কাদিয়ানী রদ!

সংখ্যা: ৯১তম সংখ্যা | বিভাগ:

কাদিয়ানী রদ! (১)

(পঞ্চম ভাগ)

          (মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।

(ধারাবাহিক)

          তৎপরে মির্জ্জা ছাহেব নবি হওয়ার ধারণায় জিল্লি, বরুজি, মাজহার ও মাছিল হইতে নবি হওয়ার কত আশ্চর্য্যজনক কৌশল আবিষ্কার করিলেন, অবশেষে ইংরাজি ১৯০৮ সালের ৫ ই মার্চ্চের ‘বদর’ পত্রিকায় স্পষ্টভাবে লিখিয়াছেন, ইহা ‘হকিকাতোন্নবুয়তের’ ২৭২ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে।

উর্দু কম্পোজ করতে হবে

          ‘‘আমাদের মজহাব ইে যে, যে দীনে নবুয়ত প্রচলিত না থাকে, উহা মৃত। য়িহুদী, খ্রীষ্টান ও হিন্দুদিগের ধর্ম্মকে আমরা এই জন্য মৃত বলিয়া থাকি যে, তাহাদের মধ্যে কোন নবী হয় না। যদি ইছলামের উপরোক্ত প্রকার অবস্থা হইত, তাহা হইলে আমিও কাহিনী-প্রচারক হইতাম, কি জন্য আমরা উহাকে অন্যান্য ধর্ম্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতম বলিয়া থাকি? কয়েক বৎসর হইতে আমার উপর অহি নাজিল হইতেছে এবং আল্লাহ্তায়ালার কতিপয় নিদর্শন ইহার সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে, এইহেতু আমি নবী। সত্য কথা প্রচার করিতে কোন প্রকার গোপন রাখা উচিত নহে।’’

          মির্জ্জা ছাহেবের এতদুভয়ের মধ্যে কোন কথা সত্য?

(৪) হজরত ইছা আলাইহিস্ সালাম-এর গোর সম্বন্ধে মতভেদ। ‘এজালায় আওহাম’, ২৭৩ পৃষ্ঠাঃ-

উর্দু কম্পোজ করতে হবে

          ‘‘ইহা সত্য কথা যে, মছিহ নিজের মাতৃভূমি ‘গলিলে’ উপস্থিত হইযা ফওত হইয়া গেলেন, কিন্তু ইহা সত্য নহে যে, যে শরীর দফন করা হইয়াছিল, তাহা পুনরায় জীবিত হইয়া গিয়াছিল।’ (অসমাপ্ত)

ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক

কাদিয়ানীদের “কাফির” ঘোষণা! (২)

অনুবাদক- আলহাজ্ব মুহম্মদ হাবিবুল হক

(ধারাবাহিক)

          আযানের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে মত পার্থক্য আছে, তবে হযরত আবু ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “আযান দারুল ইসলাম এবং দারুল হারব-এর বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য বুঝানোর চিহ্ন।” (আই বি আই ডি)

          এটা বৈশিষ্ট্য, চিহ্ন বা পার্থক্যকারী একটি নিদর্শন। সুতরাং এটাকে শেয়ার বা মুসলমানদের পার্থক্যকারী একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে মনে করা হয়।” (বাহরুর রায়েক, ইবনে নুযাইম, ভলিউম/১, পৃষ্ঠা ২৪০)

          এটা প্রতিষ্ঠিত যে এই বিষয়ে ইজমা হয়েছে যে, এটা ইসলামের শেয়ার (পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট)।” (ফতওয়ায়ে কাজীখান, ফতওয়ায়ে আলমগীরী, হুজ্জাতুল্লাহি বালিগাহ- শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্, ভলিউম ১, পৃষ্ঠা ৪৭৪)

          নিম্নে উল্লিখিত যুক্তিসমূহ এটা “শেয়ার” হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট-

(১) হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময়ে লোকদেরকে উপাসনা স্থলে আহবানের জন্য সুবিদিত পদ্ধতিসমূহ ছিল- (ক) ভেপু বাজানো, (খ) ঘন্টা বাজানো, (গ) আগুন জ্বালানো। কিন্তু হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ সকল পদ্ধতির কোনটিই অনুমোদন করেননি। তিনি আযান দ্বারা আহবানের পদ্ধতিই অনুমোদন করেন।

(২) ইসলামের বিধান অনুযায়ী যিনি আযান দিয়ে আহবান করবেন তিনি অবশ্যই একজন মুসলমান ব্যক্তি হবেন, অন্য কিছু প্রমাণ না হলে।

           হযরত ইবনে হিশাম মাদানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর পিতা থেকে রেওয়ায়েত, “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আমাদের কোন অভিযানকারী দলের সাথে পাঠাতেন তখন নির্দেশ দিতেন, যখন তোমরা কোন মসজিদ দেখবে, আযান দাতার কক্তস্বর শুনবে তখন কাউকে হত্যা করবে না।” (সুনানে আবী দাউদ/৩৬১)

          এই হাদীস শরীফখানা সহীহ্ বোখারী শরীফেও হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৩) হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে আর একটি হাদীস শরীফ বর্ণিত আছে, “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফযরের ওয়াক্তে শত্রুদের আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতেন যদি ঐ এলাকা থেকে আযানের আহবান শুনতে পেতেন।” (সুনানে আবী দাউদ, ভলিউম ১, পৃষ্ঠা ৩৫৪, মিশকাত শরীফ, ভলিউম ১, পৃষ্ঠা ১৬০ উর্দূ অনুবাদ)।

          প্রথম হাদীস শরীফে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ এবং তাঁর নিজ আচরণে, আযানের আহবানে আক্রমণ থেকে বিরত থাকার কারণ হলো, আযানের আহবানে অনুমান করা এলাকাবাসী মুসলমান এবং তারা আক্রমণ থেকে নিরাপদ।

          আইনবিদরা এই কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, যিনি আযান দিবেন তিনি মুসলমান। যদি জনগণ কোন জিম্মি সম্বন্ধ (সংরক্ষিত বিধর্মী) সাক্ষী দেন, তিনি আযান দিয়েছেন, তবে সে মুসলমান হিসেবে গ্রহণীয়। (বাহরুর রায়েক ভলিউম-১, ইবনে নূয়াইম, পৃষ্ঠা ২৭৯, রদ্দুল মুহতার-ইবনে আবেদীন ভলিউল-১, পৃষ্ঠা ৩৫৩)

          এই মতামতের প্রেক্ষিতে মিঃ মুজিবুর রহমান যুক্তি দেখান যে যিনি আযান দিবে তাকে মুসলমান হিসাবে গণ্য করতে হবে। কিন্তু এই যুক্তি গ্রহণ যোগ্য নয়। যেহেতু উপরোক্ত প্রচলন অনুযায়ী যিনি আযান দেন তাকে মুসলমান ধারণা করা যাবে, কিন্তু যিনি আযান দিবেন তিনি যে মুসলমান এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। যদি শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে আযানদাতা আসলে একজন অমুসলিম বা তার বিশ্বাস প্রমাণ করে যে সে একজন মুসলমান নয়, তাকে আযান দেয়ার সুযোগ দেয়া যাবে না এবং এর জন্য তাকে মুসলমান দাবী করার অধিকার ও দেয়া যাবে না।

          “রদ্দুল মুহতার” ভলিউম-১, পৃষ্ঠা ২৯৭ যে পরিস্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, মুয়াজ্জিন দ্বারা কোন মসজিদে আযান দেয়া হলে এটাই ধারণা হয় যে তিনি একজন মুসলমান, যেহেতু তাকেই আযান দেয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে অর্থাৎ যদি তিনি অমুসলিম হতেন তবে, ঐ মসজিদে যারা নামায আদায় করেন তাঁরা তাকে আযান দিতে মনোনীত করতেন না। এটাও পরিস্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে কাফিরের আযান জায়েয নাই। এটা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া যায় যে, একজন কাফির শুধু আযান দিলেই মুসলমান হয়ে যাবে না। ইসলামের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই যে, যদি সে ইহা অভ্যাস বশতঃ করে এবং বিশ্বাসও করে যে, আল্লাহ্ পাক এক এবং পবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী হিসাবে মান্য করে।

          এখন আমরা মিঃ মুজিবুর রহমানের যুক্তি পর্যালোচনা করতে পারি। তিনি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপরোক্ত হাদীস শরীফ এবং ৪নং সূরার ৯৫ নং আয়াত শরীফের বরাত দিয়েছেন। (অসমাপ্ত)

কাদিয়ানী রদ!

খতমে নুবুওওয়াত প্রচার কেন্দ্র খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবেক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয় (যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি) তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩দিন। এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!