পাঠক সমাজ! এপ্রিল-মে সংখ্যায় রেজভী মুখপত্রে রেযা খান সম্পর্কে দেওবন্দী আলিমদের কতক উক্তি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে দেওবন্দীরাও খান ছাহেব সম্পর্কে কম বেশী ভাল ধারণা পোষণ করতো। পাঠক সমাজ! এর জবাবে বলা উচিত দেওবন্দীরা খান ছাহেব সম্পর্কে সামান্য ভাল উক্তি করলে তারা আলিম, বুযুর্গ হয়ে যায়। অন্যথায় রেজভীদের খাতায় তাদের নাম গোমরাহ বাতিল ফিরকাবন্দী মৌলভী হিসেবে চিহ্নিত থাকে, এটা কোন ধরণের চাল? রেজভীদের স্মরণ রাখা উচিত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী ছাহেব, মাওলানা কাসিম নানুতবী ছাহেব, মাওলানা রশীদ আহম্মদ গাঙ্গুহী ছাহেবদের পীর এবং তাদের পীরদের পীর, মুর্শীদ যারা আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জিহাদের ময়দানে গোলামী করেছেন। আকাবিরে দেওবন্দী সকল মাওলানা মৌলভীরাই উপমহাদেশে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে একজন ইমাম, খলিফা, মুজতাহিদ, সংস্কারক, কামিল মুর্শীদ হিসেবে জানে। তাদের ধারণা তিনি পাক ভারত উপমহাদেশ থেকে শিরক বিদ্য়াত কুফরী দূর করে দিয়ে সেখানে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দ্বীন, সুন্নত জিন্দা করেছেন।
পাঠক সমাজ! নামধারী সুন্নীদের কথা থেকে বুঝা যায় দেওবন্দীরাও তাদের ভাল জানে। অথচ সারাজীবন দেওবন্দী মাওলানারা রেজভীদের সম্পর্কে কলমী জিহাদ করেছে। স্বয়ং খলিল আহমদ সাহারানপুরী সাহেব, হুসাইন আহমদ মাদানী ছাহেব, মুর্তাজা হাসান দেওবন্দী ছাহেব আহমদ রেযাখান ছাহেবের বিরোধীতায় শক্ত ভাবে কলম ধরেছেন। রেজভীদের বিরুদ্ধে দেওবন্দীদের লিখিত কিতাব আছ ছাহাবুল মিদরার, আল খাছমু আলা লিছানিল খাছমি, বাসতুল বানান, কাতয়ুল ওয়াতীন, আশ শিহাবুদ্দাকিয প্রভৃতি কিতাব গুলো বোধ হয় লিখক পড়েনি অথবা পড়ে থাকলে সেগুলো গোপন করার চেষ্টা করছে। কাজেই রেজভীদের দৃষ্টিতে যদি প্রকৃতই দেওবন্দীরা কাফির হয়ে থাকে তবে সেই কাফিরদের মুখের বুলি কেন মুসলমানদের শোনানো হচ্ছে? সম্মানিত পাঠক সমাজ! এপ্রিল-মে সংখ্যায় ফজলুল হক লিখেছে, “বাইয়্যিনাত-এর ৮২তম সংখ্যা থেকে নাকি আহমদ রেযাখান সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পানি ঘোলা করছে।”
পাঠকবর্গ! এই মুফতি ফজলুল হক্বের আগা-গোড়া লিখা পড়লে যে কেউ বলবে, সে বোধহয় চুটকী এবং টোকাই গিরীতে সিদ্ধ হস্ত। কেননা তার কথাবার্তা এবং লিখা সেটাই প্রমাণ করে। এই অহংকারী বলেছে, “আমার লিখাই রাজারবাগীদের জন্য শেষ কফিন” আসতাগফিরুল্লাহ। এতদিন ধরে মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগে খান ছাহেবের ইবারত কারচুপি, আগে-পিছে করার যে ফিরিস্তী তুলে ধরা হচ্ছে সে সম্পর্কে রেজভীরা নিরব কেন? ফজলুল হক যদি একান্তই মুফতী হয়ে থাকে তাহলে অন্তত একটা সুওয়াল-জাওয়াব খন্ডাক। অন্যথায় ধরা হবে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর লিখাই রেজভীদের শেষ কফিন। তাছাড়া ফজলুল হক কি ভুলে গেছে, “মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর দেয়া পূর্বের সবক?” (চলবে)
-মুহম্মদ শফিকূল আলম, মতিঝিল, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে