উসওয়াতুন হাসানাহ, খুলুক্বুন আযীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গাযওয়া বা অভিযান মুবারক

সংখ্যা: ২৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

অর্থ: “তোমাদের জন্য তোমাদের মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছেন সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বকালের সবার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক। মাখলুকাতের সবার জন্যই তিনি অনুসরনীয়-অনুকরনীয়। সঙ্গতকারণেই উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক জানা, বেশি বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা করা সবার জন্যই আবশ্যক।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক উনার বিশেষ অংশ ‘পবিত্র জিহাদ’। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জিহাদ দুইভাগে বিভক্ত। প্রথমত, গাযওয়া বা বড় অভিযান। যে সমস্ত অভিযানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন, সেগুলোকে গাযওয়া বলা হয়। সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে, গাযওয়া মোট ৯টি। দ্বিতীয়ত, সারিয়া বা ছোট অভিযান। যে সমস্ত অভিযানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেননি, বরং প্রতিনিধি প্রেরণ করেছেন, সেগুলোকে সারিয়া বলা হয়। সারিয়ার সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।

নিম্নে গাযওয়া সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করা হলো।

১. পবিত্র বদর জিহাদ

২য় হিজরীর পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল জুময়া পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে বদর উপত্যকায় বা বদর নামক কূপের পাশে গাযওয়াতু বদর বা পবিত্র বদর জিহাদ অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থানকারী কাফিরদের শত্রুতা, মুনাফিক নেতা উবাই ইবনে সুলুল ও পবিত্র মদীনা শরীফে বসবাসকারী ইহুদিদের ষড়যন্ত্র এবং কুরাঈশদের বণিক কাফেলার উপর আক্রমণের মিথ্যা গুজবকে কেন্দ্র করে এ জিহাদ সংঘটিত হয়।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যতগুলি জিহাদ করেছেন তন্মধ্যে এই জিহাদের গুরুত্ব অপরিসীম। যা সম্মানিত ইসলাম উনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিহাদ। কারণ, এই জিহাদের মাধ্যমেই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মর্যাদা, ইযযত ও শান-শওকত প্রকাশ পেয়েছে। এর দ্বারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মান-সম্মান ও প্রভাব-প্রতিপত্তি সমগ্র বিশ্বে বিস্তার লাভ করেছিল। তাই, এই দিনটিকে “ইয়াওমুল ফুরকান” বা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পবিত্র বদর জিহাদে মুসলমানগণের উপর গায়েবী মদদের কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

لَقَدْ نَصَرُكُمُ اللهُ بِبَدْرٍ وَّاَنْـتُمْ اَذِلَّةٌ

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে বদরের দিন সাহায্য করেছিলেন ও জয়ী করেছিলেন, অথচ আপনারা ছিলেন অল্প সংখ্যক।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৩)

পবিত্র বদর জিহাদে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল তিনশত তেরজন জন। তন্মধ্যে ৭৭ জন মুহাজির আর ২৩৬ জন আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। এই জিহাদে মুসলমান উনাদের নিকট ছিল- ৩টি ঘোড়া, ৭০টি উট, ৬টি বর্ম এবং ৮টি তরবারি। এক একটি উটের পিঠে কয়েকজন করে আরোহণ করে উনারা জিহাদে গমন করেছিলেন।

অপরপক্ষে কাফিরদের সংখ্যা ছিল এক হাজার, তাদের সঙ্গে ছিল একশত ঘোড়া ও যুদ্ধ সম্ভারে বোঝাই সাতশত বা তার চাইতেও অধিক সংখ্যক উট। তাদের অশ্বারোহী প্রত্যেকটি সৈনিক ছিল বর্মাচ্ছাদিত এমনকি পদাতিক সৈন্যগণও বর্মধারী ছিল। তাদের সঙ্গে আরো ছিল বাদ্যযন্ত্রসহ জিহাদে উন্মাদনা সৃষ্টিকারী একদল গায়িকা ও নর্তকী।

পবিত্র বদর জিহাদে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মুসলমানদেরকে সুস্পষ্ট বিজয় হাদিয়া করেন। মুসলিম বাহিনীর ১৪ জন শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করেন। অপরদিকে কাফিররা চরম লাঞ্চিত, অপমানিত, পর্যদুস্ত হয়। তাদের গর্ব-অহংকার সব ধুলোয় মিশে যায়। তাদের নেতৃস্থানীয় ১১ জনসহ মোট ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যান্যরা পালিয়ে কোন রকমে নিজেদের জান রক্ষা করে।

