একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত  স, আ, ত, ম আলাউদ্দিনের  বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে  (ধারাবাহিক)

সংখ্যা: ১০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

          এরপর জনাব আলাউদ্দীন ছাহেব আপনি লিখেছেন, “আমাদের মুর্শিদে বরহক কুতুবুল ইরশাদ, গাউসে জামান …. সৈয়দ মুহম্মদ তৈয়ব শাহ্ … নিজে এবং তার ছাহেবজাদা … হাদীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত … সৈয়দ মুহম্মদ তাহের শাহ্  উভয়ই মাদারজাত ওলী।”

 আমাদের জবাব হলো, তৈয়ব শাহ্ ও তাহের শাহ্ যদি কুতুবুল ইরশাদ ও মাদারজাত ওলী হতো তাহলে আপত্তি করার কিছুই ছিলনা। কারণ পৃথিবী কখনোই কুতুব, ওলী শুন্য থাকেনা। কিন্তু যারা অহরহ গুণাহ্ ও হারাম কাজে লিপ্ত থাকে, কুরআন-সুন্নাহ্র বিরুদ্ধাচরণ করে, যাদের জন্য অদৃশ্য থেকে একবারও সতর্কবাণী আসেনা, তারা যে কোন্ পর্যায়ের কুতুবুল ইরশাদ বা মাদারজাত ওলী তা চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়। সত্যিকার অর্থে কেউ যদি আল্লাহ্ পাক-এর ওলী বা বন্ধুই হয়ে থাকে, তবে বন্ধুর সামান্য অসতর্ক মূহূর্তটিতেও তাঁকে সতর্ক করে দেয়া হয়। আর এটাই হচ্ছে প্রকৃত ওলী বা বন্ধুর পরিচয় বা আলামত।  যেমন, “দলিলুল আরিফীন” কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, হযরত শায়খ আযল সিরাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি একবার ওজুর সময় হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করতে ভুলে গেলেন। সাথে সাথে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ হলো, “হে আযল সিরাজী! আমার হাবীবের প্রেমের দাবীদার এবং উম্মতে মুহম্মদি হওয়া সত্ত্বেও কেন সুন্নত পালনে ত্রুটি করলে?” হযরত শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমি যখন এ নেদা শ্রবণ করলাম তখন থেকে দৃঢ় সংকল্প ও প্রতিজ্ঞা করলাম যেন ভবিষ্যতে আর সুন্নতের খিলাফ কোন কাজ না হয়।”

 হযরত শায়খ ফরিদুদ্দীন আত্তার রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ফার্সী ভাষায় লিখিত মশহুর কিতাব “তাযকিরাতুল আউলিয়া” কিতাবে বর্ণিত আছে, “প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি একদা ভুলবশতঃ মসজিদে ঢুকার সময় ডান পায়ের স্থলে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করলেন। সাথে সাথে অদৃশ্য আওয়াজ এলো, “হে ছাওর! এরকম বেয়াদবীর সাথে কখনও মসজিদে প্রবেশ করতে নেই।” বলাবাহুল্য, এ অদৃশ্য বাণী বা ইল্হাম শ্রবণ করার পর তিনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বেহুশ হয়ে থাকেন।

কাইয়্যূমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “মাকতুবাত শরীফে” উল্লেখ করেন, “একদা বাইতুল খালায় প্রবেশ করার সময় তিনি বাম পায়ের স্থলে প্রথমে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করার কারণে তাঁর সমস্ত নিয়ামত, কামালত সলব হয়ে যায়। অতঃপর তিনি তওবা-ইস্তিগ্ফারে মশগুল হন। যার দরুণ পূর্বের অবস্থা পুনরায় ফিরে আসে।”       হযরত আবূ লাইস সমরকন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর প্রসিদ্ধ “তাম্বীহ্” কিতাবে বর্ণনা করেন, “প্রতিদিন আসমান হতে দু’জন ফিরিশ্তা যমীনে অবতরণ করেন। একজন কা’বা শরীফের ছাদের উপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, “ওহে বণী আদম! এ নির্দেশ ভালভাবে শুনে নাও। যারা আল্লাহ্ পাক-এর ফরয আদায় করেনা তারা দায়িত্ব ভালভাবে পালন না করার জন্য দায়ী হবে। দ্বিতীয়জন সাইয়্যিদুল বাশার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বড় কোঠার উপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, যারা রসূলে মকবুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত আদায় করেনা তারা ক্বিয়ামতের দিন তাঁর শাফায়াত হতে বঞ্চিত থাকবে।”

উপরোক্ত বুযুর্গ ওলীদের ঘটনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তাঁরা  আল্লাহ্ পাক-এর হাক্বীক্বী বন্ধু ছিলেন এবং কুরআন-সুন্নাহ্র পুরোপুরি অনুসরণ করেছেন বিধায় আল্লাহ্ পাক তাঁদের সামান্য অসতর্ক মুহুর্তটিতেও সতর্ক করে দিয়েছেন।           পক্ষান্তরে তৈয়ব শাহ্, তাহের শাহ্, ছাবের শাহ্-এর প্রতি অদৃশ্য থেকে কখনো সতর্কবাণী আসেনা; কারণ তাদের সাথে তো আর আল্লাহ্ পাক-এর কোন সম্পর্ক ছিলোনা বা নেই। কারণ অহরহ শরীয়ত বিরোধী ও কুরআন-সুন্নাহ্র খিলাফ কাজ করতে করতে তারা শয়তানের বন্ধুরূপে সাব্যস্ত হয়েছে, যে কারণে মুস্তাহাবের খিলাফ নয়, হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও খোদায়ী ইলহাম আসেনা বরং হারাম কাজ করার ক্ষেত্রে শয়তানী জজবা আসে।  আর তাদের আমলই সেটা প্রমাণ করে।   এরপর বিরুদ্ধবাদী লেখক আল বাইয়্যিনাত-এর ৮তম সংখ্যার ৪৮ পৃষ্ঠা ও ৬২তম সংখ্যার ৫ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি তুলে দিয়ে নিচে লিখেছেন, আল বাইয়্যিনাত-এর বিভিন্ন সংখ্যায় উল্লিখিত এ সমস্ত স্ববিরোধী বক্তব্য ….”  বাইয়্যিনাত-এর ৮ম সংখ্যার ৪৮ পৃষ্ঠার উদ্ধৃটি ছিলো, “ওলী আল্লাহ্দের আওলাদ বা বংশধর হলেই ওলী আল্লাহ্ হবে? যেহেতু ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হয়না।” আর ৬২তম সংখ্যার উদ্ধৃটি হলো, “এমন মহান ওলীর অধস্তনগণ যে মাদারজাত ওলী হবেন …. এটাইতো আল্লাহ্ পাক-এর অমোঘ বিধান।” বিদগ্ধ পাঠক সমাজ! পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ ও অতীত ইতিহাসের দিকে একটু লক্ষ্য করলেই আমরা বুঝতে পারবো। আল বাইয়্যিনাত-এর ৮ম সংখ্যা ও ৬২তম সংখ্যার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। বরং বাইয়্যিনাত-এর বক্তব্য ও উদ্বৃতিই সঠিক ও শুদ্ধ। চিন্তা করে দেখুন! হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-এর সন্তান হাবিল ও হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর সন্তান কেনান নুবুওওয়াতী খান্দানে লালিত পালিত হয়েও  তারা নুবুওওয়াত, রিসালতপ্রাপ্ত হয়নি। অপর দিকে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম-এর সন্তান বংশ পরম্পরায় নুবুওওয়াত, রিসালত লাভ করেছেন। যেমন, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম-এর সন্তান হযরত ইসহাক আলাইহিস্ সালাম তাঁর সন্তান হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর সন্তান হযরত ইউছুফ আলাইহিস্ সালাম, জলীলুল ক্বদর নবী-রসূলগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সন্তান ইয়াজিদ পিতার মতের বিরুদ্ধে ৬১ হিজরীতে উবাইদুল্লাহ্ জিয়াদের সহায়তায় ফোরাতের তীরে যে মর্মান্তিক হৃদয় বিদারক ঘটনার অবতারণা করেছে ক্বিয়ামত পর্যন্ত সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়াজিদের উপর লা’নত অভিসম্পাত বর্ষিত হতে থাকবে।   আবু জাহিল সারাজীবন ইসলামের বিরোধীতা করেছে এবং এই অবস্থায়ই তার ইন্তিকাল হয়েছে। অথচ তার সন্তান হযরত আকরামা বিন আবু জাহিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সোহ্বতের দরুণ ছাহাবীর মর্যাদা লাভ করেছেন। অনেক সময় নবীর ঘরেও দুশমন অবস্থান করেন। যেমন, হযরত লুত আলাইহিস্ সালাম-এর স্ত্রী। সেছিলো আল্লাহ্ পাক-এর দুশমনদের মধ্যে একজন। আবার অনেক সময় জালিম শাসকের ঘরেও নেক্কার থেকে থাকেন। যেমন, ফিরআউনের স্ত্রী হযরত আছিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। আবার কখনো কখনো অধিক বিরোধীতা চরম হিদায়েতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উন্মুক্ত তরবারী নিয়ে মক্কার আরকাম ইবনে আবিল আরকাম বা দারুন নাদওয়া গৃহে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শহীদ করতে গিয়ে নিজেই আত্মসমর্পন করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “আল্লাহু আকবর” তাকবীর ধ্বনি পর্যন্ত উচ্চারণ করেন। (সুবহানাল্লাহ্) তাঁর কথা ও সিদ্ধান্তের উপর পবিত্র কুরআনে কারীমায় ২২টির মত আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে। এবং তাঁর খিলাফতকাল ছিলো সাম্য ও শান্তির এবং সকল যুগের, সকল জাতির সুলতান, শাসকদের নিকট  আদর্শ ও উপমা।

