ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম এবং সব বেহায়াপনা, বেপর্দা, নাচগান ইত্যাদি সম্পর্কে মানুষকে ইসলামিক ধারণা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তা হলেই কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাশ হবে না- এ প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটবে।

সংখ্যা: ১৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

কোনটা দিয়ে লেখা শুরু করব?

প্রাণের তথাকথিত উচ্ছ্বাস?

না,

স্পন্দনহীন প্রাণের হীম শীতলতা।

পরস্পর বিপরীত এ দু’টো খবরই কিন্তু গত ১৪.০২.০৯ ইংরেজী তারিখে প্রায় সব পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় হাইলাইট হয়েছে।

সেদিন ‘দৈনিক ডেসটিনি’ পত্রিকা ক্যাপশন দেয়: “চারুকলার বকুলতলায় বসন্ত উৎসব।”

 হেডিং হয়: “রাজধানী সেজেছিলো হলুদে হলুদে।”

খবরে বলা হয়: “বসন্তের প্রথম দিনে গতকাল শুক্রবার রাজধানী সেজেছিল হলুদে হলুদে। খোঁপার ফুল, পরনের শাড়ি-পাঞ্জাবি সবই হলুদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, বাংলা একাডেমীর বইমেলা, চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলা, টিএসসি চত্বরে তরুণদের পোশাকে হলুদের ছড়াছড়ি প্রতিমুহূর্তেই যেন বসন্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বসন্ত উৎসবের আবহে একুশের বইমেলা শুধু বইয়ের মেলা থাকেনি, হয়ে উঠেছে বাসন্তী মেলা।

রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফুল বাগানে মাতাল হাওয়ার পাশাপাশি প্রজাপতির ডানায় ডানায় হলুদ রঙের ছোঁয়া যেন নিসর্গের আনন্দ ধ্যান। তরুণদের পাশাপাশি বৃদ্ধ অথবা শিশুদেরও আনন্দের কমতি ছিল না। অনেকে আসেন পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বসন্তের প্রথম দিনটিকে একটু ভিন্নভাবে উদযাপন করতে। সেজন্যই গতকাল সকাল থেকেই বাংলা একাডেমীর একুশে বইমেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় বাসন্তী উৎসব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বকুলতলায় বাসন্তী উৎসবে শীতের পিঠা থেকে শুরু করে নানা সামগ্রীর পসরা বসে। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বাসন্তী উৎসব চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। চারুকলার শিক্ষার্থীরা তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে দেন শিশুদের নরম মুখাবরণ। এর সঙ্গে বকুলতলায় চলেছে বসন্তের গানের আসর।

রাজধানীর বইমেলায় আগতদের পোশাকে ছিল হলুদের ছড়াছড়ি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, টিএসসি, চারুকলার বকুলতলা থেকে ছড়িয়ে ছিল বইমেলা অবধি। সকাল ১১টা থেকে বইমেলায় ভিড় কেবল বেড়েছে। নানা বয়সী মানুষের ঢল। বইমেলাতেও গতকাল বিকালে প্রচ- ভিড় হবে ভেবে সকালে অনেকে আসেন বইমেলা দেখে যেতে।

ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরেও বসন্তের আয়োজন করা হয় বিকালে। এতে শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বসন্তের নাচ ও আবৃত্তিও হয়।”

এদিকে ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকায় ক্যাপশন দেয়: “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে বসন্তবরণ উৎসবে নৃত্য পরিবেশণ করছেণ শিল্পীরা।”

 হেডিং করে: “বসন্তের ছোঁয়ায় রঙিন রাজধানী।”

খবরে বলা হয়: “গতকাল ভোরে শুক্রবার পয়লা ফাগুনে রাজধানীতে বসন্তের সুরের সূচনা হয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের বসন্তবরণ উৎসবে।

হাকিম চত্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অ্যাবস্ট্রাক্টের যৌথ আয়োজনে হয়েছে বসন্ত বিতর্ক ও বসন্তের কবিতা পড়ার অনুষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ কলা ভবন চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের করেছে। অনুষ্ঠান করেছে টিএসসিতে।”