২. পবিত্র উহুদ জিহাদ

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দ্বিতীয় জিহাদ পবিত্র উহুদ জিহাদ। পবিত্র বদর জিহাদে পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থানকারী কাফিররা পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমণ করতে আসলে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার ৩ মাইল উত্তর-পূর্বে উহুদ নামক একটি পাহাড়ের নিকটস্থ কঙ্করময় প্রান্তরে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

পবিত্র উহুদ জিহাদের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১ হাজার লোকের বাহিনী নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ হতে রওয়ানা দেন। শাওত নামক স্থানে পৌঁছানোর পর জিহাদে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে মুনাফিক নেতা উবাই ইবনে সুলুল ৩ শত লোক নিয়ে দলত্যাগ করে। এতে মুসলিম বাহিনীর লোক সংখ্যা হয় ৭ শত। উনাদের মধ্যে ১০০ জন বর্ম পরিহিত ছিলেন এবং ৫০ জন ছিলেন অশ্বারোহী। মুসলিম বাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়। মুহাজির বাহিনী, আউস বাহিনী ও খাজরাজ বাহিনী। অপরদিকে কাফিররা ছিল তিন হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে ৭০০ ছিল বর্ম পরিহিত। ছিল ২০০ ঘোড়া ও ৩০০০ উট।

তৃতীয় হিজরীর পবিত্র শাওওয়াল শরীফে কারো কারো মতে, পবিত্র ৭ই শাওওয়াল শরীফে পবিত্র উহুদ জিহাদ সংঘটিত হয়। মল্লযুদ্ধের মাধ্যমে জিহাদ শুরু হলে তা কঠিন আকার ধারণ করে। কাফিররা দলে দলে পালাতে থাকে। এক সময় পুরো ময়দান ফাকা হয়ে যায়। মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হিসেবে জিহাদের মালামাল গুছানো শুরু করেন। এমতাবস্থায় জিহাদের নিয়ম ভঙ্গ করে কাফিররা পিছন দিকের গিরিপথ দিয়ে আক্রমণ করে। এতে কাফিররা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তা ছিল সাময়িক। মূহুর্তের মধ্যেই মুসলিম বাহিনী কাফিরদের সমুচিত জওয়াব দেন। অনেক ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে সব কাফিরই পালিয়ে যায়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র উহুদ জিহাদেও মুসলমান উনাদেরকে সুস্পষ্ট বিজয় হাদিয়া করেন।

উল্লেখ্য যে, পবিত্র উহুদ জিহাদ নিয়ে ঐতিহাসিকরা মিথ্যা-বানোয়াট বিভিন্ন মন্তব্য করে। তারা বলতে চায়, পবিত্র উহুদ জিহাদে মুসলমানরা পরাজিত হয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! মুসলমানরা গণিমতের মালামাল লুন্ঠন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! মূলত, বিশ্বের ইতিহাসে কোন জিহাদেই মুসলমানরা পরাজিত হননি। বরং প্রত্যেক জিহাদেই মুসলমানরা বিজয়ী হয়েছেন। উহুদ জিহাদেও মুসলমানরাই বিজয়ী হয়েছেন। কাফিররাই পরাজিত হয়েছে। তারা যদি বিজয়ী হতো, তাহলে তো তারা গণিমত ও বন্দি লাভ করতো। কিন্তু তারা যেহেতু পরাজিত হয়েছে, সেহেতু কোন গণীমত পায়নি এবং কাউকে বন্দিও করতে পারেনি। বরং তারা পালিয়ে গেছে। মুসলমানরাই বিজয়ী হয়েছেন, উনারা গণীমত লাভ করেছেন, কাফিরদের কয়েকজনকে বন্দিও করেছেন।

৩. পবিত্র বনূ মুস্তালিক জিহাদ

পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে ৯ মান্যিল দূরে বনূ মুছ্ত্বলিক্বের অধীনে ‘আল মুরাইসী’ নামে একটি কূপ ছিলো। বনূ মুছ্ত্বলিক্বের জিহাদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে এই কূপের নিকট অবস্থান মুবারক করেন বিধায় এই জিহাদকে ‘মুরাইসী’র জিহাদও’ বলা হয়।

বনূ মুছ্ত্বলিক্ব¡ ছিলো কুরাইশদের অন্যতম মিত্রশক্তি। তারা উহুদের জিহাদে কুরাইশদের সহযোগীতা করেছিলো এবং তাদের সাথে সরাসরি জিহাদে অংশগ্রহণও করেছিলো। ৫ম হিজরীর শেষের দিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সংবাদ আসে যে, বনূ মুছ্ত্বলিক্বের প্রধান হযরত হারিছ ইবনে আবূ দ্বিরার আলাইহিস সালাম (তখনও ঈমান আনেননি) তিনি কুরাইশ ও মুনাফিক্বদের ওয়াস্ওয়াসায় পড়ে নিজের ও আরবের অন্যান্য গোত্রের লোকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনী নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সংবাদ পেয়ে প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য হযরত বুরাইদাহ্ ইবনে হুছাইব আসলামী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে পাঠান। তিনি সেখানে পৌঁছে সরাসরি হযরত হারিছ ইবনে আবূ দ্বিরার আলাইহিস সালাম উনার সাথে কথা বলে বুঝতে পারলেন, ঘটনা সত্য। তিনি সাথে সাথে ফিরে এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ প্রকৃত অবস্থা জানান। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে খুব দ্রুত জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশ মুবারক দেন। নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী সকলেই খুব দ্রুত প্রস্তুত হয়ে যান এবং রওয়ানা হন। সময়টি ছিলো ৫ম হিজরীর সম্মানিত যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার মাঝামাঝি সময়।

পবিত্র মদীনা শরীফ হতে রওয়ানা করে বনূ মুছ্ত্বলিক্বের ‘আল মুরাইসী’ নামক কূপের নিকট উনারা অবস্থান গ্রহণ করেন। কাফিরদের সম্মিলিত বাহিনীর নিকট সব খবর পৌঁছলে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। অন্যান্য আরব গোত্র জিহাদের ইচ্ছা ত্যাগ করে যার যার মত বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে শুধু উনার গোত্রের লোকেরাই অবশিষ্ট থাকে। তারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ তীর-বর্শা ছুড়ে ছুড়ে মুসলমান উনাদেরকে প্রতিরোধ করার চেষ্ট করে। অবশেষে সম্মানিত মুসলিম বাহিনী হঠাৎ এক সাথে আক্রমণ করে শক্র বাহিনীকে পরাজিত করেন। এই জিহাদে মুসাফি’ ইবনে ছাফ্ওয়ানসহ ১১ জন কাফির মারা যায় এবং অন্যরা সকলে বন্দী হয়। কাফিরদের হাতে মুসলমান উনাদের মধ্য হতে কেউ শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেননি। তবে অজান্তে হযরত উবাদা ইবনে সামিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার হাতে হযরত হিশাম ইবনে সাবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু নামে একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। শত্রু পক্ষের পুরুষ-মহিলা-শিশু মিলে প্রায় ৬০০ জন বন্দী হয় এবং তাদের দুই হাজার উট, পাঁচ হাজার ছাগল-ভেড়া গনীমত হিসেবে মুসলমান উনারা লাভ করেন।

এ জিহাদের পর পবিত্র ২৮শে যিলহজ্জ শরীফ লাইলাতুল জুমু‘আহ্ শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার ‘আযীমুশ শান পবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। সুবহানাল্লাহ!

৪. পবিত্র খন্দক জিহাদ

পবিত্র বনূ মুস্তালিক জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর হিজরী ৬ষ্ঠ সনের মুহররম শরীফ মাসের শেষের দিকে সংবাদ আসে যে, মক্কা শরীফে অবস্থানরত কাফিররা পবিত্র উহুদ জিহাদের বদলা প্রতিশোধ নিতে পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমতাবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাফিরদের প্রতিরোধে করণীয় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে পরামর্শ করেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, পবিত্র মদীনা শরীফে বসে আত্মরক্ষা করা হবে না। বরং পবিত্র মদীনা শরীফে নারী ও শিশুদেরকে রেখে সকল পুরুষ সামনে অগ্রসর হয়ে সালা’ পর্বতের নিকট সমবেত হন। সালা’ পর্বত পশ্চাতে রেখে সম্মুখ দিকে খন্দক বা পরিখা খনন করা হবে এবং এই পরিখার ঘেরাওয়ের মধ্যে সকলে অবস্থান গ্রহণ করবেন।

মহান আল্লাহ পাক উনার ওহী মুবারক অনুযায়ী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আরজী মুতাবেক পবিত্র মদীনা শরীফ উনার প্রবেশপথে খন্দক বা পরিখা খনন করা হয়। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা প্রায় ১৪শত জন পবিত্র ছফর শরীফ মাসে প্রায় এক মাস খন্দক্ব খনন করেন। খন্দক বা পরিখা খনন করার কারণে এ জিহাদকে পবিত্র খন্দক জিহাদ নামে নামকরণ করা হয়। তাছাড়া পুরো আরবের কাফিররা সম্মিলিতভাবে জোটবদ্ধ হয়ে এ জিহাদে আসার কারণে এ জিহাদকে আহযাব জিহাদ বা জোটের জিহাদও বলা হয়।

মক্কা শরীফে অবস্থানকারী কাফিররা ১০ হাজার সৈন্যের বাহিনী নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ অভিমুখে আসে। কিন্তু খন্দক বা পরিখা তাদের আক্রমণের ইচ্ছাকে ধুলিষ্যাত করে দেয়। কাফির বাহিনী এসে খন্দক বা পরিখা ঘেরাও করে। তারা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ পবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাসে প্রায় এক মাস পবিত্র মদীনা শরীফ অবরোধ করে রাখার অপচেষ্টা করে। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দুআ মুবারক উনার কারণে কাফির-মুশরিকদের উপর গযবস্বরূপ কঠিন ঝড়-তুফান এসে তাদের সমস্ত কিছু লন্ড-ভন্ড করে দেয়। ফলে তারা পালিয়ে যায়।

এ দিকে বনু কুরাইজা চুক্তি ভঙ্গ করে খন্দকের জিহাদে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। খন্দকের জিহাদের সময় হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম ও অন্যান্য মুসলিম মহিলাকে যে দুর্গে রাখা হয়েছিল, দুর্বৃত্ত বনু কুরাইজা সে দুর্গ আক্রমনে উদ্যত হয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! খন্দক জিহাদ চলাকালীন প্রকাশ্যে বিদ্রোহের অভিযোগে পবিত্র মদীনা শরীফে বসবাসরত বনু কুরাইজার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে মুবারক নির্দেশনা দেয়া হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশক্রমে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বনু কুরাইজাকে অবরোধ করেন। প্রায় তিন সপ্তাহ অবরোধের পর তারা আবেদন জানায় যে, হযরত সা’দ বিন মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যে ফায়ছালা করবেন, তাই তারা মেনে নিবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের আবেদন মঞ্জুর করলেন। হযরত সা’দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এ ব্যাপারে রায় দেন যে, বনু কুরাইজার যুদ্ধক্ষম ব্যক্তিদেরকে হত্যা করা হোক। মহিলা ও শিশুদেরকে বন্দী করে রাখা হোক এবং তাদের মাল-সামানা গণিমত হিসাবে নিয়ে নেয়া হোক। এ রায় ছিল তাওরাত শরীফ উনার নির্দেশ অনুযায়ী। সুবহানাল্লাহ! বহু হাদীছ শরীফে উল্লেখ হয়েছে, হযরত সা’দ বিন মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন এ রায় দেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি তো আসমানী ফায়সালাই করেছেন। ফায়সালা অনুযায়ী বনু কুরাইজার ৪০০ মতান্তরে ৬০০ পুরুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

বনূ কুরাইজার জিহাদের পর পবিত্র ২৩শে রবীউছ ছানী শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আত তাসি‘য়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। সুবহানাল্লাহ!

৫. পবিত্র গাযওয়াতু হুদায়বিয়া

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৬ষ্ঠ হিজরীর পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাসে ১৪ শত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফে উমরা পালন করার জন্য রওয়ানা হন। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার নিকটবর্তী হুদায়বিয়া নামক স্থানে উনারা বিরতী দেন। মুসলমান উনাদের আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে দূত হিসেবে প্রেরণ করা হলে মুশরিকরা উনাকে শহীদ করেছে বলে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে। যার কারণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতের বদলা নেয়ার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাহ মুবারক বা পবিত্র হাত মুবারকে বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করেন। যা ইতিহাসে ‘বাইয়াতুর রিদওয়ান’ নামে মশহূর। এ বিষয়ে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে অনেক আয়াত শরীফ নাযিল করা হয়।

এদিকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বাইয়াত গ্রহণের সংবাদে মুশরিকরা ভয় পেয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ফেরত দিতে বাধ্য হয়। তারপর তারা সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে আসে। দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার পর তাদের সন্ধি গৃহীত হয়। যা ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে মশহূর। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা পবিত্র কুরআন শরীফে ফাতহুম মুবীন বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে ঘোষিত।

সেই বৎসর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং পরবতীর্ বছর উমরায়ে কাযা আদায় করেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার-প্রসার এবং মুসলমান উনাদের বাস্তবায়নে মক্কা শরীফে অবস্থানকারী কাফিরদের বাধা ও আপত্তি বিদূরিত হয়। সর্বপোরি পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পথ সুগম হয়।

৬. পবিত্র খাইবার জিহাদ

৭ম হিজরী শরীফ উনার মুহররমুল হারাম শরীফ মাসে খাইবারের জিহাদ মুবারক সংঘটিত হয়। পবিত্র মদীনা শরীফ হতে ৬০ অথবা ৮০ মাইল উত্তরে খাইবার একটি বড় শহরের নাম। শহরটি অনেকগুলি দুর্গবেষ্টিত এবং চাষাবাদ যোগ্য জমি সমৃদ্ধ। এ অঞ্চলে বড় বড় ৮টি দুর্গ ছাড়াও ছোট-বড় আরও কিছু দুর্গ ও কেল্লা ছিল। পবিত্র মদীনা শরীফ হতে বিতারিত হয়ে ইহুদীরা খাইবারে গিয়ে বসতি স্থাপন করে এবং সেখান থেকেই পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে সকল প্রকারের ষড়যন্ত্র করে। সহজ কথায় খাইবার ছিল তখন মুসলমান উনােদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সকল ষড়যন্ত্রের মূল কেন্দ্র। তাই এই ইহুদীদেরকে দমন করার জন্য এই অভিযান পরিচালিত হয়।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধি শেষে পবিত্র মদীনা শরীফে ফিরে আসেন এবং কিছুদিন অবস্থান মুবারক করেন। অতপর সপ্তম হিজরীর শুরুর দিকে খাইবার অভিমুখে রওনা করেন। পবিত্র বাইয়াতুর রিদ্বওয়ানে অংশগ্রহণকারী ১৪০০ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যুদ্ধ কৌশল বিবেচনা করে উত্তর দিকে সিরিয়ার পথ ধরে খাইবার অভিমুখে এগিয়ে যান। যাতে বনু গাত্বফানের পক্ষ থেকে ইহুদীদের সাহায্য প্রাপ্তির পথ বন্ধ করা যায় এবং ইহুদীরাও এপথে পালিয়ে যাবার সুযোগ না পায়।

খাইবার দূর্গ অবরোধ করা হয়। কয়েকদিন যাবৎ কাফিরদের সাথে বেশ জিহাদ সংঘটিত হয়। কিন্তু প্রতিদিনই চূড়ান্ত কোনো ফায়ছালা না হয়েই জিহাদ শেষ হয়ে যায়। এমনিভাবে একদিন জিহাদ শেষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন যে, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক মহান ব্যক্তি উনার হাত মুবারকে ইসলামী ঝাণ্ডা মুবারক অর্পণ করবো, উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম বাহিনীকে বিজয় হাদিয়া করবেন। অতপর সকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার দস্ত মুবারকে ইসলামী ঝাণ্ডা মুবারক অর্পণ করলেন। আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সেনাপতিত্বে কাফিরদের সাথে তুমুল জিাহদ হলো। এক পর্যায়ে কাফিররা পালিয়ে খাইবার দুর্গে আশ্রয় নিলো। তখন ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাইবার দুর্গের প্রধান ফটক ধরে সজোরে টান দিলেন। ফলশ্রম্নতিতে লোহার সেই বিশাল ফটক উনার হাত মুবারকে চলে আসলো। অতপর কাফিরদের সাথে পুনরায় তুমুল জিহাদ শুরু হলো। আর জিহাদের সেই সময়ে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুর্গের সেই ফটককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন। কাফিররা নাস্তানাবুদ হলো। জিহাদ শেষে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত দুর্গের সেই ফটককে ফেলে দিলেন। তখন আশিজন পালোয়ান একত্রিত হয়েও ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত সেই ফটক উঠাতে পারলো না। অন্যান্য জিহাদের ন্যায় খাইবার জিহাদেও মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম বাহিনীকে সুমহান ফাতহুম মুবীন হাদিয়া করলেন।

সম্মানিত জিহাদ মুবারক শেষে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৫শে মুহররমুল হারাম শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। সুবহানাল্লাহ!

৭. পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়

হুদাইবিয়ার চুক্তিপত্রে যেসব শর্ত লিপিবদ্ধ করা হয়েছিলো, সেসব শর্তাবলী মুসলমানগণ যথাযথভাবে মেনে চলতেছিলেন। কিন্তু পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থানকারী কুরাঈশরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্নভাবে শর্ত ভঙ্গ করে। এতে তারা ভীত হয়ে পড়লো। তারা হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দ্রুত পবিত্র মদীনা শরীফে প্রেরণ করলো, যাতে তিনি চুক্তির বিষয়টির একটি ফয়ছালা করে চুক্তি নবায়ন করেন। তখনো তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে আসেন কিন্তু কোন চূড়ান্ত ফায়সালা লাভ করতে পারেননি বিধায় ফিরে যান।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন। তিনি উদ্দেশ্য কাউকেই বললেন না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৮ম হিজরীর পবিত্র ১০ই রমাদ্বান শরীফ আছরের নামাযের পর দশ হাজার মুসলমানের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে রওয়ানা দিলেন। পথে আরো দুই হাজার মুসলমান এই মুসলিম বাহিনীর সাথে একত্রিত হলেন। ‘কাদীদ’ নামক স্থানে পেঁৗছার পর মাগরিবের সময় হলে সকলেই সেখানে বসে ইফতার করলেন। অতঃপর মুসলিম বাহিনী মনজিলের পর মনজিল অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হতে লাগলেন। ‘মাররায যাহরান’ নামক স্থানে পেঁৗছে মুসলমানগণ শিবির স্থাপন করেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশে শিবিরের সামনে আগুন জ্বালানো হলো। পবিত্র মক্কা শরীফ শহরের মুশরিকরা মুসলমানের এই আগমন সম্পর্কে একেবারেই বে-খবর ছিলো। তারা পবিত্র মক্কা শরীফ উনার বাইরে বেরিয়ে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি দেখে পেরেশান হয়ে পড়লো। মরু উপত্যকা ছুবহে সাদিকের শুভ প্রভাতের সাথে সাথে আযান ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ঘুম থেকে উঠলেন এবং ফযরের নামায জামায়াতে আদায় করলেন। নামাযান্তে রওয়ানার আদেশ হলো।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আজ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে মর্যাদা দান করবেন। আজ পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে গিলাফ পরানো হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নগরময় ঘোষণা করে দিন, “যে ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করবে, সে নিরাপত্তা লাভ করবে। যে ব্যক্তি হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়িতে আশ্রয় নিবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে অবস্থান করবে, সেও নিরাপত্তা লাভ করবে এবং যে ব্যক্তি মসজিদে হারাম তথা কা’বা শরীফ উনার মধ্যে আশ্রয় নিবে সেও নিরাপত্তা লাভ করবে।”

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ শহরবাসীদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণা মুবারক করেন, “আজ তোমাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই; যাও তোমরা সবাই মুক্ত স্বাধীন।”

পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় সূচিত হয়। সেই সময় পর্যন্ত পবিত্র কা’বা শরীফ-উনার ভিতরে ৩৬০টি মূর্তি ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ মুবারক দেন। পবিত্র কা’বা শরীফ যখন পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র করা হলো- তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিতরে প্রবেশ করে নামায আদায় করেন। এরপর তিনি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন এবং ইহরাম বাঁধা ব্যতীত তাকবীর, তাহলীল, হামদ, যিকর ইত্যাদি পাঠ করার মাধ্যমে পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফ করেন। অতঃপর তিনি বিভিন্ন স্থানের মূর্তিপূজার কেন্দ্র ও মন্দিরগুলো ধ্বংস করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। উনার মুবারক নির্দেশ পালিত। পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে প্রতিমা পূজা বিদায় নিলো। এরপর দলে দলে লোকজন পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করতে থাকলেন। অল্প সময়ের মধ্যে সারা আরবময় পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সাড়া পড়ে গেলো। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত নিয়ে দূত প্রেরিত হতে থাকেন।