উহুদ যুদ্ধে সাময়িক বিপর্যের কারণসমূহের মধ্যে একটি কারণ ইসলাম পূর্ব হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উন্মুক্ত তরবারী। অথচ ষষ্ঠ হিজরীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মুতার যুদ্ধে রোম বাহিনীর বিরুদ্ধে আটটি তরবারী ভেঙ্গেছেন এবং আল্লাহ্ পাক তাঁর মাধ্যমে মুতার যুদ্ধে মুসলমানদের পক্ষে বিজয় দান করেন। আবিসিনিয়ায় বাদশাহ্ নাজাশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর দরবারে প্রথম পর্যায়ে মক্কার যে ক’জন ছাহাবী হিজরত করতে গিয়েছিলেন কুরাঈশদের পক্ষ হয়ে মুসলমানদের বিরোধীতায় তাদের মক্কায় পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হযরত আমর ইবুনল আস বাদশাহ্ নাজ্জাশির দরবারে উপস্থিত হন। কিন্তু ষষ্ঠ হিজরীতে স্বেচ্ছায় এই হযরত আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আল্লাহ্ পাক তাঁর দ্বারা মিসর বিজয় দান করেন।

এভাবে ওলীগণের মধ্যেও এমন অনেক মেছাল রয়েছে যাদের সন্তানগণ পরবর্তীতে ওলী হতে পারেননি। হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এক সন্তান তার পিতার মতের বিপরীতে চলতো। হযরত শায়খ আব্দুল আহাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বড় সন্তান অর্থাৎ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বড় ভাই তাঁর মুখালিফ ছিলেন। এমনও দেখা গেছে, ওলীদের মধ্যেও কখনো কখনো বংশ পরম্পরায় বিলায়েত ও ওলীত্ব জারী থাকে। যেমন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তাঁর চতুর্থ পূর্ব পুরুষ পর্যন্ত সকলেই ছিলেন সুন্নতের পাবন্দ ও উচ্চ বিলায়েতসম্পন্ন ওলী আল্লাহ্ ও এদের মধ্যে হযরত সাইয়্যিদ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সন্তান হযরত ইমাম মাসুম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জলীলুল ক্বদর খলীফা ছিলেন। এমনকি তিনি হিন্দুস্থানে তাঁর জামানায় সবচেয়ে অধিক সুন্নতের পাবন্দ ও উচ্চ বিলায়েত সম্পন্ন ওলী ছিলেন। এতদ্বভিন্ন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নানা হযরত খাজা আবূ সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমামুল হিন্দ হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট থেকে সরাসরি নিসবত হাছিল করেছেন। (সুবহানাল্লাহ্)

অতএব, এতসব উদাহরণ পেশ করার অর্থই হচ্ছে কোন কোন ক্ষেত্রে নবীর সন্তানই যখন নবী হতে পারেনা তবে ওলীর সন্তান কিভাবে ওলী হবে? মূলকথা হচ্ছে হিদায়েতের মালিক আল্লাহ্ পাক। আল্লাহ্ পাক যাকে ইচ্ছা তাঁকে হিদায়েত দান করেন। পবিত্র কুরআনে কারীমায় বর্ণিত আছে, “বলুন হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর হিদায়েতই হচ্ছে প্রকৃত হিদায়েত।”  তা না হলে পবিত্র মক্কার কুরাঈশ নেতৃবর্গ ওতবা, শায়বা, আবু লাহাব, ওয়ালিদ বিন মুগিরা, আবু জাহিল ধনাঢ্য ও উচ্চ বংশীয় হওয়া সত্ত্বেও কেন হিদায়েত পেলো না?   অথচ এর বিপরীতে হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সালমান ফার্সী  রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত শোয়াইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাকতুম অন্ধ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন এবং বাহ্যিকভাবে তাঁদের দৈহিক সৌন্দর্য্য, বংশ ও নসবনামার দিক দিয়েও তেমন উল্লেখযোগ্য ছিলেননা। কিন্তু মহান আল্লাহ্ পাক তাঁদের এক এক জনের অবস্থা ও ঘটনার উপর পবিত্র কুনআনে কারিমার আয়াত শরীফ পর্যন্ত নাযিল করেছেন। একমাত্র অন্ধ ছাহাবী উম্মে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর শানে পবিত্র কুরআনে কারীমার ৩০ পারার সূরা আবাসায় ১৬টি আয়াত শরীফ নাযিল হয়। (সুবহানাল্লাহ্)   প্রিয় পাঠক সমাজ! এরপর আলাউদ্দিন ৬৩তম সংখ্যার ৫ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, “উল্লেখ্য মরহুম মুহম্মদ সালাউদ্দিন। অধস্তন বা বংশধরগণ হলেন মুহম্মদ ইলাহী বখশ, ওয়ালী বখশ, মুখলেছুর রহমান, দিল্লুর রহমান ও তার সন্তানরা (জিল্লুর রহমান, মফিজুর রহমান ও চার কন্য।) বাইয়্যিনাত ৬৩/৫ এরা সবাই বংশ পরম্পরায় মহান ওলী।”           আলাউদ্দিন ছাহেব! আপনি বোধ হয় লিখার সময় চিন্তা-ফিকির করে লিখেন না  এবং সব সময় গোঁজামিল বা নিজ থেকে অতিরিক্ত কিছু জুড়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টায় থাকেন। সত্যিকরে বলুনতো দেখি, পুরো লিখাটাই কি আপনি নিজ থেকে সাজিয়ে নেননি? আল বাইয়্যিনাত ৬৩তম সংখ্যার ৫ পৃষ্ঠায় কি এভাবে লিখা আছে? তাছাড়া হযরত সাইয়্যিদ আলাউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জায়গায় আপনি লিখেছেন, “সালাউদ্দিন …।” আরো লিখেছেন, “রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সন্তান অর্থাৎ আমাদের প্রাণ প্রিয় মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সন্তানরা নাকি হচ্ছেন, জিল্লুর রহমান, মফিজুর রহমান ও চার কন্যা। (নাউযুবিল্লাহ্)            আপনি যদি অসৎ উদ্দেশ্যে এ ধরণের কথা