ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৪৩ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সংখ্যা: ২৫৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

ইলমুল লাদুন্নী মুবারক

ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল মুহাদ্দিছীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন ইলমুল লাদুন্নী উনার অধিকারী।

উল্লেখ্য, যে ইলিম মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন মাধ্যম ছাড়াই কাউকে হাদীয়া করেন তাকে ইলমুল লাদুন্নী বলে। ইহা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নিয়ামত বা দান। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই তা দান করে থাকেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ذلك فضل الله يؤتيه من يشاء والله واسع عليم.

অর্থ: উহা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ ফজল বা অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই তা দান করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রাচুর্যতা দানকারী ও সর্ব বিষয়ে অভিহিত।” (পবিত্র সূরা আল মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৪)

ইলমুল লাদুন্নীর অধিকারী ব্যক্তিত্বকে ছহিবে ইলমে গায়িবও বলা হয়। ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল মুহাদ্দিছীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন ছহিবে ইলমে গায়িব। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে গাইবী ইলিম মুবারক হাদীয়া করেছেন।

“তাযকিরাতুল আউলিয়া”-১ম খন্ড-১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে- একদিন ইমামুল মুসলিমীন মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ্ দ্বীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি তিনি দরস বা তা’লীম দিচ্ছিলেন। হাজার হাজার আশিকীন, সালিকীন, মুহিব্বীন সেই তা’লীমের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তারই অনতি দূরে কিছু ছেলে খেলা-ধুলা করছিল। হঠাৎ একটি বল এসে সেই মজলিসের মধ্যস্থলে পড়ে গেল। ছেলেরা অনেকে লজ্জিত হলো। আফসোস করলো। কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এরই মধ্যে একটি ছেলে সবাইকে ঠেলে বলটি নিয়ে চলে গেল। ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল মুহাদ্দিছীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “এ ছেলেটি অবৈধ সন্তান। প্রকৃত পিতৃ পরিচয় সে জানেনা।”

উল্লেখ্য যে, তদানিন্তন সময়ের প্রায় সবাই জানেন ও মানেন যে, ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন সাইয়্যিদুনা ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি যা বলেন তা সবই সত্য। সম্মানিত ওহী মুবারক উনার ইতায়াত বা হাক্বীক্বী অনুসরণ-অনুকরণ করার কারণে উনার ক্বওল শরীফসমূহ অকাট্য হয়ে থাকে।

কাজেই সকলেই দৃঢ়ভাবে বিষয়টি বিশ্বাস করলেন। কৌতুহলী হয়ে কেউ কেউ বিষয়টির তাহক্বীক্ব করার জন্য খোঁজ খবর নিলেন। তাহক্বীক্ব করে হুবহু সেটাই পেলেন যে, সত্যিই ছেলেটি অবৈধ সন্তান।

আহলে ইলিমগণের খিদমত

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

من احب العلم والعلماء لـم تكتب خطيئة على حياته.

অর্থ: “যে ব্যক্তি ইলিম এবং আহলে ইলিম তথা আলিমকে মুহব্বত করবে তার আমল নামায় জীবনে কোন গুনাহ লিখা হবে না।” সুবহানাল্লাহ!

ইমামুল মুহাদ্দিছীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলিম ও আহলে ইলিম উনাদের অত্যন্ত মুহব্বত করতেন, তা’যীম-তাকরীম করতেন, গুরুত্বের সাথে উনাদের খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিতেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যে অনুগ্রহ মুবারক দান করেছেন তা সবই ইলিম এবং আহলে ইলিমগণের খিদমত মুবারকে ব্যয় করেছেন।

আল্লামা ইবনে হাজার মাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন- তিনি এক বছর যা জমা করতেন তা সবই শায়েখ এবং মুহাদ্দিছীনে কিরাম উনাদের খিদমতে ব্যয় করতেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, খাওয়া-দাওয়া, কাপড়-চোপড়, অন্যান্য দ্রবাদি কিনে দিতেন। অবশিষ্ট স্বর্ণমুদ্রাগুলো উনাদের খিদমত মুবারকে দিয়ে বলতেন, আপনাদের প্রয়োজনে এগুলো খরচ করবেন। আর শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনারই প্রশংসা করবেন। কেননা আমি আমার ধন-সম্পদ থেকে আপনাদেরকে কিছুই দেইনি। বরং যা দিয়েছি তা হচ্ছে আপনাদের খিদমতের জন্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার উপর অনুগ্রহ করেছেন। (আল খইরাতুল হিসান-৬১)

তিনি উনার নিকট পড়তে আসা তলিবে ইলিম এবং সালিকগণের খরচ বহন করতেন। আর এভাবে ইলিম ও আহলে ইলিমগণের সম্মান করে, সহযোগীতা করে সম্মানিত দ্বীন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। সুবহানাল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাত্বিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-১৯৫

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম (৪৫) উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৪২ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদ যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-২৬ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাত্বিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-১৯৬