হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “ফাসিকের প্রশংসা করলে আল্লাহ্ পাক-এর আরশ কাঁপে।” ফাসিক বলতে সাধারণতঃ দুনিয়াদার, আমলহীন তথা গুনাহ্র আমলে লিপ্ত সাধারণ মানুষকেই আমরা বুঝে থাকি। কিন্তু যারা আলিম নামধারী অথবা যারা আলিমের ছদ্মাবরণে ইসলামের নামে ইসলাম বিরোধী কাজ করে, ইসলামকে বিকৃত করে, ইসলামের নামে ব্যবসা করে, নফসের স্বাদ আস্বাদন করে, পুঁজি-প্রতিপত্তি গড়ে তোলে, তারা মূলতঃ সাধারণ ফাসিক থেকেও অপেক্ষাকৃত বেশী ঘৃণ্য। হাদীস শরীফের পরিভাষায় এদের বলা হয়েছে ‘উলামায়ে ‘ছূ’ তথা দাজ্জালে কায্যাব।’ এদের কর্মকান্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘তারা এমন সব কথা বলবে যা তোমরা শোননি, তোমাদের বাপ-দাদা চৌদ্দগোষ্ঠী শোনেনি।” যেমনটি এদের পরিচয় দেয়া হয়েছিলো গত সংখ্যায়। বাদশাহ্ আকবরের আমলে এসব উলামায়ে ছূরা যে কত জঘন্য, স্পর্ধাজনিত, আশ্চর্য রকমের ঘৃণ্য তথা হারাম কাজ বড় ও শ্রদ্ধাস্পদ আলিমের ছদ্মাবরণে করেছিলো তা ভাবতে এখনও গা শিউরে উঠে। বাদশাহ্ আকবরকে ‘আল্লাহ্’ বলে আখ্যা দেয়া, আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেদুঈন সর্দার বলে আখ্যা দেয়া, সিজদা প্রথা চালু করা, মদ বিক্রি জায়িয করা,গরু যবেহ্ হারাম করা, বাঘ-ভল্লুক হালাল করা, মৃতদেহ পূর্বমূখী করে দাফন করা, নামায নিষিদ্ধ করা, আগুন পূজা জায়িয করা ইত্যাদি হাজারো অনৈসলামিক কাজকে জায়িয আর জায়িয কাজকে না-জায়িয করার ব্যাপারে যেসব আলিম নামধারী তথা উলামায়ে ছূদের মুখ্য ভূমিকা ছিলো তাদের মাঝে মুল্লা মুবারক নাগোরী তার পুত্রদ্বয় আবুল ফজল, ফৈজী, শেখ্ আব্দুন্ নবী, মুল্লা আব্দুল্লাহ্ সুলতানপুরী ওরফে মখদুম উল মূলক ইত্যাদির নাম অগ্রগণ্য। কাজেই ইসলামের আলোকে যদি মূল্যায়ন করতে হয় তাহলে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এরা হাদীস শরীফের ভাষায় দাজ্জালে কায্যাব। এরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যোগ্য। ‘ফাসিকের প্রশংসা করলে যদি আল্লাহ্ পাক-এর আরশ কাঁপে’ তাহলে এদের ক্ষেত্রে অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ। কিন্তু তারপরেও সে যুগে কেবল বাদশাহ্ আকবরই নয়, এদের সমগোত্রীয় অনেক আলিম নামধারী তাদের অনুসারী এমনকি অনেক সাধারণ মানুষও এসব দাজ্জালে কায্যাবদেরই মূল্যায়ন করেছে। তাদেরই মর্যাদা দিয়েছে। এমনকি ইতিহাসের পাতাও তাদের মর্যাদাপূর্ণ আসন দিয়েছে। অনেক ইতিহাসের কিতাবেও তার প্রমাণ রয়েছে। নিম্নে একটি মশহুর ঐতিহাসিক কিতাব খাজা নিযামুদ্দীন আহমদ কর্তৃক উলামায়ে ‘ছূ’দের সমর্থনকারী সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ‘তাবাকাত-ই-আকবরী’ থেকে ইতোপূর্বে বর্ণিত দাজ্জালে কায্যাবদের সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ণ তুলে ধরা হলো- উলামায়ে ‘ছূ’দের সমর্থনকারী সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ‘তাবাকাত-ই-আকবরীর’ ভাষ্য : শেখ আবুল ফজল শেখ মুবারকের সুযোগ্য পুত্র। সর্বপ্রকার বিজ্ঞানেই তার গভীর জ্ঞান আছে। আর তার নৈতিকতার মহত্ব, তার বৈশিষ্ট্যের মর্যাদা আর তার স্বাভাবিক ও অর্জিত গুণাবলী ছিল সীমাহীন ও অপর্যাপ্ত। এই যুগের বর্তমানে তার জন্য গৌরববোধ করার যথেষ্ট কারণ আছে। যারা সম্রাটের সর্বাপেক্ষা নিকট অবস্থান করছে, তিনি তাদের অগ্রগণ্য। আর তিনি রাষ্ট্রের বিশ্বাসভাজন এবং সাম্রাজ্যের একটি স্তম্ভ। তিনি অতি মহান, পবিত্র ও বিশুদ্ধ ভাবধারার এবং ফেরেশ্তাদের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি মহান পুস্তকাবলী রচনা করেছেন। তিনি ‘আকবরনামা’ নামক পুস্তকটি সম্পূর্ণ করেছেন, যাতে তিনি মহান খলিফা-ই-ইলাহীর রাজত্বকালের ঘটনাবলী এবং বিজয়সমূহ ফারসী গদ্যের ধরনে লিপিবদ্ধ করেছেন, যাকে আধ্যাত্মিকতার ইতিহাস বলা যেতে পারে। তিনি আরও কতিপয় পুস্তক লিখেছেন। যেমন, আয়ার-ই-দানিশ, রেসালা-ই-ইখলাক ইত্যাদি। অথচ পাঠক! প্রকৃত ইতিহাস হলো- এই আবুল ফজলের আক্বীদা ছিল যে, সে হানাফী, হাম্বলী, মালেকী শাফেয়ী চারটি মাযহাবকেই অস্বীকার করত। তাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করত। নাউযুবিল্লাহ। তার সামনে যখন ইমাম বাকেল্লানী, ইমাম হালওয়াবী, ইমাম গায্যালী এবং ইমাম রাযীর ন্যায় মুজতাহিদগণের কোন বক্তব্য উদ্ধৃত করতেন, তখন আবুল ফজল বলতেন, “আমার সামনে ঐ সমস্ত মিষ্টান্ন বিক্রেতা ও চর্মকার ইত্যাদির কথা বলবেন না।” তিনি নিজেকে তাদের চেয়ে উত্তম মনে করতেন। অথচ এই আবুল ফজল আকবরকে এ মর্মে অবহিত করেন যে, ডাক্তারের পরামর্শে স্বাস্থ্য রক্ষার তাকীদে মদপান করা যেতে পারে। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী সকলের মদপ্রাপ্তির সুবিধার জন্য বাদশাহ আকবর তার প্রাসাদের নিকট মদের দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। নববর্ষের ভোজে আকবর উলামা, কাযী ও মুফতীগণকে মদ পানের জন্য উৎসাহিত করতেন। শায়খ-উল-ইসলামের পৌত্র খাজা ইসমাঈল নামক জনৈক নামধারী বিখ্যাত আলিম এ সময় মাত্রাতিরিক্ত মদ পানের ফলে মৃত্যুবরণ করেন। মদ ছাড়াও আবুল ফজল বাদশাহ্ আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহীর সব কুফরী মতবাদকে স্বীকার করেন ও সক্রীয় সহযোগিতা করেন। উলামায়ে ‘ছূ’দের সমর্থনকারী সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ‘তাবাকাত-ই-আকবরীর’ ভাষ্য – মুল্লা আব্দুল্লাহ সুলতানপুরী মহান জিন্নাত