লিখে থাকেন তবে সেটার জন্য আপনিই পুরো দায়ী। আর যদি শোধরাতে চান তবে জেনে নিন, হযরত সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নয় সন্তানদের মধ্যে সবচাইতে নেকবখ্ত ও শ্রেষ্ঠতম সন্তান হচ্ছেন ছেলেদের মধ্যে তৃতীয় সন্তান ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ফক্বীহুল উম্মত, ইমামুছ ছিদ্দীকীন, সুলতানুন্ নাছীর, জামিউল কামালত ওয়াল বিলায়েত, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আওলার্দু রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান মুদ্দা জিল্লুহুল আলী। যিনি আতায়ে ইলাহী ও আতায়ে রসূল আমাদের মামদুহ্ মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী। আর সাইয়্যিদ মুহম্মদ জিল্লুর রহমান, সাইয়্যিদ মুহম্মদ মফিজুর রহমান তাঁরা হচ্ছেন তাঁর ছোট ভাই এবং যে চার কন্যার কথা লিখেছেন তারা হচ্ছেন তাঁর বোন। এরপরই বাক্যটি শেষ করা হয়েছে এভাবে, “এরা সবাই বংশ পরস্পরায় মহান ওলী।”এটা একেবারে ডাহা ও জলজ্যান্ত মিথ্যা কথা। বাইয়্যিনাত ৬৩তম সংখ্যার ৫ পৃষ্ঠায় কোথাও এ কথা লিখা নেই যে, “জিল্লুর রহমান, মফিজুর রহমান ও চার কন্যা সকলেই মহান ওলী।” এটাও আপনার অতিরিক্ত বানানো কথা। অবশ্য কিতাবের ইবারত কাটছাট করা, নিজ থেকে অতিরিক্ত কিছু জুড়ে দেয়া ও তাহ্ক্বীক্ব ছাড়া ফতওয়া দেয়া তো আপনাদের মজ্জাগত স্বভাব। কারণ, আপনারা হচ্ছেন সেই সিলসিলার অন্তর্ভুক্ত যারা নিজেরা হুক্কা-বিড়ি সেবন করে এবং অপরকেও হুক্কার দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিয়ে ওজু করার মাসয়ালা শিক্ষা দেয়। আফসুস্! আপনার জন্য! কুরআন-সুন্নাহ্, ইজ্মা, ক্বিয়াস ও সলফে ছলিহীনদের পূত পবিত্র মহিমাময় জীবন আপনাদের জন্য আদর্শ ও দলীল হতে পারেনা।   সুপ্রিয় পাঠক সমাজ! পরিশেষে স, আ, ত, ম আলাউদ্দিনকে বলতে চাই, ফিৎনা ও মিথ্যার আশ্রয় পরিত্যাগ করুন।  “মালফুজাত”-এর শাব্দিক অর্থ কি? আর রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র ৯৭ সনের সেপ্টেম্বর সংখ্যার মালফুজাতে আলা হযরত যদি আহমদ রেযা খান ছাহেবের কিতাব না হয় তাহলে “সীরাতে মুস্তাকিম” কিতাবটি কিভাবে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হতে পারে? কারণ সেটিওতো মালফুজাত বা মুখ নিসৃতবাণী।  আর রেযাখানীরা কেনই বা তাদের পত্রিকায় খাঁ ছাহেবের সেই ফতওয়া ছাপিয়ে জনগণের মাঝে ফিৎনা ও বিভ্রান্তি পয়দা করলো? তারা কি পবিত্র কুরআনে কারিমার এই ভীতিমূলক আয়াত শ্রবণ করেনি?        الفقنة اشد ماالقطل        “ফিৎনা কতলের চেয়েও ভয়াবহ।”

-মুহম্মদ শফিকুল আলম, মতিঝিল, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