অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে স্থায়ী বিপর্যয়ের মুখে রাজধানী ঢাকা। বিকেন্দ্রীকরণ একমাত্র সমাধান জানার পরও সরকার গ্রহণ করছে নানা ব্যর্থ কর্মপরিকল্পনা; ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ কোটি টাকা। সরকারের কাণ্ডজ্ঞান উদয় হবে কবে?

সংখ্যা: ২৬৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

কোনোপ্রকার পরিকল্পনা ছাড়াই নগরের কথিত উন্নয়ন করা হচ্ছে। নগরে প্রতি বছর মানুষ বাড়ছে গড়ে ৩ শতাংশের উপরে। আর ঢাকা মহানগরীতেই প্রতি বছর নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে ৫ শতাংশের মতো। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশের আবাস এ নগরী। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঞ্চালক হওয়ায় মোট কর্মসংস্থানেরও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখানে। বিপুল এ চাপ সামলাতে নগর উন্নয়নে যে পরিকল্পনা দরকার, ঢাকার ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। প্রশস্ত সড়ক নেই। খোলা জায়গারও অভাব। অবকাঠামোকেন্দ্রিক উন্নয়নে উপেক্ষিত পরিবেশ-প্রতিবেশ। নীরাশয় ও নিম্নাঞ্চল ভরাট করে গড়ে উঠছে আবাসন ও শিল্প।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক কর্মকা-, বাজারের চাহিদা ও বিশ্বায়নের প্রভাবে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ প্রতি বছরই বাড়ছে। রাজধানীতে বাস করছে দুই কোটির বেশি মানুষ। মাত্র ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তারা বাস করছে। এ বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলে কোনো অঞ্চলেই সঠিক পরিকল্পনায় ফুটপাত হয়নি। পর্যাপ্ত সড়কও নেই। অপর্যাপ্ত সড়কে অস্বাভাবিক গাড়ির চাপে এক দশকে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে মাত্র সাত কিলোমিটারে। যার মূল কারণই হচ্ছে যানজট। আর যানজটের মূল হচ্ছে জনজট। যানজটে বছরে ক্ষতি হচ্ছে ১ লাখ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৩ শতাংশ। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় এরই মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে ৬৬টি ফুট ওভারব্রিজ। কিন্তু সঠিক স্থানে না হওয়ায় পথচারীরা সেভাবে ব্যবহার করছে না তা। ফুট ওভারব্রিজের পাশাপাশি রয়েছে তিনটি আন্ডারপাস। ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি ফ্লাইওভার, ৩টি আন্ডারপাস নির্মাণ, ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ জোড়া ডেমু ট্রেন, ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি ওয়াটার বাস, বিআরটিসির ৪২টি আর্টিকুলেটেড এবং ৩০৩টি ডাবল ডেকার বাস কেনা হয়েছে। কিন্তু এগুলো কোনো প্রকার কাজে আসছে না নগরবাসীর।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার উন্নয়নে কাজ করছে সরকারের আট মন্ত্রণালয়ের ২৬টি বিভাগ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সমন্বয়ের বড় ধরনের ঘাটতি। ফলে পানিবদ্ধতা, যানজট ও অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না ঢাকাবাসী। একের সংস্থা এসে একেক ধরনের প্রজেক্ট শুরু করে সেটা অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যাচ্ছে। পরবর্তীতে আরেক সংস্থা এসে সেই অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ না করেই নতুন করে প্রকল্পের কাজ শুরু করছে। ফলে পুরো রাজধানী একটি যুদ্ধবিধ্বস্থ ও অকার্যকর রাজধানীতে পরিণত হচ্ছে।

অপরিকল্পিত উন্নয়নের ছাপ দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মহানগরী চট্টগ্রামেও। নগরীতে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি উড়ালসড়ক ও একটি ওভারপাস নির্মাণ হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিটি আউটার রিং রোড ও নীরাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের কাজও চলছে। ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকায় লালখান বাজার থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে। এর বাইরে গত কয়েক বছরে শত শত কোটি টাকায় আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে আমরা মনে করি সমন্বয়হীন উন্নয়নের কারণে এসব প্রকল্পের সুফল আদৌ মিলবে না।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর প্রধান তিনটি সমস্যা হলো, পানিবদ্ধতা, যানজট, অব্যবস্থাপনা এবং বসবাসযোগ্য সমস্যা। যার একটিই কারণ হচ্ছে রাজধানীমূখী সারাদেশের চলমান চাপ। প্রতিদিন সারাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজধানীতে আসছে তাদের নিত্যনতুন চাহিদা পূরণে। রাজধানীতে এসে অধিকাংশই বসবাস শুরু করছে। ফলে প্রতিবছর রাজধানীতে ৫ লাখ করে লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দৈনিক আল ইহসান শরীফের পর্যবেক্ষণে প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার যে উড়ালসড়কগুলো নির্মাণ করছে, তা কি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ছিল? মূলত, জনগণের কল্যাণের জন্য নয় বরং বাহবা কুড়ানো ও প্রিয়পাত্র হওয়ার জন্য বড় বড় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। হাজার কোটি টাকার ফ্লাইওভারে দিনে পাঁচশত গাড়িও ওঠে না। অপরদিকে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়ন হচ্ছে না দেশের প্রায় কোনো পৌরসভারই। যে উন্নয়ন হচ্ছে, তা মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই।

বলার অপেক্ষা রাখেনা, সারাদেশ থেকে মূলত মানুষ রাজধানীতে আসে কর্মের খোঁজে, প্রশাসনিক কাজে, বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে, স্বাস্থ্যসেবা নিতে, আইনি সেবা ইত্যাদি নেয়ার জন্য রাজধানীতে আসছে। আর সেক্ষেত্রে সরকার যদি রাজধানীকে বিকেন্দ্রীকরণ করে, তাহলে এই জনজট তথা যানজট বা অব্যবস্থাপনা সারাদেশে ভাগ হয়ে যায়। যদি রাজধানীর বড় বড় হাসপাতাল, কলকারখানা, চাকরিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি বিভিন্ন কার্যালয়, আইনি কার্যালয় ইত্যাদি দেশের প্রত্যেকটি জেলায় ছড়িয়ে দেয়, তাহলে মানুষ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না হয়ে সেসব জেলাগুলোতেও ছুটবে। এতে করে চাপ কমে আসবে রাজধানীর উপর এবং যানবাহন সংখ্যাও কমে গিয়ে রাজধানীর জন্য সহনীয় হয়। এতে আর সরকারের সড়ক উন্নয়ন ও যানজট নিরসনের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর জন্য আলাদাভাবে প্রতি বছর বাজেটে লাখো কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে না।

দেশের প্রতিটি জেলায় যদি সঠিক ও পরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তাহলে হয়তো নির্দিষ্ট কিছু বড় শহরগুলোতে কাজের খোঁজে যাওয়া লোকের সংখ্যা কমে আসত। অথচ এ বিষয়ে সবাই যেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সবাইকেই সরব হতে হবে।

কারণ, রাজধানীকে বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় নিয়ে এসে দেশের সব বিভাগ ও জেলায় ভাগ করে দেয়া হবে তখন দেখা যাবে যে, উন্নয়নের সুফল দেশের সর্বত্র পৌছে যাবে। উন্নত হবে দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলাগুলোও। যা দেশের অর্থও মজবুত করে তুলবে।

-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)