আশিয়ানী তাকে মখদুম-উল-মূলক উপাধি দান করে অন্যান্য পন্ডিত ব্যক্তিদের উপরে তার মর্যাদা দান করেছিলেন। ফিকাহ (আইন ও হাদীস) শাস্ত্র সমূহে তিনি অন্যান্যদের উর্ধ্বে ছিলেন। মহান খলিফা-ই-ইলাহীর রাজত্বকালে তিনি প্রচুর সম্পত্তি ও সম্পদ সংগ্রহ করেন। ফলে তার ইন্তিকালের পর তার কোষাগার হতে তিন কোটি স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া যায়। মক্কা হতে প্রত্যাবর্তনের পথে গুজরাটের আহমেদাবাদে তিনি ইন্তিকাল করেন।পাঠক! উলামায়ে ‘ছূ’গংরা মাখদুম-উল-মূলকের প্রচুর সম্পদের কথা স্বীকার করলেও তার কালো দিকটি তারা চেপে গেছে। প্রকৃত ইতিহাস হলো- অসৎ আলিমদের অন্যতম মখ্দুম-উল-মূলক স্বীয় সম্পদ সংরক্ষণের জন্য যাকাত না দেয়ার উদ্দেশ্যে একটি অভিনব পন্থা আবিস্কার করেন। বৎসরের শেষের দিকে তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি স্বীয় স্ত্রীর নিকট অর্পন করতেন এবং তা শেষ হওয়ার পূর্বেই আবার ফিরিয়ে নিতেন। একই রূপে শাহী দরবারের অন্যতম প্রভাবশালী আলিম শায়খ আবদ-উন্-নবী যাকে আকবর খুবই সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন, যাকাত না দেয়ার উদ্দেশ্যে তিনিও এই প্রথা অনুসরণ করেন। এছাড়া তারা উভয়েই বাদশাহ্ আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহী প্রচারে পূর্ণ সহযোগিতা চালান। উলামায়ে ‘ছূ’দের সমর্থনকারী সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ‘তাবাকাত-ই-আকবরীর’ ভাষ্য – শেখ আবদুন নবী শেখ আবদুন নবী ছিলেন দিল্লীর অধিবাসী এবং শেখ আব্দুল কুদ্দুসের পৌত্র। মহান খলিফা-ই-ইলাহী তাকে অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন এবং তাকে সদর-ই- সুদর (প্রধান বিচারপতি) নিযুক্ত করেন, আর দশ বৎসর কাল ধরে তিনি সমস্ত সাম্রাজ্যের সর্বপ্রকার বিচার সংক্রান্ত বিষয় সমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। অথচ প্রকৃত ইতিহাস বলে, হযরত শাহ্ আবদুল কুদ্দুস গংগুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পৌত্র মাওলানা আবদুন নবী ছিলেন দরবারের এক বিশিষ্ট মর্যাদা লাভ করে। তাঁকে একজন বড়ো মুহাদ্দিস রূপে গণ্য করা হতো। স্বয়ং বাদশাহও তাঁকে বিশেষ তা’জীম করতেন। হিন্দুস্থানের সমস্ত উলামাগণের জায়গীর ইত্যাদি দান করার ভার তাঁর উপর ন্যস্ত ছিলো। কিন্তু তাঁর ইল্মের দৌঁড় এতটুকু ছিলো যে, তিনি একটি হাদীসও ভালোভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না। উল্লেখিত মখ্দুম-উল-মূল্ক ও আবদুন্ নবীর মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষ বশতঃ সর্বদাই মতানৈক্য চলতে থাকে এবং উভয়েই একে অন্যের পিছনে নামায পড়া দুরস্ত নয় বলে ফতোয়া দিতেন। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার এই যে, বাদশাহ্ আকবর স্বীয় যামানার এইসব নামধারী উলামাগণকে ভক্তির আতিশয্যে ইমাম রাযী ও ইমাম গায্যালী রহমতুল্লাহি আলাইহি অপেক্ষাও উত্তম বলে ধারণা পোষণ করতেন। আর তারা বাদশাহ্ আকবরকে তার দ্বীন-ই-ইলাহী প্রচারে পূর্ণ সাহায্য করে। উলামায়ে ‘ছূ’দের সমর্থনকারী সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ‘তাবাকাত-ই-আকবরীর’ ভাষ্য – শেখ মুবারক নাগোরী শেখ মুবারক নাগোরী ছিলেন একজন প্রগাঢ় জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব ও শেখ গণের অন্যতম। আল্লাহ্ পাক-এর প্রতি নির্ভরতায় তার অবিচল আস্থা ছিল। তার প্রথম জীবনে তিনি খতিব ফযল কাযরুনী এবং গুজরাটে মৌলানা ইমাদ তারমীর সহপাঠী ছিলেন। তার জীবনের শেষভাগে তিনি চারখন্ডে আরবী ভাষায় একটি তাফসীর (কোরআনের ব্যাখ্যা) পুস্তক রচনা করেন। তিনি এর নাম দেন ‘মমবা-ই-আউন’, এটা তাফসীর-ই-কবির এর অনুরূপ পুস্তক; আর তাছাড়া তার অন্যান্য মহান গ্রন্থও আছে। পঞ্চাশ বৎসরকাল তিনি আগ্রায় শিক্ষাদান কার্যে এবং শিষ্যগণকে উপদেশ দানে নিয়োজিত ছিলেন। তার উৎকর্ষতার প্রতীকরূপে তিনি যে পুত্রগণকে রেখে যান তারা চরম উৎকর্ষতা লাভ করেন এবং তারা এই যুগের গৌরব, যেমন আল্লামা শেখ আবুল ফযল এবং কবিদের রাজা শেখ আবুল ফয়েয, ফৈযী এবং শেখ আবুল খায়ের ইত্যাদি। তিনি বলতেন যে তিনি তার পুত্রদের প্রকৃতি অনুযায়ী তাদের নামকরণ করেছেন।
অথচ প্রকৃত ইতিহাস বলে, উলামায়ে ‘ছূ’র জামায়াতের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ব্যক্তি ছিলেন, মোল্লা মুবারক নাগোরী ও তাঁর বিখ্যাত দুই পুত্র আবুল ফপল ও ফৈজী। এই মোল্লা সাহেব ছিলেন একজন তথাকথিত বড় আলিম তিনি মা’কুলাত, ইল্মে ফিক্বাহ ও উছূল ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখতেন বলে দাবী করতেন। তিনি চার মাযহাবের মতভেদ ওয়াকেফ্ হওয়ার পর গায়ের মুকাল্লেদ হয়ে যান। অতীব আশ্চর্যের বিষয় এই যে, পূর্বে এই মোল্লা সাহেব শেরশাহ ও তাঁর পুত্রের অনেক পীড়া-পীড়ি সত্ত্বেও সামান্য হাদিয়াও কবুল করেননি। কিন্তু বাদশাহ আকবরের যামানায় তিনি তাঁর দুই পুত্রের সহায়তায় রাজনীতিতে যোগদান করে উলামাগণের উপর ব্যক্তি প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে হিন্দুস্থানের সুন্নী উলামাদেরকে তথা দ্বীন ইসলামকে আঘাত করেন। ফলকথা শাহী দরবারে আবুল ফযল ও ফৈজীর ফিৎনা ও উলামায়ে ‘ছূ’র ফিৎনা এবং তার সাথে মোল্লা মুবারক নাগোরীর সক্রিয় সমর্থনে গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতার দ্বার খুলে যায় এবং সুযোগমত বাদশাহ আকবরও নির্বিঘেœ তাঁর মসনদ রক্ষার্থে দ্বীন-ই-ইলাহী প্রচারের সাহস ও সুযোগ পান। মূলতঃ উলামায়ে ‘ছূ’দের সমর্থনকারী সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ‘তাবাকাত-ই-আকবরী’র ঐতিহাসিক এ দলীল একটি জিনিস বিশেষভাবে প্রতিভাত করে। তাহলো- যারা উলামায়ে ‘ছূ’ তারা হারামগুলোকে হালাল করে ইসলামের নাম দিয়েই। তার সাথে যুক্ত করে যুগের দোহাই। অর্থাৎ তাদের বলার ধরণটা হয় এ যুগের প্রেক্ষাপটে ইসলামে বর্ণিত হারাম এখন হালাল হবে আর হালালটা এখন হারাম হবে। যেহেতু এই হারামকে হালাল তারা ইসলামের নামেই করে সেহেতু সাধারণ মানুষ তাই মেনে নেয়। মহান আল্লাহ্ পাক এদের সম্পর্কে বলেন, ‘তোমরা অল্প মূল্যে আল্লাহ্ পাক-এর আয়াত শরীফকে বিক্রি করোনা।’
কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। উলামায়ে ‘ছূ’রা স্বভাবতঃই তাদের স্বার্থ হাছিলের জন্য আয়াত শরীফের বিকৃত অর্থ করে হারামকে হালাল করে। যেমনি বাদশাহ্ আকবরের আমলে করেছে তেমনি আজকের যুগেও করছে।
আজকের যুগের উলামায়ে ‘ছূ’রাও বাদশাহ্ আকবরের আমলের মখদুম-উল-মূলক, শেখ আবুল ফজল, শেখ আব্দুন্ নবী, মোল্লা মুবারক নাগোরীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তারা শাইখুল হাদীস দাবী করেও ছবি জায়িয করছে, ভুল মাসয়ালা দিয়ে ইসলামী মাসিক প্রচার করছে, নারী নেতৃত্ব জায়িয করে ফতওয়া দিচ্ছে, মৌলবাদ সমর্থন করে জিহাদ বলে চেচাচ্ছে। মূলতঃ এসব কিছুই তারা করছে গণতন্ত্র তথা জুমহুরী জায়িয করার প্রেক্ষিতে। অর্থাৎ হাজারো হারামের সমাহারে বাদশাহ্ আকবর যেমন করেছিলো দ্বীন-ই-ইলাহী তেমনি তারা করছে দ্বীন-ই-গণতন্ত্র তথা দ্বীন-ই-জুমহুরী। অথচ তারা শাইখুল হাদীস, মাওলানা, মুফতী ও সিলসিলার পীর ছাহেব বলে দাবী করছে। আবার অনেকে তাদের সম্মানও করছে। কিন্তু তাদের সম্মান আল্লাহ্ পাক-এর আরশ কাঁপানো ফাসিককে সম্মানের চেয়ে ভয়াবহ। যদিও তারা মনে করছে বাদশাহ্ আকবরের মতই সরকার তাদের সম্মান করছে, সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, ইতিহাসের পাতায় তারা মূল্যায়িতও হবে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের এই মূল্যায়ণ হবে বাদশাহ্ আকবরের আমলের উলামায়ে ছূদের মত মূল্যায়ণ পাওয়া। হাক্বীক্বত তাবাকাত-ই-আকবরীর মত ইতিহাসে পাওয়া স্থান। মহান আল্লাহ্ আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দববারে তাদের অবস্থান নিকৃষ্ট স্তরে। হাদীস শরীফে তাই ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই সৃষ্টির সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট হলো নামধারী আলিম তথা উলামায়ে “ছূ।”
– মুহম্মদ কাওছার জামান, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে