‘সূরা ইউসূফ’ বর্ণনার শেষে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমান, “নিশ্চয়ই এ কাহিনীতে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য উত্তম নছীহত।” এ আয়াত শরীফের তাফসীরে মুফাস্সিরীন-ই-কিরামগণ বলেছেন যে, পূর্ববর্তীদের ঘটনাসমূহ পরবর্তীদের জন্য নছীহত স্বরূপ।
প্রসঙ্গতঃ এ কলামের প্রেক্ষিতেও হযরত মুযাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর যামানার উলামায়ে ‘ছূ’দের সাথে বর্তমান পনের হিজরী শতকের মুযাদ্দিদ, ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, আওলার্দু রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর যামানায় অর্থাৎ বর্তমান সময়ের উলামায়ে ‘ছূ’দের সাদৃশ্য উল্লেখ করে আমরা নছীহত হাছিলের অবকাশ পাচ্ছি। একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় যা ইতোপূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বাদশাহ্ আকবরের আমলের উলামায়ে ‘ছূ’দের অনেকে বিশেষতঃ তাদের মূল হোতা মোল্লা মুবারক নাগরী ও তার দু’পুত্র আবুল ফজল, ফৈজী; যারা এক সময় খুব পীড়াপীড়ি করা সত্ত্বেও সামান্য হাদিয়াও গ্রহণ করতোনা, তারাই পরবর্তীতে নফ্সের তাড়নায়, শয়তানের ওয়াস্ওয়াসায়, যামানার মুযাদ্দিদ হযরত মুযাদ্দিদে আল্ফে ছানি রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বিরোধিতা করে এমন লা’নতগ্রস্ত হয়; যার ফলশ্রুতিতে তারা এতটা অর্থ ও ক্ষমতা লোভী হয় যে, সে বিত্ত ও প্রতিপত্তির মোহে সূর্য পূজা, গোপূজা করা, গো গোশত না খাওয়া, শুকরের গোশত খাওয়া, শরাব খাওয়া প্রভৃতি কাজকে জায়িয ও আবশ্যকীয় করার পাশাপাশি নামায, যাকাত, হজ্ব অস্বীকার করা ইত্যাদি কুফরী কাজ সম্বলিত বাদশাহ্ আকবর প্রবর্তিত দ্বীনে ইলাহীর শীর্ষস্থানীয় প্রবক্তা হয়ে দাঁড়ায়। তদ্রুপ বলতে হয় যে, আজকের শাইখুল হদস, তথাকথিত মুফতি, মাওলানা, খতীব ছাহেবরাও বর্তমান যামানার মুযাদ্দিদ, ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, আওলার্দু রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর বিরোধিতা করার কারণে, তাঁর নামে অপপ্রচার করার ফলে আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে লা’নতগ্রস্ত হয়ে এতটা গোমরাহ্ হয়ে গেছে যে, নিজেদের দেয়া ফতওয়া ও নিজেদের লিখা আমল থেকে নিজেরাই অতি আশ্চর্যজনকভাবে বিচ্যূত হয়ে গেছে। বরং তারা এতদূর পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং এতটুকু ক্ষমতা ও অর্থের মোহগ্রস্ত হয়েছে যে, দ্বীন ইসলাম ছেড়ে দিয়ে তারা ইহুদী, নাছারা, হিন্দুদের কর্মসূচী তথা ছবি তোলা, হরতাল, লংমার্চ, ব্লাসফেমী, মৌলবাদ, কুশপুত্তলিকা দাহ্ ইত্যাদির সমাহারে দ্বীনে জুমহুরী তথা দ্বীনে গণতন্ত্র প্রচলনে পূর্ণ মাত্রায় নিজেদের নিবেদিত করেছে।
উল্লেখ্য, কুরআন শরীফে, হাদীস শরীফে শরাব খাওয়া স্পষ্ট হারাম থাকলেও বাদশাহ আকবরের আমলের উলামায়ে ‘ছূ’দের মুখপাত্র আবুল ফজল তা সে সময়ের জন্য জায়িয বলেছিল। তদ্রুপ আবুল ফজলের বর্তমান উত্তরসূরী তথাকথিত শাইখুল হাদীস তথা শাইখুল হদসও ‘কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে পর্দা করা ফরয বলা হলেও, বেপর্দা হওয়া হারাম বলা হলেও উক্ত শাইখুল হদস বর্তমান সময়ে বেপর্দা নারীর সাথে সামনাসামনি বসে বৈঠক করা, একই মঞ্চে বসা, একই গাড়ীতে পাশাপাশি আসন গ্রহণ করাকে জায়িয করছে। অথচ এই পর্দা পালন সম্পর্কে শাইখুল হদস তার রচিত “আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা” নামক বইয়ে কি জোরালো বক্তব্য রেখেছে তা আমরা গত ১১৬তম মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় দেখেছি। সে লিখেছে- “সারকথা, যেসব স্ত্রীলোকেরা ভণ্ড, নামধারী পীর-ফকীরদের (তথা শাইখুল হদসের) সামনে আসেন তারা কঠিন গুণাহে লিপ্ত। আর এ জাতীয় পীর-ফকীর (তথা শাইখুল হদস আজিজুল হক) কস্মিনকালেও দ্বীনদার হতে পারে না। বরং এরা স্পষ্ট ভণ্ড ও ফাসিক। কাজেই কোন অবস্থাতেই এদের মুরীদ হওয়া জায়িয হবেনা। দুর্ভাগ্যবশতঃ যদি কেউ এদের খপ্পরে পড়ে মুরীদ হয়ে গিয়ে থাকে তাদের জন্য আবশ্যক হবে, এদের (বর্তমান শাইখুল হদসের) বাইয়াত ছেড়ে দিয়ে হক্কানী ও দ্বীনদার আলিম বা পীর-মুর্শীদের শরণাপন্ন হওয়া।”(আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা, ৭৮, ৭৯ পৃষ্ঠা)
