اعطيت جوامع الكلم.
অর্থঃ- “ছাহিবে ছলাত ও সালাম, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমাকে (শুরু হতে শেষ পর্যন্ত) সমস্ত ইল্ম প্রদান করা হয়েছে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন হচ্ছেন সমস্ত ইল্মের মালিক। আর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁরই পেয়ারা হাবীব তথা মাশুক। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল ইজ্জত স্বয়ং নিজেই যাঁর আশিক আশিকের সমস্ত কিছু এমনিতেই মাশুকের করায়ত্বে চলে আসে। অর্থাৎ আশিকের মালিকানা মাশুকের কাছে এমন ভাবে বিলীন হয়ে যায় যে, মাশুকও তাঁর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান হয়ে যান। ঠিক যেমনিভাবে হাবীবে আ’যম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত ইল্মের অধিকারী হয়েছেন। যার বর্ণনা মহান আল্লাহ্ পাক নিজেই দিয়েছেন।
خلق الانسان علمه البيان.
অর্থঃ তিনি (আল্লাহ্ পাক) মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বয়ান শিক্ষা দিয়েছেন। (সূরা আর রহমান/৩,৪)
আয়াত শরীফের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে,
خلق الانسان اى محمد صلى الله عليه وسلم علمه البيان يعنى بيان ماكان ومايكون.
অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন সাইয়্যিদুল খালায়িক্ব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সালামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত বিষয়ের বয়ান শিক্ষা দিয়েছেন তথা সমস্ত ইল্ম দান করেছেন।” (তাফসীরে মাআলেমুত তানযীল)
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن عبد الرحمان بن عائش رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم رأيت ربى عز وجل فى احسن صورة فوضع كفه بين كتفى فوجدت بردها بين ثدى فعلمت ما فى السماوات والارض.
অর্থঃ- “হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আয়িশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি মহান আল্লাহ্ পাককে উত্তম ছূরত মুবারকে অবলোকন করেছি। অতঃপর তিনি স্বীয় কুদরতী হাত মুবারক আমার সিনার উপর রাখলেন। যার শীতলতা আমি স্বীয় অন্তঃস্থলে অনুভব করলাম এবং আসমান যমীনের সমস্ত কিছু অবগত হলাম।” (মিশকাত)
হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عرضت على امتى فى الطين كما عرضت على ادم عليه السلام واعلمت من يؤمن بى ومن يكفر بى فبلغ ذالك المنافقين قالوا استهزاء زعم محمد انه يعلم من يؤمن به ومن يكفر ممن لم يخلق بعد ونحن معه وما يعرفنا فبلغ ذالك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام على المنبر فحمد الله واثنى عليه ثم قال ما بال اقوام طعنوا فى علمى لاتسئلونى عن شيئ فيما بينكم وبين الساعة الا انبئنكم.
অর্থঃ- “সাইয়্যিদুল বাশার, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ইরশাদ করলেন, আমার কাছে আমার উম্মতদেরকে তাদের নিজ নিজ মাটির আকৃতিতে পেশ করা হয়েছিল। যেমন ভাবে হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর নিকট পেশ করা হয়েছিল।
আর আমাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, কে আমার উপর ঈমান আনবে আর কে অস্বীকার করবে। যখন এ খবর মুনাফিকদের নিকট পৌঁছলো, তখন তারা হাসাহাসি করে বলতে লাগলো মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সব লোকদের জন্মের আগেই তাদের মুসলমান ও কাফির হওয়া সম্পর্কে অবগত হয়ে গেছেন! অথচ আমরা তাঁর সাথেই আছি, কিন্তু আমাদের তিনি চিনতে পারেননি। এ খবর যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলো তখন তিনি মিম্বরের উপর উপবেশন করলেন এবং আল্লাহ্ পাক-এর প্রশংসা করতঃ ইরশাদ ফরমালেন, এসব লোকদের কি হলো যে, আমার জ্ঞান নিয়ে তারা বিদ্রƒপ সমালোচনা করছে! এখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যে কোন বিষয় সম্পর্কে তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস কর আমি অবশ্যই বলে দিব। (বুখারী শরীফ) মহান আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে নববী ইল্মে সমৃদ্ধ করুন। সাথে সাথে তাঁর এবং তাঁর হাবীবের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি আমদের নছীব করুন। (আমীন)
-হাফিয মুহম্মদ আব্দুল্লাহিল মাসউদ