৮. পবিত্র হুনাইন জিহাদ

পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখনও পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থান মুবারক করছেন এমন সময় সংবাদ আসে হাওয়াজিন গোত্র তার শাখা গোত্রগুলোকে মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে একত্রিত করেছে। ৪ হাজার মতান্তরে ৭ হাজার সৈন্যবাহিনীর পাশাপাশি রণাঙ্গনে তাদের সুদৃঢ় রাখার জন্য কৌশল হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে সবার পরিবার-পরিজন ও নিজেদের সহায়-সম্পত্তিও উপস্থিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১২ হাজার মতান্তরে ১৪ হাজার মুসলমান নিয়ে অষ্টম হিজরীর পবিত্র শাওয়াল শরীফ মাসের প্রথম সপ্তাহে পবিত্র মক্কা শরীফ হতে হাওয়াজিন গোত্রের অবস্থানস্থলের দিকে রওয়ানা দেন। পবিত্র মক্কা শরীফ হতে তায়েফের দিকে যেতে পথিমধ্যে হুনাইন নামক স্থানে হাওয়াজিন গোত্রের অবস্থান। সে হিসেবে এ জিহাদ গাযওয়াতু হুনাইন নামে অভিহিত।

এ জিহাদ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللهُ فِيْ مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ ۙ وَّيَوْمَ حُنَيْنٍ ۙ إِذْ أَعْجَبَـتْكُمْ كَثْـرَتُكُمْ فَـلَمْ تُـغْنِ عَنْكُمْ شَيْـئًا وَّضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْـتُم مُّدْبِرِيْنَ.‏ ثُمَّ أَنْـزَلَ اللهُ سَكِيْـنَـتَهٗ عَلٰى رَسُوْلِهٖ وَعَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَأَنْـزَلَ جُنُـوْدًا لَّـمْ تَـرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا ۚ وَذٰلِكَ جَزَآءُ الْكَافِرِيْنَ.‏

অর্থ: অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক জায়গায় আপনাদেরকে সাহায্য করেছেন এবং হুনাইনের দিনও সাহায্য করেছেন। যেহেতু আপনাদের সংখ্যাধিক্য দেখে আপনারা খুশি হয়েছেন, তবে মনে রাখবেন সংখ্যাধিক্য কোনো ফায়দা দিতে পারেনা। প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও জমিন আপনাদের জন্য সংকীর্ণ মনে হয়েছিল। অতঃপর আপনারা (জিহাদের কৌশল হিসেবে) পিছনে সরে এসেছিলেন। তারপর মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় সাকিনা নাযিল করলেন উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি (উনার মুবারক উছীলায়) এবং মু’মিন উনাদের প্রতি। আর এমন সৈন্য নাযিল করলেন যাদেরকে আপনারা দেখতে পাননা এবং কাফিরদেরকে শাস্তি দিয়েছেন। এটা কাফিরদের বদলা। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫-২৫)

মুসলমান উনারা হুনাইন নামক স্থানের কাছাকাছি যখন পৌছেন, তখন জিহাদের নিয়ম ভঙ্গ করে কাফিররা পাহাড়ের উপর থেকে ও গাছের আড়াল থেকে তীর নিক্ষেপ করতে থাকে। এমতাবস্থায় কাফিরদের তীর হতে নিজেদের রক্ষার্থে জিহাদের কৌশল হিসেবে মুসলমানগণ উনারা প্রথমত নিজেদের অবস্থান হতে পিছনে সরে যান। এরপর সবাই একত্রিত হয়ে সম্মিলিতভাবে কাফিরদেরকে প্রতিরোধ করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ গাইবি মদদের ফলে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত প্রশিক্ষিত কাফিররা ছত্র-ভঙ্গ হয়ে যায়। তারা নিজেদের পরিবার-পরিজন ও সহায়-সম্পত্তি সব ফেলে রেখে পালানোর জন্য বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানগণ উনারা কাফিরদেরকে বহুদূর পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যান। তাদের সেনা বাহিনী পুরোপুরি ভেঙ্গে যায়। এ জিহাদেও মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মুসলমানগণ উনাদেরকে সুস্পষ্ট বিজয় হাদিয়া করেন।

পবিত্র হুনাইন জিহাদে ৭০ টা কাফির নিহত হয়। তাদের নিয়ে আসা অস্ত্র, ধন-সম্পদ, রসদ, সামগ্রী, নারী, শিশু, পশুপাল সবকিছুই মুসলমান উনাদের হস্তগত হয়। হিসাব অনুযায়ী- যুদ্ধবন্দী ৬ হাজার, উট ২৪ হাজার, বকরি ৪০ হাজারের বেশী। চাঁঁদি ৪ হাজার উকিয়া। অর্থাৎ ১ লাখ ৬০ হাজার দিরহাম।

৯. পবিত্র তাবুক জিহাদ

৯ম হিজরীর পবিত্র শা’বান মাসে পবিত্র তাবুক জিহাদ সংঘটিত হয়। পবিত্র মদীনা শরীফ ও দামেস্কের (সিরিয়া) মধ্যবর্তী একটি স্থানের নাম তাবুক। যা পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দূরে এবং সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে ৬৯২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই যুদ্ধ ছিল দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে আরবের কাফির ও মুনাফিকদের শেষ চেষ্টা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রেরিত দূত হযরত হারিস ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে রোম শাসক কর্তৃক শহীদ করাকে কেন্দ্র করে এ জিহাদের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় ও পবিত্র হুনাইন জিহাদ হতে ফিরে যখন পবিত্র মদীনা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন, এর কিছুদিন পর সিরিয়া হতে ফিরে আসা কতিপয় বণিক দলের মাধ্যমে সংবাদ আসলো যে, রোম শাসক হিরাক্লিয়াস পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ লক্ষ্যে সিরিয়া ও আরব সীমান্তে তারা এক বিশাল বাহিনী মোতায়েন করছে। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফয়সালা মুবারক করলেন যে, হিরাক্লিয়াসের আক্রমণের অপেক্ষা না করে মুসলমানরা নিজেরাই আগে তাদের পথরোধ করে তাদেরকে প্রতিরোধ করবেন। তাই, তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে জিহাদের জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ মুবারক দিলেন।

পবিত্র তাবুক জিহাদকে উসায়রার জিহাদ বা সংকটময় অভিযানও বলা হয়। সে সময়টা ছিল পবিত্র মদীনা শরীফবাসী উনাদের প্রধান খাদ্য খেজুর পাকার সময়। সারা বছরের খেজুর উনাদের তখনই সংগ্রহ করতে হতো। এ সময় বাগান ছেড়ে যাওয়াটা ছিল কঠিন কাজ। পাশাপাশি সে সময়টা ছিল আরব অঞ্চলে তীব্র গরমের সময়। তাবুকের সফর ছিল অনেক দীর্ঘ ও দুর্গম। প্রায় পুরো পথই ছিল দুর্গম মরুভূমি।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশক্রমে ৩০ হাজার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। তাবুক প্রান্তরে মুসলমান উনাদের আগমনের সংবাদে রোম শাসক হিরাক্লিয়াস চিন্তিত ও পেরেশান হয়ে পড়ে এবং কালবিলম্ব না করে সে সেখান থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করে পালিয়ে যায়।

পবিত্র তাবুক জিহাদে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনেকে নিজেদের সমস্ত কিছু দিয়ে শরীক হন। আবার এ জিহাদকে কেন্দ্র করে মুনাফিকরা সবচেয়ে বেশি অপতৎপরতা চালায়। বলা হয়, জিহাদসমূহের মধ্যে তাবুক জিহাদকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়।

মহান আল্লাহ পাক তিনি মামদূহ মুরশিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উছীলায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গাযওয়া সম্পর্কে কুল উম্মাহকে সঠিক ইলম ও  বিশুদ্ধ আক্বীদাহ এবং হুসনে হাছিল করার এবং তা হতে ইবরত-নছীহত হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

-আহমদ নুছাইর।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেন

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুল ফারীক্বাইন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই নিজের বিলাদত শরীফ পালন করে খুশি প্রকাশ করেন

হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের খিলাফতকালে নাবিইয়ুর রহমাহ, নাজিইয়ুল্লাহ, নূরুম মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে ব্যয় করার ফযীলতও বর্ণনা করেছেন

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেছেন

বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয হওয়ার প্রমাণ