সুওয়াল: সিলেট দরগাহ সংলগ্ন খারিজী মাদরাসা জামিয়া কাসিমুল উলূমের মুহতামিম আবুল কালাম যাকারিয়া ও সুবহানীঘাট ফুলতলী মাসলাকের মাদরাসা ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ কুতুবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি লিখিত ফতওয়া আমার হস্তগত হয়। সেখানে তারা একটি হাদীছ শরীফ ও মা লা বুদ্দা মিনহু কিতাবের বরাত দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, “ফরয নামাযের দুই সিজদার মধ্যখানে اللهم اغفرلى وارحمنى واجبرنى واهدنى وارزقنى وعافنى وارفعنى এ দোয়াটি সম্পূর্ণটাই পড়া জায়িয। উল্লেখ্য আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে তাদের লিখিত ফতওয়াটির ফটোকপি সুওয়ালের সাথে প্রেরণ করা হলো। এখন আমার সুওয়াল হলো-সত্যিই কি ফরয নামাযের দু’ সিজদার মধ্যখানে উক্ত দোয়াটি সম্পূর্ণ পড়া জায়িয? দলীল ভিত্তিক জাওয়াব দিয়ে আমাদের ফরয ইবাদত নামাযকে হিফাযত করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

সংখ্যা: ২৪৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ নূরুন নবী, সিলেট

সুওয়াল: সিলেট দরগাহ সংলগ্ন খারিজী মাদরাসা জামিয়া কাসিমুল উলূমের মুহতামিম আবুল কালাম যাকারিয়া ও সুবহানীঘাট ফুলতলী মাসলাকের মাদরাসা ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ কুতুবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি লিখিত ফতওয়া আমার হস্তগত হয়। সেখানে তারা একটি হাদীছ শরীফ ও মা লা বুদ্দা মিনহু কিতাবের বরাত দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, “ফরয নামাযের দুই সিজদার মধ্যখানে

اللهم اغفرلى وارحمنى واجبرنى واهدنى وارزقنى وعافنى وارفعنى

এ দোয়াটি সম্পূর্ণটাই পড়া জায়িয।

উল্লেখ্য আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে তাদের লিখিত ফতওয়াটির ফটোকপি সুওয়ালের সাথে প্রেরণ করা হলো।

এখন আমার সুওয়াল হলো-সত্যিই কি ফরয নামাযের দু’ সিজদার মধ্যখানে উক্ত দোয়াটি সম্পূর্ণ পড়া জায়িয? দলীল ভিত্তিক জাওয়াব দিয়ে আমাদের ফরয ইবাদত নামাযকে হিফাযত করবেন বলে আমরা আশাবাদী।


জাওয়াব : দুই সিজদার মধ্যে উক্ত দোয়াটি পড়া সম্পর্কে সিলেট দরগাহ সংলগ্ন খারিজী মাদরাসা জামিয়া কাসিমুল উলূমের মুহতামিম আবুল কালাম যাকারিয়া ও সুবহানীঘাট ফুলতলী মাসলাকের মাদরাসা ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ কুতুবুল আলম যে ফতওয়া দিয়েছে তা মিথ্যা ও ভুয়া দলীলের বরাত দিয়ে ভুল, গোমরাহী ও বিদয়াতী আমলের সূচনা করার ব্যর্থ প্রয়াস বৈ কিছুই নয়। কারণ তাদের বক্তব্যে এটাই ছাবিত হয় যে, উক্ত দোয়াটি ফরয নামাযসহ সমস্ত নামাযে পড়া মুস্তাহাব। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ তাদের উল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত উক্ত সম্পূর্ণ দোয়াটি আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক ফরয নামাযে পড়া যাবে না বরং উক্ত সম্পূর্ণ দোয়াটি শুধুমাত্র নফল বা তাহাজ্জুদ নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন এ প্রসঙ্গে মিশকাত শরীফ উনার শরাহ “মিরকাত শরীফ” উনার দ্বিতীয় খণ্ডের ৩২৬ পৃষ্ঠায় পবিত্র হাদীছ শরীফখানা বর্ণনার পর বলা হয়েছে –

وهو محمول على التطوع عندنا.

অর্থ: “ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পড়া সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা আমাদের মাযহাবে নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”

আবূ দাউদ শরীফ-এর শরাহ “বজলুল মাজহুদের” দ্বিতীয় খণ্ডের ৬৮ পৃষ্ঠায় দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়া পড়া সম্পর্কিত হাদীছ শরীফ খানা বর্ণনা করার পর বলা হয়েছে-

وقال القارى وهو محمول على التطوع عندنا.

অর্থ: “হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক উক্ত দোয়াটি নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”

“ইবনে মাযাহ শরীফ” উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত দোয়াটি তাহাজ্জুদ নামাযে পাঠ করতেন। যেমন “ইবনে মাযাহ শরীফ” উনার ১ম জি: ৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بين السجدتين فى صلوة الليل رب اغفرلى وارحمنى واجبرنى وارزقنى وارفعنى.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাহাজ্জুদ নামাযে দুই সিজদার মাঝে

رب اغفرلى وارحمنى واجبرنى وارزقنى وارفعنى.

এই দোয়াটি পড়তেন।

সর্বজন মান্য, অনুসরণীয় ও নির্ভরযোগ্য হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফিক্বাহর কিতাব “মারাকিউল ফালাহ” কিতাবের ১৭৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –

ومقدار الجلوس عندنا بين السجدتين مقدار تسبيحة وليس فيه ذكر مسنون كما فى السراج وكذا ليس بعد الرفع من الركوع دعاء وما ورد فيهما محمول على التهجد كما فى مجمع الانهر.

অর্থ: “হানাফী মাযহাব মুতাবিক দুই সিজদার মাঝখানে কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমাণ বসা (ওয়াজিব)। এবং দুই সিজদার মাঝখানে মাসনুন কোন যিকর (দোয়া) নেই। যেমন “সিরাজে” বর্ণিত আছে। অনুরূপ রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর কোন দোয়া নেই। আর রুকুর পর এবং দুই সিজদার মাঝখানে যে সকল দোয়াগুলি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে তা তাহাজ্জুদ (নফল) নামাযের জন্য প্রযোজ্য। অনুরূপ “মাজমাউল আনহুর” কিতাবে বর্ণিত আছে।

হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফিক্বাহের কিতাব “রদ্দুল মুহতার” কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডের ২১৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে,

وبين السجدتين اللهم اغفرلى وارحمنى وعافنى واهدنى وارزقنى …….. محمول على النفل اى تهجدا او غيره.

অর্থ : “দুই সিজদার মাঝে-

اللهم اغفرلى وارحمنى وعافنى واهدنى وارزقنى.

এই দোয়াটি পড়া … তাহাজ্জুদ নামায অথবা অন্যান্য নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

“মাজমাউল আনহুর” কিতাবের প্রথম খন্ডের ৯৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –

وليس بين السجدتين ذكر مسنون عندنا وكذا بعد رفعه وما ورد فيهما من الدعاء فمحمول على التهجد.

অর্থ: “আমাদের হানাফী মাযহাবে দুই সিজদার মাঝে মাসনূন কোন যিকির (দোয়া) নেই। অনুরূপ রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর কোন দোয়া নেই।” আর রুকুর পর এবং দুই সিজদার মাঝখানে যে সকল দোয়াগুলি পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে তা তাহাজ্জুদ নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

“মিশকাত শরীফ-উনার” ৮৪ পৃষ্ঠায় বাইনাস সুতুরে উল্লেখ আছে-

وهو محمول على التطوع عندنا.

অর্থ: “দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পড়া সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা আমাদের মাযহাবে নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”

অনুরূপ “ইলাউস সুনান” কিতাবের তৃতীয় খণ্ডের ৩৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে –

ولو تركه رأسا لايلام عليه فان هذا الذكر ورد فى صلاة الليل دون المكتوبة كما يظهر من مجمع الاحاديث ولذا قال الشرنبلالى فى نور الايضاح وليس فيه اى فى الجلوس بين السجدتين ذكر مسنون والوارد فيه محمول على التهجد.

অর্থ: “যদি উক্ত দোয়াটি একেবারেই না পড়ে, তাহলে সে তিরস্কৃত হবে না। নিশ্চয়ই এ দোয়াটি তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য বর্ণিত হয়েছে, ফরয নামাযের জন্য নয়। যা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সমষ্টিগত বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট। এ জন্য আল্লামা শরাম্বলালী রহমতুল্লাহি আলাইহি “নূরুল ইযাহ” কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুই সিজদার মাঝের বৈঠকে কোন মাসনূন দোয়া নেই। আর এ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলি তাহাজ্জুদ নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।”

“গায়াতুল আওতার” কিতাবের ১ম খণ্ডের ২৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –

اور دونوں سجدوں کے درمیاں کوئی ذکر مسنون نھیں اور اسیطرح رکوع سے سر اٹھا نے کے بعد کوئی دعا مسنون نھیں … اور جو ذکر یا دعائیں کہ اں مواضع میں وارد ھیں وہ نفل پر محمول ھیں.

অর্থ: “দুই সিজদার মাঝখানে মাসনূন কোন যিকর (দোয়া) নেই। অনুরূপ রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর মাসনূন কোন দোয়া নেই। ………. আর রুকুর পর এবং দুই সিজদার মাঝখানে যে সকল দোয়াগুলি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে তা নফল নামাযের জন্য প্রযোজ্য।”

“দুররুল মুখতার শরহে তানবীরিল আবছার” কিতাবে উল্লেখ আছে,

وليس بينهما ذكر مسنون وكذا ليس بعد رفعه من الركوع دعاء ………. وما ورد محمول على النفل اى تهجدا او غيره.

অর্থ: দুই সিজদার মাঝে মাসনূন কোন যিকর (দোয়া) নেই। অনুরূপ রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর কোন দোয়া নেই। …….. আর রুকুর পর এবং দুই সিজদার মাঝখানে যে সকল দোয়াগুলি বর্ণিত হয়েছে, তা নফল নামাযের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ দুই সিজদার মাঝে বর্ণিত দোয়াগুলি তাহাজ্জুদ নামায অথবা অন্যান্য নফল নামাযে পড়া যাবে।

“মালাবুদ্দা মিনহু” কিতাবের ৪৮ পৃষ্ঠার ৬নং হাশিয়ায় উল্লেখ আছে-

قوله وبخواند اللهم الخ در در مختار گوید وليس بينهما ذكر مسنون على الـمذهب وما ورد محمول على النفل يعنى در جلسه ذكر مسنون موافق مذاهب نیست وانچہ وارد شده محمول بر نفل ست.

অর্থ: দুই সিজদার মাঝখানে

اللهم اغفرلى وارحمنى واهدنى وارزقنى وارفعنى

এই দোয়াগুলো পড়ার ব্যাপারে দুররুল মুখতার কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হানাফী মাযহাবে দুই সিজদার মাঝখানে মাসনুন যিকির দোয়া) নেই। আর পবিত্র হাদীছ শরীফে যে সকল দোয়াগুলো বর্ণিত হয়েছে তা নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

হ্যাঁ, শাফিয়ী, হাম্বলী ও অন্যান্য মাযহাবে ফরয, নফল উভয় নামাযেই উক্ত দোয়াটি পাঠ করা জায়িয। যেমন, “তিরমিযী শরীফ” উনার ১ম খণ্ডের ৩৮ পৃষ্ঠায় উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই দোয়াটি শাফিয়ী, হাম্বলী ইত্যাদি মাযহাবে ফরয নামাযেও পাঠ করা জায়িয রয়েছে। যেমন-

وبه يقول الشافعى واحمد واسحق يرون هذا جائزا فى الـمكتوبة والتطوع.

অর্থ: “ইমাম শাফেয়ী, আহমদ ও ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, “ইহা (অর্থাৎ উক্ত দোয়াটি) ফরয ও নফল নামাযের দুই সিজদার মাঝে পড়া জায়িয রয়েছে।” অনুরূপ তিরমীযী শরীফ উনার শরাহ “আরিদাতুল আহওয়াজী” কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডের ৮১ পৃষ্ঠায়ও উল্লেখ আছে।

মোটকথা হলো- শাফিয়ী, হাম্বলী ও অন্যান্য মাযহাবে ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পড়া জায়িয রয়েছে। আর আমাদের হানাফী মাযহাবের ফতওয়া মুতাবিক ফরয নামাযে দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পাঠ করলে ফরয বা রোকন আদায়ে তা’খীর বা বিলম্ব হওয়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। সুতরাং আমাদের মাযহাবে উক্ত দোয়াটি সম্পূর্ণটা পড়া যাবে না।

এ প্রসঙ্গে “ফতওয়ায়ে শামীর” দ্বিতীয় খণ্ডের ২১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে –

لو اطال هذه الجلسة او قومة الركوع اكثر من تسبيحة بقدر تسبيحة ساهيا يلزمه سجود السهو.

অর্থ: “যদি দুই সিজদার মাঝে এবং রুকু থেকে দাঁড়ানোর পর এক তাসবীহ পরিমাণের চেয়ে বেশি বিলম্ব করে তাহলে ওয়াজিব তরক হবে এবং এতে সাহু সিজদা আবশ্যক হবে।

অতএব, উক্তরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা এটাই সাব্যস্ত হলো যে, উক্ত দোয়াটি ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝে পড়া যাবে না বরং শুধুমাত্র নফল ও তাহাজ্জুদ নামাযের দুই সিজদার মাঝে উক্ত দোয়াটি পড়া যাবে। সুতরাং আবুল কালাম যাকারিয়া ও কুতুবুল আলম জিহালতপূর্ণ ও প্রতারণামূলক ফতওয়া প্রদান করে মুফতী খেতাবের পরিবর্তে মুফতে খিতাবের হাক্বীক্বী মিছদাক হয়েছে। তবে তাদের জন্য এ ভুল মাসয়ালার সংশোধনী দিয়ে খালিছ তওবা ইস্তিগফার করার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় প্রদত্ত ভুল মাসয়ালা আমলকারীর সমূদয় গুণাহর বোঝা তাদের কাঁধেই বর্তাবে।

{দলীলসমূহ: (১) তিরমীযী শরীফ, (২) আবূ দাউদ শরীফ, (৩) ইবনে মাযাহ শরীফ, (৪) নাসাঈ শরীফ, (৫) মিশকাত শরীফ, (৬) মিরকাত শরীফ, (৭) ই’লাউস সুনান, (৮) বজলুল মজহুদ, (৯) মসনদে আহমদ, (১০) মুসতাদরিকে হাকিম, (১১) বায়হাকী শরীফ, (১২) আরিদাতুল আহওয়াজী, (১৩) তানবীরুল আবছার, (১৪) আলমগীরী, (১৫) হিন্দিয়া, (১৬) শামী, (১৭) দুররুল মুখতার, (১৮) রদ্দুল মুহতার, (১৯) গায়াতুল আওতার, (২০) হাশিয়ায়ে তাহতাবী, (২১) খানিয়া, (২২) মুহীত, (২৩) শরহে মুনিয়া, (২৪) খাযায়িন, (২৫) নাহরুল ফায়িক, (২৬) জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ, (২৭) সিরাজুল ওয়াহহাজ, (২৮) মারাকিউল ফালাহ, (২৯) মাজমাউল আনহুর, (৩০) নুরুল ইজাহ, (৩১) বাহারে শরীয়ত, মালা বুদ্দা মিনহু ইত্যাদি।}

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।