(ধারাবাহিক)
এখানে ফিকিরের বিষয়,
الا ان يؤذن لكم এবং اذا دعيتم فادخلوا যে অনুমতি নিবে এবং যখন তোমাদের ডাকা হবে তখনি প্রবেশ করবে, বিনা অনুমতিতে কেউ আসবেনা এবং প্রবেশও করবে না। এখানে স্পষ্টভাবে আল্লাহ্ পাক বলে দিলেন। আর সেটা আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমল করে দেখিয়ে দিলেন। তোমাদের যতজনকে দাওয়াত করা হবে ঠিক ততজনই তোমরা যাবে। আর অনির্দিষ্টভাবে দাওয়াত করা হলে অনির্দিষ্ট ভাবেই যাবে; তাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে নির্দিষ্ট করে দাওয়াত দিলে নির্দিষ্ট করে যেতে হবে, একজনও বেশী নেয়া যাবেনা। একজনও যদি বেশী যায়, তাহলে সে دخل سارقا وخرج مغيرا সে চোর হয়ে প্রবেশ করবে আর ডাকাত হয়ে বের হবে এবং খাদ্যটা সে হালাল খাবেনা, সেটা হারাম খাবে।
কাজেই খুব ফিকির এবং চিন্তার বিষয় যে, পর্দার আয়াত আল্লাহ্ পাক ফরয করে দিয়েছেন। তার হুকুম-আহকাম, তার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এরপর বলা হয়েছে কি?
فاذا طعمتم فانتشروا যখন খাওয়া হয়ে যাবে, তখন চলে যাবে। বসে বসে আলাপ করে সময় নষ্ট করবেনা। কারণ,
من حسن اسلام المرء تركه مالا يعنيه.
“ইসলামের সৌন্দর্য হলো অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকা।” যেহেতু এখানে দাওয়াত দেয়া হয়েছে খাওয়ার জন্যে, খেয়েই তোমরা চলে যাবে। এখানে বসে আলাপ করবে না, কথাবার্তা বলবেনা। কারণ কথা বলতে বলতে অনেক অপ্রয়োজনীয় কাজ করা হবে, এক নাম্বার। দ্বিতীয় নাম্বার হচ্ছে, বাড়ীওয়ালার কষ্টের কারণ। যে দাওয়াত দিবে তার কষ্টের কারণ হবে। তাকে কষ্ট দিবেনা।
ابذاء المسلم كفر.
“মুসলমানকে কষ্ট দেয়া কুফরী।” কাজেই দাওয়াত দেয়া হয়েছে, তোমাকে খাওয়ার জন্য মেহমানদারী করার জন্য, তাযীম-তাকরীম করার জন্য। সেখানে কোন ব্যক্তি বসে বাড়ীওয়ালাকে কষ্ট দিবে সেটা শোভনীয় নয়। সেটা অশোভনীয়। দাওয়াত খেয়ে চলে যাবে। যদি কোন কথা থাকে পরে এসে বলবে, অথবা যদি খাওয়ার পর কোন আলোচনার কথা থাকে, তাহলে আলোচনা করবে, অন্যথায় চলে যাবে। এটা হচ্ছে শরীয়তের মাসয়ালা। ওখানে বসে থেকে সময় নষ্ট করবেনা। এবং খালিছ মুসলমানের যে আলামতের কথা বলা হয়েছে যে,
المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده.
“মুসলমান তো ঐ ব্যক্তি যার জবান এবং হাত থেকে অর্থাৎ সবকিছু থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।” যার জবান আর হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকবে না, যার জবান আর হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকবে না, সে তো মুসলমান হতে পারবে না। মুসলমান ঐ ব্যক্তি, যার জবান থেকে এবং হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকবে। কাজেই দাওয়াত দেয়া হলো তাকে খাওয়ার জন্য, মেহমানদারী করার জন্য তাকে তাযীম-তাকরীম করার জন্য। আর সে বসে কথা বলে সময় নষ্ট করে, দাওয়াতকারীকে কষ্ট দিবে, সেটা শরীয়তসম্মত নয়। সেজন্য বলা হয়েছে,
فاذا طعمتم فانتشروا.
“খাওয়া শেষ হয়ে গেলেই তোমরা চলে এসো।”
ولا مستانسين لحديث.
“কথা-বার্তায়, আলাপ আলোচনায় মশগুল থেকনা।” আর এখানে আরেকটা আয়াত শরীফ নাযিল করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে যাতে বলা হয়েছে, তোমরা আলোচনায় মশগুল থেকনা।
ان ذلكم كان يؤذى النبى فيستحى منكم والله لا يستحى من الحق ان ذلكم كان يؤذى النبى.
“নিশ্চয়ই তোমাদের এ আচরণ, বসে কথা-বার্তা বলাটা, আলাপ-আলোচনা করাটা আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কষ্টের কারণ। যেহেতু উনার কষ্ট হচ্ছে তোমরা বসে বসে আলাপ-আলোচনা করায়।” আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিলে কি হবে? যেটা আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন,
والذين يؤذون رسول الله لهم عذاب اليم.
“যে ব্যক্তি আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিবে তার জন্য কঠিন আযাব রয়েছে, তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।” শুধু তাই নয়- যে কষ্ট দিবে, তাকলিফ দিবে সে শুধু কঠিন শাস্তি ভোগ করবে তাই নয়; অন্য আয়াত শরীফে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন,
ان الذين يؤذون الله ورسوله لعنهم الله فى الدنيا والاخرة واعد لهم عذابا مهينا.
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়
لعنهم الله فى الدنيا والاخرة.
আল্লাহ্ পাক ইহকাল এবং পরকালে তাদের প্রতি লা’নত বর্ষণ করবেন। অর্থাৎ তাদের প্রতি ইহ্কাল এবং পরকালে লা’নত রয়েছে।
واعد لهم عذابا مهينا.
তাদের জন্য লাঞ্ছনা দায়ক শাস্তি রয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিবে তার জন্য ইহকালে লা’নত রয়েছে এবং পরকালে লাঞ্ছনাদায়ক মানহানীকর শাস্তি তার জন্য রয়েছে। কাজেই ইহকাল এবং পরকালে সে লা’নতগ্রস্থ হয়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবে, ঈমান নষ্ট হবে অর্থাৎ ঈমান হারা হয়ে সে জাহান্নামী হয়ে যাবে।
ان ذلكم كان يؤذى انبى.
তোমাদের এ আচরণ আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয় এবং কষ্টদায়ক। কাজেই খুব সাবধান থাকতে হবে এ সমস্ত ব্যাপারে। এরপর বলা হয়েছে, فيستحى منكم “তোমাদের কিছু বলতে আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংকোচ বোধ করেন। অর্থাৎ সংকোচ করার বিষয় নয়; যেহেতু
وما ينطق عن الهوى ان هو الا وحى يوحى.
আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহী ছাড়া কোন কথা বলেন না, উনারা অপেক্ষা করতেছেন, আলোচনা করতেছেন, কষ্ট হচ্ছিল, যেহেতু আল্লাহ্ পাক বলেননি, সেজন্য উনি চুপ করে রইলেন এবং কিছু বলতে আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করলেন সেটা হচ্ছে আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন,
لقد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ماعنتم حريص عليكم بالبمؤمنين رئوف رحيم.
আল্লাহ্ পাক বলেন,
لقد جاءكم رسول من انفسكم.
“তোমাদের মধ্য থেকে একজন রসূল এসেছেন। ”
عزيز عليه ما عنتم.
“তোমাদের কোন কিছু কষ্ট হলে উনার কাছে সেটা কষ্ট লাগে।” حريص عيكم “তোমাদের ভালর জন্য উনি উদগ্রীব।”
بامؤمنين رئوف رحيم.
“মু’মিনদের প্রতি উনি খুব দয়ালু। ইহ্সান করনেওয়ালা। উম্মতের কষ্ট যাতে না হোক। (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার আলোকে পদার গুরুত্ব-তাৎপয, ফাযায়লে-ফযীলত ও হুকুম-আহকাম