(ধারাবাহিক)
আল্লাহ পাক পর্দা সম্পর্কে যতটি আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন, তার মধ্যে আমরা দু’আয়াত শরীফ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এখন তৃতীয় আয়াত শরীফ সম্পর্কে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
يايها اذين امنوا لا تدخوا بيوتا غير بيوتكم حتى تستأئسوا وتسلموا عى اهلها ذكم خير لكم علكم تذكرون فان م تجدوا فيها احدا فلا تدخلوها حتى يؤذن لكم وان قيل لكم ارجعوا فارجعوا هو ازكى لكم والله بما تعمون ليم.
এ আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
يايها الذين امنوا “হে ঈমানদাররা!
لاتد خلوا بيوتا غير بيوتكم.
তোমরা প্রবেশ করোনা কারো বাড়ীতে, তোমাদের নিজস্ব ব্যতীত।’ অর্থাৎ অন্য কারো বাড়ীতে তোমরা প্রবেশ করোনা।
لاتدخلوا بيوتا غير بيوتكم حتى تستأنسوا
যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা অনুমতি না পাবে প্রবেশ করার।
وتسلموا على اهلها.
এবং সেই ঘরের যারা অধিবাসী তাদেরকে সালাম না করবে অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমতি না পাবে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কারো ঘরে প্রবেশ করোনা।
ذلكم خير لكم لعلكم تذكرون.
‘এটাই তোমাদের জন্য উত্তম। অবশ্য যদি তোমরা স্মরণ রাখো বা আমল করো।’ এরপর আল্লাহ পাক বলতেছেন,
فان لم تجدوا فيها احدا
যদি কারো বাড়ীতে গিয়ে কাউকে তুমি না পাও,
فلا تدخلوها.
তাহলে সেখানে প্রবেশ করোনা। অর্থাৎ কারো বাড়ীতে গিয়ে যদি কাউকে তুমি না পাও তাহলে সেখানে প্রবেশ করোনা।
حتى يؤذن لكم.
অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তুমি সেখানে প্রবেশ করোনা।
وان قيل لكم ارجعوا.
আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ফিরে যাও অর্থাৎ তোমরা সালাম দেয়ার পর, অনুমতি প্রার্থনা করার পরও যদি তোমাদেরকে বলা হয়,
ارجعوا فارجعوا
তোমরা চলে যাও, সাক্ষাত করার সময় নেই, তাহলে চলে আসবে।
هو ازكى لكم
সেটা তোমাদের জন্য পবিত্রতার কারণ।
والله بما تعملون عليم.
নিশ্চয় আল্লাহ পাক তোমরা যা আমল করে থাক সে সম্পর্কে জ্ঞাত রয়েছেন।” এখানে আয়াত শরীফে অনেক বিষয় বলা হয়েছে। পর্দা এবং তার সংশ্লিষ্ট পর্দা রক্ষা করতে হলে, যে যে বিষয় দরকার রয়েছে, সে বিষয়গুলো এখানে উল্লেখ রয়েছে। এর শানে নুযূল বলা হয়, কেন আয়াত শরীফ নাযিল করা হলো? এক আনছার মহিলা ছাহাবী ছিলেন যিনি নিরিবিলি একাকী থাকতেন এবং একাকী থাকতে পছন্দ করতেন। একজন পুরুষ ছিলেন যিনি প্রায়ই সেই আনছার মহিলার বাড়ীতে গিয়ে সেই মহিলার সাথে নানা বিষয়ে আলোচনা করতেন। কিন্তু সেই আনছার মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর সেটা পছন্দ হত না। যার জন্য উনি শেষ পর্যন্ত আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে ব্যাপারটা বললেন যে, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘আমার কাছে একজন পুরুষ এসে থাকেন, এসে অনেক বিষয় আলোচনা করে থাকেন, কিন্তু সেটা আমার পছন্দ হয়না। আমি মহিলা, নিরিবিলি একাকী থাকতে পছন্দ করি।’ যখন উনি উনার ব্যাপারটা খুলে বললেন; ঠিক তার পরবর্তীতে আল্লাহ পাক আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন,
يا يها الذين امنوا ا تدخلوا بيوتا غير بيوتكم حتى تستأنسوا وتسلموا على اهلها ذلكم خير لكم لعلكمخ تذكرون فان لم تجدوا فيها احدا فلا تدخلوها حتى يؤذن لكم وان قيل لكم ارجعوا فارجعوا هو ازكى لكم والله بما تعملون عليم.
আল্লাহ পাক আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন যে, “হে আমার হাবীব! আপনি বলে দিন, হে ঈমানদাররা, তোমরা কারো গৃহে প্রবেশ করোনা তোমাদের নিজস্ব ব্যতীত। কারো গৃহে প্রবেশ করোনা ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা সালাম না দিবে এবং অনুমতি না নিবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম। অবশ্য যদি তোমরা স্মরণ রাখো বা আমল করো। এবং যদি কোন বাড়ী-ঘর নিরিবিলি থেকে থাকে অর্থাৎ কেউ না থেকে থাকে তাহলে সেখানে তার অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করো না। আর যদি থাকা সত্ত্বেও কেউ বলে দেয় যে, তোমরা ফিরে যাও, যারা দেখা করতে এসেছ তারা ফিরে চলে যাও, তাহলে তাদের জন্য উচিত হবে ফিরে চলে যাওয়া। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতা। আল্লাহ পাক তোমাদের আমল সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।”
আয়াত শরীফ নাযিল হয়ে গেল। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়ে দিলেন, পর্দা ফরয করা হলো।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, হাদীস শরীফে ইরশাদ করা হয়েছে, প্রত্যেক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমানের কিছু হক্ব রয়েছে,
عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للمؤمن على المؤمن ست خصال.
হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, এক মুসলমানের বা মু’মিনের প্রতি আরেক মু’মিন বা মুসলমানের ছয়টা হক্ব রয়েছে। এক নম্বর হচ্ছে,
يعوده اذا مرض ويجيبه اذا دعاه ويشمته اذا عطس ويسلم عليه اذا لقيه ويشهده اذا مات وينصح له اذا عاب او شهد.
এ হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, এক মু’মিনের প্রতি আরেক মু’মিনের ছয়টা হক্ব রয়েছে।
يعوده اذا مرض
‘যখন কোন মু’মিন অসুস্থ হয়ে যায় আরেক জন মু’মিন যেন তার সেবা শুশ্রুষা করে।’
يجيبوه اذا دعاه.
‘যদি কোন মু’মিন কাউকে দাওয়াত দেয় সে যেন দাওয়াউনা কবুল করে।’ এরপর বলা হয়েছে,
يشمته اذا عطس.
‘হাঁচি দিলে জবাব দিবে।’
يسلم عليه اذا لقيه
‘যদি এক মু’মিন আরেক মু’মিনের সাক্ষাৎ পায় সে যেন সালাম দেয়।’
يشهده اذا مات
‘যদি কেউ ইন্তিকাল করে তাহলে তার জানাযার নামাযটা যেন সে পড়ে।’
ينصح له اذا عاب اوشهد.
উপস্থিত এবং অনুপস্থিত সর্বাবস্থায় এক মু’মিনের দায়িত্ব হচ্ছে আরেক মু’মিনের জন্য ভাল চাওয়া। য (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার আলোকে পদার গুরুত্ব-তাৎপয, ফাযায়লে-ফযীলত ও হুকুম-আহকাম