কিন্তু হতাশার বিষয় হলেও সত্য যে, শাইখুল হদসের প্রিয় ছাত্ররা শাইখুল হদসের এরূপ শক্ত নির্দেশ মানতে আদৌ গা করছেনা। অথচ শাইখুল হদসের বক্তব্য ও লিখনী মুতাবিকই তার আনুগত্য ও অনুসরণ বর্তমানে ছেড়ে দেয়া যে কত ভীষণ জরুরী তা তথাকথিত শাইখুল হাদীস আজিজুল হক-এর নিজের রচনা ‘আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা’ নামক বই পড়লে মর্মে মর্মে অনুধাবন করা যায়। বিশেষভাবে আরো উল্লেখ্য যে, শাইখুল হদস লিখিত এই বইয়ের ভাষ্যমতে, ঘরে ঘরে টিভি, ভিসিআর, সিনেমা ইত্যাদি যন্ত্রের সুযোগ করে দেয়া ইসলামের শত্রুর কাজ, এগুলো মানুষের পাশবিক লালসাকে উত্তেজিত করে। আর এসব হচ্ছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। সাংস্কৃতিক বোমা শারীরিকভাবে আঘাত না করলেও এ চরিত্র বিধ্বংসী আগ্রাসন মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হৃদয়, মন তথা চরিত্রকে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। আর এসব ক্ষেত্রে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে টিভি, সিনেমা, ভিসিআর, ডিস ইত্যাদি। আর সে প্রসঙ্গে খোদ শাইখুল হদস তার “আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা” নামক বইয়ের ১০৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেঃ “ইসলামের শত্রুরা ইসলামের পর্দা প্রথাকে উচ্ছেদ করার জন্য সর্ব প্রধান হাতিয়ার হিসেবে যা ব্যবহার করেছেন তা হচ্ছে এই যে, তারা আমাদের ঘরে ঘরে টিভি, ভিসিআর, সিনেমা ইত্যাদি গুনাহ ও পাপকর্মে উত্তেজিতকারী যন্ত্রসমূহকে খুব সহজে পৌঁছায়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ পর্দা প্রথা ধ্বংস করে অশ্লীলতা বৃদ্ধির জন্য এসব যন্ত্রকে সামাজিক আগ্রাসন হিসেবে ইসলামের শত্রুরা ব্যবহার করেছে, কারণ কোন জাতিকে সমূলে বিনাশ করতে কিংবা জাতির নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে এবং জাতির অস্তিত্ব মুছে ফেলতে বিরুদ্ধবাদী শক্তি দু’ভাবে আগ্রাসন চালায়, সামরিক আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।” মিসাইল, তলোয়ার, অস্ত্রশস্ত্র প্রভৃতি সামরিক আগ্রাসন চোখে পড়ে বিধায় এ আগ্রাসন মুকাবিলা করা অতি সহজ। এ আগ্রাসনে হয়তো কিছু মানুষ নিহত, আহত হয় এবং এর ক্ষতিটা কাটিয়ে উঠা যায় অল্প সময়ে। পক্ষান্তরে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হয় সরাসরি রাজধানী থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘরে ঘরে, এ আগ্রাসনে একটি বোমাও ব্যবহৃত হয় না বিধায় কারো শারীরিক ভাবে আহত-নিহত হবার সম্ভাবনা নেই; কিন্তু এ আগ্রাসন এতোই মারাত্মক যে, জাতি মানসিকভাবে আগ্রাসী শক্তির কাছে এমন বশ্যতা স্বীকার করে যে, ভৌগলিক সীমারেখায় উভয় জাতি ভিন্ন হলেও চরিত্র, কালচার, চালচলন, মন-মানসিকতায় উভয়ই এক হয়ে যায়। জাতির কোন পরিচয় ও স্বকীয়তা বজায় থাকেনা। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চোখে পড়েনা বিধায় তা মুকাবিলা করা কঠিনতর এবং এর ক্ষতি সামরিক আগ্রাসনের চাইতে অনেক গুণে বেশী। সাধারণতঃ সামরিক আগ্রাসনের চেয়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অন্যতম হাতিয়ার হলো টিভি, সিনেমা, ভিসিআর প্রভৃতি। কাফির শক্তি কোন কালেই মুসলমানদের সাথে সামরিক যুদ্ধে টিকতে পারেনি, বিধায় মুসলমানদের বশ করার জন্য এরা টিভি, সিনেমা দিয়ে সাংস্কৃতিক ক্রুসেড শুরু করেছে। এ ক্রুসেডে এরা কোন বাহ্যিক বোমা, মিসাইল ব্যবহার না করলেও