বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

সংখ্যা: ২৪৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না।

পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক।

ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!


 

দেশে প্রকৃত জনসংখ্যা কত তা যেমন কেউ জানে না, তেমনি জানা নেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ‘হিডেন হাঙ্গার’ কথাটি বেশ প্রচলিত হলেও সে সময় ক্ষুধার্ত মানুষ সনাক্ত বা তাদের কষ্ট লাঘবের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এরপর রাজনৈতিক দলীয় সরকার ক্ষমতাসীন হলে দ্রব্যমূল্যের খগড়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান না করা ইত্যাদি কারণে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ক্ষুধার্ত মানুষের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার ব্যাপারে নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করা হলেও জাতিসংঘ বলছে, বাংলাদেশে আড়াই থেকে তিন কোটি লোক প্রতিদিন পেট পুরে খেতে পায় না। বিপুল এ জনগোষ্ঠী ক্ষুধা নিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটায়।

অথচ খোদ রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে, বাস টার্মিনালে, রেল স্টেশনে ও নৌ টার্মিনালসহ জনসমাগমস্থলে ক্ষুধার্ত মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশুদেরকে খাবারের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি করতে দেখা যায়। ভিক্ষুক ও অন্যান্য সাহায্য প্রার্থী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সামর্থ্যবানরা ভিক্ষা কিংবা সাহায্য প্রদানে অনেকাংশে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। আয় ও সম্পদ বৈষম্য বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক ও বর্গাবাষীদের অনেককেই তিন বেলার জায়গায় সর্বোচ্চ দুই বেলা খেয়ে দিন গুজরান করতে হচ্ছে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর কয়েকজন গবেষক বলেছে, তাদের একাধিক গবেষণায় কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ ও বিপন্ন দশায় পতিত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এদিকে দেশে দারিদ্র্যের হার কমে আসছে সরকার পরিসংখ্যান দিয়েই এমন দাবি করছে। দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও যারা প্রকৃতই ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠী তাদের কোনোই কাজে আসে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, চলমান বিপুলসংখ্যক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির কারণে প্রকৃত অভাবী বা ক্ষুধার্ত মানুষগুলো বরাবরই এসব কর্মসূচির বাইরে রয়ে যায়।

দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু আছে এমন পরিবারগুলোর শতকরা ৭৫ ভাগের উপর খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। বেড়েছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা দুই-ই। দি ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিল্যান্স প্রজেক্টের (এফএসএনএসপি) আওতায় পরিচালিত এক জরিপের তথ্য এটি।

অপরদিকে বাংলাদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্যের সাথে চলতে গিয়ে রীতিমত হাঁপিয়ে উঠেছে। তারা এর প্রতিকার চেয়ে বিভিন্নভাবে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণের চেষ্টা করছে। জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল মিটিং করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকার জনগণের দাবি পূরণে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সম্প্রতি সরকারের দুই দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বালকোচিত বক্তব্য দেশবাসীর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছে, একদিন বাজারে না গেলে কি হয়? সাবেক আরেক মন্ত্রী বলেছে, আপনারা কম খান। তিনি হয় তো ভুলে গিয়েছিলেন, তার বাসায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত রান্না হলেও, তিনি যে দেশের মন্ত্রী সেই দেশের খাদ্য গ্রহণ প্রসঙ্গে এক নির্মম সত্য বের হয়ে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (ইফপ্রি) গবেষণায়। এ প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে ৫৪ জন অপুষ্টিতে মারা যায়। প্রয়োজনীয় খাদ্য না পাওয়ায় হাজারে ৪৩ জন শিশু বয়স অনুযায়ী বড় হয় না, যা বিশ্বের মোট বড় না হওয়া শিশুর ৪ শতাংশ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ২০০৯ সালে পরিচালিত বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা-পরিস্থিতি বিষয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে দুই হাজার ২২২ ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করে, এমন লোকের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লিখিত গবেষণার ফলাফল দেখার পর নিশ্চয়ই মন্ত্রী মহোদ্বয় আমাদের দেশের ক্ষুধার্ত মানুষের সাথে আর ঠাট্টা করবে না। আমরাও আশা করি, মন্ত্রীগণ, কথা নয় কাজের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা দেখাবে। দ্রব্যমূল্যের নির্মম কষাঘাত থেকে দেশবাসী রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এক্ষত্রে তারা ব্যর্থ হলে তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।


-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালিউর রহমান।।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক

এই মাস পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস ॥ অতএব, অতিসত্বর হারাম খেলাধুলা বন্ধ করা হউক। আশ্চর্যের বিষয়- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে হারাম খেলাধুলা করা হচ্ছে! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র রমাদ্বান মাসে এক মুশরিক ভারতকে নিয়ে আসার পর ফের আরেক কাফির দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে আসছে ক্রিকেট বোর্ড। বেছে বেছে খেলার শিডিউল ফেলা হচ্ছে সকল পবিত্র রাত ও দিনসমূহে। নষ্ট করা হচ্ছে মুসলমান উনাদের ধর্মীয় চেতনা, পবিত্র তারাবীহ’র নামায বিঘ্নিত হচ্ছে চিৎকার চেঁচামেচিতে। ৯৮% মুসলমান অধ্যুষিত দেশ বাংলাদেশে হারাম ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি নষ্ট করার নগ্ন চক্রান্ত পুরোপুরি স্পষ্ট, যা বাংলাদেশকে রহমতশূন্য করে গযবের দিকে ঠেলে দেয়ারও কারণ। এ জঘন্য চক্রান্তকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক