পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০ম পর্ব)

সংখ্যা: ২৪৮তম সংখ্যা | বিভাগ: ,

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে

সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০ম পর্ব)


[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২২০তম সংখ্যা থেকে যা এখনো চলছে) পেশ করার পাশাপাশি-

৩৪তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে মুসলমান উনাদের বিশেষ বিশেষ ফযীলতযুক্ত আমলের রাত ও দিনসমূহ পালন করাকে বিদয়াত, নাজায়িয ও শিরক বলে ফতওয়া দিয়ে মুসলমান উনাদেরকে অশেষ খায়ের, বরকত, নিয়ামত, নাজাত অর্থাৎ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি মুবারক থেকে মাহরূম করছে। যেমন তারা বলে থাকে যে, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত, শিরক। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ! অনুরূপ আরো অনেক বিষয়কেই তারা বিনা দলীলে মনগড়াভাবে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

অপরদিকে বেদ্বীনী-বদদ্বীনী অর্থাৎ কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারাদের যত পর্ব বা দিবস রয়েছে সেগুলোকে শুধু জায়িযই নয় বরং নিয়ামত বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন বাইতুল মুকাররমের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক্ব প্রকৃতপক্ষে উবাই বলেছিল, “পহেলা বৈশাখ আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত শিরক এবং পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাউযুল্লিাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা থেকে বিরত থাকবে এবং হারাম পহেলা বৈশাখ পালন করবে” তারা অশেষ খায়ের, বরকত ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হওয়ার কারণে কঠিন গুনাহগার অর্থাৎ জাহান্নামী হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ তারা তাদের ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি”  প্রকাশ করা হলো।

সম্মানিত ইসলামী মাস, বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় সমূহ সম্পর্কে এবং চন্দ্র ও সূর্যের গতিবিধির ব্যাপারে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ২৬ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের তাফসীর

বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

সূর্য ও চন্দ্র এই দু’টি ইসলামী মাস, রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় নিরুপনের ব্যাপারে মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্র উনাদের আবর্তনের কারণে বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময়গুলো সুচারুরূপে আগমণ করে থাকে। এজন্য আমরা ইসলামী মাস, রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় ইত্যাদীর আলোচনার পাশাপাশি চন্দ্র ও সূর্যের আবর্তন ও তাদের গতিবিধি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যাতে করে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায় এবং বুঝতে সহজ হয়। নি¤েœ এ সম্পর্কিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১০

وَاَقِمِ الصَّلوةَ طَرَفَى النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ انَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيّئَاتِ ذلِكَ ذِكْرى لِلذَّاكِرِيْنَ. (سورة هود شريفة ۱۱۴ الاية الشريفة)

অর্থ: ছলাত কায়িম করুন দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে। নিশ্চয়ই নেককাজ পাপকে দূর করে দেয়। যারা সমঝদার বা আল্লাহওয়ালা তাদের জন্য এটি এক মহা উপদেশ। (পবিত্র সূরাতু হূদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৪)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

{واقم الصلاة} اى اتممها {طَرَفَىِ النهار} صلاة الفجر والظهر والعصر {وَزُلَفًا مِّنَ اليل} يعنى دخولًا من الليل ساعة بعد ساعة، واحدها زلفة، وهى صلاة المغرب والعشاء {اِنَّ الحسنات يُذْهِبْنَ السيئات} يعنى الصلوات الخمس يكفرن السيئات فيما دون الكبائر {ذلك ذكرى لِلذكِرِينَ} يعنى الصلوات الخمس توبة للتائبين. (بحر العلوم اى تفسير السمرقندى سورة هود شريفة ۱۱۴ الاية الشريفة المؤلف: ابو الليث نصر بن محمد بن احمد بن ابراهيم السمرقندى الحنفى رحمة الله عليه المتوفى ۳۷۳ هجرى)