এর চেয়ে মারাত্মক বোমা এতে ব্যবহার করছে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বোমা ও মিসাইল হলো অশ্লীল ছায়াছবি, পর্ণোগ্রাফি, সিনেমা, কদর্যপূর্ণ পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী ও অনুচিত পর্ণো পুস্তক, সাহিত্য। এ নীরব সাংস্কৃতিক বোমা, মিসাইলের আঘাতে চক্ষু অন্ধ হয়না, শরীর ঝলসে যায় না, ঘরবাড়ী ধ্বংস হয় না, কারো দেহ ক্ষত করে না, শারীরিকভাবে কাউকে আহত-নিহত করেনা ঠিকই, কিন্তু এ চরিত্র বিধ্বংসী আগ্রাসন মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হৃদয়-মন, আত্মাকে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীদের নৈতিকতা আভ্যন্তরীণভাবে ধ্বংস করে দেয়।” যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বর্তমান জোট সরকারের অধীনে সিনেমা, টিভি, সিনেমার নাচ-গান এসবই চলছে পূর্ণোদ্যমে; তদুপরি আজকের জোট সরকারের প্রধান মন্ত্রী কেবল এ সবের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষক ও পূর্ণ মদদগারই নয় বরং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই দেশে উম্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির তথা ডিস এন্টিনার প্রথম প্রচলন করেন। কিন্তু এতে করে তথাকথিত শাইখুল হাদীসের রচিত ‘আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা’ নামক বইয়ের ভাষ্যমতে-বর্তমান জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী তথা তাকে সমর্থনকারী শাইখুল হদস নিজে এবং তার সমগোত্রীয় সকল মাওলানা, মুফতী, তথা খতীব ইসলামের চরম শত্রুতে পরিণত হয়েছে। টিভি. সিনেমা যে মানুষকে পশুর স্তরে পর্যবসিত করছে সে প্রসঙ্গে শাইখুল হদস তার স্বরচিত কিতাব “আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা” নামক বইয়ের ১০৫ পৃষ্ঠায় আরো লিখেছে- টিভি, সিনেমা, ভিসিআরে এমন ধরণের নাচ, গান, নাটক, ছায়াছবি প্রদর্শিত হয় যা মানুষের ইন্দ্রিয়বৃত্তি, পাশবিক লোভ লালসাকে উত্তেজিত করে তোলে। মানুষের সভ্যতা ও নৈতিকতার দেয়াল ভাঙ্গার জন্য এ জাতীয় অনুষ্ঠানের প্রভাব কত যে মারাত্মক, সচেতন শিক্ষিত অভিভাবকগণ তা হাড়ে হাড়ে অনুভব করছেন। টিভি, সিনেমা, ভিসিআরের অধিকাংশ অনুষ্ঠানমালা প্রেম ঘটিত, সুপ্ত লালসা প্রভাবিত বিজ্ঞাপন, দেশী বিদেশী মারদাঙ্গা, ছায়াছবি যেগুলোতে সরাসরি চুরি, ডাকাতি, হাইজ্যাক, অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা, লুণ্ঠন, অবৈধ প্রেম প্রভৃতির বাস্তব অনুশীলন শিক্ষা দেয়া হয়। এসব ছবি শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতীদের উপর কীরকম প্রভাব ফেলছে তা বর্তমানে আমাদের সমাজ চিত্র দেখলেই অনুমান করা যায়।
উল্লেখ্য, বর্ণিত কুপ্রভাবের পরও, মানুষকে পশুর স্তরে পর্যবসিত করার পরও, জোট সরকারের তত্ত্বাবধানেই টিভি, সিনেমা, ভিসিআর, ডিস এর অবাধ ব্যবহার হলেও তার বিরুদ্ধে টু শব্দ মাত্র করছেনা তথাকথিত শাইখুল হদস গং। অর্থাৎ নিজস্ব জবানবন্দী অনুযায়ী শাইখুল হদস তথা মুফতি, মাওলানা, আর খতীব গংরাই আজকে মানুষকে পশুর স্তরে পর্যবসিত করার কাজে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছে। টিভি, সিনেমা যে মুসলমানদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে তথা মুসলমানদের তাহযীব- তমুদ্দুন নষ্ট করছে সে প্রসঙ্গে শাইখুল হদস তার স্বরচিত “আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা” নামক বইয়ের ১০৫-১০৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেঃ আজ সারাদেশে খুন-খারাবী, নারী নির্যাতন, নারী অপহরণ ঘটছে অহরহ। ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী শক্তি জাতির কর্ণধার, বড় বড় অপরাধী, শীর্ষস্থানীয় দুরাচার এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিশ্বাস ঘাতকদের দিয়ে টিভি-সিনেমা, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, বই পুস্তকের মাধ্যমে জাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা নানা কৌশল অবলম্বন করে মুসলিম জাতির নৈতিক মেরুদণ্ড- তাহযীব-তমুদ্দুন ধ্বংস করে দিতে চায়। তারা চায়, জনগণ খেল-তামাশা, নাচ-গানে এমনভাবে ডুবে থাকুক, যাতে তারা নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ধর্ম-সংস্কৃতিকে ভুলে যায় এবং নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সম্পর্কে চিন্তা করার সুযোগ না পায়। তাদেরকে যে ধ্বংসের কোন গহবরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে তাদের যেন চেতনাই না জাগে, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এ বিষ ঢুকিয়ে মুসলমানদের কাজ করার শক্তি, দৃঢ়তা, নৈতিক বল, জাতীয় চেতনা বোধ, ধর্মীয় উৎসাহ উদ্দীপনা ধ্বংস করে দেয়াই হচ্ছে এদের মূল উদ্দেশ্য। হুজুরে আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন, আমি বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। অন্যত্র এরশাদ করেন গান-বাদ্য শয়তানের মন্ত্র। এ মন্ত্রের সাহায্যে শয়তান মানুষের মনে নিফাক তথা কপটতা, বিশ্বাসঘাতকতা সৃষ্টি করে। মহানবী হুযূরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান জোট সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ই বর্তমান টিভি. সিনেমা, ভিসিআর, ডিস-এর পৃষ্ঠপোষক, নিয়ন্ত্রক। সুতরাং সেগুলোর দ্বারা যখন শাইখুল হদস এর লিখ মতে মুসলমানদের তাহযীব-তমুদ্দুন নষ্ট করা হয় তথা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয় তখন বলতে হয় যে, তাদের নিজস্ব জবানবন্দীনুযায়ী আজকের শাইখুল হদস তথা, তথাকথিত মুফতি মাওলানা আর খতীবরাই সে চরম ইসলাম বিরোধী কাজটি করছে। রেডিও, টিভি তথা রাষ্ট্রীয় ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গান-বাজনা করা প্রসঙ্গে খোদ শাইখুল হদস তার রচিত ‘আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা’ নামক বইয়ের ১০৬- ১০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে- গান-বাজনার ব্যাপক প্রচলনের কারণে স্ত্রী-স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, সমাজপতিরা সমাজবাসীর সাথে ওয়াদা ভঙ্গ ও গাদ্দারী করছে, আর জাতীয় কর্ণধাররা জাতির সাথে বেঈমানী করছে, এমনকি এরা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা বিরোধী কর্মকাণ্ড করতেও দ্বিধা করছেনা। এসবই গান-বাজনার কুপ্রভাব; শিশু-কিশোরদের বিপথগামী করার জন্য গান বাজনা অত্যন্ত কার্যকর। ‘সূরা লোকমানের’ ৬নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন “লোকদের মাঝে এমনও কেউ আছে যে, মন ভুলানো কথা খরিদ করে আনে, যেন লোকদের মনের অগোচরে আল্লাহ পাক-এর পথ হতে বিপথগামী করতে পারে। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞেস করা হলো- আয়াতের বর্ণিত ‘লাহওয়াল হাদীস’ বা আল্লাহ্ পাক-এর পথ হতে গাফিলকারী করা বলতে কি বুঝানো হয়েছে? তিনি তিনবার জোরের সঙ্গে বলেন, খোদার কসম! এর অর্থ গান, সংগীত। উল্লেখ্য, বর্তমান জোট সরকারের প্রকাশ্য পৃষ্ঠপোষকতায়ই সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বত্র গান-বাজনার অবাধ সয়লাব। আর সেই জোট সরকারকে সমর্থন করে শাইখুল হদস তথাকথিত মুফতি, মাওলানা আর খতীব গং নিজেরাই তাদের বর্ণিত গুণাহ্র আমলদার তথা গুণাহ্গার হয়ে যায়। শয়তানের ফাঁদে পড়ে যে শয়তানের দোসর রূপে টিভি-সিনেমাকে লালন করা হয় সে প্রসঙ্গে খোদ শাইখুল হদস তার নিজ লিখা ‘আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা’ নামক বইয়ের ১০৭-১০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেঃ বর্তমান সমাজে টিভি ও ভিসিআরের ব্যাপকতা মূলতঃ শয়তানের একটি ফাঁদ, কারণ ইবলিস সর্বদা বণী আদমের ক্ষতির পিছনে লেগেই আছে, সে মন্দ কাজকে মানুষের সামনে অতীব সুশোভিত করে দেখানোর ফলে বাহ্যিক দৃষ্টিপাতে ভালকে মন্দ এবং মন্দকে ভাল মনে হয়। যার কারণে মানুষ সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যায়। যেমন এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন বলেন, “শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের নিকট সুন্দর করে দেখিয়েছে এবং তাদেরকে সৎ পথ হতে বিরত করেছে, ফলে তারা সৎপথ পায়না।” টিভি, সিনেমার ক্ষতিকর দিকসমূহ থেকে সর্বপ্রথম আমরা এগুলোর চারিত্রিক ক্ষতি সম্পর্কে আলোকপাত করছি। টিভি সিনেমার কারণে পরিবারে লজ্জা, শরম, ভদ্রতা, সভ্যতা, মমতা, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ভক্তি ইত্যাদি সবই বিলীন হয়ে যায়, যে যেই পরিমাণ ছবি দেখবে তার চরিত্রের সেই পরিমাণ অবক্ষয় ঘটবে। সিনেমার কারণে ঘরে বাইরে সর্বত্র হননমূলক অশ্লীল আলোচনা, অনর্থক কাহিনী বর্ণনা এবং অশ্লীল ও যৌন আবেদনমূলক গান-বাজনা ইত্যাদি প্রসার লাভ করে। সামাজিক ক্ষতি- এই সিনেমাতে কোন অপরাধমূলক ঘটনাকে অবলম্বন করে ছবি দেখানো হয়, এতে চুরি ডাকাতির ঘটনা এক অত্যাধিক আকর্ষণীয় কায়দায় পরিবেশন করা হয়, এমনিভাবে ধর্ষণ, চোরা চালানি, রাহাজানি, হত্যা, নারী হরণ, নারী পাচার ইত্যাদি অপরাধ সমূহকে বিভিন্নভাবে মনোরম করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। ফলে সমাজে নানা রকম নিত্য নতুন অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে আর সামাজিক জীবন হয়ে উঠে দুর্বিসহ। দৈহিক ক্ষতি- সিনেমা, টেলিভিশন দেখার দরুন শরীরে যে সব রোগের জন্ম হয় তন্মধ্যে দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পাওয়া হলো প্রধান। চিকিৎসা বিজ্ঞানীর মতে-যার যত বেশী সিনেমা দেখার অভ্যাস থাকবে তার দৃষ্টিশক্তি ততবেশী লোপ পাবে। সাথে সাথে গান-বাজনার ঝাজালো আওয়াজ কানের সূক্ষ্ম পর্দায় আঘাত হানার দ্বারা শ্রবণ শক্তি লোপ পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যারা টিভি দেখতে বেশী অভ্যস্ত তারা অল্প আলোতে দেখতে পায়না এবং অল্প আওয়াজে শুনতে পায়না। টেলিভিশন সিনেমার দ্বীনি ক্ষতি এই- আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন কুরআন পাকে ইরশাদ করেন, “হে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মু’মিন পুরুষদেরকে বলে দিন, যেন তারা তাদের চক্ষুদ্বয়কে বেগানা রমণীদের দেখা হতে অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাযতে রাখে। এভাবে মু’মিন মহিলাদেরকেও বলে দিন যে, তারা যেন তাদের চক্ষুদ্বয়কে বেগানা পুরুষদের দেখা হতে অবনত রাখে এবং নিজের লজ্জাস্থানকে হেফাযত রাখে।” বর্তমানে সমাজে সিনেমা ও টিভির পর্দাতে ছবিগুলো দেখার মাধ্যমে নারীর দৃষ্টি পড়ছে পুরুষের উপর। তদ্রুপ পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি পড়ছে নারীদের উপর। অথচ কুরআন শরীফে বেগানা পুরুষ ও মহিলাদেরকে পরস্পর দৃষ্টি দেয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন বলেছেন, “তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়োনা। কারণ এটা অশালীন কাজ, খারাপ পথ।” বর্তমান উলঙ্গ অশালীন ছবিগুলো টিভি ও সিনেমার পর্দায় দেখানোর ফলে তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের লোক যিনা বা ব্যভিচারের প্রতি উদগ্রীব হয়েছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যারা দুনিয়ার গান-বাজনা শুনবে কিয়ামতের দিন তাদের কানে গলিত উত্তপ্ত সীসা ঢেলে দেয়া হবে।” টিভি, সিনেমার দুনিয়াবী ক্ষতি এই যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কিয়ামতের আলামত সমূহের মধ্যে একটি এই যে, আমার উম্মতের একদল লোক রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জিনিসের ন্যায় অবাধে ব্যবহার করবে। (বুখারী শরীফ) মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, “যখন আমার উম্মতের মধ্যে গায়িকার দল ও বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটবে, তখন ভুমিকম্প, ভূমিধ্বস ও আকৃতি রূপান্তরের গজব নেমে আসবে। এই হাদীসে চারটি জিনিসের প্রতি ইংগিত পাওয়া যায়। (১) রেশম, (২) মদ, (৩) বাদ্যযন্ত্র, (৪) গায়িকার দল, এসবই সিনেমা টিভির মধ্যে পাওয়া যায়। যেমন- নায়ক নায়িকারা অনুষ্ঠান চলাকালীন রেশমী কাপড় পরে অনুষ্ঠান করে, আর সাথে সাথে মদ কিভাবে পান করতে হয় তা দর্শকদেরকে প্রাকটিক্যাল শিক্ষা দিয়ে থাকে। বাদ্যযন্ত্রতো থাকেই, আর গান ও গায়ক গায়িকাই তো অনুষ্ঠানাদির মৌল বিষয়। কোন নাটক ছায়াছবির গানও নায়িকা ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। মোটকথা টিভি সিনেমায় চার নিষিদ্ধ বস্তুর একত্রে সমাবেশ ঘটে ফলে তা হারাম বস্তুর বাক্সে পরিণত হয়। টেলিভিশন, সিনেমার আর্থিক ক্ষতি এই যে, হাশরের দিন, কিয়ামতের মাঠে প্রত্যেকটি মানুষ যে পঞ্চপ্রশ্নের সম্মুখীন হবে তন্মধ্যে একটি হলো- তুমি কোন পথে আয় করেছ এবং কোন পথে ব্যয় করেছ? যারা সিনেমা দেখে তারা অধিকাংশ শ্রমজীবি, কৃষিজীবী ইত্যাদি শ্রেণীর নাগরিক। এদের ঘাম ঝরা আয় সবচেয়ে পবিত্র ও হালাল উপার্জন হলেও এ আয়ের টাকা দিয়ে সিনেমা দেখার ফলে একদিকে টাকার অপব্যয় হচ্ছে অপর দিকে আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে জবাবদিহির সম্মুখীন হচ্ছে। আর যারা বিত্তশালী তারা নিতান্ত বিনোদনের জন্য টিভি, ভিসিআর, ডিসএন্টিনা প্রভৃতি নাজায়িয বস্তু ক্রয় করে অর্থোপচয় করছে। অথচ হাজারো গরীব-দুঃখী, নিঃস্ব বুভূক্ষু মানবেতর কালাতিপাত করছে। একান্ত মানবতার খাতিরে এদের সাহায্য সহযোগিতা করা দরকার, কিন্তু এ গরীব শ্রেণীকে সহানুভূতি না দেখানোর কারণে এবং বিপথে অর্থ অপচয়ের কারণে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন-এর সামনে জবাবদিহি করতে হবে। মোদ্দাকথা টিভি, সিনেমা দেখার ক্ষতিকর দিকগুলোর পরিসংখ্যান বর্ণনাতীত। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর কুপ্রভাব বিরাজমান। টিভি, সিনেমা যেন অপরাধ ও ক্রাইম শিক্ষার প্রশিক্ষণ স্কুল। এখান থেকে সমাজে অপরাধ প্রোডাকশন দেয়া হয়। সমাজকে এর কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করতে হলে এর অপরাধ উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় অপসংস্কৃতির অবাধ জোয়ার আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে ধ্বংসের অতল গহবরে। অতএব উল্লেখ করতে হয় যে, টিভি, সিনেমা, ভি সি আর, এত দৈহিক, সামাজিক, দ্বীনী, দুনিয়াবী, আর্থিক ক্ষতি বর্ণনার পরও, বিশেষতঃ এগুলোকে নিজস্ব জবানবন্দীতে শয়তানের ফাঁদ বলে আখ্যা দিলেও সেসমূহ ক্ষতি আর শয়তানের ফাঁদ ব্যাপকভাবে বিস্তার করে চলছে আজকের শাইখুল হদস তথা তথাকথিত মুফতি, মাওলানা, আর খতীব গং। (আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম) বর্তমান মহিলা প্রধানমন্ত্রী তথা শাইখুল হদস, তথাকথিত মুফতী, মাওলানা আর জাতীয় খতীবের সমন্বয়ে জোট সরকারই যে আযাব, গযবের কারণ এবং একথা বিশ্বাস না করলে সে যে মুসলমানই না সে প্রসঙ্গে শাইখুল হদস তার বইয়ের ১০৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেঃ উপরোক্ত হাদীসের আলোকে আমাদের দেশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে এ কথা দিবালোকের ন্যায় প্রতিভাত হবে যে, দেশে বন্যা, ঝড়, ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস নানাবিধ আযাব-গযবের অন্যতম প্রধান কারণ টিভি, সিনেমার অশ্লীল অনুষ্ঠানাদি। একজন মুসলমানকে একথা বিশ্বাস না করে গত্যন্তর নেই। তথাকথিত শাইখুল হাদীসের মতে মহিলাদের প্রকাশ্যে সভা সমিতিতে বক্তৃতা দেয়া হচ্ছে অপেশাদারী বেশ্যাগিরি করা- এ প্রসঙ্গে সে তার বইয়ের ১৩৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেঃ “… রং বেরংয়ের পোশাক, লিপিষ্টিক লাগানো, পুরুষের সাথে সভা সমিতি করা, রাজনৈতিক আসরে নামা, প্রকাশ্যে সভা সমিতিতে বক্তৃতা দেয়া, আর বেশ্যাবৃত্তি করা। শুধু পেশাদারী বেশ্যা নয় অপেশাদার বেশ্যাবৃত্তি করা। ……..” তথাকথিত বড় শাইখুল হাদীস তথা দরবেশ হওয়ার পরও মহিলা দর্শনের যে আত্মসংবরণ করা যায়না বরং যৌন আকর্ষণ বিনিময় হয়, সে প্রসঙ্গে খোদ শাইখুল হদস তার ‘আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা’ নামক বইয়ের ১৩৪ -১৩৫পৃষ্ঠায় লিখেছেঃ ধন ও ঋণ (পজেটিভ ও নেগেটিভ) ব্যতীত কোন বস্তুর কল্পনা করা যায়না, ধন ও ঋণ যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, পর্দাথের পরমাণু (এটম) পজিটিভ ইলেকট্রন ও নেগেটিভ প্রোটনের সমষ্টি। এ থেকে ইলেকট্রন বিচ্যূত করলে আর পরমাণুর অস্তিত্বই থাকে না। মানবও তাই। স্বাভাবিকভাবে নর ও নারী (ধন ও ঋণ) পরস্পর দর্শনে যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয় না একথা মানুষ অস্বীকার করলেও যুক্তিবাদী বিজ্ঞান তা মানতে প্রস্তুত নয়। দৈহিক মিলনের ফাঁক থাকুক আর না থাকুক, আর থাকলে তো কথাই নেই, আকর্ষণ এতো প্রবল ও তীব্র হয় যে, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, মুনি মোহন্ত, দরবেশ, কেউই আত্মসংবরণ করতে পারবে না।” তথাকথিত শাইখুল হদসের এ বক্তব্যের আলোকে বলতে হয়, পূর্বের সবার তো বটেই এমনকি ইদানিংকালের গত ১২ই মার্চ যার বিবরণ গত ১৩ই মার্চ সব জাতীয় দৈনিকে বের হয় যা থেকে জানা যায়, শাইখুল হদস এবং তার সমগোত্রীয় মাওলানা, মুফতিরা বর্তমান মহিলা প্রধানমন্ত্রী যে শাইখুল হদস বর্ণিত রং বেরংয়ের পোশাক, লিপিষ্টিক ইত্যাদি উগ্র প্রসাধনী ও দৃষ্টিকাড়া সাজ-সজ্জায় সজ্জিত ছিল, সে অবস্থায় তার কার্যালয়ে একেবারে নিকটতম আসনে সামনা সামনি বসে চোখে চোখ রেখে দীর্ঘ দুঘন্টা আলাপচারিতা করেন সুতরাং সে বৈঠকে যে তাহলে তথাকথিত শাইখুল হাদীস, মুফতী, মাওলানাদের প্রবল ও তীব্র যৌন আকর্ষণ বিনিময় হয়েছে তা আর কেউ অস্বীকার করলেও খোদ শাইখুল হদস স্বীকার করতে বাধ্য। অর্থাৎ শাইখুল হদসের নিজস্ব জবানবন্দীতেই বুঝা যায় যে বর্তমান মহিলা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সে বৈঠকে তার বর্ণিত সে যৌন আকর্ষণ যথারীতি প্রবলভাবে ঘটেছে। (নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক।) নারী নেতৃত্বের হাতে রাজ ক্ষমতার বিষোদগার করে শাইখুল হদস শুধু কুরআন-সুন্নাহ্র উদ্ধৃতিই নয়, দুনিয়াবী ঐতিহাসিক তথ্য দিয়ে তার বইয়ের ৯৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে- অবশেষে সেই সপ্ত পর্দার অন্তরালে অবস্থানকারিনী নারীরাই ক্লাবে, থিয়েটারে গমন করতে লাগলো। বলরুমে, রঙ্গমঞ্চে আর নাচের আসরে মেয়েদের নৃত্যগীতের পেশা আবিষ্কৃত হলো। পরিণামে মহিলাদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এমনভাবেই বৃদ্ধি পেলো যে, যেসব খ্যাতনামা পুরুষ দেশ শাসন ও রাজ্য পরিচালনার খাতিরে পার্লামেন্ট বা সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হতেন তারাও মহিলাদের ভোটে নিযুক্ত হতেন। এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পর থেকেই রোমান সাম্রাজ্যের উপর দিয়ে নানা ধরনের ধ্বংসলীলা বয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাস পর্যালোচনাকারীদের প্রত্যেকেই চরম বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে দেখতে পান যে, মহিলাদের নরম লাজুক হাতই কেমনভাবে রোমান সাম্রাজ্যের এই বিরাট বিলাসপূর্ণ সুরম্য প্রাসাদ আর সুদৃঢ় ইমারতের এক একটি ইট পর্যন্ত খসিয়ে ফেলেছে এবং এর সমস্ত গৌরব মহিমাকে ধুলিসাৎ করে ছেড়েছে। মহিলা এম. পি হওয়া প্রসঙ্গে শাইখুল হদস তার “আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা” নামক বইয়ের ১৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেছেঃ ……. এখন বলুন তো, একজন পার্লামেন্ট সদস্য রাজনীতিক মহিলা গর্ভবতী অবস্থায় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করলেন এবং এক পর্যায়ে সদস্যদের পারস্পরিক বাক বিতণ্ডা মল্লযুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তখন বেচারী মহিলা সদস্যের কি অবস্থা দাঁড়াবে অথবা ধরুন, মহিলা কোন আইন রহিত করলেন অথবা কোন ধারা উপধারার সংশোধনী সম্পর্কে আলোচনা করতে উঠলেন এবং অতঃপর একজন ভাগ্নী সদস্য দাঁড়িয়ে অসংখ্য অকাট্য যুক্তি দ্বারা তার শ্রাদ্ধ করে ছাড়লেন। এখন বলুন দেখি, এমতাবস্থায় লজ্জা ও অপমানে মহিলা সদস্যটি ও তার গর্ভে ধারণ করা সন্তানের কি অবস্থা হতে পারে? বস্তুত এর ফল মহিলাটির গর্ভ অথবা দুধের ক্ষেত্রে মারাত্মক পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। …….” শুধু চারদলীয় জোটের প্রধান নয়; চারদলীয় সমন্বয় কমিটির নেত্রীরূপে মানলেও তিনি যে মরদা মেয়েলোক ও জাহান্নামী সে প্রসঙ্গে শাইখুল হদস তার বইয়ের ১৫২ পৃষ্ঠায় লিখেছে মরদা মেয়ে লোক যারা মেয়েলোক হয়েও পুরুষের মত হাটে-মাঠে, শহরে-বন্দরে, স্কুল-কলেজে যায়, ভোট বা ইলেক্শনে দাঁড়ায়, যাদের পর্দা-পুশিদার কোন বালাই নেই; পুরুষের মত চালচলন করে, গলার আওয়াজ ও চাল চলনে পুরুষ ও মেয়েদের কোন তফাৎ নেই। এরাও পরকালে কঠিন আযাব ভোগ করবে। ……. যারা বলেন, অন্তরে শাইখুল হদস ঠিকই পর্দা মানেন কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষিতে তা করছেন না তাদের সম্পর্কে খোদ শাইখুল হদস তার “আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা” নামক বইয়ের ১১৪ পৃষ্ঠায় লিখেছে যারা শুধু অন্তরে বিশ্বাস করে কিন্তু তা কাজে পরিণত করে না তাদের তুলনা কেবল শয়তানের সাথেই হতে পারে। শয়তান বিশ্বাস করে যে আল্লাহ্ পাক জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মৃত্যু দিতে সক্ষম। শয়তান পুনরুত্থান ও শেষ বিচারের দিনকেও বিশ্বাস করে এবং সে কারণেই সে তার জীবন ক্বিয়ামত পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ্ পাক-এর নিকট প্রার্থনা করেছিলো। কিন্তু তার বিশ্বাসের দাবী অনুযায়ী যা করা দরকার ছিলো তার কিছুই সে কখনো করেনি। আল্লাহ্ পাক শয়তানের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন, “সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করলো এবং অহংকার প্রদর্শন করলো। ফলে সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো।” (সূরা বাক্বারা/৩৪) পাঠক! লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, খোদ শাইখুল হদস নিজেই তার বইয়ে এ আয়াত শরীফের অবতারণা করেছে। এখন এ আয়াত শরীফের আলোকেই উল্লেখ্য, শয়তান মহান আল্লাহ্ পাক-এর একটি মাত্র আদেশ অমান্য করার ফলেই ছয় লক্ষ বছর ইবাদত-বন্দিগীর পরও, মুয়াল্লিমুল মালাইকা হবার পরও আজাজিল থেকে মালউন ইবলিসে পরিণত হয়েছে তেমনি তথাকথিত শাইখুল হদসও চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর হাদীসের দরস দেবার পরও কুরআন-সুন্নাহ্য় স্পষ্ট ভাবে বর্ণিত, ছবি না তোলা, বেপর্দা না হওয়া, নারী নেতৃত্ব সমর্থন না করা, ইসলামের নামে গণতন্ত্র, নির্বাচন না করা” ইত্যাদি শরীয়তী আদেশ লঙ্ঘন করার পাশাপাশি গান-বাজনা, টিভি, সিনেমার সরকার তথা হাজারো অনৈসলামিক প্রথা ও কাজের ভিত্তিতে পরিচালিত আজকের জোট সরকারকে অনুমোদন, সমর্থন ও সক্রিয় সহযোগিতার মত বদ আমল তাকে আজ স্পষ্ট ও সন্দেহাতীতভাবে শাইখুল হাদীস থেকে শাইখুল হদসে পর্যবসিত করেছে এবং এ মন্তব্য যে কঠোরভাবে সত্য তা সে নিজেই তার বইয়ে লিখেছে। যার প্রমাণ এ লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং বলা চলে যে, শাইখুল হদস এ মন্তব্যে মূলতঃ সে নিজেই তার নিজের লেখা বই দ্বারা নিজেকে শাইখুল হদস প্রমাণিত করেছে। আর এরূপ শাইখুল হদস তথা নাপাকির ওস্তাদ হবার ফলেই সে দ্বীন ইসলাম বাদ দিয়ে দ্বীনে জুমহুরী তথা দ্বীনে গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে প্রধান নাটের গুরু হিসেবে কাজ করছে।
-মুহম্মদ কাওছার জামান, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে