আল বাইয়্যিনাহ, আল বারু, আল বাসেতু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন

সংখ্যা: ১১৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

عن انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اول عين تنظر الى الله عزوجل عينى.

অর্থঃ- হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার চক্ষু মুবারকই সর্ব প্রথম আল্লাহ্ পাককে (হাক্বীক্বীভাবে) দেখেছেন। (দায়লামী, কানযুল উম্মাল)         অর্থাৎ পৃথিবীতে একলক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দু’লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম তাশরীফ এনেছেন, তন্মধ্যে একমাত্র আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত  অন্য কেউই তাঁদের জীবদ্দশায় আল্লাহ্ পাককে হাক্বীক্বী ছূরত মুবারকে দেখেননি। কেননা দুনিয়াবী যিন্দিগীতে কোন মানুষই আল্লাহ্ পাককে হাক্বীক্বী ছূরতে দেখতে পারেনা।

আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেন,

قال رب ارنى انظر اليك قال لن ترنى.

অর্থঃ- “হযরত মুসা আলাইহিস্ সালাম তিনি বলেন, আয় মহান আল্লাহ্ পাক! আমাকে আপনার দীদার দান করুন, যেন আমি আপনাকে দেখতে পাই। মহান আল্লাহ পাক বলেন, আপনি আমাকে দুনিয়াবী যিন্দিগীতে কস্মিনকালেও দেখতে পাবেন না।” (সূরা আ’রাফ/১৪৩) আর আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু সমস্ত নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, তিনি আমাদের মত সাধারণ মানুষ নন বরং তিনি আফজালুল কায়িনাত, নূরে মুজাস্সাম হওয়ার কারণে মহান আল্লাহ্ পাক তাঁকে মি’রাজ রজনীতে তাঁর মুবারক দীদার দান করেছেন। (সুবহানাল্লাহ্)

বিশুদ্ধ মতে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মি’রাজ শরীফ হয়েছে ৩৩ অথবা ৩৪ বার। তার মধ্যে ৩২ অথবা ৩৩ বার হয়েছে স্বপ্নযোগে আর বাকী একবার হয়েছে স্ব-শরীরে ও সরাসরী। সেই একবারই হাক্বীক্বী ছূরতে আল্লাহ্ পাককে দেখেছেন। তবে আল্লাহ্ পাক-এর সেই হাক্বীক্বী  ছূরত মুবারক কেমন তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেননি। কিন্তু স্বপ্নযোগে দেখা আল্লাহ্ পাক-এর মেছালী ছূরত মুবারকের বর্ণনা হাদীস শরীফে এসেছে। যেমন, হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن ابى ذر رضى الله عنه قال سألت النبى صلى الله عليه وسلم هل رايت ربك قال رأيت نورا.

অর্থঃ- “হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছি (হে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি আল্লাহ্ পাককে দেখেছেন কি? উত্তরে তিনি বলেন, আমি আল্লাহ্ পাককে নূর আকারে দেখেছি। (মুসলিম, তিরমিযী, আহমদ, ত্ববরানী, ইবনে খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, কানযুল উম্মাল)

قد رأيته نورا أنى أراه.

অর্থঃ- “আমি আল্লাহ্ পাককে নূর হিসেবে দেখতে পেয়েছি।” (মুসনদে আহ্মদ- ৫/১৪৭, মুসলিম শরীফ)

বর্ণিত হাদীস শরীফদ্বয় প্রমাণ করে যে, স্বয়ং আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ্ পাককে নূর হিসেবে দেখেছেন, যা তাঁর মেছালী ছূরত মুবারক সমূহের মধ্যে একটি মেছাল।

এ সম্পর্কে অন্য হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে,

عن ام الطفيل امراة ابى بن كعب قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول رايت ربى فى المنام فى صورة شاب موقر فى خضر عليه نعلان من ذهب وعلى وجهه فراش من ذهب.

অর্থঃ- হযরত উম্মে তোফায়েল যিনি উবাই বিন কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর স্ত্রী, তিনি বর্ণনা করেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে আল্লাহ্ পাককে একটি সবুজ মাঠে সম্মানিত একজন যুবকের ছূরতে দেখেছি। তখন তাঁর পা মুবারকে স্বর্ণের স্যান্ডেল ও চেহারা মুবারকে স্বর্ণের চাদর/কাপড় ছিল। (ত্ববরানী ২৫/৩৪৬, আল ইছাবাত ৮/২৪৬, তাহযিবুত্তাহযিব, আল মাযমা’ ৭/১৭৯, ইবনু হিব্বান, আচ্ছিকাত ৩৫/২৪৫)

আবার অন্য হাদীস শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

رأيت ربى عزوجل فى صورة شاب أمرد.

অর্থঃ- “আমি মহান আল্লাহ্ পাককে (মেছালী ছূরতে) দাঁড়ি-মোছবিহীন যুবকের ছূরতে দেখেছি।”

رأيت ربى عزوجل فى احسن صورة.

