সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৪৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আবু খুবাইব, শান্তিপুর, ঢাকা।

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ!

এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।


জাওয়াব: যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল খুছূছিয়াত ও ফযীলত মুবারক হাদিয়া করেছেন তন্মধ্যে একখানা বিশেষ খুছূছিয়াত ও ফযীলত মুবারক হচ্ছে উনার নূরানী জিসিম মুবারক উনার মুবারক ছায়া ছিল না। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে যারা অস্বীকার করলো তারা মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুছূছিয়াত বা শান মুবারক অস্বীকার করলো, যা কাট্টা কুফরী এবং পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

প্রকাশ থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা। এ মতটিই বিশুদ্ধ। আর যারা বলে, ছায়া ছিল তাদের তাহক্বীক্বের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাদের বক্তব্য মোটেও শুদ্ধ নয়। মূলত ছায়া ছিল না সম্পর্কিত যে হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে তা যদি মওজু অর্থাৎ অগ্রহণযোগ্য হতো তাহলে বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম হাকিম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হাফিয ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মত বিশ্ব বিখ্যাত সর্বজন মান্য মুহাদ্দিছগণ উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনাদের স্বলিখিত কিতাবে বর্ণনা করে তার বরাত দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা বলে উল্লেখ করতেন না। তাছাড়া ‘ইকতেবাছ’ কিতাবের লেখক আল্লামা ইমাম ইবনুল হাজ রহমতুল্লাহি বলেন (ছায়ার ন্যায়) এ ধরনের মাসয়ালা সমূহের ক্ষেত্রে অনুরূপ সনদ বিশিষ্ট পবিত্র হাদীছ শরীফই যথেষ্ট। কেননা ইহা হারাম, হালালের মাসয়ালা নয়।

এছাড়া বিশিষ্ট সূফী, ফক্বীহ, বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিছও বুযুর্গ, যিনি প্রতিদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারতে ধন্য হতেন, তিনি হচ্ছেন শায়খুল মুহাক্কিক হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি তিনি উনার মাদারিজুন নুবুওওয়াত কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা।

অনুরূপভাবে বিশ্বখ্যাত মুফাসসিরে আ’যম ও মুদাক্কিক্ব, বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ, ফক্বীহ, বুযুর্গ ও সূফী হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি তিনি উনার তাফসীরে আযীযীতে উল্লেখ করেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা।

আরো উল্লেখযোগ্য যে, যিনি আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বইয়ূমে আউওয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি, উনার সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে- জামউল জাওয়াম ও জামিউদ্ দুরার কিতাবে। তিনি উনার বিশ্ববিখ্যাত ও সমাদৃত মাকতুবাত শরীফ, যার সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন যে, আমি যখন এই সমস্ত মাকতুব লিপিবদ্ধ করি তখন আমি নিজেই দেখেছি, মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম আমার ঘর পাহাড়া দিচ্ছেন, তার কারণ হচ্ছে যাতে আমার মাকতুবে শয়তান কোন প্রকার ওয়াস্ওয়াসা দিতে না পারে। তিনি আরো উল্লেখ করেন- আমার পরবর্তীতে যখন হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম যমীনে আগমন করবেন, তখন উনার কাছে আমার এ মাকতুবাত পেশ করা হবে। তিনি মাকতুবাতে লিখিত বিষয়সমূহকে সত্য বলে প্রতিপাদন করবেন। সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, এই মাকতুবাত শরীফেই আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বইয়ূমে আউওয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি তিনি বলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা।

উল্লেখ্য, এ সকল জবরদস্ত ও অনুসরণীয় বুযুর্গ ব্যক্তিগণ উনাদের দলীলের পর সমঝদার ঈমানদারের জন্য আর কোন দলীলের প্রয়োজন পড়েনা। তা সত্ত্বেও এ বিষয়ে অসংখ্য দলীল থেকে কিছু দলীল ঈমানদারদের ঈমান মজবুতীর জন্য উল্লেখ করা হলো-

হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি জামিউল ওসায়িল ফি শরহে শামায়িল কিতাবের ২১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى حديث حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال لـم يكن لرسول الله صلى الله عليه وسلم ظل ولم يقم مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوء الشمس ولم يقم مع سراج قط الا غلب ضوءه ضوء السراج.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন ছায়া ছিল না। এবং সূর্যের আলোতে কখনও উনার ছায়া পড়তোনা। আরো বর্ণিত আছে, উনার আলো সূর্যের আলোকে অতিক্রম করে যেত। আর বাতির আলোতেও কখনো উনার ছায়া পড়তোনা। কেননা উনার আলো বাতির আলোকে ছাড়িয়ে যেতো।”

আল্লামা শায়েখ ইবরাহীম বেজরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া আলা শামায়িলে মুহম্মদিয়ার ১০৫ পৃষ্ঠায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরের দেহ মুবারক সূর্যের আলোর চেয়েও অধিক মর্যাদা সম্পন্ন তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-

وفى حديث حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه لـم يكن لرسول الله صلى الله عليه وسلم ظل ولم يقع مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوءها ولم يقع مع سراج قط الا غلب ضوءه ضوءه.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক ছিলনা এবং সূর্যের আলোতেও কখনই উনার ছায়া পড়তো না। কেননা উনার নূর মুবারক উনার আলো সূর্যের আলোকেও অতিক্রম করে যেতো। আর বাতির আলোতেও কখনই উনার ছায়া পড়তো না। কেননা উনার আলো বাতির আলোর উপর প্রাধান্য লাভ করতো।”

হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাছায়িছুল কুবরা নামক কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন ছায়া ছিলনা। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اخرج الحكيم الترمذى عن ذكوان فى نوادر الاصول ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرى له ظل فى شمس ولا قمر.

অর্থ: হাকীম তিরমিযী ফি নাওয়াদিরিল উছূল কিতাবে জাকওয়ান থেকে বর্ননা করেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া দেখা যেতো না।”

হযরত আল্লামা ইবনে সাবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি শিফাউছ ছুদূরে বলেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে ইহাও একটি বৈশিষ্ট্য যে, উনার ছায়া ছিলনা।” যেমন তিনি বলেন-

ان ظله كان لا يقع على الارض لانه كان نورا فكان اذا مشى فى الشمس اوالقمر لا ينظر له ظل.

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার ছায়া যমীনে পড়তো না কেননা তিনি ছিলেন নূর। অতঃপর যখন তিনি সূর্য অথবা চাঁদের আলোতে হাঁটতেন তখন উনার ছায়া দৃষ্টিগোচর হতোনা।

আল্লামা সুলায়মান জামাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতুহাতে আহমাদিয়া শরহে হামজিয়া কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে-

لم يكن له صلى الله تعالى عليه وسلم ظل يظهر فى شمس ولا قمر.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা। এমনকি চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও উনার ছায়া প্রকাশ পেতো না।

হযরত আল্লামা হুসাইন ইবনে মুহম্মদ দিয়ারে বিকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খামীছ ফি আহওয়ালে আনফুসে নাফীস নামক কিতাবে বর্ণনা করেন-

لم يقع ظله صلى الله تعالى عليه وسلم على الارض ولايرى له ظل فى شمس ولا قمر.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া যমীনে পড়তো না এবং চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও উনার ছায়া দেখা যেতো না।”

হযরত আল্লামা সাইয়্যিদ যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শরহে মাওয়াহিবুল লাদুন্নীয়া শরীফে বর্ণনা করেছেন-

لم يكن له صلى الله عليه وسلم ظل فى شمس ولاقمر لانه كان نورا-

অর্থ: “চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কেননা তিনি নূর ছিলেন।” (আর নূরের কোন ছায়া নেই)

হাফিয আল্লামা ইবনে জাওযী মুহাদ্দিছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবুল ওয়াফায় বর্ণনা করেন-

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه لم يكن للنبى صلى الله عليه وسلم ظل ولم يقع مع الشمس قط الا غلب ضوءه ضوء الشمس ولم يقع مع سراج قط الا غلب ضوءه ضوء السراج.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা। আর তিনি সূর্যের আলোতে দাঁড়ালে কখনো ছায়া পড়তো না। কেননা উনার নূর মুবারক উনার উজ্জ্বলতা সূর্যের রশ্মিকে অতিক্রম করে যেতো। কোন জলন্ত বাতির সামনে বসলেও কখনো ছায়া পড়তো না কারণ উনার উজ্জ্বল নূর মুবারক, বাতির আলোকেও ছাড়িয়ে যেতো।”