অর্থ: (ছলাত ক্বায়িম করুন) নামায পূর্ণ করুন (দিনের দুই প্রান্তে) ফজর, যুহ্র ও আছর নামায (এবং রাতের প্রথম অংশে।) রাতের প্রারম্ভে এক সময়ের পর আরেকটি। যুলাফুন শব্দটি যুলফাতুন শব্দের বহুবচন। তাহচ্ছে ছলাতুল মাগরিব ও ইশা। (নিশ্চয়ই নেককাজ সমূহ পাপকে দূর করে দেয়।) পাঁচ ওয়াক্ত নামায সমস্ত ছগীরাহ গুনাহকে মোচন করে দেয়, তবে কবীরাহ গুনাহকে মোচন করে না। (যারা সমঝদার বা আল্লাহওয়ালা তাদের জন্য এটি এক মহা উপদেশ।) পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাওবাহকারীদের তাওবাহ তুল্য। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস সামারকান্দী পবিত্র সূরাতু হূদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৪। লেখক: আবুল লাইছ নাছর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৭৩ হিজরী)

}وَاَقِمِ الصلاة} اتم الصلاة {طَرَفَىِ النهار} صلاة الغداة والظهر ويقال صلاة الغداة والظهر والعصر {وَزُلَفًا مِّنَ الليل} دخول الليل صلاة المغرب والعشاء {اِنَّ الحسنات} الصلوات الخمس {يُذْهِبْنَ السيئات} يكفرن السيئات دون الكبائر ويقال سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر {ذلك ذكرى لِلذَّاكِرِينَ} توبة للتائبين ويقال كفارات لذنوب التائبين نزلت فى شأن رجل تمار يقال له ابو اليسر بن عمرو. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما المتوفى ۶۸ هجرى سورة هود شريفة ۱۱۴ الاية الشريفة جمعه: محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى ۸۱۷ هجرى)

অর্থ: (ছলাত ক্বায়িম করুন) নামায পূর্ণ করুন (দিনের দুই প্রান্তে) ফজর ও যুহরের নামায, অপর বর্ণনায় ফজর, যুহর ও আছর নামায (এবং রাতের প্রথম অংশে।) রাতের প্রারম্ভিকে মাগরিব ও ইশা নামায। (নিশ্চয়ই নেককাজসমূহ) পাঁচ ওয়াক্ত নামায (পাপকে দূর করে দেয়।) ছগীরাহ গুনাহ সমূহকে মিটিয়ে দেয়, তবে কবীরাহ গুনাহ সমূহ নয়, অন্য বর্ণনায়: সৎকর্ম দ্বারা উদ্দেশ্য سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر তাসবীহ খানা (যারা সমঝদার বা আল্লাহওয়ালা তাদের জন্য এটি এক মহা উপদেশ।)

তাওবাহ কারীদের জন্য তাওবাহ। অপর বর্ণনায়: এটি তাওবাহ কারীদের জন্য পাপ মোচনের মাধ্যম। অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ আবুল ইউসার বিন আমর নামক জনৈক ফল ব্যবসায়ীকে উপলক্ষ করে নাযিল হয়েছিল। (তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতু হূদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৪ সংকলক: মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোজাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী)

অনুরূপ তাফসীর ভাষা ও বর্ণনার তারতম্যে নিম্নোক্ত তাফসীরের কিতাবেও বর্ণিত আছে: তাফসীরুত ত্ববারী, তাফসীরুল কুরতুবী, তাফসীরুত ত্ববারানী, আত-তাফসীরুল কবীর, রূহুল বয়ান, রূহুল মায়ানী, তাফসীরুল মাযহারী, তাফসীরুল মাদারিক, তাফসীরুল খাযিন, তাফসীরুল বাগবী, তাফসীরুল জালালাঈন, তাফসীরুল বাইযাবী, তাফসীরুল কাশশাফ ইত্যাদী।

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায উনাদের ওয়াক্ত বর্ণনা করা হয়েছে। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামায যে জীবনের ছগীরাহ গুনাহ সমূহকে মোচন করে দেয় তাও বলা হয়েছে। তবে খাছ তাওবাহ করলে কবীরাহ গুনাহ সমূহও ক্ষমা হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১১

وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ ايَتَيْنِ فَمَحَوْنَا ايَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا ايَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوْا فَضْلًا مِنْ رَبّكُمْ وَلِتَعْلَمُوْا عَدَدَ السّنِينَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَىْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيْلًا. (سورة بنى اسرائيل شريفة ۱۲ الاية الشريفة)

