হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৭)

সংখ্যা: ২৪৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৭)

হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম


زهد (যুহ্দ) উনার মাক্বামে ফানা আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি

উনার হালত বা অবস্থা

 زهد (যুহদ) উনার চূড়ান্ত সীমা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া সব কিছুকে বর্জন করা।

নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার বিশিষ্ট বুযূর্গ আরিফে রব্বানী সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল খালিক্ব গুজদাওয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার যুহদ উনার মাক্বামে ফানা এক ব্যক্তিকে এরূপ বলতে শুনলেন যে, যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্য হতে কোন একটিকে নিজের জন্য বেছে নেয়ার ইখতিয়ার (স্বাধীনতা) দেন, তাহলে আমি জাহান্নামকে নিজের জন্য বেছে নিবো। জান্নাতকে নিজের জন্য পছন্দ করবো না। কেননা জান্নাত আমার নফসের পছন্দনীয় ও কাম্য।

আমি জীবনে কখনো নফসের পছন্দ ও কামনা পূর্ণ করিনি। এক্ষেত্রেও পূর্ণ করবো না। ইহা শুনে আরিফে রব্বানী সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল খালিক্ব গুজদাওয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত ব্যক্তিকে বললেন, এরূপ কখনো বলবেন না। কেননা আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার গোলাম বা দাস। পছন্দ অপছন্দের সাথে গোলামের কি সম্পর্ক? মহান মনিব আল্লাহ পাক উনার যা পছন্দ তা আমাদেরও পছন্দ। উনার যা অপছন্দ তা আমাদেরও অপছন্দ। তিনি আমাদেরকে যেখানে পাঠাবেন আমরা সেখানেই যাব।

তখন লোকটি জিজ্ঞাসা করলেন, ত্বরীক্বতপন্থীগণের উপর কখনো শয়তান প্রভাব বা ক্ষমতা বিস্তার করতে পারে কি?

তিনি  বললেন, ত্বরীক্বতপন্থীগণ স্বীয় নফসকে ফানা বা বিলীন করতে না পারা পর্যন্ত তাদের উপর শয়তানের ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কেননা যে ব্যক্তি স্বীয় নফসকে ফানা বা বিলীন করতে পারে তাদের মধ্যে ক্রোধ বা গোস্সা অবশিষ্ট থাকে না। গোস্সা বা ক্রোধ অবশিষ্ট থাকলেই তার উপর শয়তান সাওয়ার হয়ে থাকে। শয়তান তার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আর ক্রোধ বা গোসসা দূর হয়ে গেলে তার মধ্যে সূক্ষ্ম হিকমত উৎপন্ন হয়। কাজেই, শয়তান তার নিকট থেকে পালিয়ে যায়।

আর এই হিকমত কেবল সেই ব্যক্তিই লাভ করতে পারে যার মনোযোগ বা দৃষ্টি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রেযামন্দির দিকে নিবদ্ধ থাকে। সে ব্যক্তি ডান হাতে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ, বাম হাতে পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং সুন্নতকে ধারণ করতঃ তার আলোতে পথ অতিক্রম করতে থাকে। (তাযকিরাতুল আউলিয়া ৪/৬০)

زهد যুহদ উনার আলামত বা নিদর্শন

زهد (যুহদ) চেনা খুবই কঠিন ব্যাপার বরং যুহদের অধিকারী, যাহিদ ব্যক্তির নিকটও তা অস্পষ্ট থাকতে পারে। তবে যাহিদ বা দুনিয়া বিরাগী ব্যক্তির মাঝে নি¤œলিখিত বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।

১। যুহদের অধিকারী, যাহিদ ব্যক্তি লব্ধ বস্তুর জন্য আনন্দিত হয় না। আর যা হাত ছাড়া হয়ে যায় তার জন্য দুঃখিত হয় না।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لكيلا تأسوا على ما فاتكم ولا تفرحوا بما اتاكم

অর্থ: “এটা এজন্য যে, তোমাদের যা হাত ছাড়া হয়ে যায় তার জন্য দুঃখ করোনা আর যা হস্তগত হয় তার জন্য আনন্দিত হয়ো না।” (পবিত্র সূরা হাদীদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

দ্বিতীয় যুহদ উনার মাক্বাম হাছিলকারী যাহিদ ব্যক্তির কাছে তার নিন্দাকারী ও প্রশংসাকারী উভয়ই সমান। তিনি প্রভাব-প্রতিপত্তিতে আত্মতৃপ্তি বোধ করেন না।

তৃতীয়: যাহিদ ব্যক্তি সর্বদা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি জযবা বা আকর্ষিত থাকেন। তাই উনার অন্তরে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ইত্বায়াত বা আনুগত্যের স্বাদ প্রবল থাকে। কেননা কোন অন্তরই মুহব্বত শূণ্য থাকে না। তা দুনিয়ার মুহব্বত হউক কিংবা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত হউক। একারনেই জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হলো- যুহদ, যাহিদকে কোথায় পৌছায়? তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে নিমগ্নতায়।

তাছাড়া যাহিদ ব্যক্তি এমন এক মাক্বামে উপনিত হয় যে,  ধনাঢ্যতা ও নিঃস্বতা সমান। এই অবস্থায় উনার কাছে ধন-সম্পদ থাকার কারনে উনার যুহদ বিনষ্ট হয় না। হযরত ইবনে আবুল হাওয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত আবু সুলায়মান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত দাউদ তায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যাহিদ ছিলেন কি না? কেননা তিনি উনার পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারী সূত্রে বিশ দীনার পেয়ে তা বিশ বছরে ব্যয় করে ছিলেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত আবু সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তিনি অবশ্যই যাহিদ ছিলেন।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৩) হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০২) হুসনুল খুলক বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৮)

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০১) হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০০)
হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।