সুওয়াল: ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক ও মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক।

সংখ্যা: ২৪৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আরিফুর রহমান, সদর, টাঙ্গাইল


সুওয়াল: ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক ও মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক।

জাওয়াব: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান বিন আলী বিন আবী তালিব আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় তাশরীফ আনেন। হিজরী ৩য় সনে শা’বান মাস উনার ১৫ তারিখ ইয়াওমুল আরবিয়া অর্থাৎ রোজ বুধবার সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো ভাই হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম আর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পিতা আবু তালিব উনার পিতা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের উভয়ের দাদা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আম্মাজান হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা লখতে জিগার বিনতুর রাবিয়াহ (চতুর্থ মেয়ে) সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি।

স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বমোট সন্তান ছিলেন আটজন। আবনা চারজন এবং বানাত চারজন। আবনা সন্তানগণ উনারা প্রত্যেকেই অল্প বয়স মুবারকেই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনারা হলেন ১. হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম ২. হযরত তইয়িব আলাইহিস সালাম ৩. হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম ৪. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। আর বানাত উনারা হলেন- ১. সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম ২. সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম ৩. সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত কুলছূম আলাইহাস সালাম ৪. সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার বংশ মুবারক জারি থাকবে আমার সম্মানিতা আওলাদ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে। অর্থাৎ উনার সম্মানিত দুই ছাহিবযাদা সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাধ্যমে। উনারা উভয়ে জান্নাতের যুবকদের সাইয়্যিদ। আর সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বংশো™ভূত সন্তান উনারাই হচ্ছেন সাইয়্যিদ বা আওলাদে রসূল। এছাড়া হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অন্যান্য সন্তানের দ্বারা যে বংশ মুবারক জারি রয়েছে, উনারা ‘ফাতিমী’ নামে পরিচিত। আর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম  উনার অন্যান্য আহলিয়াগণ উনাদের সন্তানদের মাধ্যমে যে বংশ মুবারক জারি রয়েছে উনারা ‘আলূবী’ নামে পরিচিত।

সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ তৃতীয় হিজরী সনের পবিত্র শা’বান মাস উনার ১৫ তারিখ বলে উল্লেখ আছে। সে হিসেবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে আদর ও সোহাগ মুবারক উনার মধ্যে কাটিয়েছেন ৭ বছর ৬ মাস। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে খুবই মুহব্বত করতেন। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ গুণে গুণান্বিত ও সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার হতে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ কেউ ছিলেন না।” (বুখারী শরীফ)

সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ইলম-আমলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বায়িম-মাক্বাম বা স্থলাভিষিক্ত ছিলেন। অল্প বয়স মুবারকে যখন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে অবস্থান করতেন এ সময় সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল হতো। সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ওহী মুবারক উনার বাক্য মুবারক শোনার সাথে সাথেই মুখস্থ হয়ে যেতো। পরে যখন তিনি তা বলতেন তা হুবহু মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মতোই বলতে পারতেন। সুবহানাল্লাহ!

একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রিয় বানাত  (মেয়ে) হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ নিলেন। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র  কুরআন শরীফ উনার কয়েকখানা পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন, যা ইতঃপূর্বে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় বানাত (মেয়ে) হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে পাঠ করে শুনাননি। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞেস করলেন এই পবিত্র আয়াত শরীফগুলো আপনি কোথা থেকে শুনেছেন? হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, আপনার প্রিয় দৌহিত্র সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাঠ করে শুনিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন, যারা উনাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে, তারা যেন আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করলো। পক্ষান্তরে যে উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)

অন্যত্র বর্ণিত রয়েছে, “হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা দু’জনই জান্নাতী যুবকগণ উনাদের সাইয়্যিদ।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা দু’জনেই দুনিয়াতে আমার দুটি ফুলস্বরূপ।” (তিরমিযী শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম  তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া তিনি হলেন (চেহারা-আকৃতি-অবয়বে) মাথা মুবারক হতে বক্ষ মুবারক পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদৃশ। আর সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন বক্ষ মুবারক হতে নিচ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদৃশ।” (তিরমিযী শরীফ)

একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুজরা শরীফ উনার বাইরে আসলেন, অতঃপর পর্যায়ক্রমে ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম ও হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা এসে উপস্থিত হলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সকলকে এক চাদরতলে নিয়ে বলেন, “হে মহান আল্লাহ পাক! উনারা আমার আহলে বাইত শরীফ। উনাদের থেকে আপনি অপবিত্রতা দূর করুন এবং উনাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র রাখুন।’ এরপর এ পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়-

انما يريد الله ليذهب عنكم الرجز اهل البيت ويطهركم تطهيرا

অর্থ: “হে আহলে বাইত শরীফ! মহান আল্লাহ পাক অবশ্যই চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মত পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩ )

ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শত্রুরা উনাকে শহীদ করার উদ্দেশ্যে একে একে পাঁচবার বিষ পান করায়। প্রতিবারই তিনি অসুস্থ অবস্থায় নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে গিয়ে দুয়া করেন, আর সাথে সাথেই তিনি সুস্থ হয়ে যান। কিন্তু শেষবার অর্থাৎ ৬ষ্ঠ বার যে বিষ পান করানো হয় তা ছিল অত্যন্ত মারাত্মক বিষ, অর্থাৎ হিরকচূর্ণ। হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদত মুবারক ছিল যে, তিনি প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামাযের সময় পানি পান করতেন। তিনি যে কলসী মুবারক থেকে পানি পান করতেন সে কলসী মুবারকের মুখ একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতেন যেন কেউ কিছু ফেলতে বা বিষ মিশ্রিত করতে না পারে। কিন্তু শত্রুরা হিরকচূর্ণ বিষ কলসীর মুখে বেঁধে রাখা কাপড়ে মিশিয়ে দিয়ে গেল।

হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রতিদিনের ন্যায় পানি পান করার জন্য কলসী থেকে পাত্রে পানি ঢাললেন- তখন হিরকচূর্ণ বিষসহ পানি পাত্রে পড়লো। তিনি তা পান করার সাথে সাথে মারাত্মক বিষক্রিয়া শুরু হলো। এবার আর উনার পক্ষে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওযা শরীফ-এ যাওয়া সম্ভব হলো না। তিনি বুঝতে পারলেন যে, উনার বিছাল শরীফ এর সময় নিকটবর্তী। তাই তিনি উনার ছোট ভাই হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সংবাদ দিলেন। তিনি আসলে ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে ভাই! আমাদের পিতা শহীদ হয়েছেন। আমিও শহীদ হচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে খিলাফত আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। আপনি খিলাফত থেকে দূরে থাকবেন। খিলাফত ফিরিয়ে দেয়ার শর্তটি বাতিল করে দেয়া হলো। এ কারণেই হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে ইমামুছ ছাালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খিলাফত ফিরিয়ে নেননি।

উক্ত মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণেই ৪৯ হিজরী সনের ২৮শে ছফর প্রায় ৪৬ বৎসর বয়স মুবারকে তিনি শাহাদতী শান মুবারক বা বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনাকে পবিত্র জান্নাতুল বাক্বীতে সমাহিত করা হয়।

মূলকথা হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম হচ্ছেন ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। উনার বরকতময় সাওয়ানেহে উমরী বা জীবনী মুবারক জানা ও উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও অনুসরণ-অনুকরণ করা সকলের জন্যই ফরয।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।