অর্থ: আমি রাত ও দিনকে দু’টি নিদর্শন করেছি। অতপর নিস্প্রভ করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগী করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রব তায়ালা উনার অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং যেন তোমরা জানতে পারো বছর সমূহের সংখ্যা এবং করতে পারো হিসাব। আর আমি সব বিষয়কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। (পবিত্র সূরাতু বাণী ইসরাঈল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১২)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

والسنين جمع سنة وهى شمسية وقمرية فالسنة الشمسية مدة … وذلك ثلاثمائة وخمسة وستون يوما وربع يوم والسنة القمرية اثنا عشر شهرا قمريا ومدتها ثلاثمائة واربعة وخمسون يوما وثلث يوم. (روح البيان فى تفسير القران اى تفسير الحقى سورة بنى اسرائيل شريفة ۱۲ الاية الشريفة المؤلف: حضرت اسماعيل حقى بن مصطفى الاستانبولى الحنفى الخلوتى البروسوى رحمة الله عليه تاريخ الوفاة ۱۱۲۷ هجرى)

 অর্থ: এখানে ‘সিনীন বা বছরসমূহ’ শব্দখানা ‘সানাহ’ শব্দের বহুবচন। বছর দু প্রকার। তাহলো: শামসিয়াহ ও ক্বমারিয়াহ। আস-সানাতুশ্ শামসিয়াহ তথা সৌর বছর-এর সময় সীমা হলো: তিন শত পয়ষট্টি দিন ছয় ঘন্টা। আর আস-সানাতুল্ ক্বমারিয়াহ তথা হিজরী সনও বার মাসে হয়ে থাকে। তার সময় সীমা হলো: তিন শত চুয়ান্ন দিন আট ঘন্টা। (রূহুল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুল হাক্কী পবিত্র সূরাতু বাণী ইসরাঈল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১২ লেখক: হযরত ইসমাঈল হাক্কী বিন মুছতফা ইস্তাম্বূলী হানাফী খালওয়াতী বারূসাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ১১২৭ হিজরী)

{وَلِتَعْلَمُوْا عَدَدَ السِّنِيْنَ وَالْحِسَابَ} اى جعَلنا ذلك لتَعلَمُوا حسابَ الشُّهور والايَّامِ ومواقيتَ الصلاةِ والصيام والحجِّ. (تفسير القران العظيم للطبرانى سورة بنى اسرائيل شريفة ۱۲ الاية الشريفة المؤلف: حضرت ابو القاسم سليمان بن احمد بن ايوب بن مطير اللخمى الشامى الطبرانى رحمة الله عليه الوفاة ۳۶۰ هجرى)

অর্থ: (এবং যেন তোমরা জানতে পারো বছর সমূহের সংখ্যা এবং করতে পারো হিসাব) এগুলোকে আমি তৈরি করেছি এ জন্য যে, যাতে তোমরা মাস সমূহ, দিন সমূহ, নামাযের ওয়াক্ত, রোযা সমূহ ও হজ্জ উনাদের হিসাব সুচারু রূপে করতে পার। (তাফসীরুল্ কুরআনিল আযীম লিত্ ত্ববারানী পবিত্র সূরাতু বাণী ইসরাঈল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১২। লেখক: হযরত আবুল্ ক্বাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ূব বিন মুতীর লাখমী শামী ত্ববারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৩৬০ হিজরী)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার ব্যাখ্যা থেকে জানা যায় যে, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বছর, মাস, দিন, রাত ইত্যাদীকে দিয়েছেন ইবাদত সমূহ উনাদের হিসাব রাখার জন্য।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১২

اَقِمِ الصَّلوةَ لِدُلُوْكِ الشَّمْسِ الى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْانَ الْفَجْرِ انَّ قُرْانَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا. (سورة بنى اسرائيل شريفة ۷۸ الاية الشريفة)

অর্থ: ছলাত ক্বায়িম করুন সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের আঁধার পর্যন্ত এবং ফজরে পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করুন। অর্থাৎ ফজর নামায আদায় করুন। নিশ্চয়ই সকালের পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ অর্থাৎ ফজর নামায সাক্ষী হবে। (পবিত্র সূরাতু বাণী ইসরাঈল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৮)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

