সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ থাকবে, বিসমিল্লাহ থাকবে; কিন্তু ‘ইনশাআল্লাহ’ থাকবে না- এটা কেমন কথা?

সংখ্যা: ২০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

‘ইনশাআল্লাহ’ বলার ফযীলত বঙ্গবন্ধু থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজেও সাক্ষাৎ পেয়েছেন। সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ থাকবে, বিসমিল্লাহ থাকবে; কিন্তু ‘ইনশাআল্লাহ’ থাকবে না- এটা কেমন কথা?

‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখা’ আর ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা তো- হুবহু একই কথা। ‘বিসমিল্লাহ’ থাকবে কিন্তু ৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তনের নামে ‘ইনশাআল্লাহ’ উঠিয়ে দেয়া হবে- এটা তো দেশের শতকরা প্রায় ৯৭ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমান মেনে নিবে না।

পাশাপাশি এটা তো ‘কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না’- এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সরকারেরও কাজ হতে পারে না।

মনে রাখতে হবে, এদেশের জনগণ ‘বিসমিল্লাহ’ যেমন ভালবাসে; একইভাবে তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ও ধর্মের অঙ্গ হিসেবে অনুভব করে। তাদের সে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া কখনও প্রজ্ঞাসম্পন্ন কাজ হবে না।

 

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

তখন ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেছিলেন! এখন তাহলে কী বলবেন?

আপনি তখনও প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হননি। ৭৫-এর পর দেশ প্রত্যক্ষ করেছে একের পর এক সামরিক গণতন্ত্র থেকে স্বৈরাচারতন্ত্র। আপনি তখন সক্রিয় আন্দোলনের মাঠে-ময়দানে।

কিন্তু আপনার প্রতি জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বেগবান সমর্থন দেখে আপনি তখন বলে ফেলেছিলেন,

‘ইনশাআল্লাহ! আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবো।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

আপনার জানা রয়েছে, আপনার পিতা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুও বলেছিলেন, ‘এদেশকে স্বাধীন করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’

এদেশবাসী সবাই বিশ্বাস করে যে, বঙ্গবন্ধু সেদিন ইনশাআল্লাহ বলার কারণেই মাত্র ৯ মাসের মাথায় বিশাল পাক বাহিনীর মোকাবিলায় এদেশ স্বাধীন হয়েছিলো।

আর ইনশাআল্লাহ বলায় একবার নয়; দু’বার প্রধানমন্ত্রী

আপনি হলেন, সে তো নিজেই দেখতে পাচ্ছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

ইনশাআল্লাহ শব্দের অর্থ কী? ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনি যদি চান!’ অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছিলেন যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনি যদি চান তবেই আপনি প্রধানমন্ত্রী হবেন।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অবিচল আস্থা ও পূর্ণ বিশ্বাস থেকেই আপনি একথা বলেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

শুনতে পাচ্ছি এখন থেকে নাকি আপনি আর একথা বলবেন না, এমনকি সংবিধানেও  একথা রাখবেন না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

৭৫-এর সংবিধান সংশোধনী প্রত্যাহার হয়েছে তাতে তথাকথিত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হবে এটাও ভাল কথা।

তারপরও তাতে ‘বিসমিল্লাহ শরীফ’ থাকবে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ থাকবে সেটা আরো ভালো কথা।

কিন্তু আপনি কী আল্লাহ পাক বাঁচালে এ দেশের খিদমত আর করবেন না?

করতে চান না?

জনগণ তো তা বিশ্বাস করে না?

তাহলে সেক্ষেত্রে কী আপনার প্রতি আল্লাহ পাক উনার রহমত,

আল্লাহ পাক উনার চাওয়া- সমর্থন সেটা প্রয়োজনীয় মনে করেন না?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

আপনি কী আর সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস ব্যক্ত করবেন না?

আপনি কী আর ইনশাআল্লাহ বলবেন না?

ইনশাআল্লাহ আমরা বিশ্বাস করি, আপনি অবশ্যই ‘ইনশাআল্লাহ’ বলবেন।

কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

৭২-এর সংবিধানে ফেরার নামে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ উঠিয়ে দেয়ার নামে যে খোদ ‘ইনশাআল্লাহ’ উঠে যাবে।

‘পরম করুণাময় আল্লাহ পাক উনার নামে আরম্ভ করছি’ এই বাংলা বাক্যাবলীকে যেমন আরবীতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা হয় তেমনই ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’- এই বাংলা বাক্যাবলীর ভাবার্থ ও সংক্ষিপ্ত আরবীই হলো ‘ইনশাআল্লাহ’।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ রাখবেন কিন্তু ‘ইনশাআল্লাহ’ উঠিয়ে দিবেন সেটা কেমন হবে?

এদেশের শতকরা প্রায় ৯৭ ভাগ জনগোষ্ঠী ‘বিসমিল্লাহকে’ যেমন ভালবাসে, ‘ইনশাআল্লাহ’কেও তেমনিই অনুভব করে।

দোহাই আপনার! এদেশের শতকরা প্রায় ৯৭ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আপনি ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা’ হয়ে সে আঘাত করিয়েন না।

নব প্রজন্ম নয়; বরং দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী তথা মুসলমানগণ ‘কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না’-এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এবারে অধিক উৎসাহিত ও আকর্ষিত হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

তাই তারা কেউই যেন প্রতারিত না হয়। তারা যেন সংবিধানে একই সাথে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ইনশাআল্লাহ’ দুটোই পায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

আপনিও যাতে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত-পথ অনুযায়ী এদেশের খিদমত করার সুযোগ পান, আপনার নেক হায়াত দারাজ হয়, সেই দোয়াই করি ইনশাআল্লাহ।

‘কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজ যাতে আপনার দ্বারা না হয়’ সে দোয়াও করি ইনশাআল্লাহ।

আরো দোয়া করি এই ইনশাআল্লাহ যাতে সর্বস্থানে স্বমহিমায় সবিস্তারে থাকে,

তথা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেই যাতে আমরা দোয়া শেষ করতে পারি;

কথা শেষ করতে পারি;

সর্বোপরি আপনিও যাতে আবারো বলতে পারেন ইনশাআল্লাহ।

 

-মুহম্মদ আলম মৃধা।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক