/৫৪৯, দুররে মানছুর ৫/৬৮৬, ইবনে আবী হাতিম ৮/২৪৭১, ফাতহু ক্বাদীর ৩/৫১২, ইবনে কাছীর ৫/৩৮৫, খছাইছুল কুবরা ১/৫১, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/২৭৭ ইত্যাদী)

১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘খছাইছুল কুবরা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত যাবূর শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-

يَا حَضْرَتْ دَاودُ عَليْهِ السَّلَامُ ِاِسْمـَعْ مَا اَقُوْلُ وَمُرْ حَضْرَتْ سُلَيْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلْيَقُلْهُ لِلنَّاسِ مِنْ بَعْدِكَ اِنَّ الْاَرْضَ لِىْ اُوْرِثُهَا حَضْرَتْ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْ اُمَّتَهٗ

অর্থ: “হে আমার সম্মানিত নবী এবং রসূল হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম, আমি যা বলি তা আপনি শুনুন এবং আপনি আমার পক্ষ থেকে আপনার যিনি সুমহান আওলাদ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যিনি আসমানের নিচে, যমীনের উপরে সারা পৃথিবীতে সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, উনাকে এই সম্মানিত নির্দেশ মুবারক জানিয়ে দেন যে, তিনি যেন আপনার পর সমস্ত মানুষদেরকে, সমস্ত জিন-ইনসানকে জানিয়ে দেন যে, নিশ্চয়ই সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের মালিক হচ্ছি আমি মহান আল্লাহ পাক। আর আমি এই সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সম্মানিত ওয়ারিছত্ব মুবারক, সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক হাদিয়া করেছি আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনাদেরকে। অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনারা সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (খছাইছুল কুবরা ১/৫২, ইযালাতুল খফা ১/১০১)

 অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনারা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবীতো অবশ্যই; এমনকি সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।