(ধারাবাহিক)
কাজেই আল্লাহ্ পাক-এর নির্দেশ, আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ প্রত্যেকটাকেই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং হুবহু আমল করতে হবে। তাহলে হাক্বীক্বী অন্তরের যে পবিত্রতা রয়েছে সেটা হাছিল করা সম্ভব। অন্যথায় কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। কারণ পর্দা করা ফরয করে দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে পর্দা সম্পর্কে; বিশেষ করে যারা বেশরা-বিদ্য়াতী, গোমরাহ্ এবং যারা ফকীর রয়েছে এছাড়া আরো কিছু উলামায়ে “ছূ” রয়েছে, যারা মনে করে থাকে বা বলে থাকে, “অন্তরের পর্দা বড় পর্দা” অথবা আরো বিকৃত ব্যাখ্যা যারা দিয়ে থাকে ও আমল করে থাকে, সেটার কারণে তাদের অন্তরকে তারা কলুষিত করেছে এবং যারা তাদের অধীনস্ত অর্থাৎ তাদের ফতওয়া মুতাবিক, তাদের আদেশ-নিষেধ মুতাবিক চলে থাকে; তারাও তাদের অন্তরকে কলুষিত করেছে। কাজেই খুব ফিকির করতে হবে, আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেছেন,
ذلكم اطهر لقلوبكم وقلوبهن.
“এটা তোমাদের এবং তাদের অন্তরের পবিত্রতার কারণ।” এটা হচ্ছে সেই আয়াত শরীফ যেটা আগেই বলা হয়েছে। আল্লাহ্ পাক বলেছেন,
ان اتقيتن فلا تخضعن بالقول فيطمع الذى فى قليه مرض.
“তোমরা যদি পরহেয্গারী ইখতিয়ার করে থাক।”
ان اتقيتن قلا تخضعن بالقول.
“এমনকি কথা বলার সময় নরম সূরে বলোনা।”
فيطمع الذى فى قليه مرض.
যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, গালিজ রয়েছে তাদের অন্তরে ওয়াস্ওয়াসার সৃষ্টি হবে এবং পবিত্রতা নষ্ট হবে, আমল নষ্ট হবে, আখলাক নষ্ট হবে, ফিৎনার সৃষ্টি হবে; এবং ফিৎনার কারণ হবে। কাজেই অন্তরের পবিত্রতার জন্য হুবহু যা আদেশ এবং নির্দেশ রয়েছে পর্দা সম্পর্কে সেটা পালন করতে হবে। এর মধ্যে কোন চুঁ-চেরা, কোন কিল-কাল করা যাবেনা। যেমন- যেটা আমি আগে বলেছি যে, নামায পড়া ফরয, রোযা রাখা ফরয, হজ্ব-যাকাত আদায় করা ফরয, কলেমা শরীফ পাঠ করা ফরয। ঠিক তার অনুরূপ পর্দা করাটাও ফরয। আজকাল আমাদের দেশের মানুষ মনে করে থাকে, সাধারণভাবে নামায-রোযা বা হজ্ব-যাকাত ইত্যাদি আদায় করলেই শরীয়তের সব হুকুম পালন হয়ে গেলো; কিন্তু না, যেহেতু পর্দা আলাদাভাবে মেয়েদের জন্য ফরয করা হয়েছে, তাই তাও পালন করতে হবে। আর একটা মাসয়ালা এখানে মনে রাখতে হবে সেটা হচ্ছে, পর্দা করা আলাদাভাবে ফরয করে দেয়া হয়েছে। এখানে আকাঈদের মাসয়ালা রয়েছে,আক্বীদাগত দিক থেকে সেটা হচ্ছে, এ পর্দাকে ফরয জানতে হবে। এখন পর্দাকে ফরয জেনেও যদি কেউ পর্দার খিলাফ কোন কাজ করে সে ফাসিক হবে, গুণাহ্গার হবে; কিন্তু ঈমানদার থাকবে। আর যদি কেউ বলে, পর্দার দরকার নেই, তাহলে সে কাট্টা কাফির হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহ্ পাক বলতেছেন, পর্দার দরকার রয়েছে, আল্লাহ্ পাক-এর রসূল বলতেছেন, পর্দার দরকার রয়েছে। এরপরও কোন ব্যক্তি যদি বলে, পর্দার দরকার নেই, তাহলে সে কাট্টা কাফির হবে। এটা মনে রাখতে হবে যে, আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখতে হবে। ফরযকে ফরয জানতে হবে। ওয়াজিবকে ওয়াজিব জানতে হবে। সুন্নতকে সুন্নত জানতে হবে। কিছু লোক মনে করে থাকে, বর্তমানে পর্দার দরকার নেই। না, একথা কখনই চিন্তা করা যাবেনা। হ্যাঁ, যদি কোন লোক অপারগ হয়, অক্ষম হয় বা নফসানিয়াতের কারণে তার পর্দা পালন করা সম্ভব না হয়, সে পুরুষ হোক অথবা মহিলা হোক, তাহলে সে বা তারা হারাম মনে করেই করবে এবং কোশেশ করতে থাকবে পর্দা পালন করার জন্য। কিন্তু কস্মিনকালেও সে যেন মনে না করে, পর্দার দরকার নেই। যদি কেউ এটা মনে করে তাহলে তার স্ত্রী তালাক হবে, হজ্ব বাতিল হবে এবং ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। তাকে খালিছ তওবা করতে হবে। অন্যথায় সে যদি এ আক্বীদা নিয়ে ইন্তিকাল করে তাহলে সে ঈমান নিয়ে ইন্তিকাল করতে পারবে না। খুব সাবধান থাকতে হবে। এটা আক্বাঈদের বিষয়। পর্দা ফরয ফিক্বহী মাসয়ালা। এই আক্বীদা পোষণ করতে হবে যে, এটা ফরয হিসেবে জানতে হবে। ‘দরকার নেই,’ একথা বলা যাবেনা। দরকার রয়েছে। যে পারছে তার জন্য অবশ্যই আল্লাহ্ পাক-এর রহমত, বরকত, সাকীনা রয়েছে। আর যে পারছেনা সে ইস্তিগফার করবে, তওবা করবে এবং কোশেশ করবে। যেহেতু আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
السعى متا والاتمام من الله.
“চেষ্টা বান্দা করবে, আল্লাহ্ পাক পুরা করে দিবেন।” সেজন্য আল্লাহ্ পাক অন্য আয়াত শরীফে ইরশাদ করেছেন,
يا يها الذين امنوا اصر وا وصا بروا ورابطوا واتقوا الله لعلكم تفلحون.
আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদাররা ধৈর্যধারণ করো, ধৈর্যশীল হয়ে যাও, নেক কাজে লেগে থাক, আল্লাহ্ পাককে ভয় করো। অবশ্যই তোমরা কামিয়াবী হাছিল করবে।”
امنوا اصبروا وصابروا
“ধৈর্যধারণ করো, ধৈর্যশীল হয়ে যাও।”
ورابطوا واتقوا الله
“নেক কাজে লেগে থাক, আল্লাহ্ পাককে ভয় করো।”
لعلكم تفلحون.
“অবশ্যই তোমরা কামিয়াবী হাছিল করবে।” কাজেই সেই আশা করে কোশেশ করতে হবে। ভুলত্রুটি মানুষের থাকবে; কিন্তু সে কোশেশ করবে, চরম স্তরে পৌঁছার জন্য। কারণ হাদীস শরীফে এসেছে,
ان الانسان مركب من الخطاء والنسيان.
মানুষ ভুলত্রুটি যুক্ত। মানুষের ভুলত্রুটি থাকবে, গুণাহ্খাতা থাকবে কম-বেশী; কিন্তু সেজন্য সে গুণাহ্র মধ্যে মশগুল হয়ে থাকবে সেটা হবে না। সে ইস্তিগফার-তওবা করবে, আল্লাহ্ পাক-এর কাছে দোয়া করবে যাতে আল্লাহ্ পাক তাকে পাপ থেকে ফিরিয়ে নেন। অর্থাৎ ফিরিয়ে রাখেন। সে যেন পাপ থেকে সরে থাকতে পারে। সে তাওফীক যেন আল্লাহ্ পাক দান করেন, সেজন্য সে ইস্তিগ্ফার-তওবা করবে, বেশী বেশী সে দোয়া করবে।
কাজেই প্রত্যেকের মনে রাখতে হবে, পর্দা করাটা ফরয। এই দুই আয়াত শরীফ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যদিও তা খাছ করে উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে; কিন্তু আম হুকুম সকলের জন্যই। যেহেতু পর্দা করা ফরয, তাই পর্দা ফরয মনে করতে হবে। এরপর আমলে গাফলতি হয়ে থাকলে সে নিজেকে ফাসিক মনে করে ইস্তিগফার-তওবা করবে যাতে সে কামিল মু’মিন হতে পারে, মুসলমান হতে পারে। কস্মিকালেও যেন ‘এটা প্রয়োজন নেই’ একথা মনে না করে। যদি কেউ ‘প্রয়োজন নেই’ মনে করে তাহলে তা কুফরী হবে। এটা প্রত্যেককেই মনে রাখতে হবে। এটা আক্বাঈদী মাসয়ালা। কাজেই আমরা আল্লাহ্ পাক-এর কাছে দোয়া করব, আরজু করব; যাতে আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে খালিছ পর্দা করার তাওফীক দান করেন। পর্দার গুরুত্ব, ফযীলত যেহেতু অনেক রয়েছে এবং এটা ফরয করা হয়েছে সে জন্য এ সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইল্ম অর্জন করা প্রত্যেকের জন্য ফরয। আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে একাধিক সূরাতে একাধিক আয়াত শরীফে এবং আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক হাদীস শরীফে এর ফযীলত, মর্যাদা বর্ণনা করেছেন, হুকুম-আহ্কাম উল্লেখ করেছেন। (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার আলোকে পদার গুরুত্ব-তাৎপয, ফাযায়লে-ফযীলত ও হুকুম-আহকাম