সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।

সংখ্যা: ২৪৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ তৈমুর রহমান, আটোয়ারী, পঞ্চগড়

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।


জাওয়াব: সুওয়ালে উল্লেখিত মৌলভী পরিচয়ধারী ব্যক্তির বক্তব্য মোটেও সঠিক নয়। তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যার শামিল। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে মিথ্যা বলার অর্থ হচ্ছে কুফরী করা। সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হলো যে কুফরী করে সে কাফির হয়। আর ঈমানদার দাবিদার ব্যক্তি কুফরী করলে সে মুরতাদ হয়। কাফির ও মুরতাদের জায়ে ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম।

নাউযুবিল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

من كذب على متعمدا فليتبوا مقعده من النار

অর্থ: যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করলে, অবশ্যই সে তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নিল। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে অথবা উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ অর্থাৎ উনার ক্বওল বা কথা মুবারক, ফে’ল বা কাজ মুবারক এবং তাকরীর বা সমর্থন ও অনুমোদন মুবারক সম্পর্কে যে মিথ্যা বললো, সে কুফরী করলো এবং এ কুফরীর পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।

স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত মাখলূক্ব বা সৃষ্টি এবং সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সকলের জন্যেই উত্তম আদর্শ।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة

অর্থ: অবশ্যই তোমাদের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ মুবারক।

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ, সমর্থন ও অনুমোদন সাপেক্ষেই মূলত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে তাফসীরে ফতহুল ক্বাদীর ১ম খ- ৩৭৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে-

قيل ان الـملائكة بعمائم بيض وقيل حمر وقيل خضر وقيل صفر

অর্থ: কারো মতে নিশ্চয়ই হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা পাগড়ী পরিধান করেন সাদা রংয়ের, কারো মতে গন্ধম রংয়ের, কারো মতে সবুজ রংয়ের, আবার কারো মতে ঘিয়া রংয়ের।

“আল মুনতাযামু ফী তারীখিল মুলুকি ওয়াল উমাম” কিতাবের ৩য় খ- ১১৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে-

كان سيماء الـملائكة عمائم خضر

অর্থ: হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিদর্শন হচ্ছে সবুজ রংয়ের পাগড়ী।

মাদারিজুন নুবুওওয়াত কিতাবের ২য় খ- ১৬০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, বদর জিহাদের দিন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাথায় সাদা পাগড়ী ছিল আর হুনাইন জিহাদের দিন সবুজ পাগড়ী ছিল।

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ উনাদের বর্ণনা দ্বারা সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করা হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিশেষ নিদর্শন হিসেবে প্রতিভাত।

আর পাগড়ী পরিধান করা হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত নিদর্শন উল্লেখ করে এই উম্মতের জন্যও পাগড়ী পরিধান করার ব্যাপারে তাগিদ দেয়া হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

عليكم بالعمائم فانه سيماء الـملئكة

অর্থ: তোমাদের উপর পাগড়ী পরিধান করা ওয়াজিব। কেননা পাগড়ী পরিধান করা হচ্ছে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত নিদর্শন। সুবহানাল্লাহ!

অনুরূপভাবে হযরত ছাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যা কিছু করতেন, তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আদেশ, মুবারক অনুসরণে, মুবারক অনুকরণে, মুবারক সমর্থন ও মুবারক অনুমোদনক্রমেই করতেন। সুবহানাল্লাহ!

মোটকথা, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাস্তব অনুকরণ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। কথায়, কাজে, ওয়াজ-নছীহতে, উঠা-বসায়, চলা-ফেরায়, ব্যবহারে, লেবাস-পোশাকে, আমল-আখলাক্বে, এককথায় যাবতীয় ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূণ্যতম আদর্শ মুবারক উনাদের জীবন মুবারকে প্রতিফলিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রসিদ্ধ কিতাব “মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ” ৮ম খ- ২৪১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে-

عن حضرت سليمان بن ابى عبد الله رحمة الله عليه قال ادركت الـمهاجرين الاولين يعتمون بعمائم كرابيس سود وبيض وحمر وخضر وصفر

অর্থ: হযরত সুলাইমান ইবনে আবী আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি প্রথম দিকের সকল মুহাজিরীন (হিজরতকারী ছাহাবী) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পাগড়ী পরিধান করতে দেখেছি কালো রংয়ের, সাদা রংয়ের, গন্ধম রংয়ের, সবুজ রংয়ের এবং ঘিয়া রংয়ের।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

والسابقون الاولون من الـمهاجرين والانصار والذين اتبعوهم باحسان رضى الله عنهم ورضوا عنه واعدلـهم جنت تجرى تحتها الانـهار خالدين فيها ابدا ذلك الفوز العظيم.

অর্থ: মুহাজির ও আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, যাঁরা সম্মানিত ঈমান আনার ক্ষেত্রে পূর্বর্তীদের মধ্যে অগ্রগামী উনারা এবং উনাদেরকে যারা উত্তমভাবে অনুসরণ করবেন, উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্টি মুবারক ঘোষণা করেছেন এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য কোশেশে করে থাকেন। উনাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি এরূপ জান্নাত নির্ধারণ করে রেখেছেন, যার নি¤œদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত থাকবে। উনারা সর্বদা উক্ত জান্নাতসমূহে অবস্থান করবেন। এটা উনাদের জন্য বিরাট সফলতা বা কামিয়াবী। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عرباض بن سارية رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عليكم بسنتى وسنة الخلفاء الراشدين الـمهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ.

“হযরত ইরবায বিন সারিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের জন্য আমার সুন্নত ও সুপথপ্রাপ্ত হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত পালন করা অপরিহার্য। তোমরা তা মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো।” (আহমদ, তিরমীযী, ইবনে মাযাহ্, মিশকাত, মিরকাত)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে

عن حضرت عمر بن الخطاب عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اصحابى كالنجوم بايهم اقتديتم اهتديتم

অর্থ: “হযরত উমর বিন খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা সকলেই তারকা সাদৃশ্য, উনাদের যে কোন একজনকে অনুসরণ করলেই হিদায়েতপ্রাপ্ত হবে।” (রযীন, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুমুয়াত, তা’লীক্ব, ত্বীবী, মুযাহিরে হক্ব)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال من كان مستنا فليستن بمن قدمات فان الحى لا تؤمن عليه الفتنة اولئك اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم كانوا افضل هذه الامة ابرها قلوبا واعمقها علما واقلها تكلفا اختارهم الله لصحبة نبيه ولاقامة دينه فاعرفوا لـهم فضلهم واتبعوا على اثرهم وتمسكوا بما استطعتم من اخلاقهم وسيرهم فانهم كانوا على الـهدى الـمستقيم.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বর্ণনা করেন, “যে ব্যক্তি সম্মানিত শরীয়ত উনার সঠিক তরীক্বা অনুসরণ করতে চায়, তার উচিত যারা অতীত হয়েছেন উনাদেরকে অনুসরণ করা। কেননা জীবিতগণ ফিতনামুক্ত নন। আর যারা অতীত হয়েছেন উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ। উনারা উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, আত্মার দিক দিয়ে অধিক পবিত্র, ইল্মের দিক দিয়ে সুগভীর এবং উনারা লোক দেখানো আমল করা হতে মুক্ত। মহান আল্লাহ পাক উনাদেরকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গী বা ছাহাবী হিসেবে মনোনীত করেছেন। কাজেই, উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, শান-শওকত সম্পর্কে অবগত হও এবং উনাদের কথা ও কাজের অনুসরণ করো এবং যথাসাধ্য উনাদের সীরত-ছূরত মুবারককে গ্রহণ করো, কারণ উনারা হিদায়েত ও “ছিরাতুল মুস্তাক্বীম” উনার উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।” (মিশকাত শরীফ পৃঃ ৩২)

মূল কথা হলো, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই অনুসরণের শামিল।

উল্লেখ্য, সবুজ পাগড়ী পরিধান করা নিষেধ এ রকম কোন বর্ণনা কোথাও উল্লেখ নেই বরং সবুজ পোশাক ও সবুজ পাগড়ী ব্যবহারের স্বপক্ষে অসংখ্য দলীল রয়েছে। তাই সবুজ পাগড়ী পরিধান করা সুন্নত বলেই সাব্যস্ত হয়েছে।

আরো উল্লেখ্য ও স্মরণযোগ্য যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতিটি বিষয় পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কিংবা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই থাকতে হবে, তা নয় বরং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে এমন বহু বিষয় রয়েছে সর্বোপরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত অনেক বিষয় রয়েছে যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে গভীর তায়াল্লুক-নিসবত থাকার বদৌলতে যামানার সম্মানিত উলিল আমরগণ অর্থাৎ যামানার সম্মানিত ইমাম মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা বর্ণনা করেছেন।

(এক) এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। তিনি একবার সূরা আর-রহমান শরীফ উনার ছোট্ট একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ-

كل يوم هو فى شأن

উনার তাফসীর করলেন একাধারা দ্ইু বৎসর। তবুও যেন তাফসীর বাকী রয়ে গেল। উনার ভিতরে একটা ফখরের ভাব পয়াদ হলো, নিশ্চয়ই তিনি মস্ত বড় একজন তাফসীরকারক। উনার মতো তাফসীরকারক কমই দেখা যায়। অন্যথায় একখানা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর দুই বৎসর করার পর বাকী থাকার কথা নয়। এরই মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় এক আগন্তুক উনার তাফসীরের মজলিসে গিয়ে উনাকে প্রশ্ন করলেন, হুযূর! আপনি তাফসীর করছেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেহ একেক শানে অবস্থান করেন। বলুন তো মহান আল্লাহ পাক তিনি এখন কোন শান মুবারকে আছেন এবং এখন তিনি কি করছেন? এ প্রশ্ন শুনে হযরত ইমাম ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি চুপ হয়ে গেলেন। কোন উত্তর দিতে পারলেন না।

দ্বিতীয়দিন আবার যখন তিনি তাফসীর করা শেষ করলেন সাথে সাথে উক্ত আগন্তুক ব্যক্তি একই প্রশ্ন করে বসলেন, সেদিনও তিনি কোন জাওয়াব দিতে পারলেন না। তৃতীয়দিনও একই ঘটনা ঘটলো। তিনি যারপর নেই লজ্জিত হলেন। রাতের বেলা তিনি খুব কান্নাকাটি করলেন, তওবা-ইস্তিগফার করলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উসীলা দিয়ে ফায়সালা কামনা করে ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বপ্নযোগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাক্ষাৎ মুবারক দিয়ে বললেন, হে ইবনে জাওযী! আপনার কি হয়েছে? ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের অক্ষমতার কথা ব্যক্ত করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, যিনি আপনাকে প্রশ্ন করছেন, উনাকে আপনি চিনেন? তিনি বললেন যে, না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, প্রশ্নকারী ব্যক্তি হচ্ছেন হযরত খিযির আলাইহিস সালাম। তিনি আগামীকালও আসবেন এবং আপনাকে উক্ত বিষয়ে আবার প্রশ্ন করবেন। তখন আপনি জাওয়াবে বলবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন ক্বদীম। উনার শান হচ্ছে আযালী-আবাদী শান মুবারক। কাজেই, তিনি নতুন করে কোন কাজ শুরু করেন না। তিনি শুরুতে যা করেছেন এখনও তাই করেন। তবে কখনও কখনও উনার কোন কোন শান মুবারক প্রকাশ পায়। সুবহানাল্লাহ!

সত্যিই পরের দিন আগন্তুক ব্যক্তি এসে যখন প্রশ্ন করলেন তখন সহসাই হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রশ্নের জাওয়াব দিয়ে দিলেন। জাওয়াব পেয়ে আগন্তুক ব্যক্তি তিনি বললেন, হে ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি আপনার যিনি নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অধিক পরিমাণে ছলাত-সালাম পেশ করুন যিনি আপনাকে আমার সুওয়ালের জাওয়াব জানিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

(দুই) হিজরী ৫৫৫ সনের ঘটনা। সম্মানিত রেফায়িয়া তরীক্বার ইমাম হযরত আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে গেলেন। মহা সম্মানিত রওজা শরীফ উনার নিকট গমন করে সালাম পেশ করলেন-

السلام عليك ياجدى صلى الله عليه وسلم

মহা সম্মানিত রওজা শরীফ হতে তৎক্ষনাৎ জবাব আসলো

وعليك السلام يا ولدى

মহা সম্মানিত রওজা শরীফ হতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি জাওয়াব মুবারক শুনে হযরত আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশেষ হাল পয়দা হলো। তিনি ক্বাছীদাহ শরীফ পাঠ করতে শুরু করলেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন-

فى حالة البعد روحى كنت ارسلها

تقبل الارض عنى وهى نائبتى.

وهذة دولة الاسباح قد حضرت

فامدد يمينك كى كخطى بـها شفتى.

ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দুরে অবস্থানকালে আমি আমার রূহকে আপনার মুবারক খিদমতে প্রেরণ করতাম, যেন তা আমার পক্ষ হতে আপনার মুবারক ক্বদমবুছী করে যায়। এখন তো আমি সরাসরি আপনার মুবারক খিদমতে উপস্থিত হয়েছি। সুতরাং আপনি যদি আপনার পূত পবিত্র দাস্ত মুবারক জাহির মুবারক করে দিতেন, তাহলে তা চুম্বন মুবারক করে আমি ধন্য হতাম।

হযরত আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উপরোক্ত আরজী শেষ হওয়া মাত্রই মহা সম্মানিত রওজা শরীফ হতে নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পূত পবিত্র ডান হাত মুবারক জাহির করে দেন। তৎক্ষনাৎ হযরত আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ সেই সময়ে পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থানকারী ৯০ হাজার লোক পূত পবিত্র দাস্ত মুবারক চুম্বন করে নিজেদেরকে চিরদিনের জন্য ধন্য করে নেন। সুবহানাল্লাহ! (আল বুনিয়ানুল মুশাইয়াদ)

(তিন) বিশিষ্ট বুযুর্গ ও প্রখ্যাত ফার্ষী কবি হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে না’ত শরীফ লিখতে লাগলেন। তিনি লিখলেন-

بلغ العلى بكماله

كشف الدجى بجماله

حسنت جميع خصاله

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম তিনি তো মাক্বামাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত। উনার মুবারক জামালিয়তে সমস্ত আঁধার বিদূরীত হয়েছে। উনারই মুবারক উসীলায় সমস্ত কিছু সৌন্দর্যমন্ডিত হয়েছে।”

এতটুকু লিখে হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি থেমে গেলেন। চতুর্থ লাইন কি হবে, তা ভাবতে লাগলেন। চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্তেই উপনীত হতে পারছেন না। তিনি বেকারার পেরেশান হয়ে গেলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে পুরোপুরি রুজূ হয়ে চতুর্থ লাইন মিলানের কোশেশে নিজেকে ব্যাপৃত রাখলেন। নিজের অজান্তেই এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে গেলেন। মুবারক স্বপ্নে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ সাক্ষাত মুবারক লাভ করলেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে শেখ সা’দী! এত অস্থির কি জন্য? কি হয়েছে আপনার? হযরত শেখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুবারক খিদমতে নিজের অক্ষমতা ও অপারগতার বিষয়ে আরজী করলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি চতুর্থ লাইন লিখুন-

صلوا عليه واله

উনার প্রতি এবং উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করুন। সুবহানাল্লাহ!

(চার) ইমামুল হিন্দ হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেন-

اخبرنى سيدى الوالد قال كنت اصنع فى ايام الـمولد طعاما صلة بالنبى فلم يفتح لى سنة من السنين شئ اصنع به طعاما فلم اجد الا حمصا مقليا فقسمت بين الناس فرايته صلى الله عليه وسلم وبين يديه هذه الحمص مبتهجا بشاشا.

অর্থ: আমার বুযূর্গ পিতা (হযরত শাহ আব্দুর রহীম দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি) তিনি বলেন যে, নূরে মুজাসদসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ বা আগমনের তারিখে পবিত্র মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিল করে ছওয়াব রেসানীর জন্য হামেশা বিশেষ তাবারুকের আয়োজন করতাম। এক বছর উক্ত তারিখে বিশেষ খাবারের আয়োজন করতে না পেরে কিছু চানাবুট আমি লোকজনের মধ্যে বিতরণ করলাম। অতঃপর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেই চানাবুটগুলোর সম্মুখে অত্যন্ত উজ্জল এবং হাসিমাখা চেহারা মুবারক নিয়ে উপবিষ্ট দেখতে পেলাম। সুবহানাল্লাহ! (আদ্ দুররুছ্ ছামীন ফী মুবাশ্শিরাতিন্ নাবিয়্যিল আমীন)

অতএব, বিশ্ববিখ্যাত ও অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের উক্ত ঘটনা ও বর্ণনাসমূহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সম্মানিত সুন্নতসমূহ বা বিষয়সমূহ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বর্ণনা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবং উক্ত বিষয়সমূহ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ উছূল বা মূলনীতি ইজমা ও ক্বিয়াস হিসেবে পরিগণিত ও সাব্যস্ত হয়েছে। যা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য ও অনুসরণীয়। আর তা অস্বীকার করা কুফরী এবং পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

প্রসঙ্গত বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকের যিনি মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সাথে একবার এক ব্যক্তি চার টুকরা বিশিষ্ট টুপির বিষয়ে ইখতিলাফ করেছিল। তখন সেই ব্যক্তি স্বপ্নে দেখলো যে, সে রওজা শরীফ উনার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এবং তার বর্ণনা মতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি টুপি মুবারক পরিহিত অবস্থায় রয়েছেন। উক্ত টুপি মুবারকের সামনের দিকে ডানে ও বামে দু’ পার্শ্বে দুটি সেলাইয়ের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পিছনের সেলাইয়ের চিহ্নটি সামনে থেকে দেখা যাচ্ছিল না। অতঃপর সে ব্যক্তি বিনীতভাবে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন ধরণের টুপি খাছ সুন্নত? জাওয়াবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, টুপি সম্পর্কে এবং যত প্রকার সুন্নত রয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে হলে আমার সম্মানিত আওলাদ যামানার মহান মুজাদ্দিদ- ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত যিনি মুর্শিদ ক্বিবলা রয়েছেন উনার নিকট থেকে জেনে নিবেন। এ স্বপ্ন দেখার পরের দিনই উক্ত ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার খানকা শরীফে এসে উক্ত স্বপ্ন মুবারক বর্ণনা করে। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়া সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে উল্লেখ করতে হয় যে, একদা রাজারবাগ সুন্নতী জামে মসজিদে ছলাতুয যুহর নামাযান্তে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি মুরীদ, মু’তাকিদ উনাদের দিকে ফিরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছেন, বিভিন্ন জনের সুওয়ালের জাওয়াবও প্রদান করছেন, এরই মধ্যে মুফতী খিতাবে ভূষিত একজন জিজ্ঞাসা করে বসলো, হুযূর ক্বিবলা! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাবের মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাদা ও কালো পাগড়ী পরিধান করেছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু তিনি সবুজ পাগড়ী পরিধান করেছেন; সে সম্পর্কে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করাটা কোন পর্যায়ের সুন্নত হবে? এর জাওয়াবে আওলাদে রসূল মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করেছেন কিনা এর কোন দলীল পাওনি বা কিতাবে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি কাউকে সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করিয়ে দেন উনার জন্য কি মাসয়ালা বা ফতওয়া হবে? শুনে রাখো, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে সাদা, সবুজ ও কালো তিন ধরণেরই পাগড়ী মুবারক পরিধান করিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, পাগড়ীর রং সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা পরিলক্ষিত হলেও গ্রহণযোগ্য মতে সাদা, কালো ও সবুজ এই তিন রংয়েরই পাগড়ী পরিধান করা খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। যার কারণে পরবর্তীকালে সাধারণত উক্ত তিন প্রকার রংয়েরই পাগড়ী পরিধানের আমল জারী হয়ে আসছে।

যেমন এ প্রসঙ্গে “সিয়াররুছ ছাহাবা” ৭ম খণ্ডের ৪০৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, হযরত ইমাম ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ ইবনে আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত মূল্যবান ও পছন্দনীয় রঙ্গীন পোশাক পরিধান করতেন। কোর্তা, পাগড়ী ও চাদর ইত্যাদি সমস্ত পোশাক ছিল সাধারণত সূতী কাপড়ের। আর পাগড়ী ছিল সাদা রংয়ের, তবে কখনো কখনো তিনি সবুজ রংয়ের পাগড়ী পরিধান করতেন।

রিজাল শাস্ত্রের বিশ্বখ্যাত ও বৃহৎ কিতাব তাহযীবুল কামাল ষষ্ঠ খ- ৩৬১ পৃষ্ঠার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

قال حضرت ابو بكر بن خزيمة رحمة الله عليه رايت ابا عمار الحسين بن الحريث الـمروزى فى الـمنام بعد وفاته كانه على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان عليه ثيابا بيضا وفى رأسه عمامة خضراء.

অর্থ: হযরত আবূ বকর ইবনে খুযাইমাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত আবূ আম্মার ইবনে হারীছ মারূযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইন্তিকালের পর উনাকে স্বপ্নে দেখলাম যে, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মিম্বর শরীফ উনার উপর অবস্থান করছেন উনার পরিধানে রয়েছে সাদা পোশাক আর মাথায় রয়েছে সবুজ পাগড়ী।

“সাওয়ানেহে হযরত ছাবির কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি” কিতাবের ১১৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, বিশিষ্ট বুযূর্গ হযরত মাখদূম আলী আহমদ ছাবির কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সবসময় সবুজ রংয়ের পাগড়ী ব্যবহার করতেন।

অতএব, পাগড়ী সম্পর্কে উপরোক্ত দলীলসমৃদ্ধ সংক্ষিপ্ত জাওয়াব থেকে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত ও সাব্যস্ত হলো যে, সাদা ও কালো রংয়ের ন্যায় সবুজ রংয়েরও পাগড়ী পরিধান করা সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাসম্মত এবং খাছ সুন্নত উনারও অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পাগড়ী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ৮৩তম সংখ্যা থেকে ৯৬তম সংখ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত ফতওয়া পাঠ করুন।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: সিলেট দরগাহ সংলগ্ন খারিজী মাদরাসা জামিয়া কাসিমুল উলূমের মুহতামিম আবুল কালাম যাকারিয়া ও সুবহানীঘাট ফুলতলী মাসলাকের মাদরাসা ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ কুতুবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি লিখিত ফতওয়া আমার হস্তগত হয়। সেখানে তারা একটি হাদীছ শরীফ ও মা লা বুদ্দা মিনহু কিতাবের বরাত দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, “ফরয নামাযের দুই সিজদার মধ্যখানে اللهم اغفرلى وارحمنى واجبرنى واهدنى وارزقنى وعافنى وارفعنى এ দোয়াটি সম্পূর্ণটাই পড়া জায়িয। উল্লেখ্য আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে তাদের লিখিত ফতওয়াটির ফটোকপি সুওয়ালের সাথে প্রেরণ করা হলো। এখন আমার সুওয়াল হলো-সত্যিই কি ফরয নামাযের দু’ সিজদার মধ্যখানে উক্ত দোয়াটি সম্পূর্ণ পড়া জায়িয? দলীল ভিত্তিক জাওয়াব দিয়ে আমাদের ফরয ইবাদত নামাযকে হিফাযত করবেন বলে আমরা আশাবাদী।