}اقم الصلاة} الاية هذه باجماع من المفسرين اشارة الى الصلوات المفروضة، فقال ابن عمرو رضى الله عنه وابن عباس رضى الله عنه وابو بردة رضى الله عنه والحسن رحمة الله عليه والجمهور رحمة الله عليهم: دلوك الشمس زوالها والاشارة الى الظهر والعصر و {غسق الليل} اشير به الى المغرب والعشاء {وقران الفجر} اريد به صلاة الصبح، فالاية على هذا تعم جميع الصلوات. (المحرر الوجيز اى تفسير ابن عطية سورة بنى اسرائيل شريفة ۷۸ الاية الشريفة المؤلف: ابو محمد عبد الحق بن غالب بن عبد الرحمن بن تمام بن عطية الاندلسى المحاربى رحمة الله عليه المتوفى ۵۴۲ هجرى، التسهيل لعلوم التنزيل اى تفسير ابن جزى، تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما، روح البيان، روح المعانى، تفسير السمرقندى، تفسير المدارك، تفسير الخازن، تفسير البغوى، تفسير الطبرنى، تفسير القرطبى، تفسير الطبرى، الدر المنثور، تفسير الجلالين، تفسير البيضاوى، تفسير الكشاف)

অর্থ: (ছলাত ক্বায়িম করুন) হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইজমা’ দ্বারা অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ ইশারা করে যে, ইহা দ্বারা ফরয নামায সমূহ উদ্দেশ্য। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত বুরদাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও জমহূর উলামায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন:  ‘সূর্য ঢলে যাওয়া’ دلوك الشمس যুহর ও আছর নামাযকে ইঙ্গিত করে। (রাতের আঁধার পর্যন্ত) ইহা মাগরিব ও ইশা নামাযকে ইঙ্গিত করে। (এবং ফজরে পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করুন। অর্থাৎ ফজর নামায আদায় করুন।) ইহা দ্বারা ছলাতুল ফজর উদ্দেশ্য। অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ সাধারণভাবে সকল প্রকার নামাযের ওয়াক্তকে ইঙ্গিত করে। (আল-মুহাররারুল ওয়াজীয অর্থাৎ তাফসীরে ইবনু আত্বিয়াহ পবিত্র সূরাতু বাণী ইসরাঈল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৮। লেখক: আবূ মুহাম্মাদ আব্দুল হক্ব বিন গালিব বিন আব্দুর রহমান বিন তাম্মাম বিন আত্বিয়াহ আন্দালুসী মাহারিবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫৪২ হিজরী, আত-তাসহীল লিউলূমিত তানযীল অর্থাৎ তাফসীরে ইবনু জুযী, তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা, রূহুল বয়ান, রূহুল মায়ানী, তাফসীরুস সামারকান্দী, তাফসীরুল মাদারিক, তাফসীরুল খাযিন, তাফসীরুল বাগবী, তাফসীরুত ত্ববারানী, তাফসীরুল কুরতুবী, তাফসীরুত ত্ববারী, আদ-দুররুল মানছূর, তাফসীরুল জালালাঈন, তাফসীরুল বাইযাবী, তাফসীরুল কাশশাফ)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময়সীমার মূলনীতি প্রমাণিত।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১৩

َاصْبِرْ عَلى مَا يَقُوْلُوْنَ وَسَبّحْ بِحَمْدِ رَبّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا وَمِنْ انَاءِ اللَّيْلِ فَسَبّحْ وَاَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضى. (سورة طه شريفة ۱۳۰ الاية الشريفة)

অর্থ: সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয়ে ছবর করুন এবং আপনার রব তায়ালা উনার পবিত্রতা ও প্রশংসা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং রাতের কিছু অংশে। আরো পবিত্রতা বর্ণনা করুন দিনের দুই প্রান্তে অর্থাৎ শুরুতে ও শেষে। অবশ্যই এতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। (পবিত্র সূরাতু ত্বো-হা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩০)

