আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্ত্রী অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছোহবতের মধ্যেই রয়েছে সর্বাধিক মর্যাদা-মর্তবা। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছোহবতের মহান সৌভাগ্যশালী হওয়ার কারণেই হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ দুনিয়ায় থাকতেই আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টি-রেযামন্দীর সুসংবাদ অর্জন করেছেন।
যেমন, মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেছেন, رضى الله عنهم ورضوا عنه.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক তাঁদের (হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের) উপর সন্তুষ্ট; তাঁরাও আল্লাহ্ পাক-এর প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা মায়িদা/১১৯, সূরা মুজাদালাহ্/২২, সূরা বাইয়্যিনাহ্/৮)
হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ একদিকে যেমন ছাহাবীয়াগণের অন্তর্ভুক্ত, অন্যদিকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইহ্কাল ও পরকালীন জীবনসঙ্গীনি হওয়ারও সুমহান সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। যার কারণে অন্যান্য পরহিযগার-মুত্তাক্বী মহিলাগণের থেকে তাঁদেরকে অসংখ্য-অগণিত নিয়ামত, মর্যাদা, মর্তবা, ফাযাইল-ফযীলত প্রদান করা হয়েছে। যা স্বয়ং আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদান করেছেন।
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী হওয়ার কারণেই অন্যান্য নারীদের উপরে তাঁদের মর্যাদা
মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেছেন, يا نساء النبى لستن كاحد من النساء.
অর্থঃ- “হে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ! আপনারা অন্য নারীদের মত নন।” (সূরা আহ্যাব/৩২)
এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত ও সর্বজনমান্য তাফসীরের কিতাব “তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৩৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
اى ليست كل واحدة منكن او المعنى لم توجد جماعة واحدة من جماعات النساء مثلكن فى الفضل ….. قال ابن عباس اى ليس قدركن عندى مثل قدر غيركن من النساء الصالحات انتن اكرم على وثوابكن اعظم لدى. هذه الاية تدل على فضلهن على سائر النساء.
অর্থঃ- “হে উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ! আপনারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহধর্মীনি হওয়ার কারণেই মর্যাদা, মর্তবা, ফযীলতের দিক থেকে কোন মহিলাই আপনাদের সমকক্ষ নয়। …. হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায়) বলেছেন, আপনাদের মর্যাদা, মর্তবা, ফাযাইল, ফযীলত অন্যান্য সতী-সাধ্বী মহিলাগণের মত নয়। বরং আপনাদের সম্মান-মর্যাদা, ফাযায়িল-ফযীলত, অধিক পূণ্য ও প্রতিদান আমার নিকটে অধিক মর্যাদা সম্পন্ন, অনেক উর্ধ্বে। এ আয়াত শরীফের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সমস্ত মহিলাগণের উপরে আপনাদের অধিক মর্যাদা, মর্তবা, ফাযাইল, ফযীলত রয়েছে।” (অনুরূপভাবে তাফসীরে খাযিন ৫ খণ্ডের ২৫৭ পৃষ্ঠা, তাফসীরে বাগবী ৫ম খণ্ডের ২৫৭ পৃষ্ঠা, তাফসীরে মাদারিকুত্ তানযীল ৩য় খণ্ডের ৪৬৫ পৃষ্ঠা এবং অন্যান্য সকল নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থে আলোচনা রয়েছে।)
আল্লাহ্ পাক স্বয়ং উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণকে আহলে বাইত হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং পূত-পবিত্র করেছেন
আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন বলেছেন,
انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطيهرا.
অর্থঃ- “হে আহলে বাইতগণ! আল্লাহ্ পাক চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।” (সূরা আহ্যাব/৩৩)
এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৩৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
قال عكرمة ومقاتل اراد باهل البيت نساء النبى صلى الله عليه وسلم.
অর্থঃ- “হযরত ইকরামা ও মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহিমা বলেন, আয়াত শরীফে ‘আহলে বাইত’ দ্বারা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।”
“তাফসীরে ইবনে কাছীর”-এর ৩য় খণ্ডের ৭৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
نص فى دخول ازواج النبى صلى الله عليه وسلم فى اهل البيت ههنا لانهن سبب نزول هذه الاية.
