ইল্মে আক্বলিয়ার দৈন্য এবং বেলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরী হচ্ছে না

সংখ্যা: ১০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

(তৃতীয় পর্ব)

            ধরা যাক, সূর্যের বিপরীতে একটি আয়না স্থাপন করা হলো, সেই আয়নার বিপরীতে আরেকটি আয়না, তার বিপরীতে তৃতীয় আয়না, এভাবে ৩০ টি আয়না স্থাপন করা হলো, এখন যতগুলো আয়না স্থাপন করা হয়েছে প্রত্যেক আয়নাই অপর আয়নাতে আলো বিকিরণ করবে এবং প্রত্যেক আয়নাতেই সূর্য দেখা যাবে। সেভাবে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ক্বলব মুবারক সমূহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্বলব মুবারক হতে বিচ্ছুরিত নূরে আয়নার মত আলোকিত হয়েছিল। তাঁর হুসনে খুলুক দেখে, সুমধুর বাণী শুনে, তাঁর মু’জিযাত প্রত্যক্ষ করে এবং তাঁর নূরানী চেহারা মুবারকের দীদার লাভ করে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ তাঁদের নিজেদের জানের চেয়েও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অধিক মুহব্বত করেছেন এবং তাঁর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম-পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ-অনুকরণ করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামান্য ইশারাতেই জান কুরবান করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তাঁরা যে ফয়েজ ও নূর লাভ করেছিলেন পরবর্তীরা তাঁদের কাছ থেকে তাই লাভ করেছেন। সে ধারাবাহিকতায় ১৪শত বৎসর পরও সে একই নূর হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম-এর ক্বলব মুবারকের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে আসছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত প্রবাহিত হবে।

            কপারের তারের মাধ্যমে যেমন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে বাতি জ্বলে। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভের মাধ্যমে যেমন রেডিও, প্রেরক যন্ত্রের সাথে সম্বন্ধিত। সেভাবে মুহব্বতই হলো মুরীদের অন্তরে ফয়েজ আসার উপায়। হাদীস শরীফে ঘোষিত হয়েছে, “আল্লাহ্ পাক আমার দিলের মধ্যে যে রহমত ও নূর দান করেছেন আমি তা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দান করেছি।” যেহেতু হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাক্বওয়া, পরহিযগারীতে সকলের অগ্রগামী ছিলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাক্বীক্বতের সর্বাধিক সমঝদার ও আশিক ছিলেন এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবচেয়ে বেশী মুহব্বত লাভ করেছিলেন। তাই তিনিই সর্বাধিক ফয়েজ লাভ করেছিলেন। আফজালুন্ নাছ, বা’দাল আম্বিয়া, অর্থাৎ নবীদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের মর্যাদা লাভ করেছিলেন।           সুলতান মাহমুদ গজনবী, গজনবী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা মহান ইসলামী শাসক ছিলেন। তিনি ৩৫৭ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪২১ হিজরীতে গজনীতে ইন্তিকাল করেন। একদিন এশিয়ায় এই মহান সুলতান সেই যামানার কুতুব হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর যিয়ারতে যান। কথা প্রসঙ্গে সুলতান তাঁর পীর ছাহেব সুলতানুল আরিফীন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কথা জিজ্ঞাসা করেন। শায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি উত্তর দিলেন- “তাঁকে যারা দেখেছে তারা সঠিক পথ লাভ করেছে এবং জান্নাতী হয়েছে।” সুলতান মাহমুদের একথা পছন্দ হলোনা। তিনি বললেন, “আবু জাহিল, আবূ লাহাব তো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছিলো কিন্তু, তারাতো হিদায়েত প্রাপ্ত হয়নি। তবে কি করে আপনি বললেন আপনার শায়েখকে যারা দেখেছে তারা হিদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে।” তিনি বললেন, নাদান! আবূ জাহিল এবং আবূ লাহাব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেনি, তারা আবূ-তালিবের পালিত, হযরত খাজা আব্দুল্লাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর পুত্র হিসাবে তাঁকে দেখেছে। যদি তারা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নজরে তাঁকে দেখতো তবে তারাও হিদায়েত প্রাপ্ত হয়ে ছিদ্দীকে আকবরের ন্যায় মর্যাদা লাভ করতো।”

            আল্লাহ্ তায়ালা ঘোষণা করেন, “আপনি তাদেরকে আপনার দিকে তাকাতে দেখেন, কিন্তু তারা আপনাকে বুঝেনা। অর্থাৎ তারা আপনার হাক্বীক্বত উপলব্ধি করতে পারেনা।” (সূরা আ’রাফ/৯৮)

            সুলতান মাহমুদ গজনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এ জবাব খুব পছন্দ হলো। ইসলাম ও হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম-এর প্রতি তাঁর মুহব্বত আরো বৃদ্ধি পেল। হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ আলিম সাইয়্যিদ শরীফ যুরযানি রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর শরহে মাওয়াকিফ-এর শেষ ভাগে এবং হাশিয়াতুশ শরহে মাতালি-এর প্রথম দিকে ও  বারিকা কিতাবের ২৭০ পৃষ্ঠায় লিখিত রয়েছে, “আউলিয়া-ই-কিরাম-এর আকৃতি মুবারক ইন্তিকালের পরেও মুরীদদেরকে দেখা দান করে এবং ফয়েজ দিয়ে থাকে। ইন্তিকালের পর আউলিয়া-ই-কিরাম-এর সাক্ষাৎ লাভ এবং তাঁদের কাছ থেকে ফয়েজ হাছিল করা সহজ নয়, এর জন্য আহ্লে সুন্নতের আক্বীদা, শরীয়তের পূর্ণ পাবন্দী এবং আউলিয়া-ই-কিরাম-এর প্রতি হুসনে যন বা নেক ধারণা থাকা অপরিহার্য।”  (চলবে)

 -সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুনিস মুর্শেদ, মিরপুর, ঢাকা।

তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত পাঠে উপলব্ধি- (১)

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতাম বিভাগ

মতামত বিভাগ