যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)

সংখ্যা: ২৪৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা,

 সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে-

উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)


 পূর্ব প্রকাশিতের পর

ইবলীস প্রথম উলামায়ে ‘সূ’। সে লাঞ্ছিত হয়েছে, জাহান্নামী হয়েছে। তাকে যারা অনুসরণ করবে সেও জাহান্নামী হয়ে যাবে। তাহলে যারা মসজিদে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে বলতে চায়, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বলতে চায়, মহান আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বলার অর্থ হচ্ছে মাহন আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে বলা। নাউযুবিল্লাহ! কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى  اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْى يُوْحى

মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ছাড়া কোন কথা বলেন না। তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারকতো মহান আল্লাহ পাক উনারই কথা মুবারক। তাহলে মসজিদে দাঁড়িয়ে তারা কি মহান আল্লাহ পাক উনার ঘরে, মহান আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে বলতে চায়? মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বলতে চায়? আর যদি কেউ বলে, সে কি ঈমানদার থাকবে? কস্মিনকালেও সে ঈমানদার থাকবেনা। কাজেই এখনও সময় রয়েছে এদের ইস্তিগফার তওবা করা। কারণ যেখানে ফিঙ্গার প্রিন্ট তথা আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে, হাতের ছাপ রয়েছে, এখনও ইউরোপ আমেরিকায় অনেক জায়গায় ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে আমরা সেটা খোঁজ নিয়েছি। অনেক জায়গাতেই বড় বড় লকার রয়েছে, কিন্তু কোন চাবি নেই। এরা ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে তালা খুলে, তালা বন্ধ করে। যেমন কয়েকদিন আগে আমাদের এক লোক আসলো হংকং থেকে। সে হংকং-এ থাকে, সেখানে সে চাকরি করে। সে বললো, তারা যখন সে দেশে প্রবেশ করে, তার অফিসে সে যায়, কোন ছবির প্রয়োজন তার হয় না ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে একটা কার্ড তৈরী করা হয়েছে, ঐ কার্ডটা ওখানে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো হয়, সিগনাল দেয়, এটা ঠিক রয়েছে। তখন ওখানে গিয়ে দরজায় আঙ্গুলে ছাপ দেয়া মাত্রই দরজাটা খুলে যায়। এবং সে বললো, তার অফিসে অনেক বড় বড় লকার অর্থাৎ আলমারী রয়েছে অথাৎ সিন্দুক রয়েছে সেখানে ফিংগার প্রিন্ট দিয়ে সেগুলি খুলে  থাকে এবং বন্ধ করে থাকে। ঐ ফিংগার প্রিন্ট ব্যতীত কেউ সেটা খুলতে পারবে না। এখন ইহুদী নাছারারা, মুসলমান উনাদের তর্জ-তরীক্বা গ্রহণ করেছে। আর মুসলমান উনাদের জন্য আফসুস তারা ইহুদী নাছারাদের কর্তৃক পরিত্যক্ত তর্জ-তরীক্বা গ্রহণ করতেছে। কাজেই মুসলমান উনাদের সে বিষয়টা স্মরণ রাখতে হবে। যেহেতু ফিঙ্গার প্রিন্ট, আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে সব চলতে পারে। তাহলে ছবির কি প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ছবি বদলানো যেতে পারে, গলা কেটে পাল্টিয়ে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু ফিঙ্গার প্রিন্ট যেটা আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে তা কিন্তু কেউ পাল্টাতে পারবেনা। মহান  আল্লাহ পাক উনার কুদরত, মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি মানুষ। লক্ষ কোটি মানুষও যদি একসাথে করানো হয়, সকলেরই আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হয়, একটা ছাপের সাথে আরেকটা ছাপ কখনও মিলে না। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদার উনাদেরকে, মুসলমান উনাদেরকে ঈমান উনার উপর থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিতো সে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন ফিঙ্গার প্রিন্ট তোমরা আইডি কার্ড এর জন্য নিতে পারো। অর্থাৎ আইডেন্টি কার্ড যেটাকে বলে, পরিচয় পত্র, সেটার জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করো। তবে ভোটার কার্ড করা জায়িয নেই। কারণ সম্মানিত ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্মানিত শরীয়াত উনার দৃষ্টিতে গণতন্ত্র নির্বাচন এগুলো সব হারাম। আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মধ্যে সেই ফতওয়া দেয়া হয়েছে। তোমাদের যদি মুরাদ থাকে তাহলে তোমরা ফতওয়াটা খ-ন করে দাও। আমরা কালকেই গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফতওয়া দেয়া বন্ধ করে দিবো অন্যথায় আমরা এর বিরুদ্ধেই ফতওয়া দিবো তোমরা যত আইন জারি করো না কেন? এটা তোমাদের মনে রাখতে হবে, যেহেতু সম্মানিত ইসলাম উনার দৃষ্টিতে গণতন্ত্র ভোট নির্বাচন প্রত্যেকটাই হারাম। এটাকে হালাল যদি কেউ বলে সেও কাট্টা কাফির হয়ে যাবে। এটা মনে রাখতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَى اللّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا اَن يكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ اَمْرِهِمْ وَمَن يعْصِ اللّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا

কোন মু’মিন নর-নারী উনাদের জন্য এটা জায়িয হবে না। কি জায়িয হবে না? মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যে আদেশ মুবারক করেছেন, নিষেধ মুবারক করেছেন এর মধ্যে যদি কেউ নিজের মত প্রবেশ করায় তাহলে কি হবে? তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং সে প্রকাশ্য গোমরাহে গোমরাহ হয়ে যাবে বা বিভ্রান্ত হয়ে যাবে, ফলে সে জাহান্নামী হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ পাক উনার মত মুবারক উনার বিরোধিতা করলে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্ল্হাু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত মুবারক উনার বিরোধিতা করলে পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার উক্ত আয়াত শরীফ অনুযায়ী বিরোধীতাকারী প্রকাশ্য গুমরাহীতে গুমরাহ হয়ে যাবে। এটা মনে রাখতে হবে।

কাজেই এখানে নিজের মত পেশ করার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ মুসলমান দাবি করে, সে পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে থাকে, ঈমানদার দাবি করে তাহলে তাকে কি করতে হবে? তাকে তো মহান আল্লাহ পাক উনার মত মুবারক অনুযায়ী মত হওয়ার কোশেশ করতে হবে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ মুবারক অনুযায়ী পথ হওয়ার জন্য কোশেশ করতে হবে। কিন্তু এই সমস্ত বিভ্রান্ত শাসক যারা রয়েছে এরা আসলে উলামায়ে ‘সূ’দের দ্বারা বিভ্রান্ত। এরা মুনাফিকের দ্বারা প্ররোচিত। এই মুনাফিকরা

جدال الـمنافق بالكتاب

কিতাবের অপব্যাখ্যা করে আর মুনাফিকরা এই ফতওয়াগুলো সংগ্রহ করে উলামায়ে ‘সূ’ দের কাছ থেকে। উলামায়ে ‘সূ’রা ফতওয়া দেয়, মুনাফিকরা সেটা নাড়াচাড়া করে। শাসকদের কাছে পৌঁছায়ে দেয়। শাসকরা সেটা জারি করে। তাদেরতো পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোনো ইলম কালাম নেই। অর্থাৎ দ্বীনি ইলম তাদের কাছে নেই। তারা বুঝবে কোত্থেকে। এজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন-

فَاسْأَلُوْا اَهْلَ الذِّكْرِ اِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

তোমরা যারা জানো না, যারা জানেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও। অর্থাৎ যারা আহলে যিকির, আল্লাহওয়ালা, হক্কানী-রব্বানী আলিম উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও। (অসমাপ্ত)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৭)

সম্পাদকীয়

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৬)