ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৬০ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সংখ্যা: ২৭৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের

মাঝে কথোপকথন (২)

হে আওলাদে রসূল আলাইহিস সালাম! লটারী কি জায়িয? তিনি বললেন, না, লটারী জায়িয নয়।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, এটাই আপনার সম্মানিত নানাজান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ। আমরা সে অনুযায়ী আমল করে থাকি। ফতওয়া দেই। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সফরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সাথে নেয়ার ব্যাপারে লটারী মুবারক করতেন। সেই লটারী মুবারককে আমরা জায়িয ফতওয়া দিয়ে থাকি। যদি আমরা নিজের ক্বিয়াসকে প্রাধান্য দিতাম তাহলে ঐ লটারী মুবারককেও নাজায়িয ফতওয়া দিতাম। কিন্তু আমরা তা করি না।

হে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মোজার উপর মাসেহ করার ক্ষেত্রে মোজার  উপরিভাগে মাসেহ করতে হয়, নাকি মোজার নীচের দিক দিয়ে?

তিনি বললেন, উপরিভাগে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, এটা আপনার সম্মানিত নানাজান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শিক্ষা। আমরা সেভাবে আমল করি ও ফতওয়া দিয়ে থাকি। যদি আমরা সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার উপর নিজের ক্বিয়াস বা ইজতিহাদকে প্রাধান্য দিতাম তাহলে বলতাম, মোজার নিচ দিক থেকে মাসেহ করতে হবে। কিন্তু আমরা তা বলি না।

হে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তুলনামুলকভাবে ইস্তিঞ্জা বেশি নাপাক, নাকি মনি?

তিনি বললেন, ইস্তিঞ্জা। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমরা যদি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উপর নিজের ক্বিয়াসকে প্রাধান্য দিতাম তাহলে বলতাম, ইস্তিঞ্জা করার পর গোসল করতে হবে। আর মনি বের হওয়ার কারণে অযু করতে হবে। কিন্তু আমরা তা বলি না।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার হিকমতপূর্ণ জাওয়াব শুনে সাইয়্যিদুনা ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ আসন মুবারক থেকে উঠে দাঁড়ালেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মুয়ানাকা-আলিঙ্গন করলেন। আর উনার কপাল মুবারকে বুছা দিয়ে বললেন, আপনার সম্মানিত ইলিম মুবারকই আপনাকে শত্রু বানিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ আপনার সূক্ষ্ম সমঝের কারণে মানুষ আপনার শত্রুতায় মেতে উঠেছে।  নাউযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খামিস আলাইহিস সালাম তিনি উনার প্রশংসা করতঃ অন্যত্র বলেছেন-

مَا رَاَيْتُ جَوَابًا اَفَحَمُ مِنْهُ

অর্থ: আমি উনার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট জাওয়াব দিতে আর কাউকে দেখিনি। সুবহানাল্লাহ! (তাযকিরাতুল খাওয়াছ-৩০২, ইমাম আবূ হানিফা হাদীছ শাস্ত্রের প্রধান ইমাম-৩০২)

হযরত ইমাম আবূ হামযা সুমালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমরা একদিন সাইয়্যিদুনা ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ছিলাম। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার ছোহবত মুবারকে উপস্থিত হলেন। কিছু মাসয়ালা-মাসায়িল জিজ্ঞাসা করলেন। সাইয়্যিদুনা ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার জাওয়াব দিলেন। যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি চলে গেলেন তখন তিনি বললেন-

مَا اَحْسَنَ هَدْيَه  وَسَـمْتَه  وَمَا اَكْثَرَ فِقْهَه

অর্থ: এ ব্যক্তির হিদায়েত কতইনা উত্তম, উনার চলার পথ কতই না সুন্দর। উনার জ্ঞানের গভীরতা কতই না গভীর! সুবহানাল্লাহ! (আল ইনতিকা ফী ফাযায়িলে আইম্মাতিস সালাসাতিল ফুকাহা-১৯৩, ইমাম আবূ হানীফা হাদিস শাস্ত্রের প্রধান ইমাম-৩০৬, মানাকিবুল ইমামিল আ’যম আবী হানীফা-৩৩)

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদ যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৩৭ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৫৩ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৫৭-মুহম্মদ সা’দী

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাত্বিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-২০৭ -মুহম্মদ সা’দী

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৪৮ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী) ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা (১)