সংখ্যা: ২৪৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নুমা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা,

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার-

ওয়াজ শরীফ

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে-

উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১৩)


পূর্ব প্রকাশিতের পর

এটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এদের পিছনে শয়তান লেগে গেছে, যার কারণে এরা বিভ্রান্ত গোমরাহ হয়ে গেছে। এবং এদেরকে যে নিয়ামত অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা দেয়া হয়েছিলো এবং সে আলোকে অন্যান্য যা কিছু তা’লীম দেয়া হয়েছিলো তা দিয়ে তারা অনেক বড় মর্যাদা লাভ করতে পারতো কিন্তু তারা এটা ছেড়ে দুনিয়ার দিকে রুজু হয়ে গেলো, গইরুল্লাহ’র মুহতাজ হয়ে গেলো, নফসের পায়রবী তারা করলো, যার কারণে তাদের মেছাল হয়ে গেলো কুকুরের মতো।

এটাই হচ্ছে উলামায়ে সূদের একটা বিশেষ নিদর্শন। এরা এদের ইলমের ফখর করবে। ইবলিস যেমন ফখর করেছিলো

ابى وَاسْتَكْبَرَ

সে অহংকার করলো অস্বীকার করলো। এরাও অহংকার করে থাকে অস্বীকার করে থাকে ইলিমকে নিদর্শনকে নিয়ামতকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট করে এখানে বলে দিলেন, ইবলীস যেমন ছিলো বালয়াম বিন বাউরাও তেমন।

آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا

তাদেরকে যে আমি নিদর্শন মুবারক দিয়েছিলাম, বিশেষ করে তাকে যে নিদর্শন দেয়া হয়েছিলো অর্থাৎ এতে বুঝা যাচ্ছে যে, তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক নিয়ামত দিয়েছিলেন কিন্তু নিয়ামতটা তারা রক্ষা করতে পারেনি।

ঠিক উলামায়ে সূ’রা পবিত্র কুরআন শরীফ পড়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ পড়ে ইজমা ক্বিয়াস তারা শিক্ষা করে কিন্তু এর যে হাক্বীক্বত এটা তারা ধারণ করতে পারে না অর্থাৎ ধরে রাখতে পারে না যার জন্য এরা বিভ্রান্ত হয়ে যায়, ইবলিস তাদের পিছনে লেগে যায়।

যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলেন-

وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَـٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ وَانَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ انَّهُم مُّهْتَدُونَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَـٰنِ

যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে, স্মরণ থেকে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির থেকে গাফিল হয়ে যাবে

نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ

তার জন্য শয়তান নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তার বন্ধু হয়ে যায়।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেটা এখানে বলেছেন-

فاتبعه الشيطان

শয়তান তার পিছনে লেগে যায় অর্থাৎ শয়তান তার জন্য মুকাররার নিদিষ্ট হয়ে যায় এবং শয়তান তাকে ওয়াসওয়াসা দিয়ে গোমরাহ করে আর সেই ব্যক্তি মনে করে সে হিদায়েত প্রাপ্ত। নাউযূবিল্লাহ! যেমন বালয়াম বিন বাউরা তাকে বলা হলো অসুবিধার কি রয়েছে, তুমি এদেশটাকে দখল করে এদেশে মহান আল্লাহ পাক উনার আইন-কানুন জারি করবে। নাউযূবিল্লাহ! হযরত নবী রসূল আলাইহিস সালাম উনাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে সে মহান আল্লাহ পাক উনার আইন জারি করতে চায়। নাউযূবিল্লাহ! ঠিক বর্তমান উলামায়ে সূদের খাছলত এরকমই। এরা মনে করে থাকে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বিরোধিতা করে ইসলামের নামে তন্ত্র মন্ত্র করে হরতাল, লংমার্চ, বেপর্দা হয়ে, ছবি তোলে, এই হারাম কাজগুলো করে তারা পরবর্তীতে এদের নিয়মনীতি অনুযায়ী শরীয়তের হুকুম জারি করবে। নাউযূবিল্লাহ!

এরা ঠিক বালয়াম বিন বাউরার কায়ম-মাক্বাম। এদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইলিম কালাম দিয়েছিলেন সেটা ছলব হয়ে গেছে যেমন বালয়াম বিন বাউরার ইলম ছলব হয়ে গেছে এবং তাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুকুরের সাথে মেছাল দিলেন।

যেটা হযরত শায়েখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন। উনার সেই গোলেস্তা কিতাবে তিনি এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-

پسر نوح با بداں بنشست خاندان نبوتش گم شد+سگ اصحاب کھف روزے چند پی نیکاں گرفت و مردم شد.

হযরত শায়েখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী বযুর্গ। সোহরাওয়ার্দী তরীকার তিনি বিশিষ্ট মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী। সেই হযরত শায়েখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার ছেলে কিনান, কাফিরদের সাথে চলাচল করার কারণে নুবুওওয়াতী খানদান হারালো, ঈমান হারালো। আর ঠিক আছহাবে কাহাফ হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উম্মত সাতজন যুবক উনাদের ছোহবতে থাকার কারণে কি হলো? একটা কুকুর সেটা মানুষে পরিণত হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ! এর ব্যাখ্যায় হযরত শায়েখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের দিন বণী ইসরাইলের মালউন দরবেশ বালয়াম বিন বাউরার সূরতে আছহাবে কাহাফের সেই কুকুরটা জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ! আর বালয়াম বিন বাউরাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে কুকুরের মিছাল দিলেন, এই বালয়াম বিন বাউরা ঐ কুকুরের ছূরত সে ধারন করবে। নাউযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি যে তাকে কুকুরের মিছাল দিলেন সে ঐ আছহাবে কাহাফের যে কুকুর ছিলো সেই কুকুরের ছূরত সে ধারন করবে। নাউযুবিল্লাহ! এরা সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ কাজ করার কারণে এবং নিয়ামত থেকে সরে যাওয়ার কারণে এদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত বর্ষিত হয়, ইবলীস তাদের পিছনে লেগে যায়। ফলে তারা বিভ্রান্ত ও গোমরাহ হয়ে যায়। তাদের ঈমান তারা হিফাযত করতে পারে না। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-

انَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللّـهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا اولَـٰئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ الَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللّـهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ الِيمٌ اولَـٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এদের অর্থাৎ উলামায়ে সূদের বৈশিষ্ট হচ্ছে-

انَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللّـهُ مِنَ الْكِتَابِ

মহান আল্লাহ পাক তিনি যা কিছু নাযিল করেছেন পবিত্র কুরআন শরীফ, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা কিছু এনেছেন, তারা কি করে? সেটা তারা চুপিয়ে রাখে। এরা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কথা তারা বলে না। পর্দা করা ফরয তারা সেটা বলে না। এরা অপব্যাখ্যা করে থাকে। ছবি তোলা হারাম সেটা তারা বলে না।

إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللّـهِ الْإِسْلَام

মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম, সেটা তারা বলেনা।

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে তন্ত্র-মন্ত্র, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্রের কথা তারা বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! সম্মানিত ইসলাম উনার নামে হরতাল, লংমার্চ করা হারাম সেটা তারা বলে না, সেটা তারা চুপিয়ে রাখে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটাই ইরশাদ মুবারক করেন-

وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قليلا

এবং তারা মিথ্যা বলে। তার বিনিময় তারা কি করে? দুনিয়াবী সম্পদ তারা হাছিল করার চেষ্টা করে। মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন আয়াত শরীফ হুকুম-আহকাম মুবারক বিক্রি করে ও অপব্যাখ্যা করে তারা দুনিয়াবী সামান্য সম্পদ হাছিল করার চেষ্টা করে।

أُولَـٰئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ اِلَّا النَّارَ

এরা যে মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ নির্দেশ মুবারকসমূহ, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ নির্দেশ মুবারকগুলো চুপিয়ে রাখতেছে এবং সেটার বিনিময় অপব্যাখ্যা করে দুনিয়াবী টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত হাছিল করতেছে। এর দ্বারা কি করতেছে তারা?

اولـئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ الَّا النَّارَ

এরা তাদের পেটের মধ্যে জাহান্নামের আগুন ছাড়া কিছু ভরতেছেনা। এরা হারাম খাচ্ছে। এদের পেটের মধ্যে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! (অসমাপ্ত)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৭)

সম্পাদকীয়

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৬)