অর্থঃ- “এ আয়াত শরীফটি এটাই প্রমাণ করে যে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ আহলে বাইত-এর অন্তর্ভুক্ত।”
আয়াত শরীফে উম্মুল মু’মিনীনগণের সাথে তাঁদের সন্তান-সন্তুতিগণও আহলে বাইত-এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। যেমনটি হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে। ‘তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৪০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং তাবেয়ীনগণের একটি বিরাট দল হযরত মুজাহিদ, কাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিমা ও অন্যান্যগণ বলেছেন, আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন হযরত আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম।
“ছহীহ্ মুসলিম শরীফে” বর্ণিত রয়েছে, হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, “একদা রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাদরাবৃত হয়ে ঘরের ভিতর উপস্থিত হলেন। চাদরটির উপরে ছিল উটের পশমের নক্শ আঁকা। একটু পরে সেখানে উপস্থিত হলেন হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে চাদর দ্বারা ঢেকে নিলেন। এরপর এলেন হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি তাঁকেও চাদরে ঢেকে নিলেন। এরপর এলেন হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি তাঁকেও টেনে নিলেন চাদরের ভিতর। শেষে এলেন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকেও জড়িয়ে নিলেন চাদরের ভিতর। তারপর পাঠ করলেন এই আয়াত শরীফ, “হে আহলে বাইতগণ! আল্লাহ্ পাক চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।” (অনুরূপভাবে তাফসীরে ইবনে কাছীর, আহকামুল কুরআন লিল কুরতুবী, আহকামুল কুরআন লি ইবনিল আরাবী, মিশকাত শরীফ এবং অন্যান্য হাদীস শরীফের কিতাবসমূহে হাদীস শরীফটি বর্ণিত আছে।)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ, তাফসীর এবং হাদীস শরীফের দলীল থেকে প্রমাণিত হলো যে, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের ঐক্যমতে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং সমস্ত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ হচ্ছেন আহলে বাইত।
উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণকে বিবাহ্ করা কোন মুসলমানদের জন্য জায়িয নয়; যেহেতু তাঁরা নবীর স্ত্রী তথা উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু আনহুন্না
মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেন,
ولا ان تنكحوا ازواجه من بعده ابدا ان ذلكم كان عند الله عظيما.
অর্থঃ- “উনার (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) বিছাল শরীফ উনার পর উনার আহলিয়া অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য জায়িয নেই। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে এটা গুরুত্বর অপরাধ।” (সূরা আহ্যাব/৫৩)
“তাফসীরে ইবনে কাছীর”-এর ৩য় খণ্ডের ৮০৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ولهذا اجمع العلماء قاطبة على أن من توفى عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم من ازواجه انه يحرم على غيره تزوجها من بعده. لانهن ازواجه فى الدنيا والاخرة وامهات المؤمنين.
অর্থঃ- “সমস্ত উলামাই কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ ইজমা করেছেন যে, হযরত রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর তাঁর কোন স্ত্রী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে বিবাহ্ করা অন্য কারো জন্য জায়িয নয় বরং হারাম। কেননা, তাঁরা ইহ্কালে তাঁর (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর) সহধর্মীনি ছিলেন পরকালেও সহধর্মীনি হিসেবে থাকবেন। আর তাঁরা ক্বিয়ামত পর্যন্ত সকল মু’মিনগণের সম্মানিত মাতা।”
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৭২, ৩৭৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবনু আবী হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইবনু যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে সংবাদ পৌঁছলো যে, এক ব্যক্তি বলেছে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওফাত মুবারকের পর আমি হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে বিবাহ্ করব। এ প্রেক্ষিতে আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হয়। …. হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত মুয়াম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিবিগণকে বিবাহ্ করা নিষিদ্ধতার হুকুম আসার পূর্বে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলিয়া বিনতে যুবইয়ান’ নামের এক স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। পরে তিনি জনৈক ব্যক্তির সহধর্মীনি হন এবং কয়েকজন সন্তান-সন্ততির জননীও হন।
ইমাম বাইযাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঐ সকল স্ত্রী বিবাহ্ নিষিদ্ধ আইনের বিধানের বাইরে যারা সুযোগ পাননি তাঁর সাথে একান্তবাসের।
এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফত কালে আশয়াছ ইবনে কায়েস বিয়ে করেছিলেন ‘মুস্তায়ীযা’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে। হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁকে প্রস্তর নিক্ষেপের মাধ্যমে হত্যা করতে মনস্থ করলেন। কারণ ‘মুস্তায়ীযা’ ছিলেন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহধর্মীনি। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারলেন মুস্তায়ীযার সঙ্গে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একান্ত বাস হওয়ার আগেই তিনি তাঁকে পরিত্যাগ করেছিলেন। তখন তিনি ‘আশয়াছ’কে হত্যা করার সিদ্ধান্ত ত্যাগ করলেন।” (তাফসীরে বাইযাবী, শায়খ যাদাহ্, হাশিয়াতুশ্ শিহাব, তাফসীরে বাগবী, খাযিন, মাদারিকুত্ তানযীল ইত্যাদি তাফসীরগ্রন্থেও এ সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।)
হায়াতুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হওয়ার কারণেই তাঁর স্ত্রীগণকে
বিবাহ্ করা হারাম
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৭৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
اى ذنبا عظيما قلت وجاز ان يكون ذلك لاجل ان النبى صلى الله عليه وسلم حى فى قبره ولذلك لم يورث ولم يتئم ازواجه عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسم من صلى على عند قبرى سمعته ومن صلى على نائبا ابلغته رواه البيهقى فى شعب الايمان.
অর্থঃ- “তাঁদেরকে (উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণকে) বিবাহ্ করা বড় গুনাহ্। আমি বলি, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীগণকে বিবাহ্ করা হারাম এজন্যই যে, যেহেতু তিনি তাঁর রওজা শরীফে জীবিত আছেন, তিনি হায়াতুন্ নবী। সে কারণে তাঁর সম্পত্তির কেউ ওয়ারিস নেই এবং তাঁর স্ত্রীগণও বিধবা নন। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার রওজা শরীফের নিকটে এসে ছলাত ও সালাম দিবে আমি তা সরাসরি শুনি। আর যে আমার নিকট দূরদেশ থেকে ছলাত ও সালাম পাঠাবে তা আমার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।” (বাইহাক্বী ফী শুয়াবুল ঈমান)
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কারণেই আল্লাহ্ পাক-এর থেকে তাঁদেরকে
কিছু নিয়ামত প্রদান
মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেন,
ومن يقنت منكن لله ورسوله وتعمل صالحا نؤتها اجرها مرتين واعتدنا لها رزقا كريما.
অর্থঃ- “আপনাদের মধ্যে যে কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অনুগত হবে ও সৎকার্য করবে তাকে আমি পুরুস্কার দিব দুইবার এবং তারজন্য আমি প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক রিযিক।” (সূরা আহ্যাব/৩১)
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৩৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “দ্বিগুণ পুরুস্কারের অর্থ হচ্ছে- প্রথমতঃ তাঁরা দ্বিগুণ পুরুস্কার লাভ করবেন আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইতায়াত বা আনুগত্যতার জন্য।
দ্বিতীয়তঃ হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি, রেযামন্দী অর্জনের জন্য। অল্পে তুষ্ট হয়ে উত্তম জীবনযাপনের জন্য। হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তাদের প্রতিটি পূন্যের প্রতিদান দেয়া হবে দশগুণ করে।
“তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৩৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
اى جليل القدر وهو الجنة زيادة على اجرها قلت وذلك لانهن يرزقن بمتابعة النبى صلى الله عليه وسلم مايرزق النبى صلى الله عليه وسلم.
অর্থঃ- “তাঁদেরকে সম্মানজনক রিযিক প্রদান করা হবে। তা হচ্ছে জান্নাত। যা সবচেয়ে বড় প্রতিদান। আমি বলি, তাঁরা উত্তম রিযিক পাবেন হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গীনি হওয়ার কারণেই। তাই নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য যে রিযিক তাঁদের জন্যও সে রিযিক ধার্য্য হবে।” (তাফসীরে ইবনে কাছীর, কুরতুবী, আহকামুল কুরআন খাযিন, বাগবী, মাদারিক ইত্যাদি তাফসীরেগুলোতে আরো বিশদভাবে আলোচনা রয়েছে।
কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, তাফসীর ইত্যাদি কিতাবের উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, (১) আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী হওয়ার কারণেই উম্মুল মু’মিনীনগণের মর্যাদা অন্যান্য সকল নারীর উপরে। (২) তাঁরা যেমন ইহ্কালে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গীনিরূপে ছিলেন বেহেশতে তাঁরাই সঙ্গীনি হিসেবে থাকবেন। (৩) উম্মুল মু’মিনীনগণ আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। (৪) অন্যান্য মানুষের থেকে তাঁদের আমলের প্রতিদান দ্বিগুন-বহুগুণে প্রদান করা হবে। (৫) পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে-পরে, যে কোন কালে যারাই অনেক মর্যাদাশালী হয়েছেন তারাই আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কারণেই মর্যাদাময় হয়েছেন। তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ। আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি, রেযামন্দী অর্জনের মূল মাধ্যম হচ্ছে ছোহ্বত। এজন্য ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ ওলীআল্লাহ্গণের ছোহ্বত অর্জন করাকে ফরযে আইন ফতওয়া দিয়েছেন। তাই বর্তমান যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, আওলার্দু রসূল, গাউসুল আ’যম, হাবীবুল্লাহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর হাক্বীক্বী ছোহ্বত অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে তাঁর এবং তাঁর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না, আহলে বাইত এবং সমস্ত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি যথাযথ সম্মান-মর্যাদা, তাযীম-তাকরীম ও সু-ধারণা রাখার তাওফীক দান করুন। (আমীন)
-আল্লামা, মুফতী সাইয়্যিদ শিহাবুদ্দীন আহমদ