উপরোক্ত সংবাদভাষ্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়-

১। বসন্ত উৎসব সম্পূর্ণ ঢাকা কেন্দ্রিক।

২। ঢাবি’র বটতলা, চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং বকুলতলা, হাকিম চত্বরসহ আরো কয়েকটি স্থানেই এসব উৎসবের উৎসবস্থল।

আসলে তা গোটা দেশবাসীর

তথা

জনজীবনের গণঅনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, এ কয়েকটি চত্বরে হাজার খানিক লোক উচ্ছল নৃত্যে উদ্বেল হলো- সেটাকেই মিডিয়া লুফে নিয়ে বসন্ত উৎসব মহাসমারোহে পালিত হলো বলে ঢাক-ঢোল পিটালো।

কিন্তু তার বাইরে বাকি ১৪ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার লোক যে তথাকথিত বসন্ত উৎসবকে বর্জন করে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যস্ত ও ব্যাপৃত রইলো- কই, মিডিয়া তো তাদেরকে ফোকাস করলো না।

তথাকথিত বসন্ত উৎসব বিচ্ছিন্ন ও পরিত্যাজ্যকারী প্রায় গোটা দেশবাসীর মনোভাব ও কার্যপ্রণালীকে তুলে ধরলো না।

যুক্তির খাতিরে যারা প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্যতা রাখে-

ঐ জনবিচ্ছিন্ন এক হাজার লোক?

না,

১৪ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার জনগণ তথা গোটা দেশবাসী?

কাজেই শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার, রাজনৈতিক সরকার

আর

ডিজিএফআই, পুলিশ, র‌্যাব

আর ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটই নয়-

মিডিয়া সিন্ডিকেটকেও আসলে শক্ত ও কঠিন বিচারের আওতাভুক্ত ও জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।

দিন বদলের সরকারকে এসব বিষয়ে গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখতে হবে। বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে। যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

মুক্তবাজার অর্থনীতির ফায়দা হাছিলকারী বিদেশী প্রভুরা যে এসব সংস্কৃতির নামে ভোগবাদী প্রবণতাকে প্ররোচিত করেছে এবং তাদের পণ্যদ্রব্যের অবাধ বাজার সৃষ্টি করছে এবং সে লক্ষ্যে নারীদেহকে ৫ টাকা ১০ টাকার পণ্যে পর্যবসিত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে

 সে বিষয়ে এখনি গভীরভাবে অনুধাবনকরতে হবে।

এবারের চ্যানেল আই সুন্দরী বলেছে, ‘সে ১৫ লাখ টাকার কমে সিনেমা করবে না। দেহ প্রদর্শন করবে না।’

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ঐ সুন্দরীদের দেহ প্রদর্শনের মূলে থাকছে কেবল টাকা। কিন্তু ফটো লাক্স চ্যানেল আই সুন্দরী হতে পারে ক’জন। তবে একটা জিনিস যা হয়েছে যে, প্রায় সবার আগেই এখন দেহ প্রদর্শনের একটা প্রবণতা মহামারী আকার ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের বদৌলতে বুক, কাঁধ, পেট, পিঠ খোলা অথবা কাপড় পরার নামে যা পরা হয় তাকে কাপড়ই বলা যায়না- এ অবস্থা এখন শুধু  এদেশীয় চলচ্চিত্রের নায়িকাদের মাঝেই নয় বরং গুটি কতক ইসলামী ভাবাপন্ন মহিলা ব্যতীত এ অবস্থা এখন সব সাধারণ মহিলাদের।

তাতে করে অবস্থা এমন হয়েছে যে, এখন পনের লাখ টাকায় ‘মীমের’ দেহ প্রদর্শনই নয় ঢা’বির বটতলা অথবা চারুকলার বকুলতলায় এখন বিনে পয়সায় স্বল্পবসনা নৃত্যরতাদের অবাধে দেখা যাচ্ছে।

এসব দেহ প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা এখন একটা ফোবিয়া হয়েছে। সবারই গোপন উদ্দেশ্য একটাই যে,

যদি কোনরকমে জাতে উঠা যায়, মিডিয়ায় স্থান পাওয়া যায়

তবেই মীমের মত পনের লাখ না হলেও পাঁচ লাখ তো পাওয়া যাবে।

 যে কথা আবারো বলতে হয় যে, এদেশে অবাধ বেহায়াপনা সংস্কৃতির পেছনে একদিকে রয়েছে ইসলামকে মুসলমানদের অন্তর থেকে মুছে দেয়া। তার পাশাপাশি মুসলমানদের অন্তরে ভোগবাদী লালসাকে চরমভাবে জাগিয়ে তোলা।

যাতে মুসলমান জীবনকে উপভোগ করার বলয়ে আবদ্ধ থাকে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু টাকার পিছনে ঘোরে এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পণ্যগুলো বেশি বেশি কিনে। পাশাপাশি নারীকেও তারা পণ্য হিসেবে দেখে।

তাতে ধ্বংস হবে পারিবারিক বন্ধন। ফলতঃ সহজেই সঞ্চালিত হবে

আন্তকেন্দ্রিক ব্যক্তিজীবন

 সে জীবনে থাকবেই শুধুই ভোগবাদী, প্রবণতা ও চেতনা।

আর তাতে যোগ দিবে বহুজাতিক আমেরিকা-ইউরোপিয়ান কোম্পানি তথা ইহুদী কোম্পানিগুলো।

আদর্শহীন ও গাফিল মুসলমানদের কাছে তাদের পণ্য বাজারজাত করে সে লাভের অর্থ দিয়ে অস্ত্র তৈরি করে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করবে,

মুসলমানদের হত্যা করবে।

বলাবাহুল্য, মুসলমান এখন মৃত্যুর কথা ভুলে গেছে। অথচ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মারা যেয়োনা মুসলমান না হয়ে।’

আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’

বলাবাহুল্য, ঢাবি’র বটতলা আর চারুকলার বকুলতলায় যে উদ্দাম নৃত্য চলে তা কি আমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করায়?

মৃত্যুর যোগ্যতা তৈরি করে দেয়?

মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের পাথেয়ের সহায় হয়?

এসব প্রশ্নের জবাব আজ আমাদেরই খুঁজতে হবে।

কারণ, ঢাবির বটতলা আর চারুকলার বকুলতলার লোক

মৃত্যু ঠেকাতে পারে না?

 অথবা মৃত স্বজনকে ফিরিয়ে দিতে পারে না?

-০-

পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে চারুকলায় সবারই ছিলো হলুদ পোশাক। পাশাপাশি ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকায় কিছু ক্রন্দসীর গায়েও পহেলা ফাল্গুনে দেখা গেলো হলুদ পোশাক।

বলাবাহুল্য হলুদ পোশাক পরে বটতলা আর বকুল তলার লোকেরা হাসছে আর চট্টগ্রামের লোকেরা কাঁদছে কেন?

পহেলা ফাল্গুনে ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকায় বিশাল বক্স আইটেমে ফার্স্ট লীড নিউজ হয়:

খবরে বলা হয়: “মেধাবী শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যেন কাঁদছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম কলেজের পিকনিকের বাস দুর্ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থীসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন অভিভাবক। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাসের চালক ও হেলপার। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। তবে এখনো খোঁজ মেলেনি প্রেয়সী মুৎসুদ্দি নামে এক ছাত্রীর। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ পাঁচটি কমিটি গঠন করেছে। ঘোষণা করা হয়েছে তিনদিনের শোক কর্মসূচি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বান্দরবানের পাহাড়ি উঁচুনিচু পথে হঠাৎ বাসের স্টার্ট থেমে যাওয়ায় অথবা বাসের চালক মদ্যপ থাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।”

‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকায় আরো ক্যাপশন দেয়: “দুর্ঘটনায় নিহত মেধাবী ছাত্রী শান্তা চক্রবর্তীর মরদেহের উপর মা ও বোনের আহাজারি।”

প্রসঙ্গতঃ এ প্রশ্ন কী জোরদার নয়, একইদিনে ঢাবির ছাত্ররা আনন্দে উচ্ছল পাশাপাশি চট্টগ্রামের ছাত্ররা শোক-কান্নায় বিহ্বল।

উভয়ের মধ্যে এত ফারাক কেন?

 বৈপরীত্য কেন? পাশাপাশি এর মধ্যে কোনটা বেশি সত্য?

