হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০২) হুসনুল খুলক বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

সংখ্যা: ২৪৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০২)

হুসনুল খুলক বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম


زهد (যুহ্দ উনার মাক্বাম) হাছিল করার উপায়

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

তারপর বিনা আওয়াজে পবিত্র আল্লাহ আল্লাহ লফ্য উনার যিকির মুবারক প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ঘণ্টা করতে থাকবে। তবে বেশি করতে পারলে ভালো। আর পবিত্র মুরাকাবার হালতে সির লতীফা উনার দিকে খেয়াল করে পবিত্র আল্লাহ আল্লাহ যিকির মুবারক করবে এবং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার  শরীফে আযীযী ইনকেছারী (অনুনয়-বিনয়) সহকারে ফরিয়াদ করবে- আয় খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক! আপনার এ সংসারী বান্দাকে সংসারের মায়া-মোহ, লিপ্সা, গোলামী থেকে মুক্তি দিয়ে আপনার প্রতি অনুরাগী এবং আপনার পবিত্র ইশ্ক ও মুহব্বত মুবারকে গড়ক বা বিভোর করে রাখুন।

সাথে সাথে যুহ্দ বা দুনিয়া বিরাগী উনার খিলাফ কোন কাজ করবে না। তাহলেই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই যুহদ উনার মাক্বাম হাছিল হবে। তার হালত, জজবা পয়দা হবে।

কাজেই যারা যিকির-ফিকির করে না, দুনিয়ার বদ তাছীর হতে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা-কোশেশ করেনা তারা কখনো দুনিয়া বিরাগী, সংসার বিরাগী হতে পারে না। বরং তারা দুনিয়াবী লোভ-লালসায় মত্ত হয়ে ইহ-পরকাল বরবাদ করে দেয়। আর নিজেকে যাহিদ বা দুনিয়া বিরাগী বলে মনে করে।

যুহদ উনার পরিচয়

 زهد যুহদ অর্থ: দুনিয়ার খাহেশ ত্যাগ করা এবং নিষিদ্ধ বিষয় ও বস্তু হতে বিরত থাকা। এই মাক্বাম হাছিলকারীকে যাহিদ তথা দুনিয়া বিরাগী বলা হয়।

বিশ্ববিখ্যাত লোগাত “আল মুনজিদ” উনার ৪৪৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, দুনিয়ার খাহেশ তরক করে ইবাদত বন্দেগীর জন্য ফারিগ হওয়াকে যুহদ বলে।

যুহদ উনার পরিচয় দিতে গিয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এক ব্যক্তি গ্রীষ্মকালে অত্যন্ত পিপাসার সময় পানি ঠাণ্ডা করার উদ্দেশ্যে কিছু বরফ সংগ্রহ করেছে। এমন সময় আর একজন লোক এসে তাকে বললো, দেখ ভাই! আমি তোমাকে এই বরফগুলোর পরিবর্তে সম পরিমাণ স্বর্ণ দিচ্ছি। তুমি তা নিয়ে এই বরফগুলি আমাকে দিয়ে দাও। তখন এই বরফের মালিক অবশ্যই এইরূপ চিন্ত করবে যে, বরফ গলনশীল পদার্থ। একটু পরেই তা গলে শেষ হয়ে যাবে। ইহার পরিবর্তে যদি চিরস্থায়ী এবং বরফ থেকে অধিক মূল্যবান স্বর্ণ পাওয়া যায় তাহলে ইহা আজীবন আমার নিকট থাকবে। অনেক উপকারে আসবে। ইহার বিনিময়ে নানারকম প্রয়োজনীয় এবং উপাদেয় বস্তু কিনে আজীবন পরম সুখে দিনাতিপাত করা যাবে।

বরফের পানিতে আমার ক্ষণিকের জন্য শান্তি হবে বটে; কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী শান্তিটুকুর লালসা পরিত্যাগ করে গরম পানি পানে পরিতুষ্ট থাকতে পারলে আজীবন মহাসুখে দিন যাপন করা যাবে। এরূপ চিন্তা করলে বরফমিশ্রিত ঠাণ্ডা পানি পান করার লালসা তার অন্তরে স্থান পাবে না। বরফ হতে উৎকৃষ্ট ও অধিক কল্যাণকর স্বর্ণের আশায় বরফকে পরিত্যাগ করা এবং উনার অস্থায়ী শান্তির লোভ পরিহার করাকেই زهد বা দুনিয়া বিরাগী বলা হয়।

বরফ সম্পর্কে বরফের মালিক যে কারণে ও যে প্রকারে বিরাগী হয়েছিলেন সংসার সম্পর্কে জ্ঞানী ও চিন্তাশীল ব্যক্তির দুনিয়া বিমুখতা সেই কারণে এবং সেইরূপে সৃষ্টি হয়ে থাকে।

চিন্তাশীল ও জ্ঞানী লোকেরা দুনিয়ার সাথে আখিরাতকে তুলনা করলে দুনিয়াকে আখিরাত অপেক্ষা অত্যন্ত তুচ্ছ ও অপদার্থ বলে বুঝতে পারে। কাজেই, সেই পরকালকে লাভ করার জন্য উনারা সন্তুষ্ট চিত্তে দুনিয়াকে বর্জন করতে পারেন। কাজেই, উনারা সংসারের প্রতি বিরাগী হয়ে উহাকে পরিত্যাগ করতঃ আখিরাতকে দৃঢ়রূপে আঁকড়িয়ে ধরেন। ইহাকেই প্রকৃত যুহদ বা দুনিয়া বিরাগ বলে। (ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, কিমিয়ায়ে সায়াদাত-৪/১৮৮)

এক ব্যক্তি আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে “ইয়া যাহিদ”  (হে সংসারত্যাগী মহা পুরুষ) বলে সম্বোধন করলেন। তদুত্তরে তিনি বললেন, আমি “যাহিদ” বা সংসারত্যাগী নই। আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিই হচ্ছেন প্রকৃত ‘যাহিদ’ তথা সংসারত্যাগী মহাপুরুষ। কেননা উনার হাতে প্রায় বিশ্বের সমস্ত ধনভাণ্ডার আছে। তিনি ইচ্ছা  করলে অনায়াসে ও অবাধে তা ভোগ করতে পারতেন। কিন্তু ইহা সত্তে¦ও তিনি সমস্ত ধন-সম্পদের মায়া ত্যাগ পূর্বক অতি সাধারণ জীবন-যাপন করতেছেন। কাজেই, তিনিই প্রকৃত সংসারত্যাগী, যাহিদ। আর আমার অধিকারে কোন ধন-সম্পদই নেই। আমাকে ধন-সম্পদের মোহ-মায়া ত্যাগ করতে হয় না। তাহলে আমি সংসার ত্যাগী, যাহিদ হলাম কিভাবে?

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৩) হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৮)

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৭)

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০১) হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০০)
হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।