আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হজ্বে বাইতুল্লাহ্ শরীফ, মদীনাতুন্ নবী ও রওজায়ে আকদাস ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিয়ারত সম্পর্কে- ১

সংখ্যা: ১০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি নওয়াব আমীর খানের লস্কর বাহিনী থেকে পৃথক হবার পর এবং জিহাদের পূর্বে হিজরী ১২৩৬ এবং ইংরেজী ১৮২১ সন মুতাবিক পবিত্র হজ্বে বাইতুল্লাহ্ শরীফ ও জিয়ারতে রওজায়ে আকদাস ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কার্য সমাপন করেন।  “মাখজানে আহম্মদী” কিতাবের বর্ণনা মতে, রায় বেরেলী হতে তিনি যখন হজ্বের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তখন তাঁর কাফিলার সঙ্গী ছিলেন প্রায় চারশত জন। কিন্তু এই কাফিলা যখন পথের বিভিন্ন মনজিল যেমন, দালমুর, গাতনা, জাহানাবাদ, বেনারস, ইলাহাবাদ, মির্জাপুর, গাজীপুর, দানাপুর, আজিমাবাদ, মঙ্গের, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি মনজিল হয়ে কলকতা জাহাজ বন্দরে এসে পৌঁছে তখন হজ্ব যাত্রীদের আনুমানিক সংখ্যা ছিলো সাতশত তিপ্পান্ন জন। যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন পুরুষ। সম্পূর্ণ কাফেলাটিকে দশটি ভাগে ভাগ করে একেকটি দলকে একেক জাহাজে উঠানো হয় এবং প্রত্যেক জাহাজের জন্য একজন আমীর নিযুক্ত করা হয়। হজ্ব যাত্রীদের কাফেলার জাহাজগুলো, নাম ছিলো, দরিয়া, বাকা, ফাতহুল বারী, আতিয়াতুর রহমান, গোরাব আহম্মদী, ফয়েজে রব্বানী, ফাতহুল করীম, আব্বাসী তাফহুর রহমান, ফয়জুল করীম।    হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সকলকে উত্তম জাহাজে আরোহন করিয়ে দিয়ে নিজে দরিয়া বাকা নামক একটি পুরোনো জাহাজে আরোহন করেন। জাহাজে আরোহন করার পর যাত্রীদের নিত্যকার কাজ ছিলো ফযরের নামাযের পর দোয়ায়ে হিযবুল বাহার পাঠ করা এবং মাওলানা ইউছুফ মূলতী রহমতুল্লাহি আলাইহি সূরা যুখরুফের প্রথম রুকু পাঠ করতেন অতঃপর বিভিন্ন মাসয়ালা-মাসায়িল সম্পর্কে বর্ণনা করা হতো। হজ্ব যাত্রীরা যখন সিংহলের কুমারিকা অন্তরীপ কালিকট বন্দর হয়ে ইয়ামানের প্রসিদ্ধ বন্দর মাখায় পৌঁছেন তখন সেখানে দীর্ঘ একমাস অবস্থান করেন। অতঃপর ইয়ালামলাম পৌঁছে আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি গোছল করেন, ওমরাহ্র জন্য ইহ্রাম বাঁধেন। দু’রাকায়াত নামায আদায় করে তিনি উচ্চ স্বরে লাব্বায়িক পাঠ করেন। তাঁর অনুসরণে সকলেই লাব্বাইক ধ্বনি উচ্চারণ করে জাহাজ মুখরীত করে তোলেন। জাহাজ জিদ্দা বন্দর পৌঁছলে তিনি এখানে হযরত হাওয়া আলাইহাস্ সালাম-এর মাযার শরীফ জিয়ারত করেন। জিদ্দার পর পবিত্র মক্কা শরীফের পূর্বে তিনি হুদাইবিয়া, বাইয়াতে রিদওয়ান নামকঐতিহাসিক বরকতময় স্থানে অবস্থান করে দোয়া-ইস্তিগ্ফারে মশগুল হন। তৃতীয় দিন চাশতের ওয়াক্তে মক্কা মোয়াজ্জামায় উপস্থিত হন। পবিত্র শহরে পৌঁছার দু’টি রাস্তা ছিলো। একটি শহরের নীচু দিক হতে অন্যটি উপরের দিক হতে। মক্কা বিজয়ের সময় সরকারে দো’আলম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপরের পথ দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সুন্নতের খেয়ালে ও বরকত লাভের আশায় সেই পথ দিয়ে প্রবেশ করেন। জান্নাতুল মা’আলায় যান, যেখানে উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা শায়িত আছেন। সেখানে তিনি দীর্ঘক্ষণ যাবৎ জিয়ারত করেন। অতঃপর বাবুস সফরের অভ্যন্তর দিয়ে হেরেম শরীফে ঢুকেন। তাওয়াফের পর মাকামে ইব্রাহীমে দু’রাকায়াত নামায আদায় করতঃ জমজমের পানি পান করেন, সায়ী করেন। পরে মাথা মুন্ডন করে ইহ্রাম খুলেন। বাবে উমরার নিকটবর্তী জয়নুল আবেদীনের বাড়ি ভাড়া  নেয়া হয়েছিলো তাঁর থাকার জন্য। দ্বিতীয় দিন রমজান শরীফের চাঁদ দেখা গেলো। পুরো রমজান মাসই তিনি হেরেম শরীফে অতিবাহিত করেন। সব ওয়াক্ত নামায হেরেম শরীফে আদায় করতেন।  রমজানের তারাবীহ্ বিভিন্ন হাফিয তাদের নিজস্ব দল নিয়ে আদায় করতেন। ফলে কুরআন শরীফ ভাল ভাবে শোনা যেত না। তাই সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, অন্যান্য দল যখন নামায আদায় করে তখন সকলে বসে কুরআন শরীফ শুনবে। পরে এসে নামায আদায় করবে। সাইয়্যিদ আবূ সাঈদ পনের দিন অন্তর কুরআন শরীফ খতম করেন। তারাবীহ্র নামায আদায় করতঃ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি গাধায় আরোহন করে তানঈম চলে যেতেন। সেখান হতে ইহরাম বেঁধে আসতেন এবং তাওয়াফ করতেন। অধিক রাতে সায়ী করে ইহরাম খুলতেন। পরে সেহ্রী খেতেন। সময় কম থাকলে প্রথমে সেহ্রী খেয়ে সায়ী করতেন এবং ইহরাম খুলতেন। ফযরের নামাযের পর ইশরাক্ব পর্যন্ত তাওয়াফ করতঃ ঘরে ফিরতেন।  বিশ রমজান হতে তিনি ইতিক্বাফের নিয়ত বাঁধেন। ঈদের দিন হারামাইন শরীফের বহু আলিম, ফাযিল, শায়খ তাঁর সাথে মুসাফাহ্, মুয়ানাকা করার জন্য ছুটে আসেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই তরীক্বায়ে আওর মুহম্মদীয়ার উপর বাইয়াত গ্রহণ করেন।

-মুফতী মুহম্মদ সামছুল আলম, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