অত্র পবিত্র আয়াত উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

{فاصبر على مَا يَقُولُونَ} يا محمد صلى الله عليه وسلم عما يقولون من الشتم والتكذيب نسختها اية القتال {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ} صل بامر ربك يا محمد صلى الله عليه وسلم {قَبْلَ طُلُوعِ الشمس} صلاة الغداة {وَقَبْلَ غُرُوبِهَا} صلاة الظهر والعصر {وَمِنْ اٰنَاءِ الليل} بعد دخول الليل {فَسَبِّحْ} فصل صلاة المغرب والعشاء {وَاَطْرَافَ النهار} صلاة الظهر والعصر {لَعَلَّكَ ترضى} لكى تعطى الشفاعة حتى ترضى. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما المتوفى ۶۸ هجرى سورة طه شريفة ۱۳۰ الاية الشريفة جمعه: محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى ۸۱۷ هجرى، تفسير السمرقندى، تفسير المدارك، تفسير البغوى، تفسير الخازن، تفسير الطبرى، تفسير الطبرنى، زاد المسير للجوزى، التفسير الكبير، روح البيان، روح المعانى، تفسير الجلالين، الدر المنثور، تفسير البيضاوى، تفسير الكشاف)

অর্থ: (সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয়ে ছবর করুন) হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তাদের তিরস্কার ও মিথ্যারোপের ব্যাপারে ধৈর্য্য ধারণ করুন। এ পবিত্র আয়াত শরীফ খানা জিহাদের পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে। (এবং আপনার রব তায়ালা উনার পবিত্রতা ও প্রশংসা করুন) হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার রব তায়ালা উনার আদেশে ছলাত বা নামায আদায় করুন (সূর্যোদয়ের পূর্বে,) ফজরের নামায (সূর্যাস্তের পূর্বে) যুহ্র ও আছর নামায (এবং রাতের কিছু অংশে।) রজনী আগমনের পর (আরো পবিত্রতা বর্ণনা করুন) মাগরিব ও ইশা নামায আদায় করুন (দিনের দুই প্রান্তে।) যুহ্র ও আছরের নামায আদায় করুন। (অবশ্যই এতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।) যাতে আপনি শুপারিশের ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। (তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওয়াফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী। পবিত্র সূরাতু ত্বো-হা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩০। সংকলক: হযরত মুহাম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোজাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী, তাফসীরুস্ সামারকান্দী, তাফসীরুল মাদারিক, তাফসীরুল বাগবী, তাফসীরুল খাযিন, তাফসীরুত ত্ববারী, তাফসীরুত ত্ববারানী, যাদুল মাসীর লিল্ জাওযী, আত-তাফসীরুল কবীর, রূহুল বয়ান, রূহুল মায়ানী, তাফসীরুল জালালাঈন, আদ-দুররুল মানছূর, তাফসীরুল বাইযাবী, তাফসীরুল কাশশাফ)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময়সীমার মূলনীতি প্রমাণিত।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১৪

فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ. وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ. (سورة الروم شريفة ۱۸-۱۷ الايتان الشريفتان)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা উনার তাসবীহ পাঠ করুন যখন আপনারা সন্ধ্যায় উপনীত হন এবং যখন আপনারা সকাল করেন এবং উনারই প্রশংসা আসমান সমূহে ও যমীন সমূহে এবং বৈকালে: আর যখন আপনারা দ্বিপ্রহরে পৌঁছেন। (পবিত্র সূরাতুর রূম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭-১৮)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

{فسبحان الله} فصلُّوا لله سبحانه {حين تمسون} يعنى صلاة المغرب والعشاء الاخرة {وحين تصبحون} صلاة الفجر { وعشيًّا} يعنى صلاة العصر {وحين تظهرون} يعنى صلاة الظُّهر. (الوجيز في تفسير الكتاب العزيز اى تفسير النيسابورى سورة الروم شريفة ۱۸-۱۷ الايتان الشريفتان المؤلف: ابو الحسن على بن احمد بن محمد بن على الواحدى النيسابورى الشافعى رحمة الله عليه المتوفى ۴۶۸ هجرى، تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما، زاد المسير فى علم التفسير، روح البيان، روح المعانى)

অর্থ: (মহান আল্লাহ তায়ালা উনার তাসবীহ পাঠ করুন) মহান আল্লাহ সুবহানাহূ তায়ালা উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন (যখন আপনারা সন্ধ্যায় উপনীত হন) অর্থাৎ ছলাতুল্ মাগরিব ও ইশা (এবং যখন আপনারা সকাল করেন) ফজর নামায (এবং বৈকালে:) অর্থাৎ ছলাতুল আছর (আর যখন আপনারা দ্বিপ্রহরে পৌঁছেন।) অর্থাৎ ছলাতুয্ যুহ্র আদায় করুন। (আল-ওয়াজীয ফী তাফসীরিল কিতাবিল আযীয অর্থাৎ তাফসীরুন নীসাবূরী পবিত্র সূরাতুর রূম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭-১৮ লেখক: আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী ওয়াহিদী নীসাবূরী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৪৬৮ হিজরী, তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা, যাদুল মাসীর ফী ইলমিত তাফসীর, রূহুল বয়ান, রূহুল মায়ানী)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময়সীমার মূলনীতি প্রমাণিত।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১৫

اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللهَ يُوْلِجُ اللَّيْلَ فِى النَّهَارِ وَيُوْلِجُ النَّهَارَ فِى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلّ يَجْرِىْ الى اَجَلٍ مُسَمًّى وَاَنَّ اللهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ. (سورة لقمان شريفة ۲۹ الاية الشريفة)

অর্থ: আপনি কি দেখেননি যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করে দেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মের অধীন করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিয়মান থাকবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তোমরা যা করো তার খবর রাখেন। (পবিত্র সূরাতু লুক্বমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

{اَنَّ الله يُولِجُ الليل فِى النهار} يزيد الليل على النهار فيكون الليل خمس عشرة ساعة والنهار تسع ساعات {وَيُولِجُ النهار فِى الليل} يزيد النهار على الليل فيكون النهار خمس عشرة ساعة والليل تسع ساعات. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما المتوفى ۶۸ هجرى سورة لقمان شريفة ۲۹ الاية الشريفة جمعه: محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى ۸۱۷ هجرى، روح البيان)

অর্থ: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান) তখন রাত দিনের থেকে লম্বা হয়। তাই তখন রাত হয়  সর্ব্বোচ্চ ১৫ ঘন্টা আর দিন হয় সর্বনিম্ন ৯ ঘন্টা। (এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করে দেন।) তখন দিন রাতের থেকে লম্বা হয়। তাই তখন দিন হয় সর্ব্বোচ্চ ১৫ ঘন্টা আর রাত হয় সর্বনিম্ন ৯ ঘন্টা। (তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতু লুক্বমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯ লেখক: মুহম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোজাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী, তাফসীরে রূহুল বয়ান)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, সূর্যের আবর্তনের তারতম্যের কারণে দিন রাত কম-বেশি হয়ে থাকে।

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১৬

يُوْلِجُ اللَّيْلَ فِى النَّهَارِ وَيُوْلِجُ النَّهَارَ فِى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِىْ لِاَجَلٍ مُسَمًّى ذلِكُمُ الله رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ وَالَّذِيْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِه مَا يَمْلِكُوْنَ مِنْ قِطْمِيْرٍ. (سورة الفاطر شريفة ۱۳ الاية الشريفة)

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করে দেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মের অধীন করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিয়মান থাকবে। ইনিই তোমাদের মহান আল্লাহ তায়ালা, তিনিই তোমাদের পালনকর্তা, উনারই মালিকানা। উনার পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাকো তারা সামান্য খেজুরের আঁটির ছিলকারও অধিকারী নয়। (পবিত্র সূরাতুল্ ফাতির শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

{يُولِجُ اليل فِى النهار وَيُولِجُ النهار فِى اليل} يدخل من ساعات احدهما فى الاخر حتى يصير الزائد منهما خمس عشرة ساعة والناقص تسعًا. (مدارك التنزيل وحقائق التأويل اى تفسير النسفى سورة الفاطر شريفة ۱۳ الاية الشريفة المؤلف: ابو البركات عبد الله بن احمد بن محمود النسفى الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه المتوفى ۷۱۰ هجرى)

অর্থ: (মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করে দেন) তিনি রাত ও দিনকে একে অন্যের মধ্যে একে অন্যকে প্রবেশ করে দেন, এজন্য উভয়েই সময়ের ব্যবধানে কখনো সর্ব্বোচ্চ ১৫ ঘন্টা ও কখনো সর্বনিম্ন ৯ ঘন্টা করে হয়ে থাকে। (মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুন নাসাফী পবিত্র সূরাতুল্ ফাতির শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩, লেখক: আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৭১০ হিজরী)

}يُولِجُ الليل فِي النهار} يدخل الليل فى النهار فيكون النهار اطول من الليل بست ساعات {وَيُولِجُ النهار} يدخل النهار {فِى الليل} فيكون الليل اطول من النهار بست ساعات {وَسَخَّرَ الشمس والقمر} ذلل ضوء الشمس والقمر لبنى ادم {كُلٌّ} الشمس والقمر والليل والنهار {يَجْرِى لاَجَلٍ مُّسَمًّى} الى وقت معلوم فى منازل معروفة. (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس رضى الله عنهما المتوفى ۶۸ هجرى سورة الفاطر شريفة ۱۳ الاية الشريفة جمعه: محمد بن يعقوب الفيروز آبادى رحمة الله عليه المتوفى ۸۱۷ هجرى، روح البيان)

অর্থ: (মহান আল্লাহ তায়ালা তিন রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করে দেন) তিনি রাতকে দিনের ভিতরে ঢুকায়ে দেন, তাই কোন কোন স্থানে দিন রাতের চেয়ে ৬ ঘন্টা লম্বা হয় (এবং দিনকে প্রবেশ করে দেন) দিনকে ঢুকায়ে দেন (রাতের ভিতরে) তাই কোন কোন স্থানে রাত দিনের চেয়ে ৬ ঘন্টা লম্বা হয় (তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মের অধীন করেছেন।) তিনি সূর্যের আলো ও চন্দ্রের আলোকে আদম সন্তানের উপকারার্থে কাজে লাগিয়েছেন

(প্রত্যেকেই) সূর্য, চন্দ্র, রাত ও দিন (নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিয়মান থাকবে।) নির্দিষ্ট মানযিলের ভিতরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘূর্ণিয়মান থাকবে। (তানবীরুল মাক্ববাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওয়াফাত: ৬৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুল্ ফাতির শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩ লেখক: মুহম্মাদ বিন ইয়া’কূব ফীরোজাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৮১৭ হিজরী, তাফসীরে রূহুল বয়ান)

تغلب النَّفْسُ مرةً على القلب ويغلب القلبُ مرةً على النَّفْس، وكذلك القبضُ والبسط فقد يستويان ومرةً يغلب القبضُ على البسط ومرةً يغلب البسطُ على القبض، وكذلك الصحو والسُّكْرُ، وكذلك الفناء والبقاء، وسَخّرَ شموسَ التوحيد واقمارَ المعرفة على ما يريد من اظهاره على القلوب. (لطائف الاشارات اى تفسير القشيرى سورة الفاطر شريفة ۱۳ الاية الشريفة المؤلف: عبد الكريم بن هوازن بن عبد الملك القشيرى رحمة الله عليه المتوفى ۴۶۵ هجرى)

অর্থ: কখনো নাফ্স ক্বলবের উপর বিজয়ী হয় আবার কখনো ক্বলব নাফসের উপর বিজয়ী হয়। অনুরূপ ক্বব্দ্ব (অর্থাৎ আমলের প্রতি অনাগ্রহ) ও বস্ত্ব (অর্থাৎ আমল করার উদ্দিপনা) দুটি সমানে সমান থাকে। কিন্তু কখনো ক্বব্দ্ব বস্ত্বের উপর বিজয়ী হয় আবার কখনো বস্ত্ব ক্বব্দ্বের উপর বিজয়ী হয়। অনুরূপ সুস্থতা ও মত্ত্বতা অর্থাৎ সাহু ও মাহু অবস্থা এবং অনুরূপ ফানা ও বাক্বার অবস্থা হয়ে থাকে। তিনি তাওহীদ বা একত্বতার সূর্যকে অধিন করেছেন এবং মা’রিফাতের চন্দ্রকে ক্বলবে প্রকাশমানের ইচ্ছার উপর অধিন করে দিয়েছেন। (লাত্বায়িফুল ইশারাত অর্থাৎ তাফসীরুল কুশাইরী পবিত্র সূরাতুল্ ফাতির শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩, লেখক: আব্দুল করীম বিন হাওয়াযিন বিন আব্দুল মালিক কুশাইরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৪৬৫ হিজরী)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হলো যে, সূর্যের আবর্তনের তারতম্যের কারণে দিন রাত কম-বেশি হয়ে থাকে।


অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৯

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৫

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৭ম পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয় ৬ষ্ঠ পর্ব)