যেসব ছাত্ররা মারা গেলেন তারা যে অংশগ্রহণ করলেন না, করতে পারলেন না- গত ১২.০২.২০০৯ ইংরেজি তারিখে বসন্তবরণ উৎসবে

তাহলে এ বসন্তবরণ উৎসবের সার্বজনীনতা ও স্থায়ীত্বতা কোথায়?

পাশাপাশি যেসব ছাত্ররা মারা গেছেন তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে এ বসন্তবরণ উৎসবের উচ্ছলতার আবেদন কোথায়?

অথবা দেশের দশ কোটি চরম দারিদ্র লোকের কাছে এই বসন্তবরণ উৎসবের উচ্ছলতা কী দোলা দেয়?

শ্রুতিকটু হলেও একটা বিষয় অতি স্পষ্ট যে,

কিছু ঘুষখোর

কিছু দুর্নীতিবাজ

কিছু উঠতি বড়লোক

কিছু তথাকথিত সংস্কৃতিবাদী

কিছু বিদেশী এজেন্ট

অথবা

ধর্মীয় মূল্যবোধহীন কিছু ব্যক্তির কিছু ছেলেমেয়েরা সব সময় নাচুনে বুড়ির ভূমিকায় থাকে।

 কোনরকম একটা ঢোলের বারি হলেই হলো, তারা লাফিয়ে বেসামাল নেচে উঠে।

অথচ স্বাভাবিক যৌক্তিক কারণেও তাদের এ খেমটা নাচুনিটাও অনর্থক ও অমূলক প্রমাণিত ও প্রতিভাত হয়।

-০-

গত ১৩.২.২০০৯ ইংরেজি তারিখের পত্রিকায় এককালে বসন্ত উপলক্ষে কবিরা যে গাঁথা রচনা করেছিলেন তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকায় কবিতার চরণ দেয়া হয়েছে, “ওরে ভাই, ফাগুন এসেছে বনে বনে।”

উল্লেখ্য, আমাদের দেশে এখন ঢাবি, চারুকলা তো দূরের কথা গ্রামেগঞ্জেও আসলে কবিতার বর্ণনা অনুযায়ী কোনো গ্রাম নেই।

‘দৈনিক ভোরের কাগজ’ পত্রিকায় কবিতার চরণ উল্লেখ করা হয়েছে, “খোল দ্বার খোল, লাগলে যে দেল ওহে গৃহবাসী।”

উল্লেখ্য, এখন ঘরের দরজা খুললে-

রাস্তার প্রচ- ধুলাবালি, গাড়ি-ঘোড়ার হর্ন, হকারের আওয়াজ ছাড়া

আর কিছুই শোনা যায় না।

কবিতায় বর্ণিত বসন্তের যে দোল হারিয়ে গেছে কোন কালে?

‘দৈনিক জনতা’ পত্রিকায় কবিতার চরণ দেয়া হয়:

“আহা আজি এ বসন্তে,

কত ফুল ফোটে, কত পাখি গায়, কত বাশি বাজে,

আহা আজি এ বসন্তে।”

প্রকৃত অর্থে আসলেই এখন বসন্তে ঢাকা শহর কেন, গ্রামগঞ্জে কবিতায় বর্ণিত চিত্র অনুযায়ী

ফুল ফোটা দেখা যায়?

পাখির কলতান শোনা যায়?

বসন্ত উৎসবের উৎস মূলতঃ রবি ঠাকুরের এ কবিতা।

কিন্তু ঠাকুরের কবিতার চিত্র কি এ যুগে পাওয়া যায়?

‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ পত্রিকায় রিপোর্ট হয়: “কেটে গেছে কুয়াশার ঘোর। আকাশ ভরা জলমলে রোদ।”

কিন্তু কথা হচ্ছে, পহেলা ফাল্গুনে যারা বাসন্তী উৎসবের নাটের গুরু হয়েছিলেন

নৃত্যময়ী ছিলেন, আবৃত্তিকার ছিলেন

দেহ প্রদর্শনকারী ছিলেন

তারা কী বুকে হাত দিয়ে হলফ করে বলতে পারবেন যে, তারা এই ঢাকায় আদৌ কুয়াশার চাদর দেখেছেন? অথবা তারা বাড়িতে থেকে আকাশের কোল দেখতে পান?

আর আসলে তারা ঢাবির ছাত্র দাবি করেন কিন্তু সমসাময়িক বিশ্ব সম্পর্কে, নিজের দেশ সম্পর্কে তারা এত অজ্ঞ কেন?

তারা কী জানে না যে, বড় দেশগুলোর অনিয়মের ফলে বিশ্বে জলবায়ুর বিরাট পরিবর্তন ঘটে গেছে।

এবং মারাত্মক ঝুঁকি ও বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ।

সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়েছে,

লবণাক্ততা বেড়েছে।

গ্রীন হাউস গ্যাস এফেক্ট করছে।

ওজন স্তর কমে গেছে।

ফলতঃ ফাগুন চৈত্রের যে বসন্ত  একসময় ছিলো

সে বসন্তের শ্রী পরিবর্তিত।

 সে বসন্তের প্রকৃতি

 সে বসন্তের সমীরণ

 সে বসন্তের কলতান

 সে বসন্তের আহ্বান পরিবর্তিত হয়েছে অনেক আগেই।

 সেক্ষেত্রে উচিত ছিলো, বসন্ত উৎসবে বাসন্তী দিবসের নামে নাচগান না করে বরং কি করে এই জলবায়ু বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা করা যায় সে ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা, কর্মসূচী গ্রহণ করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে চাপ দেয়া।

কিন্তু না করে বসন্ত উৎসবের নামে অবসন্তনীয় কাজ করার প্রেক্ষিতে এটাই প্রমাণ হয় যে, ঢাবি, জাবি, শাবি, চবি চারুকলার একদল নাচুনে রয়েছে। দেহ প্রদর্শনকারিনী রয়েছে। মিডিয়া বুভুক্ষ রয়েছে যারা যেনোতেনো ছুতোয়ই নেচেগেয়ে উঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আর এটাকেই গোটা দেশবাসীর সংস্কৃতি বলে চাপিয়ে মিডিয়া প্রচার করে বেড়ায়।

সঞ্চালিত করার চেষ্টা করে।

ইসলামের দৃষ্টিতে এরা এইডস রূপক সংস্কৃতিধারী।

কাজেই গোটা দেশ, গোটা জাতি তথা পনের কোটি মুসলমানকে এদের অপসংস্কৃতির আক্রমণ, সঞ্চালন থেকে রক্ষা করতে হবে। কারণ এদের এসব অপসংস্কৃতিই চূড়ান্ত নয়।

 শেষ কথা হলো- মৃত্যু। যা পহেলা ফাল্গুনের পত্রিকায়ও হাইলাইট হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষ কীভাবে একটু খেয়ে পরে বাঁচতে পারে সে চেষ্টায় চরমভাবে নিবেদিত।

কিন্তু দুনিয়াতে মানুষ বাঁচে ৬০/৭০ বছর। আর দুনিয়াবী জীবনের পর মানুষের অনন্তকালের জীবন।

সুতরাং প্রধানমন্ত্রীকে দুনিয়াবী জীবনের পাশাপাশি পরকালীন জীবনের কামাই সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সক্রিয় হতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম- সব বেহায়াপনা, বেপর্দা, নাচগান ইত্যাদি সম্পর্কে মানুষকে ইসলামিক ধারণা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তা হলেই কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাশ হবে না- এ প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটবে।

মহান আল্লাহ পাক কবুল করুন ও গায়েবী মদদ করুন। (আমীন)

মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান

ভারতে মসজিদ মাদ্রাসা মুসলমানদের ঘর ভাঙ্গা, তথা শহীদ করা চলছেই নাউযুবিল্লাহ! শত বৎসর থেকে হাজার বৎসরের পুরানো মসজিদও আমলে নেয়া হচ্ছে না নাউযুবিল্লাহ! তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষবাদী ভারতে মুসলিম নির্যাতনের  বিরুদ্ধে সরকারের ও জনগণের শক্ত প্রতিবাদ করা দরকার

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৩

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-১৯

ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি ও ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা-৫০

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৬ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল