(ধারাবাহিক)
ঠিক অনুরূপ বলা হয়েছে আরেকটা হাদীস শরীফে। এখানে ‘মুসলিম’ শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে।
হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,
عن على ابن ابى طالب رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للمسلم على المسلم ست بالمعروف.
এক মুসলমানের প্রতি আরেক মুসলমানের তরফ থেকে অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলমানের পরস্পর পরস্পরের উপর ছয়টা দায়িত্ব বা হক্ব রয়েছে। একই জিনিস বর্ণনা করা হয়েছে, يسلم عليه اذا لقيه ‘সাক্ষাৎ হলে সালাম দিবে।’
يجيبوه اذا دعاه ‘যদি দাওয়াত করে কোন মুসলমান তাহলে আরেক জন সেটা কবুল করবে।’ يشمته اذا عطس ‘হাঁচি দিলে জবাব দিবে।’ অর্থাৎ হাঁচির জবাবে বলবে, يرحمك الله (আল্লাহ্ পাক তোমার প্রতি রহম করুন।) يعوده اذا مرض ‘অসুস্থ হলে সেবা শুশ্রুষা করবে।’ يتبع جنازته اذا مات ‘ইন্তিকাল করলে তার জানাযাতে শামীল হবে।’ يحب له ما يجب لنفسه. ‘আরেক জন মুসলমানের জন্য সেটাই পছন্দ করবে নিজের জন্য যেটা পছন্দ করে থাক। এখানে ছয়টা হক্ব উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে দু’টা হচ্ছে, যখন কাউকে ডাকা হয় অর্থাৎ দাওয়াত দেয়া হয় তখন সে তা কবুল করবে। আরেকটা হচ্ছে, মুসলমানকে দেখলে সালাম দিবে। আল্লাহ্ পাক কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ করেছেন,
حتى تستانسوا وتسلموا
“যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমতি না পাবে এবং সালাম না করবে। তোমরা প্রবেশ করোনা।”
এখন এখানে অনুমতি এবং সালামের বিষয়টা উল্লেখ করা হয়েছে যে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যামানায় সালাম দিলেই সেটা অনুমতি প্রার্থনা বুঝা যেতো। যে কোন ব্যক্তি এসে সালাম দিলে এর অর্থ দাঁড়াতো, সে অনুমতি চাচ্ছে সাক্ষাৎ করার জন্য। অনুমতি তাকে দেয়া হতো।
আল্লাহ্ পাক বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা অনুমতি না নিবে এবং সালাম না করবে।’ সালাম দিলেই এর সাথেই অনুমতি চাওয়া হয় এবং যেটা আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
عن جابر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم السلام قبل الكلام.
সালাম সমস্ত কথার পূর্বে বলতে হবে। কেউ যদি বলে আমি প্রবেশ করতে চাই السلام عليكم এটা অশুদ্ধ হবে। বরং বলবে السلام عليكم আমি প্রবেশ করতে চাই। আগে সালাম দিবে। এরপর সে প্রবেশ করার কথা বলবে। এটা শরীয়তের ফায়সালা।
সে সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগে সালাম দিবে এবং সালামের আগেই তার অনুমতি থাকবে। এরপর সে ঘরে প্রবেশ করবে যদি অনুমতি দেয়া হয়। যে হাদীস শরীফে ইরশাদ করা হয়েছে, এক ছাহাবী বর্ণনা করেন,
عن كلدة بن حنبل رضى الله تعالى عنه ان صفوان بن امية بعث بلبن او جداية وضغا بيس الى النبى صلى الله عليه وسلم والنبى صلى الله عليه وسلم با على الوادى قال فدخلت عليه ولم اسلم ولم استأذن فقال النبى صلى الله عليه وسلم ارجع فقل السلام عليكم الدخل.
“হযরত কালদাতা ইবনে হাম্বল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হযরত ছফওয়ান ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একবার আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমতে কিছু দুধ পাঠিয়েছিলেন। একটা হরিণের বাচ্চাও তার সাথে পাঠিয়েছিলেন। সাথে কিছু শসা ও খিরাই জাতীয় ফল-ফলাদিও পাঠিয়েছিলেন। তিনি যাকে পাঠিয়েছিলেন উনি যখন সেটা নিয়ে উপস্থিত হলেন তখন দেখতে পেলেন, আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি উপত্যকার উপরে বসে আছেন। আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা উঁচু জায়গায় ছিলেন, একটা উপত্যকার উপরে ছিলেন। সেই ছাহাবী কোন কথা না বলেই, কিছু জিজ্ঞেস না করেই, সালাম না দিয়েই উনি সরাসরি সেগুলো নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকটে। সেটা দেখে আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি ফিরে যাও, তুমি ফিরে যাও। ফিরে গিয়ে সালাম দাও এবং অনুমতি প্রার্থনা করো, এরপর প্রবেশ করো। সেই ছাহাবী নতুন ছিলেন। উনাকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এটা করা হয়েছিলো। উনি ফিরে গেলেন। বের হয়ে গেলেন সেখান থেকে। বের হয়ে সালাম দিলেন, আসসালামু আলাইকুম এবং বললেন, اادخل ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি কি প্রবেশ করব? আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি দিলেন; উনি প্রবেশ করলেন। হাদীস শরীফে যেটা উল্লেখ করা হয়েছে সেটা হচ্ছে, সালাম দিতে হবে, অনুমতি প্রার্থনা করতে হবে, এরপর প্রবেশ করতে হবে। আল্লাহ্ পাক বলে দিয়েছেন,
لاتدخلوا بيوتا غير بيوتكم
তোমাদের নিজস্ব ব্যতীত অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশী, পরিচিত-অপরিচিত লোকদের বাড়ীতে যখন যাবে তখন আগে সালাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে নিবে। হাদীস শরীফে ইরশাদ করা হয়েছে,
عن ابى امامة رضى الله تعالى عنه قال ان رسول صلى الله عليه وسلم ان اولى الناس بالله من بدا بالسلام.
“হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ পাক-এর কাছে ঐ ব্যক্তি সব চাইতে প্রিয়, যে প্রথম সালাম দেয় অর্থাৎ যে সালাম দেয় সে আল্লাহ্ পাক-এর কাছে প্রিয়, সম্মানিত এবং পছন্দনীয়।” ঘরে প্রবেশ করতে হলেই সালাম দিতে হবে। এবং এ প্রসঙ্গে অন্য হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن عبد الله بن عمرو رضى الله تعالى عنه ان رجلا سال رسول الله صلى الله عليه وسلم اى الاسلام خير فقال النبى صلى الله عليه وسلم تطعم الطعا م وتقرئ السلام على من عر فت ومن لم تعرف.
“হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
ان رجلا سال رسول الله صلى الله عليه وسلم الا الاسلام خير.
“কোন ইসলাম উত্তম? অর্থাৎ ইসলামের কোন বিষয়টা উত্তম?”
فقال النبى صلى الله عليه وسلم تطعم الطعام.
“হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ানো।” অর্থাৎ ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য খাওয়ানো। وتقرئ السلام “সালাম দেয়া।”
على من عرفت ومن لم تعرف.
“পরিচিত এবং অপরিচিত সবাইকে। অর্থাৎ সালাম দেয়া হচ্ছে পছন্দনীয় ও উত্তম। তাই ঘরে প্রবেশ করতে হলে সালাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে।” সেটাই আল্লাহ্ পাক বলেছেন,
ذلكم خير لكم لعلكم تذكرون.
“এটা তোমাদের জন্য অবশ্যই উত্তম। যদি তোমরা আলোচনা, ফিকির এবং চিন্তা কর।” সালাম দিয়ে অনুমতি প্রার্থনা করে, অনুমতি পেলে ঘরে প্রবেশ করবে; অন্যথায় করবে না। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম। যদি তোমরা ফিকির কর, চিন্তা কর তাহলে বুঝতে পারবে। অন্যথায় সেটা বুঝতে পারবে না। এটা হচ্ছে অন্য কারো গৃহে যদি প্রবেশ করো তখন অবশ্যই অনুমতি নিবে। (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার আলোকে পদার গুরুত্ব-তাৎপয, ফাযায়লে-ফযীলত ও হুকুম-আহকাম