আন্ নাবীউস্ সালেহ্, ছহিবুল উসীলা, হায়াতুন্ নবী, রিসালতে পানাহ্, আকরামুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন,  হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্পর্শ ধন্য কিছু জিনিস মুবারকের বেমেছাল মর্যাদা ও ফযীলত প্রসঙ্গে

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুনজির মুহম্মদ গিয়াস উদ্দীন

لئن شكرتم لازيدنكم.

অর্থঃ- “যদি তোমরা আল্লাহ পাক-এর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় কর তবে অবশ্যই আল্লাহ পাক তোমাদের নিয়ামত বৃদ্ধি করে দিবেন। (সুরা ইব্রাহীম/ ৭)

          আল্লাহ পাক প্রদত্ত যাবতীয় নিয়ামতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলেন সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার প্রতি যথাযথ ত’াযীম-তাকরীম করতঃ সেই সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত এর শুকরিয়া আদায় করতে সদা সচেষ্ট থাকতেন। তাঁরা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্পর্শ ধন্য যে কোন জিনিস মুবারককে অতীব বরকতময় মনে করে সেগুলোর প্রতি বেমেছাল তা’যীম-তাকরীম প্রদর্শন করতেন এবং তা থেকে বরকত হাসিল করতেন।

          বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত রয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালমা রদ্বিয়াল্লাহু  তায়ালা আনহার নিকট হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর  কিছু চুল মুবারক সংরক্ষিত ছিল। কেউ যখন অসুস্থ হয়ে পড়ত তখন পানিতে উক্ত চুল মুবারক দু’ একবার ডুবিয়ে নিতেন। রুগী সেই পানি পান করে এর বরকতে আরোগ্য লাভ করতো। (সূবহানাল্লাহ) এছাড়া হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার নিকট হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি জুব্বা মুবারক ছিল। যেটা ধুয়ে উক্ত ধৌত পানি রোগীকে সেবন করালে রোগী সুস্থতা লাভ করতো।

          রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর বিনীত আরজুর প্রেক্ষিতে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় মুবারক কোর্তা দান করলে তা দিয়ে মুনাফিক সরদার উবাই ইবনে সুলুলকে কাফন পরিয়ে দাফন করা হয়। হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ পরবর্তীতে আরজ করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কোর্তা মুবারকের বরকতে মুনাফিক সরদার উপকৃত হবে কি?”  তার জাওয়াবে রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এ কোর্তার একটি সুতা বাকী থাকবে ততক্ষণ সে কবর আযাব হতে নিরাপদ থাকবে।” (স্মর্তব্য, আল্লাহ্ পাক-এর কুদরতে তাকে দাফন করার পর উক্ত কোর্তা মুবারক গায়েব হয়ে যায়।) (মকতুবাতে সাদী)

          উল্লেখ্য, সাইফুল্লাহ হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নিজের টুপির মধ্যে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কয়েকটি পবিত্র চুল মুবারক সংরক্ষণ করতেন। কাফিরদের বিরুদ্ধে কোন এক যুদ্ধের সময় তাঁর ঐ টুপি মাটিতে পড়ে যায়। তৎক্ষনাৎ তিনি উক্ত টুপি হস্তগত করার জন্য তুমুল জিহাদ শুরু করে দিলেন। কাফিররাও প্রচন্ড বাধা সৃষ্টি করলে অনেক মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন। পরে তাঁকে প্রশ্ন করা হল-   সামান্য একটি টুপি উদ্ধারের জন্য আপনি এত ক্ষয়-ক্ষতি স্বীকার করলেন কেন? তিনি বললেন, “এ জিহাদ কেবল টুপি উদ্ধারের জন্য নয় বরং এ জিহাদ করা হয়েছে হযরত রসূলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র কেশ মুবারকের সম্মান রক্ষার্থে, যা রক্ষিত ছিল ঐ টুপির মধ্যে।” বলা বাহুল্য, টুপির মধ্যে রক্ষিত উক্ত চুল মুবারকের বরকতে তিনি কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিতেন।

          মূলতঃ হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও তবারকসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তা থেকে সীমাহীন বরকত হাসিলের এরূপ অসংখ্য ঘটনাবলী হাদীস শরীফ এবং সীরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত রয়েছে। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, এ ধারাবাহিকতায় অনুসরনীয়, অনুকরণীয়, আওলাদে রসূলগণও অনন্য অনুষঙ্গ। তাই মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকেও সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র রক্ত মুবারক যাঁর ধমনীতে প্রবাহমান,  সেই মহান আওলাদুর রসূল, আমাদের মামদুহ মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলীকে অনুসরণের মাধ্যমে সে নিয়ামত নসীব করুন।

          {দলীলঃ বুখারী, মুসলিম, শিফা কাজী আয়াজ, খাসায়েসুল কুবরা, মাদারেজুন নবুয়ত, মকতুবাতে সাদী ইত্যাদি}

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