খাছায়িছুল হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বিতীয় বাবের চতুর্থ অধ্যায়ে বলা হয়েছে-

لم يقع ظله على الارض ولارءى له ظله فى شمس ولا قمر قال ابن سبع لانه كان نورا.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মাটিতে পড়েনি। চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও উনার ছায়া দেখা যেতোনা। এ সম্পর্কে হযরত ইবনু সাবা’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কেননা তিনি নূর ছিলেন।

ইমাম আল্লামা কাজী আয়ায রহমতুল্লাহি উনার শিফা শরীফ কিতাবে বলেছেন-

وما ذكر من انه لا ظل تشخصه فى شمس ولاقمر لانه كان نورا.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক উনার দেহ মুবারকের ছায়া সূর্য ও চাঁদের আলোতেও পড়তো না। কেননা তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নূর মুবারক।”

হযরত ফাজেল মুহম্মদ বিন ছিবান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইস্আফুর রাগিবীন কিতাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করে বলেন-

وانه لا فيئ له.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ বৈশিষ্ট্য এই যে, উনার ছায়া ছিল না।

আল্লামা আহমদ বিন মুহম্মদ খতীব কোস্তালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাওয়াহিবুল লাদুন্নীয়া এবং মিনহাজে মুহম্মদীয়া কিতাবে উল্লেখ করেন যে-

رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کی لیئے سایہ نہ تھا دھوپ میں نہ چاندنی میں-

অর্থ: চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না।

হযরত শায়েখ মুহম্মদ তাহের রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাজমাউল বিহারে উল্লেখ করেন-

من اسمائه صلى الله تعالى عليه وسلم النور قيل من خصائصه صلى الله تعالى عليه وسلم انه اذا مشى فى الشمس والقمر لا يظهر له ظل.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকসমূহ থেকে একটি মুবারক নাম হলো নূর। বলা হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে একটি বৈশিষ্ট্য হলো যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সূর্য এবং চাঁদের আলোতে হাটঁতেন তখন উনার কোন ছায়া প্রকাশ পেতোনা।

হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাকতুবাত শরীফের তৃতীয় খ-ে উল্লেখ করেছেন-

اورا صلى الله تعالى عليه وسلم سايه نبود در عالم شهادت سايه هر شخص ازشخص لطيف تراست ..ون لطيف تري ازوى صلى الله تعالى عليه وسلم در عالم نباشد او را سايه .. صورت وارد.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা। প্রত্যেক লোকেরই ছায়া উনার দেহের থেকে সূক্ষ্ম। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপেক্ষা আর কিছুই সূক্ষ্ম নয় তখন উনার ছায়া কি আকার ধারণ করতে পারে?”

শায়েখে মুহাক্কিক আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাদারিজুন নুবুওয়াতে বলেছেন-

ونبود مر أنحضرت را صلى الله تعالى عليه وسلم سايه نه در افتاب ونه در قمر.

অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও দেখা যেতোনা।”

শাহ আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাফসীরে আযীযীতে উল্লেখ করেন-

سایہ ایشاں بر زمین نمی افتاد.

অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মাটিতে পড়তোনা।”

হযরত ইমাম নাসাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাফসীরে মাদারিক শরীফে উল্লেখ করেছেন-

قال حضرت عثمان ذو النورين عليه السلام ان الله ما اوقع ظلك على الارض لئلا يضع انسان قدمه على ذالك الظل.

অর্থ: আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক আপনার ছায়া মাটিতে পড়তে দেননি। যাতে মানুষ আপনার ঐ ছায়া উনার মধ্যে পা রাখতে না পারে।

সীরাতে শামীতে উল্লেখ করা হয়েছে-

الامام الحكيم قال معناه لئلا يطأ عليه كافر فيكون مذلة له.

অর্থ: ইমাম হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার হিকমত এই যে, যাতে কোন বিধর্মী কাফিরেরা উনার ছায়ার উপর পা রাখতে না পারে। কেননা উনার ছায়া মাটিতে পড়লে বিধর্মীরা উনার ছায়া উনার মধ্যে পা রেখে উনার ছায়াকে অপমানিত করতো।

এ সম্পর্কে সীরাতে হালবিয়ায় একটি ঘটনা উল্লেখ আছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একদিন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, এক ইহুদী উনার ছায়া মাড়িয়ে যাচ্ছিল। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে ইহুদী জবাব দিল, সে উনাকে কোন দিক থেকেই কাবু করতে পারিনি। সেজন্য উনার ছায়া সে পদদলিত করছে। নাউযুবিল্লাহ!

হযরত ইমাম ইবনে হাজার মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আফদ্বালুল ক্বোরায় উল্লেখ করেন-

انه صلى الله تعالى عليه وسلم صار نورا انه كان اذا مشى فى الشمس والقمر لا يظهر له ظل.

অর্থ: “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূর ছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি যখন চাঁদ ও সূর্যের আলোতে হাঁটতেন তখন উনার ছায়া প্রকাশ পেতো না।”

ফক্বীহে মিল্লাত হযরত আল্লামা মুফতী জালালুদ্দীন আহমদ আমজাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়ায়ে ফয়জুর রসূল কিতাবের প্রথম খণ্ডের ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন-

بیشک حضور پرنور سر کار اقدس صلی اللہ علیہ وسلم کی جسم اقدس کا سایہ نھیں پڑتا تھا جیسا کہ حدیث شریف میں ھی لم یکن لہ ظل لا فی الشمس ولا فی القمر یعنی سورج اور چاندکی روشنی میں حضور کا سایہ نھیں پڑتا تھا-

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পূর নূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জিসিম মুবারকের ছায়া (যমীনে) পড়তো না।

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে যে, চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া পড়তো না।”

অনুরূপভাবে ফতহুল আযীয, আনওয়ারে মুহম্মদিয়া, মিনহাজে মুহম্মদিয়া, মুতালিউল মুসাররাত, রেসালায়ে হুদালহয়রান ফি নাফয়িল ফাইয়ি আন সাইয়্যিদিল আকওয়ান, রেসালায়ে কাউনারুত তামাম ফি নাফয়ি জিল্লে আন সাইয়্যিদিল আনাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রেসালায়ে নাফয়িল ফাই, সীরাতে হালবিয়া, আল ইকতেবাছ ইত্যাদি কিতাবসমূহেও উল্লেখ রয়েছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা।

এছাড়াও আরো অসংখ্য দলীল রয়েছে যাতে উল্লেখ আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া মুবারক ছিল না।

অতএব, উল্লেখিত দলীলসমৃদ্ধ বর্ণনাসমূহের ভিত্তিতে এ আক্বীদা পোষন করতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম উনার ছায়া ছিলনা। এ আক্বীদাই পোষন করা সকলের জন্য ফরয। এর খিলাফ বা বিপরীত আক্বীদা পোষন করা কুফরী।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।

সুওয়াল: সিলেট দরগাহ সংলগ্ন খারিজী মাদরাসা জামিয়া কাসিমুল উলূমের মুহতামিম আবুল কালাম যাকারিয়া ও সুবহানীঘাট ফুলতলী মাসলাকের মাদরাসা ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ কুতুবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি লিখিত ফতওয়া আমার হস্তগত হয়। সেখানে তারা একটি হাদীছ শরীফ ও মা লা বুদ্দা মিনহু কিতাবের বরাত দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, “ফরয নামাযের দুই সিজদার মধ্যখানে اللهم اغفرلى وارحمنى واجبرنى واهدنى وارزقنى وعافنى وارفعنى এ দোয়াটি সম্পূর্ণটাই পড়া জায়িয। উল্লেখ্য আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে তাদের লিখিত ফতওয়াটির ফটোকপি সুওয়ালের সাথে প্রেরণ করা হলো। এখন আমার সুওয়াল হলো-সত্যিই কি ফরয নামাযের দু’ সিজদার মধ্যখানে উক্ত দোয়াটি সম্পূর্ণ পড়া জায়িয? দলীল ভিত্তিক জাওয়াব দিয়ে আমাদের ফরয ইবাদত নামাযকে হিফাযত করবেন বলে আমরা আশাবাদী।