অর্থঃ “আমি মহান আল্লাহ্ পাককে উত্তম ছূরত মুবারকে দেখেছি।” (তিরমীযী, তাবারানী ১/৯৩৮, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী/১৩৩)          আর হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহ্মতুল্লাহি আলাইহিমগণও আল্লাহ্ পাককে মেছালী ছূরতে দেখেছেন। যেমন হানাফী মায্হাবের ইমাম, ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহ্মতুল্লাহি আলাইহি এবং হাম্বলী মায্হাবের ইমাম, হযরত আহমদ বিন হাম্বল রহ্মতুল্লাহি আলাইহি-এর জীবনী মুবারকে উল্লেখ রয়েছে যে, তাঁরা উভয়ে মহান আল্লাহ্ পাককে মেছালী ছূরতে একশত বার করে দেখেছেন।

আরো উল্লেখ আছে যে, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড় পীর ছাহেব রহ্মতুল্লাহি আলাইহি, ক্বাইউমে আউয়াল, আফযালুল আউলিয়া, হযরত মুজাদ্দিদে আল্ফে ছানী রহ্মতুল্লাহি আলাইহি, মহান আল্লাহ্ পাককে যুবকের ছূরতে দেখেছেন। হযরত মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী রহ্মতুল্লাহি আলাইহি মেয়ে লোকের ছূরতে দেখেছেন। আবার অনেক আউলিয়া-ই-কিরাম রহ্মতুল্লাহি আলাইহিমগণ আল্লাহ্ পাককে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছূরত মুবারকেও দেখেছেন। এছাড়াও অনেক আউলিয়া-ই-কিরাম আল্লাহ্ পাককে বিভিন্ন মেছালী ছূরতে দেখেছেন।

অতএব, বর্ণিত হাদীস শরীফ ও আউলিয়া-ই-কিরাম রহ্মতুল্লাহি আলাইহিমগণের ক্বওল দ্বারা এটাই ছাবেত হয় এবং এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ফতওয়া যে, বান্দা পৃথিবীতে আল্লাহ্ পাককে যে ছূরত মুবারকেই দেখুক না কেন, আর তা যেভাবেই দেখুক যেমন- স্বপে¦, কাশ্ফে, মুরাকাবায়, রূহানীভাবে, তা প্রত্যেকটিই মূলতঃ মেছালী ছূরত।  আর এ প্রসঙ্গে ক্বাইউমে আউয়াল, আফযালুল আউলিয়া, হযরত মুজাদ্দিদে আল্ফে ছানী রহ্মতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘মকতুবাত’ শরীফে বলেন, মহান আল্লাহ্ পাক-এর মেছালী ছূরত দেখে কেউ যদি তাকেই আল্লাহ্ পাক বলে মনে করে, তাহলে তা কুফরী হবে।”    তবে হ্যাঁ, বান্দারা পরকালে আল্লাহ্ পাককে স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن جرير بن عبد الله رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انكم سترون ربكم عيانا وفى رواية قال كنا جلوسا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فنظر الى القمر ليلة البدر فقال انكم سترون ربكم كما ترون هذا القمر.

অর্থঃ- “হযরত যাবির বিন আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অবশ্যই (হাশরের ময়দানে) তোমরা আল্লাহ্ পাককে স্বচক্ষে দেখতে পাবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবার শরীফে বসা ছিলাম তখন জ্যোৎস্নার রাত্রিতে তিনি চন্দ্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, অবশ্যই তোমরা (পরকালে) তোমাদের রব (আল্লাহ্ পাক)কে তেমনিভাবে (সুস্পষ্টভাবে) দেখবে, যেমন তোমরা জ্যোৎস্নার রাতে ঐ চাঁদকে দেখ।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫০০)         অর্থাৎ জোৎস্নার রাতে চন্দ্রকে যেমন সুস্পষ্টভাবে দেখতে পায়, বান্দা আল্লাহ্ পাককে হাশরের ময়দানে তেমনিভাবে সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাবে।   আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে তাঁর মা’রিফত ও মুহব্বত দান করে খালিছ আল্লাহ্ওয়ালা হওয়ার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

সাইয়্যিদুল জিননি ওয়াল ইনস, ইমামুল আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন, খতীবুল আম্বিয়া হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হায়াতুন নবী

ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মযদা-মতবা, শান-মান সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের চেয়ে অনেক উর্দ্ধে

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ছাহিবু মাক্বামি মাহমূদ, শাফউল উমাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনার শ্রেষ্ঠত্ব

সাইয়্যিদুল কাওনাইন, শাফিউল মুজনিবীন, ইমামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইতগণের ফযীলত

সাইয়্যিদুল বাররি ওয়াল বাহর, ইমামুস সাক্বালাইন, তাজেদারে মদীনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদগণের ফযীলত